নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে “সেরা টেক সাংবাদিকদের হটডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতা” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন থমাস জার্মেইন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ‘সাউথ ডাকোটা ইন্টারন্যাশনাল হট ডগ চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ তিনি প্রথম হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিযোগিতার বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নেই।
অবাক করা বিষয় হলো, মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গুগলের এআই জেমিনি এবং চ্যাটজিপিটি তার ভুয়া তথ্য উদ্ধৃত করতে শুরু করে।
কিছু ক্ষেত্রে এআই টুলগুলো এটিকে রসিকতা হিসেবে উল্লেখ করলেও, লেখক নিবন্ধে “এটি কোনও ব্যঙ্গ নয়” যুক্ত করার পর এআই আরও ‘গম্ভীরভাবে’ বিষয়টি তুলে ধরতে থাকে।
কেন এটি বিপজ্জনক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি কেবল হাস্যরসের জন্য নয়—গুরুতর ক্ষেত্রেও অপব্যবহার হতে পারে। স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত অর্থনীতি, বিনিয়োগ, এমনকি রাজনৈতিক বিষয়েও এভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সম্ভব।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা ইলেক্ট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন-এর প্রযুক্তিবিদ কুপার কুইন্টিন সতর্ক করে বলেন, এভাবে মানুষকে প্রতারণা করা, কারও সুনাম নষ্ট করা কিংবা শারীরিক ক্ষতির দিকেও ঠেলে দেওয়া সম্ভব।
এসইও বিশেষজ্ঞ লিলি রে বলেন, “দুই-তিন বছর আগের তুলনায় এখন এআই-কে বিভ্রান্ত করা অনেক সহজ। এটি স্প্যামারদের জন্য এক ধরনের রেনেসাঁ।”
সমস্যাটি মূলত তখন দেখা দেয়, যখন এআই মডেলগুলো তাদের প্রশিক্ষিত ডেটার বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে। নতুন বা অস্বাভাবিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে মানসম্মত তথ্যের ঘাটতি থাকলে এআই সহজেই একটি মাত্র উৎসকে ভিত্তি করে উত্তর তৈরি করে ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গুগল সার্চ-এ এআই ওভারভিউস দেখালে ব্যবহারকারীদের লিংকে ক্লিক করার প্রবণতা ৫৮ শতাংশ কমে যায়। ফলে মানুষ উৎস যাচাই না করেই এআই-এর তথ্যকে সত্য ধরে নিচ্ছে।
এই কৌশল ব্যবহার করে ভুয়া স্বাস্থ্যপণ্য, বিনিয়োগ পরামর্শ বা ব্যবসা প্রচারও করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যের ‘রিভিউ’ হিসেবে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন বা প্রেস রিলিজকেই এআই নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে তুলে ধরেছে।
গুগল দাবি করেছে, তাদের র্যাঙ্কিং সিস্টেম ৯৯ শতাংশ স্প্যামমুক্ত ফলাফল নিশ্চিত করে এবং তারা এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কাজ করছে। ওপেনএআই-ও জানিয়েছে, তারা গোপনে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা শনাক্ত ও প্রতিহত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানই স্বীকার করেছে, তাদের এআই টুল “ভুল করতে পারে”।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই টুলে আরও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকা উচিত। তথ্যের উৎস কতগুলো এবং সেগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য—তা পরিষ্কারভাবে দেখানো প্রয়োজন। তবে ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে।
এআই সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নে কার্যকর হলেও, চিকিৎসা নির্দেশিকা, আইনগত পরামর্শ, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা স্থানীয় সেবার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে একে একমাত্র ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি









