মেটা এআইয়ের পাশাপাশি এবার বিভিন্ন থার্ড-পার্টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট ব্যবহারের সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটার মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই সুবিধার কল্যাণে আলাদা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে না গিয়েই হোয়াটসঅ্যাপের ভেতর থেকে বিভিন্ন এআই এজেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় বটের সঙ্গে আলাদা চ্যাট করা যাবে।
অ্যান্ড্রয়েডের বিটা সংস্করণে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ফিচারটির পরীক্ষামূলক রোলআউট।
হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে নতুন সুবিধাটির জন্য রাখা হয়েছে ‘এজেন্টস’ বিভাগ। এজেন্টস মেনুটি থেকে ব্যবহারকারী থার্ড-পার্টি এজেন্ট যুক্ত ও কনফিগার করতে পারবেন। প্রতিটি এজেন্টের জন্য আলাদা নাম ও প্রোফাইল ছবি দেওয়া যাবে। এজেন্ট সংযুক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপ একটি স্বতন্ত্র ‘এপিআই কি’ তৈরি করবে, যা সংশ্লিষ্ট এজেন্ট হোস্ট করা প্ল্যাটফর্মে কপি করে দিতে হবে। এভাবে সংযোগ সম্পন্ন হলে এজেন্টটি আলাদা চ্যাট হিসেবে ব্যবহারকারীর চ্যাট লিস্টে দেখা যাবে।
একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে একই সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি থার্ড-পার্টি এজেন্ট যুক্ত করা যাবে। এই সীমা পূর্ণ হলে নতুন এজেন্ট যুক্ত করতে আগে কোনো একটি এজেন্ট বিচ্ছিন্ন করতে হবে। কোনও এজেন্ট সরিয়ে ফেললেও তার আগের চ্যাটের ইতিহাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে না। পরে সেটি আবার যুক্ত করতে হলে নতুন করে সংযোগ স্থাপন ও নতুন এপিআই কী ব্যবহার করতে হবে। তবে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন ও চাহিদার প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় ভবিষ্যতে পাঁচটি এজেন্টের সীমা পরিবর্তন হতে পারে।
নিরাপত্তার দিক থেকে প্রতিটি এজেন্ট আলাদা ওয়ান-টু-ওয়ান চ্যাটে কাজ করবে। এজেন্টকে ব্যবহারকারীর অন্য ব্যক্তিগত চ্যাট, কনট্যাক্ট বা মিডিয়ায় প্রবেশাধিকার দিতে হবে না, শুধু সরাসরি এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্যই কেবল তার কাছে পৌঁছাবে। থার্ড-পার্টি এজেন্টকে গ্রুপ চ্যাট বা কমিউনিটিতে যুক্ত করা যাবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কথোপকথন এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতাধীন নয়।
হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ডেভেলপারের হয়ে মেটার একটি সেবার মাধ্যমে কথোপকথন পরিচালিত হয়। ফলে এজেন্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বার্তা গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণ করতে পারে। তাই ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের গোপনীয়তা নীতি ও ব্যবহারের শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন থ্রার্ড-পার্টি এজেন্টস টার্মস ওফ সার্ভিস অনুযায়ী, এসব এজেন্ট হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব সেবা নয়; স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা ডেভেলপার এগুলো তৈরি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। সুবিধাটি শুধু জেনারেটিভ এআই সহকারী নয়, বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় সেবার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এমনকি ব্যবহারকারীরা থার্ড-পার্টি ডেভেলপারের তৈরি টুল ও কোড ব্যবহার করে নিজেদের এজেন্টও সংযুক্ত করতে পারবেন।
বর্তমানে ফিচারটি নির্বাচিত কয়েকটি দেশের সীমিতসংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড বিটা ব্যবহারকারীর কাছে ধীরে ধীরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কবে এটি উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এখনো নির্দিষ্ট কোনও তারিখ জানায়নি।








