বাজার থেকে কেনা খাবার দেখতে যতই ভালো হোক, তা খাঁটি কি না, সব সময় চোখে দেখে বোঝা যায় না। দুধ থেকে মশলা নিত্যদিনের নানা খাদ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগ থাকে। গবেষণাগারে পরীক্ষা করানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, এসব ঘরোয়া পরীক্ষা শতভাগ নির্ভুল নয়। নিশ্চিত হতে হলে অনুমোদিত পরীক্ষাগারে খাদ্য পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
হলুদগুঁড়োয় কৃত্রিম রং বা অন্য উপাদান মেশানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হলে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ হলুদগুঁড়ো দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে পারেন। পানির রং অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হয়ে গেলে বা তলায় অস্বাভাবিক রঙিন আস্তরণ দেখা গেলে পণ্যটি নিয়ে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে শুধু পানির রং দেখে ভেজাল নিশ্চিত করা যায় না।
মরিচেরগুঁড়োয় কৃত্রিম রং বা অন্য কোনও উপাদান মেশানো হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য এক গ্লাস পানিতে সামান্য মরিচগুঁড়ো দিতে পারেন। পানির ওপর অস্বাভাবিক রঙিন স্তর তৈরি হলে বা রং খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি খেয়াল করুন। সন্দেহ হলে ওই লঙ্কাগুঁড়ো ব্যবহার না করে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নতুন পণ্য কেনাই ভালো।
একটি পরিষ্কার কাচের বা মসৃণ পৃষ্ঠে এক ফোঁটা দুধ দিয়ে দেখুন। দুধ তুলনামূলক ঘন হলে তা ধীরে গড়িয়ে যেতে পারে এবং পৃষ্ঠে সাদা দাগ থাকতে পারে। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাতে বেশি পানি মেশানো থাকতে পারে।
তবে দুধের স্বাভাবিক ঘনত্বও বিভিন্ন কারণে বদলাতে পারে। তাই এই পরীক্ষাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়।
চায়ের ক্ষেত্রেও পানির সাহায্যে একটি প্রাথমিক পরীক্ষা করা যায়। এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে সামান্য চা পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
চা পাতা থেকে খুব দ্রুত অস্বাভাবিকভাবে রং বেরিয়ে পানিকে রঙিন করে ফেললে সতর্ক হওয়া ভালো। তবে চায়ের ধরন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও রং ছড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।
ঘরোয়া পরীক্ষায় সন্দেহ তৈরি হলে সেই খাবার না খাওয়াই ভালো। বাজার থেকে খাদ্যপণ্য কেনার সময় প্যাকেটের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানের তালিকা এবং মানসম্পর্কিত তথ্য দেখে নিন। খোলা মশলা বা খাবার কেনার ক্ষেত্রে পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘরোয়া পরীক্ষা শুধু প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। খাবারে ক্ষতিকর বা রাসায়নিক ভেজাল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।









