বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজের দাবি

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১০:০০, মে ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০, মে ১২, ২০২০

তথ্য প্রযুক্তি খাত

আসন্ন বাজেটে (২০২০-২১) তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পখাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজের দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের মধ্যে টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবাখাত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও মোবাইল ফোন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং খাত খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হলে এবং করবিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধান করা হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পখাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 

জানা গেছে, দেশের কয়েকটি প্রযুক্তি সংগঠনের নেতারা ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শিগগিরই বৈঠক করবেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে। এছাড়া ধারাবাহিক বৈঠক অব্যাহত আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে। অর্থমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়েছে করসহ অন্যান্য বিষয়ক সমস্যাগুলোর সমাধানের আশায়। সংগঠন সূত্র জানা গেছে, শিগগিরই সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে একটা দাবিনামা ও প্রস্তাবনা তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হবে। 

মোবাইল সেবাদাতাদের সংগঠন অ্যামটব মনে করে যথাযথভাবে করনীতি সংস্কার করা হলে জিডিপিতে মোবাইল শিল্পের বর্তমান অবদান ৭ শতাংশ থেকে আগামীতে আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। আগামী বাজেটে কী ধরনের কর সংস্কার হলে তা মোবাইল খাত ও এই সেবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে অ্যামটব এমন কিছু প্রস্তাব সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে উত্থাপন করেছে। অ্যামটব সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে পুরো দেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে। মোবাইল শিল্প খাতও এর বাইরে নয়। এই পরিস্থিতিতে মোবাইল শিল্প সব ধরনের যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন ইত্যাদির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা অন্যান্য সময়ের মতো এই কঠিন সময়েও যথাযথভাবে সেবা দান করে যাচ্ছি। যেহেতু এই খাতটি করসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছে, তাই এখনই সময় এসব দূর করে এই খাতকে উৎসাহিত করা-যেন ভবিষ্যতে আমরা জাতিকে আরও বেশি সেবা দিতে পারি।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. শাহিদ উল মুনির বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর ও ভ্যাট (মূসক) নিয়ে কিছু সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। আমরা সেসবের সমাধানের আশা করছি এবারের বাজেটে। 

জানা যায়, কম্পিউটার পণ্যের ওপর কাস্টম ডিউটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বিসিএস। একইসঙ্গে আইটি পণ্য সার্ভিসিং বা মেরামতের ওপর আদায় করা ১৫ শতাংশ মূসক অব্যাহতি চেয়েছে। সমিতির দাবি, নতুন আইটি পণ্য বিক্রির ওপর মূসক এবং বিক্রি ও সরবরাহের ওপর যেমন মূসক অব্যাহতি আছে তেমনি সার্ভিসিং বা মেরামতের ওপর একইভাবে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া এইচএস কোড বিষয়ে যে জটিলতা দীর্ঘদিন চলমান আছে তারও সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে বিসিএস।

দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি ইন্টারনেট সেবাকে ভ্যালু চেইনে আইটি এনাবল সার্ভিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে। আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল), আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ও আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) এই তিনটিকে ভ্যালু চেইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ঘোষণা করা হলে বাজেটে এটাই হবে ইন্টারনেট খাতের সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করেন সংগঠনের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে বাজেটে এবার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা প্রত্যাশা করছি। এছাড়া এইচএস কোড নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী।

আমিনুল হাকিম জানান, ডায়াল-আপ মডেমে শুল্ক ছিল শূন্য শতাংশ। সেই যুগ কবেই চলে গেছে, এসেছে ফাইবার মডেমের কাল। কিন্তু ফাইবার মডেমে শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়নি। দিতে হয় ৩৭ শতাংশ শুল্ক ও কর। এছাড়া রাউটার ও সুইচ ইত্যাদিতে দিতে হয় ৫৯ শতাংশ শুল্ক ও কর। আইএসপিএবি এসব পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার চায়।   

দেশের মোবাইলফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিএমপিআইএ এবারের বাজেটে দেশের মোবাইল শিল্পের উন্নয়নে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলাপকালে এবারের বাজেটে নীতিমালা ও শুল্কের বিষয়ে কোনও পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংগঠনের মহাসচিব জাকারিয়া শহীদ বলেন, আমরা এনবিআরকে বলেছি, এ বছর যদি নতুন করে কিছু করা হয় তাহলে এ খাতে অনেক প্রভাব পড়বে। করোনা ভাইরাসের কারণে এমনিতেই এ শিল্প নাজুক অবস্থার মধ্য পড়েছে। আমরা এনবিআরকে আহ্বান জানিয়েছি, এই শিল্পের উন্নয়নে অন্তর্বর্তীকালীন কিছু করা যায় কিনা তার সুযোগ খুঁজে দেখতে। তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে মোবাইল খাত বিপুল অংকের ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে জানিয়েছি। ওই চিঠিতে আমরা উল্লেখ করেছি এ খাতে এরইমধ্যে শত কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

দেশের কল সেন্টার ও আউটসোর্সিং খাতের সংগঠন বাক্য বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাতে আরোপিত ৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।এছাড়া এনবিআর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর অব্যাহতির সনদ নিতে ২-৩ মাস লেগে যায়। এই সময়টা আরও কমানোর আহ্বান জানিয়েছে বাক্য। অন্যদিকে কল সেন্টার প্রশিক্ষণের ওপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৭ শতাংশ কর ও মূসক দিতে হয়। এটাকে সংগঠনটি দক্ষতা উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বাক্য’র মহাসচিব মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা কয়েকটি সংগঠন মিলে আলাপ করে (অনলাইন বৈঠক) একটি সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছি। আমরা দাবি জানাবো সরকার বাজেটে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সেটিতে এবার যেন তথ্যপ্রযুক্তিও থাকে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, বাজেটে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণায় আইটি খাতের নাম আলাদা করে উল্লেখ করে স্পষ্টিকরণ করা হোক। যাতে এ শিল্পখাতের সঙ্গে জড়িতরা প্রণোদনা সুবিধা পায়।

/টিএন/

লাইভ

টপ
X