জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ নিরাপদ, তবে…

হিটলার এ. হালিম
০৮ মে ২০১৭, ১৮:৪৪আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ১৮:৪৭

জাতীয় পরিচয়পত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজে রক্ষিত আছে প্রায় ১২ কোটি সিমের বিপরীতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের আঙুলের ছাপ। এনআইডি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নেওয়া আঙুলের ছাপের এই ডাটাবেজ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কেউ কোনোভাবেই ডাটাবেজ থেকে তথ্য চুরি করতে পারবে না।

তবে তথ্যপ্রযুক্তির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা হলো এক ধরনের ইলিউশন। এ বিষয়ে কেউ শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে এনআইডিধারীর সংখ্যা ১০ কোটি ১৭ লাখ। তবে সব এনআইডির বিপরীতে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করার কাজটি এখনও শেষ হয়নি। 

এনআইডি ডাটাবেজের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বরাবরই বলে আসছেন, এনআইডি ডাটাবেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুরক্ষিত। কোনোভাবেই ফিঙ্গার প্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) অন্য কারও হাতে বা অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়া সম্ভব নয়। এমন কোনও সুযোগ এতে রাখা হয়নি।

তবে নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেক্সিকোতে সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তিন বছর পরে সেদেশের সরকার ওই নিয়ম তুলে নেয়। কারণ সেটি নিয়ে বরাবরই সরকারের শঙ্কা ছিল। অন্যদিকে দেশে ব্যক্তিগত সুরক্ষা আইন নেই। ফলে কোনও ব্যক্তির আঙুলের ছাপ যদি কোনোভাবে চুরি হয় বা হ্যাকাররা হ্যাক করে, তাহলে তিনি প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবেন, কোন আইনে আশ্রয় চাইবেন?

তিনি আরও বলেন,এই ডাটাবেজে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু কে, কী কাজে, কেন ডাটাবেজে প্রবেশ করছে তা কি মনিটর করার কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে? এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে নিজের কাজে বা প্রয়োজনে ওই ডাটাবেজ ব্যবহার করছেন না, তার জবাবদিহি কার কাছে করতে হবে?

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেলকেই (এনটিএমসি) কেবল এই ডাটাবেজে প্রবেশের ম্যান্ডেট দেওয়া আছে। ফলে কোনও বাউন্ডারি না থাকায়  ভয় হচ্ছে। তাই সবার আগে এই তিনটি বিষয়কেই সবসময় মাথায় রাখা উচিত। বিষয়গুলোর যৌক্তিক সমাধান এবং কার্যসূত্র পাওয়া গেলে এর নিরাপত্তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত থাকা যাবে।

তিনি মনে করেন, এই লেভেলের ডাটার নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ধরনের অ্যারেজমেন্টের দরকার ছিল।   

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এনআইডি ডাটাবেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত। এই ডাটাবেজ কোনোভাবেই হ্যাক করা সম্ভব নয়।’  

তবে ব্যক্তির জন্য সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা না থাকলেও এই আঙুলের ছাপ নিয়ে কোনও প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে কোনও মোবাইলফোন অপারেটর অপব্যবহার করলে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনও ব্যক্তি এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার কী ধরনের শাস্তি হবে, তা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আমাদের যে সিস্টেমটি করা আছে তা শুধু আঙুলের ছাপ ভেরিফাই করার জন্য। এটা সরাসরি সার্ভারে নয়, সার্ভারের বাইরে একটা অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারফেস দিয়ে কল করা হয়। শুধু ভেরিফাই করে রিপোর্টটি যায়। এটা অন্যের হাতে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কারণ আমাদের কমপ্লায়েন্স ইস্যু আছে, আইনের ইস্যু আছে। আমরা সিস্টেমটি যেভাবে ডেভেলপ করেছি, তাতে করে কেউ চাইলেও এখান থেকে আঙুলের ছাপ নিতে বা কপি করতে পারবে না। ’

/এসএনএইচ/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন: 

ধর্ষণ ঘটনার তদন্তে মানবাধিকার কমিশনের ৫ সদস্যের কমিটি

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি