কম্পিউটারে কর্মরত অবস্থায় বারবার ফোন হাতে নিয়ে মেসেজ দেখা, প্রয়োজনীয় ছবি খোঁজা কিংবা ফাইল ট্রান্সফার করতে গিয়ে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। তবে উইন্ডোজ ১১-এর ‘ফোন লিংক’সুবিধা ব্যবহার করে স্মার্টফোনের বেশ কিছু কাজ সরাসরি কম্পিউটার থেকেই করা যায়। এতে ফোনের নোটিফিকেশন দেখা, কল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া, ছবি ও ফাইল স্থানান্তর এবং সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব। সমর্থিত কিছু ফোনে কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের মধ্যে কপি-পেস্ট এবং ফাইল ড্র্যাগ করে স্থানান্তরের সুবিধাও রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বারবার ফোন হাতে নেওয়ার ঝামেলা কমে।
কম্পিউটার থেকেই কল ও মেসেজ
ফোন লিংকের সাহায্যে কম্পিউটারেই ফোনের নোটিফিকেশন দেখা, মেসেজ পড়া ও উত্তর দেওয়া এবং কলে কথা বলা যায়। ব্লুটুথ সংযোগ থাকলে কাজের মাঝে ফোন বেজে উঠলে সেটি হাতে না নিয়েও কম্পিউটার থেকে কল ধরা সম্ভব। তবে ফোনে আসা কোন কোন নোটিফিকেশন দেখা যাবে, তা অনুমতি ও সেটিংসের ওপর নির্ভর করে। আইফোনেও কল, মেসেজ ও নোটিফিকেশনের কিছু সুবিধা রয়েছে, তবে অ্যান্ড্রয়েডের সব সুবিধা এতে পাওয়া যায় না।
ছবি ও ফাইল দেখা, কপি ও ট্রান্সফার
সংযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাম্প্রতিক ছবি ফোন লিংক থেকে দেখা যায়। উইন্ডোজ ১১-এর ফাইল এক্সপ্লোরারে ফোন যুক্ত করলে সমর্থিত ডিভাইসে ফোল্ডার ব্রাউজ করা, ফাইল খোলা, কপি, নাম পরিবর্তন ও মুছে ফেলা যায়। দুই ডিভাইসের মধ্যে ওয়্যারলেসভাবে ফাইল স্থানান্তরও করা সম্ভব। এ ছাড়া ফোনে কপি করা লেখা বা ছবি কম্পিউটারে এবং কম্পিউটারে কপি করা কনটেন্ট ফোনে পেস্ট করা যায়। তবে ক্রস-ডিভাইস কপি-পেস্ট নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ফোনেই সমর্থন করে।
ফোনের অ্যাপ ও ক্যামেরা ব্যবহার
সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফোন লিংকের মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ কম্পিউটারে চালানো যায়। একাধিক অ্যাপ পাশাপাশি খোলা এবং অ্যাপের মধ্যে ফাইল ড্রাগ-ড্রোপস সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, ফোনের ক্যামেরাকে কম্পিউটারের ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগও রেখেছে ফোন লিংক।
ক্লিপবোর্ড, অডিও ও হটস্পটের সুবিধা সমর্থিত ফোনে দুই ডিভাইসের ক্লিপবোর্ডের কনটেন্ট আদান-প্রদান ছাড়াও ফোনের অডিও কম্পিউটারে চালানো এবং তাৎক্ষণিক মোবাইল হটস্পট ব্যবহারের মতো অতিরিক্ত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। সংযুক্ত ফোনের ওয়ালপেপার কম্পিউটারে দেখানো এবং ওয়াইফাই না থাকলে মোবাইল ডেটায় কানেক্ট করার সুবিধাও রয়েছে। এসব সুবিধা ফোনের মডেল, অ্যাপের সংস্করণ ও সেটিংস ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
উইন্ডোজ ১১-এ ফোন যুক্ত করবেন যেভাবে
প্রথমে কম্পিউটারের সার্চ বক্সে ফোন লিংক লিখে অ্যাপটি খুলে অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন নির্বাচন করুন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে লিংক টু উইন্ডোজ অ্যাপ খুলুন বা প্রয়োজন হলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ইনস্টল করুন। কম্পিউটারে দেখানো কিউআর কোড ফোন দিয়ে স্ক্যান করে একই মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন। এরপর ফোনে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়ে সংযোগ সম্পন্ন করুন।
ফোনের ফাইল উইন্ডোজ ফাইল এক্সপ্লোরারে দেখতে কম্পিউটারে সেটিংস> ব্লুটুথ এন্ড ডিভাইসেস> মোবাইল ডিভাইসেস> ম্যানেজ ডিভাইসেস-এ গিয়ে শো মোবাইল ডিভাইসেস ইন ফাইল এক্সপ্লোরার চালু করুন।
ক্যামেরাকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করতে একই জায়গা থেকে ইউজ অ্যাজ কানেক্টেড ক্যামেরা চালু করতে হবে। ক্লিপবোর্ডের জন্য ফোন লিংকের সেটিংস> ফিচারস-এ গিয়ে ক্রস-ডিভাইস কপি এন্ড পেস্ট চালু করুন। ফোন ও কম্পিউটার কাছাকাছি রেখে একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত রাখলে সাধারণত ব্যবহার সহজ হয়। সব সুবিধার জন্য সমর্থিত ডিভাইস ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকা জরুরি।
ইন্টারনেটে ঘ্রাণ পাঠাবে ‘সেন্ট্রনিক’, দূরে বসেই পাবেন কফি-কেকের সুবাস
রাউটারে ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ড ব্যবহারে ধীরগতির হতে পারে ইন্টারনেটের স্পিড