শ্রেণিকক্ষ ও বাড়ির কাজে ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, এমন উদ্বেগের পর ল্যাপটপ-স্ক্রিন ছেড়ে কলম ও কাগজে ফিরে গেছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইনচেস্টার কলেজ। ১৩৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হ্যাম্পশায়ারের এই বোর্ডিং স্কুলটি ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পাঠদানে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এলিজাবেথ স্টোন দ্য সানডে টাইমস-কে বলেন, শুধু মোবাইল ফোন বন্ধ করার কোনও মানে হয় না, যদি আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ল্যাপটপ রাখার সুযোগ দিই। কারণ ফোনে তারা যা করে, তা সহজেই ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে রূপান্তর হয়ে যায়।
ল্যাপটপ ব্যবহারকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে স্টোন আরও বলেন, মাল্টিটাস্কিং বলে আসলে কিছু নেই। এটি মনোযোগ বারবার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছাড়া কিছু নয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে উইনচেস্টার কলেজে ল্যাপটপ ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কেবল পাঠদানে স্পষ্ট উপকারিতা রয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য থাকলেই কেবল ল্যাপটপ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৯-১০ বছর এবং ১৩-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বাড়ির কাজ বাধ্যতামূলকভাবে কলম ও কাগজেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু অ্যানালগ বা বাটন ফোন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক স্টোন আরও বলেন, আমরা শিক্ষকদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, প্রযুক্তি ব্যবহারের পেছনে সুনির্দিষ্ট ও বড় ধরনের শিক্ষাগত সুবিধা না থাকলে তা ব্যবহার করবেন না। ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমটিকে যেন ডিফল্ট হিসেবে না ধরা হয়। প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া অন্য উপায়ে করা সম্ভব হলে সেভাবেই করা উচিত।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করা হয়নি। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), থ্রি-ডি গণিত মডেলিং, ভূগোলে জলবায়ু সিমুলেশন কিংবা ভাষার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা এখনও কম্পিউটার ব্যবহার করছে। এ ছাড়া বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা বা শেখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এমন শিশুরা শ্রেণিকক্ষ ও বাড়ির কাজের জন্য কম্পিউটার ব্যবহারের ছাড় পাচ্ছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
পারমাণবিক যুদ্ধ ও এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারে বিলুপ্ত হবে মানবজাতি, সময়ও জানালো গবেষণা
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুয়া তথ্য দিলো ক্লড এআই