সাকিব আল হাসানের ব্রেকথ্রুতে প্রথম সেশনে ৫১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনে প্রতিরোধ গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। বিজে ওয়াটলিং ও মিচেল স্যান্টনার অর্ধশতাধিক রানের জুটি গড়ে প্রথম ইনিংসে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে ইনিংসের ১৩৩তম ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই বাজিমাত করেন মাহমুদউল্লাহ। এক ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি। ম্যাচ আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের দিকে। এরপরও দারুণ পারফরম্যান্সের দৃষ্টান্ত রেখে প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা ৫৬ রানের লিড পেয়েছে। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ৫৩৯ রানে।
এর আগে ৮৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে তৃতীয় দিন শেষ করা টম ল্যাথাম ও হেনরি নিকলস চতুর্থ দিন সকালে নেমে জুটিটাকে আরও শক্ত করতে থাকেন। তবে সাকিব আল হাসানের কাছে ভাঙে তাদের জুটি। শুধু শতাধিক রানের এ জুটিটিই ভাঙেননি সাকিব, দুজনের উইকেটই গেছে তার বলে। রবিবার লাঞ্চে যাওয়ার আগেই কিউইদের আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
সাকিব তার নবম ওভারের তৃতীয় বলে নিকলসকে ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজের। স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি করা নিকলস। ৫৩ রানে থামে তার ইনিংস। একই সঙ্গে ভাঙে ১৪২ রানের জুটি।
এরপর শুভাশীষ রায়ের প্রথম টেস্ট শিকার হন কলিন ডি গ্রান্ডহোম। নিউজিল্যান্ড হারায় তাদের পঞ্চম উইকেট। গ্রান্ডহোম খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। টানা চার ও ছয় মেরে শুভাশীষের বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১৪ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
কিন্তু ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটাকে লম্বা করতে থাকেন ল্যাথাম। আর বাংলাদেশি বোলাররা ভুগতে থাকে। তবে সাকিবই বড় এ বাধা মাঠ থেকে সরিয়ে দেন। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ল্যাথামকে। ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৩২৯ বলে সাজানো ল্যাথামের ১৭৭ রানের ইনিংস, রয়েছে ১৮টি চার ১টি ছয়। ৪০২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় সেশনে নেমে ওয়াটলিং ও স্যান্টনার ৭৩ রানের জুটি গড়ে শক্ত প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু চা বিরতির কিছুক্ষণ আগে মাহমুদউল্লাহ তার প্রথম বলেই ভাঙেন এ জুটি। ওয়াটলিংয়ের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় ইমরুল কায়েসের গ্লাভসে। আম্পায়ার নট আউটের সিদ্ধান্ত জানালেও ডিআরএসে ওয়াটলিংয়ের সাজঘরে যাওয়ার রায় হয়। হাফসেঞ্চুরির জন্য ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওয়াটলিং (৪৯)। এ ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই নিউজিল্যান্ড হারায় অষ্টম উইকেট। তিনটি বল পরই টিম সাউদিকে (১) এলডবিডব্লিউয়ে সাজঘরে পাঠান মাহমুদউল্লাহ।
বাকি দুটি উইকেট পেতে সময় লেগেছে শুধু স্যান্টনারের বাধায়। তবে চা বিরতির পর ফিরে কামরুল ইসলাম রাব্বীর একের পর এক বাউন্সারে তটস্থ হয়ে উইকেট দিতে বাধ্য হন নেইল ওয়াগনার (১৮)। কিন্তু ৮ নম্বরে নামা স্যান্টনার শেষ জুটিতে বেশ ভোগাচ্ছিলেন সফরকারী বোলারদের। এই শেষ উইকেটটি নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে লিড নিশ্চিত করেন শুভাশীষ। স্যান্টনারকে ৭৩ রানে বোল্ড করেন অভিষিক্ত এ পেসার।
রাব্বী সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। দুটি করে পান সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও শুভাশীষ।
৩ উইকেটে ২৯২ রানে রবিবার দিন শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে।
/এফএইচএম/








