সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন চোখে পড়ছে ‘আশির দশকের’ আদলে তৈরি ছবি ও ভিডিও। অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজেদের ছবি পুরোনো দিনের আবহে সাজিয়ে নিচ্ছেন। গ্যাংস্টার লুক, যুগল ছবি কিংবা পারিবারিক মুহূর্ত- সবই যেন ফিরে যাচ্ছে ৪০ বছর আগের সময়ে। প্রথমবার চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ছবি না পেলে অনেকেই বারবার ছবি ও স্টাইল পরিবর্তন করে চেষ্টা করছেন। ফলে এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি এখন স্টোরি, রিলস এমনকি প্রোফাইল ছবিতেও ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্ত থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেন্ডে বাংলাদেশিরা এখন মেতে উঠেছেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মজার এই প্রবণতার মধ্যেও কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
ছবি আপলোড করার সময় এআই কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য অন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। আবার প্রতারকেরা উচ্চ রেজল্যুশনের এআই ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে। এমনকি মুখের ছবি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও ও ছবি দিয়ে আর্থিক প্রতারণাও চালানো সম্ভব।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যক্তিগত ছবিগুলো কোথাও সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না কিংবা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে— তা অনেক সময় ব্যবহারকারীর জানা থাকে না। এ ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের কাছেও চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য ডেটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কিংবা বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছেও বিক্রি করা হতে পারে।
গোপনীয়তার বিষয়টি শুধু মুখের ছবিতে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, আপলোড করা ছবিতে গাড়ির নম্বরপ্লেট দৃশ্যমান থাকলেও তা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কারণ হতে পারে। ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব- এমন যেকোনও তথ্যই ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই ছবি আপলোডের আগে মেটাডেটা বন্ধ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত তথ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এআইয়ের তৈরি ‘নিখুঁত’ ছবিও ব্যবহারকারীদের মধ্যে অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তব জীবনের নিজের সঙ্গে এআইয়ের তৈরি নিখুঁত সংস্করণের তুলনা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।
অবশ্য অনেকের কাছে এটি নিছকই মজার একটি রেট্রো ট্রেন্ড, যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ৮০-এর দশকের ফ্যাশন ও সংস্কৃতি নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। অনেকটা সময়ের পেছনে ফিরে যাওয়ার মতোই এই অভিজ্ঞতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রেট্রো ট্রেন্ড উপভোগ করুন, তবে ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার বিষয়ে একটু সতর্ক থাকুন।
সূত্র: এশিয়া নেট নিউজ

নিজেকে দেখতে চান আশির দশকে? ছবি বানাবেন যেভাবে
‘রেট্রো নস্টালজিয়ায়’ সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া: সবার ৮০র দশকের লুক কেন






