ই-কমার্সে আস্থা ফেরাতে যেভাবে এগোচ্ছে সরকার

আমানুর রহমান রনি
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০০ আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৫১

দেশের ই-কমার্স খাতের ওপর দিয়ে বড়সড় ঝড় গেলো বলা যায়। যার ধাক্কা লেগেছে ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাতেও। তাই ই-কমার্সের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এখন থেকে বড় কোনও অনিয়ম না হলে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আকস্মিক অভিযানে যাবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইতোমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেগুলোর তদন্ত শেষ করে দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদানের তাগিদও দিচ্ছে সরকার। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে কাজ করছে বাণিজ্য, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ই-কমার্স নীতিমালার বিষয়ে বিভিন্ন সেক্টর থেকে মতামত চাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়েও দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে আসার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালায় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং-এর মামলা হয়। বেশ কয়েকটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। এতে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থাহীনতা প্রকট আকারে দেখা দেয়। তবে সরকার চাচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এ খাতে দেশি-বিদেশি বিনোয়োগ বাড়ুক।

 

চলছে ই-পেট্রোলিং

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে অন্তত আরও ৬০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে। এটাকে ই-পেট্রোলিং বলছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সকল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে এনেছি। কারা কোথায় কী করছে সব মনিটরিং হচ্ছে। সাইবার ইউনিট কাজ করছে। যখন অনিয়ম দেখবো তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে ব্যাংক হিসাব দিয়ে

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে তাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। তাদের লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে তলব করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে—ইনফিনিটি মার্কেটিং, দারাজ, প্রিয়শপ, অ্যামস বিডি, শপআপ ই-লোন, স্বাধীন, শ্রেষ্ঠ ডটকম, গেজেট মার্ট ডটকম, অ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড, ওয়ালমার্ট, ব্রাইট ক্যাশ, আকাশ নীল, বাড়ি দোকান ডটকম, টিকটিকি, আলিফ ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ ডিল, আস্থার প্রতীক, ই-শপ ইন্ডিয়া, সুপম প্রোডাক্ট, বিডি লাইক, সানটুন, চলন্তিকা ও নিউ নাভানা।

তিন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া অভিযান নয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া এ মুহূর্তে বড় কোনও অভিযানে না যেতে বলা হয়েছে পুলিশের সকল ইউনিটকে। গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ এলে করণীয় ঠিক করে নির্দেশনা দেবে মন্ত্রণালয়গুলো।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বেশিরভাগই তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদারককারী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও একটি সংস্থার সিদ্ধান্তে অভিযান হয় না। সরকার চায় এই খাতে জবাবদিহিতা ফিরে আসুক। সেভাবেই কাজ চলছে। যখন প্রয়োজন মনে করা হবে, তখনই অভিযান হবে।’

নীতিমালার জন্য নেওয়া হচ্ছে মতামত

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নীতিমালার কথা ভাবছে সরকার। এ কাজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেক্টরের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি সভাও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুত নীতিমালা তৈরি করবে। ততদিন আগের পদ্ধতিতে কিছু নির্দেশনা মেনে ব্যবসা করতে হবে ই-কমার্সগুলোকে।

লোপাট অর্থ খুঁজছে সিআইডি

অস্বাভাবিক ছাড়ে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে আলোচনায় আসে ইভ্যালিসহ আরও কয়েকটি ই-কমার্স। অর্থ আত্মসাৎ ও সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডি। গ্রেফতার করা হয় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, এসপিসি, রিং আইডি ও কিউকম-এর মালিক ও প্রধান কর্মকর্তাদের। এসব ঘটনায় অন্তত ৩৫টি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ৯টি, ২৪ টিকিটের বিরুদ্ধে পাঁচটি, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে চারটি, ধামাকার বিরুদ্ধে তিনটি, ইভ্যালির বিরুদ্ধে তিনটি, কিউকমের বিরুদ্ধে তিনটি, রিং আইডির বিরুদ্ধে দুটি, সহজ লাইফের বিরুদ্ধে দুটি, সিরাজগঞ্জ শপের বিরুদ্ধে একটি, নিরাপদ শপের বিরুদ্ধে একটি, র‌্যাপিড ক্যাশের বিরুদ্ধে একটি, থলে ও ইউকম ডটকমের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ তদন্ত করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিআইডি। প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায় কীভাবে অর্থ খরচ করছে সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিআইডি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অর্থ সংক্রান্ত মামলা এমনিতেই জটিল। প্রতিটি বিষয়ে হিসাব কষে এগুতে হয়। একটু সময় তো লাগবেই।’

‘প্রতারণা কমছে’

অভিযানের পর ই-কমার্স খাতে প্রতারণা কমছে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দিনে দিনে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা আরও কমবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘যারা এখন ব্যবসা করছেন, তারা ভালোই করছেন। আমরা চাই এ খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়ুক। সেজন্য কাজ করছি। ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব মনিটরিং করছি। যারা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা আইন মেনে ব্যবসা করবেন, তারা সহযোগিতা পাবেন।’

/এফএ/
সম্পর্কিত
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে চলেছে রকমারি ডট কম
ই-কমার্স উন্নয়নে অটোমেশন জরুরি
পণ্য ধরিয়ে দিয়ে বিক্রেতা উধাও, দায় শুধু ক্রেতার!
সর্বশেষ খবর
শিবিরের সাথীপদ হারালেন রাকসু জিএস আম্মার, সামনে এলো পুরোনো অভিযোগ
শিবিরের সাথীপদ হারালেন রাকসু জিএস আম্মার, সামনে এলো পুরোনো অভিযোগ
দেশের ২৭৬ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন শেষ করেছে এনসিপি
দেশের ২৭৬ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন শেষ করেছে এনসিপি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলাকারী কারা
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলাকারী কারা
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশ পরিদর্শককে কল করে এমপি বললেন ‘এসব ফাইজলামি বাদ দেন’
পুলিশ পরিদর্শককে কল করে এমপি বললেন ‘এসব ফাইজলামি বাদ দেন’
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে কল করে যা বললেন মন্ত্রী
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে কল করে যা বললেন মন্ত্রী
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত
৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন, জিএম বরখাস্ত
পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক
প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য, স্কুলশিক্ষক আটক