দুই দফা বৃষ্টিতে তিন ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বল গড়ায় মাঠে। শেষ বিকেলে ২৫ ওভার খেলার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। কিন্তু আলোকস্বল্পতার কারণে ১১.২ ওভার খেলা হয়। এ সময়ে বাংলাদেশ আরও একটি উইকেট হারায়। প্রথম দিন সব মিলিয়ে বাংলাদেশ খেলতে পেরেছে ৪০.২ ওভার। তাদের স্কোরবোর্ডে জমা পড়েছে ৩ উইকেটে ১৫৪ রান। তবে এদিন বাংলাদেশ যতটুকু খেলেছে ভালোই বলা চলে। তামিম ইকবাল ও মমিনুল হকের হাফসেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আশাবাদী পারফরম্যান্সের আভাস দিয়েছে সফরকারীরা।
বৃষ্টি শেষে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ আর মমিনুল। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ২৬ রানে আউট হন তিনি। মমিনুলের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ ৮৫ রানের জুটি গড়ে আউট হন। ৬৪ বল খেলে চারটি বাউন্ডারিতে সাজানো তার ২৬ রানের ইনিংস শেষ হয় নেইল ওয়াগনারের বলে, বিজে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। এর আগে মমিনুল করেন ক্যারিয়ারের ১১তম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি।৭৯তম বলে একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ব্যাট করতে নেমে ১ রানে জীবন পাওয়া সাকিব আল হাসান অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে।
দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় খেলা বন্ধ হয়। তা আবার শুরু হয় বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে। ওয়েলিংটনের মাঠের উইকেট, বাতাস বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতা করতে পারে তা আগেভাগে জানতো টিম টাইগার্স। কিন্তু এরসঙ্গে যোগ হলো বৃষ্টির শত্রুতা! নিউজিল্যান্ড সফরের শেষভাগে এসে প্রথম টেস্টে এখন পর্যন্ত বলা চলে বাংলাদেশ ভালো একটি সূচনা করেছিল। কিন্তু দেশটির রাজধানী শহরের মাঠ বেসিন রিজার্ভ ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মাঠে একটি ভালো সূচনার পরই যেন বৃষ্টির শত্রুতা শুরু হয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। যখনই বাংলাদেশের কোনও একজন ব্যাটসম্যান উইকেটে সেট হয়ে যান তখনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি!
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এমন দেখা গেল পরপর দুইবার। উইকেটে তামিম সেট হলেন তো প্রথম দফা বৃষ্টি নামল। এরপর এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হলে হাফ সেঞ্চুরি করার পর তামিম হয়ে গেলেন আউট। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর মমিনুল যখন আরেকটি বড় ইনিংসের দিকে এগোচ্ছিলেন তখন তাকে আবার থামিয়ে দিল বৃষ্টি! বৃষ্টিতে থামার আগ পর্যন্ত ৪৮ রান করেছিলেন মমিনুল। এরমধ্যে চারের মার ৮ টি এবং একটি ছক্কা। উল্লেখ্য দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে মমিনুলের।
সকালে প্রথম দফা বৃষ্টি বিরতি শেষে খেলায় ফেরাটা বাংলাদেশের জন্যে বেশিক্ষণ ভালো চলল না। ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরির পরে ট্রেন্ট বোল্টের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ওপেনার তামিম ইকবাল। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। রিভিউয়ে জানানো হয় তামিম আউট। এর আগে পর্যন্ত ৫০ বল খেলে তামিম করেন ৫৬ রান। এরমধ্যে চারের মারই ১১টি। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৬০। এর আগে সকালে তামিমের উদ্বোধনী জুটি ইমরুল কায়েসও বোল্টের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। টিম সাউদির শর্ট বলে পুল করে সীমানার কাছাকাছি থাকা বোল্টকে ক্যাচ দেন ইমরুল।
সকালে টস হেরে বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে ব্যাটিংয়ে যায়। শুরু হয় বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা। এখানকার প্রেসবক্সের কিউই ক্রিকেট বোদ্ধা সাংবাদিকরা বলছিলেন, ওয়েলিংটন টেস্টে যে বল টস জেতে সেই বোলিং নিতে চায়। কারণ এ মাঠের আগের ইতিহাসগুলো হচ্ছে এ মাঠে পেস বোলাররা প্রথম দিন সুবিধা পান। পরের দিন থেকে সুবিধা পান ব্যাটসম্যানরা। এ মাঠেই তিনশ রান আছে কিউই ব্যাটসম্যান ম্যাককালামের। বাংলাদেশ ব্যাট হাতে নিয়েই কিউই পেস আঘাতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যেতে পারে এমন ধারণা এখানকার সাংবাদিকদের ছিল। কিন্তু প্রথমে তামিম পর মমিনুলের ব্যাটিং তাদের ধারনা পাল্টায়। এমন একটি দিন থাকার পরও দিনের শেষে বাংলাদেশের বৃহস্পতিবারের বিরক্তি আর হতাশার বৃষ্টির বাগড়া।
এমনিতো টেস্ট খেলা, এর উপর কাজের দিন। সে কারণে মাঠে দর্শক এসেছিলেন খুব অল্প সংখ্যক। এদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল বড়জোর ৮-১০ জন। এক দম্পতিকে আমরা পেয়েছি যারা খেলা দেখতে অকল্যান্ড থেকে এসেছেন। খেলা যদি বেশি দীর্ঘায়িত না হয় এই শঙ্কায় হোটেল নিয়েছেন মাত্র দু’দিনের জন্যে!
সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম দিন শেষে
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস- ৪০.২ ওভারে ১৫৪/৩ (মমিনুল ৬৪*, তামিম ৫৬; বোল্ট ১/৫৩, সাউদি ১/৪৫)
/এফএইচএম/








