ফের গ্রাহক পাওয়ার শীর্ষে রবি, ছেড়ে যাওয়ায় বাংলালিংক

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২১, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

রবি ও বাংলালিংক

নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন বা এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) সেবা চালুর দুই বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে অক্টোবরের ১ তারিখে। প্রথম বছরের মতো দ্বিতীয় বছরেও অন্য অপারেটর ছেড়ে মোবাইল অপারেটর রবিতে এসেছেন সবচেয়ে বেশি গ্রাহক। আর অপারেটর ছেড়ে গ্রাহক চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে বাংলালিংক। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র এমএনপি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএনপি সেবা নিতে গত এক বছরে (২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের আগস্ট) সফল হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার ৩০৮ জন গ্রাহক। আর ব্যর্থ হয়েছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ গ্রাহক। অন্য অপারেটর ছেড়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক (৩ লাখ ২২ হাজার) এসেছেন রবিতে, যা মোট সফল গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া অন্য অপারেটর থেকে রবিতে আসতে বাধার মুখে পড়েছেন এক লাখ ২২ হাজার গ্রাহক। অন্যদিকে, বাংলালিংক থেকে বের হয়ে অন্য অপারেটরে গেছেন দুই লাখ ১৩ হাজার ২৪৬ জন গ্রাহক। এমএনপিতে সেবা নিয়ে অন্য অপারেটরে গ্রাহক চলে যাওয়ার শীর্ষে রয়েছে বাংলালিংক।

প্রসঙ্গত, প্রথম বছরে এমএনপি সেবা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক চলে আসেন রবিতে। এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার। আর অপারেটর বদল করেন ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৫০ জন গ্রাহক। বিটিআরসি প্রকাশিত প্রথম এক বছরের প্রতিবেদনে এই চিত্র পাওয়া যায়। প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গত বছরের ১৪ অক্টোবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বছরে সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক অপারেটর বদলের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক বিভিন্ন সমস্যার কারণে অপারেটর বদল করতে পারেননি। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর নম্বর না বদলে অপারেটর বদল (এমএনপি) সেবা চালু করে বিটিআরসি।

গ্রাহক পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকার কারণ জানতে চাইলে মোবাইল অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘এমএনপি নিয়ে বিটিআরসি’র তথ্য প্রমাণ করে—রবি এখন দেশের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল ব্র্যান্ড। গ্রাহকরা আমাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যাতে সুখকর অভিজ্ঞতা পান, সেজন্য রবি সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে এবং এর সুফল গ্রাহকরা পাচ্ছেন। এমএনপির মাধ্যমে রবির প্রতি আস্থা রাখায় গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, আরও বেশি গ্রাহক রবির দেশব্যাপী বিস্তৃত ৪.৫জি নেটওয়ার্কে যোগ দেবেন।’

বিটিআরসি’র তথ্যমতে, গত এক বছরে শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন থেকে বের হয়ে অন্য অপারেটরে চলে গেছেন প্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার ১৭৯ গ্রাহক। আর রবি থেকে অন্য অপারেটরে গেছেন ৪৯ হাজার ২২৭ জন গ্রাহক। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক ছেড়ে অন্য অপারেটরে গেছেন তিন হাজার ৬৫৬ জন গ্রাহক। এমএনপিতে বাংলালিংক ছেড়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গ্রাহক।

জানা যায়, গত এক বছরে গ্রামীণফোন ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ৫২ হাজার ৯৪৯ জন গ্রাহককে। রবি ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে বাধার মুখে পড়েন ২৯ হাজার ৩৭৬ জন গ্রাহক। আর বাংলালিংক ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে বাধার মুখে পড়েন ৮৫ হাজার ৯২৯ জন গ্রাহক। অপারেটর বদল করতে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে বাংলালিংক গ্রাহকদের। এছাড়া টেলিটক ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে বাধার মুখে পড়েন ৩ হাজার ৩৩৯ জন গ্রাহক।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ