করোনাকালে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এসেছে হরেক রকম ফিচার

Send
টেক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১০, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৮, আগস্ট ০৯, ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মানুষকে ঘরে বসেই অনেক কাজ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিসেবা ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সুবিধা দিতে নতুন কিছু ফিচার নিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। করোনার সময়ে ফেসবুক চালু করেছে ‘মেসেঞ্জার রুমস’ ফিচার। এটি জুম, স্কাইপ, গুগল মিট ও মাইক্রোসফট টিমসের মতোই কাজ করে।

ফেসবুকের মেসেঞ্জার রুমস ফিচারের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫০ জন ভিডিও কলে যুক্ত হওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে একজনকে ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে চ্যাটরুম খুলতে হবে। পরবর্তীতে সেখানে ৪৯ জনকে আমন্ত্রণ জানানো যায়। কারও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও চ্যাটরুমে যুক্ত হতে পারবেন। এই ভিডিও কল যতক্ষণ ইচ্ছা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পরই ভিডিও কলের জন্য জুম অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জুলাইয়ের শেষ দিকে ভারতের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গেজেটস নাউ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপ স্টোরের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে জুম। এ বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জুম অ্যাপ ডাউনলোড হয় ৯৪ মিলিয়ন বার। এর আগে এই রেকর্ড ছিল টিকটকের। বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৬৭ মিলিয়ন ডাউনলোডের রেকর্ড গড়ে অ্যাপটি।

করোনার কারণে জুম তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ইস্যুতে এটি বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে। এ কারণে ব্যবহাকারীরা বিকল্প কোনও প্ল্যাটফর্ম চাইছিলেন যা দিয়ে ভিডিও কল করা যায়। ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণে অবশেষে মেসেঞ্জার রুমস চালু করে ফেসবুক।

সম্প্রতি মেসেঞ্জারে ‘স্ক্রিন শেয়ারিং’ ফিচারও নিয়ে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। এই ফিচারের সাহায্যে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা, গ্রুপ চ্যাটে থাকা কিংবা মেসেঞ্জার রুমে থাকা অবস্থায় নিজের ডিভাইসের স্ক্রিন অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে। অর্থাৎ, আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে কী আছে তা চাইলেই অন্যদের দেখাতে পারবেন। এখন গ্রুপ চ্যাটে সর্বোচ্চ ৮ জনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা যায় এবং মেসেঞ্জার রুমসে এটি করা যায় ১৬ জনের সঙ্গে।

করোনার সময়ে ইনস্টাগ্রামও বেশকিছু আপডেট নিয়ে এসেছে। এরমধ্যে অন্যতম একটি— থার্ড পার্টি ফ্যাক্ট চেকের ব্যবহার। করোনা সম্পর্কিত গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে এই ফিচার চালু করে ইনস্টাগ্রাম। শুধু তাই নয়, যেসব অ্যাকাউন্টে করোনা সম্পর্কিত কনটেন্ট আছে সেসব অ্যাকাউন্টকে রিকমেন্ডেশন থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারা। তবে বিশ্বাসযোগ্য অ্যাকাউন্টের (যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) ক্ষেত্রে সেটি করা হচ্ছে না। টুইটারও গুজব প্রতিরোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য নতুন আপডেটের মাধ্যমে মানুষকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে তারা।

করোনাভাইরাসের কারণে ভিডিও কলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ফিচারের আপডেট করেছে হোয়াটসঅ্যাপও। আপডেটের কারণে এখন একসঙ্গে ৮ জন হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করতে পারেন। আগে ৪ জন হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারতেন।

এভাবে প্রায় প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম করোনার সময়ে ব্যবহারকারীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে পাশে দাঁড়িয়েছে। কারও কারও দাবি, মানুষের উপকারে অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে এখন বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এ কারণেই আগের চেয়ে করোনার সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের হারও বেড়েছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

 

 

/এইচএএইচ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ