নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে নানামুখী তৎপরতা

Send
বিভুরঞ্জন সরকার
প্রকাশিত : ১৫:০৭, জুলাই ২০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৭, জুলাই ২০, ২০১৮

বিভুরঞ্জন সরকারএ বছরের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শোনা যাচ্ছে, আগামী অক্টোবর মাসে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষদিকে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল অর্থাৎ সাংবিধানিক শাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে একতরফা ও বিতর্কিত একটা নির্বাচন, একাদশ সংসদ নির্বাচন তেমন হবে না। আগের নির্বাচনে কয়েকটি মাত্র  রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল। ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিলেন। অমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি বড় খেলাফ। দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন ডজন। অনিবন্ধিত দলের সংখ্যাও সমপরিমাণ কিংবা তারও বেশি। জনসমর্থনের বিচারে সবচেয়ে বড় দুটি দল হলো আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। এরপর এরশাদের জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী। এরমধ্যে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির। স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর নির্বাচনে জয়লাভ করে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ। একবার এ দল তো পরেরবার ও দল। সেজন্যই আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি– এই দুই দলের কোনও একটি দল নির্বাচনে অংশ না নিলে সে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য হয় না। যেহেতু দেশের সিংহভাগ মানুষের সমর্থন এই দুই দলের প্রতি সেহেতু এই দুই দলের এক দল নির্বাচনের বাইরে থাকলে নির্বাচনে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি।  আরও  বেশ কয়েকটি দলও নির্বাচন বর্জন করে। ফলে একটি বিশেষ অবস্থায় সে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। দেশে এবং দেশের বাইরে সে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গঠিত সংসদের পক্ষে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করা সম্ভব হবে না। দেশে হয়তো একটি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেই নতুন নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। আগামী নির্বাচনও কি আগের নির্বাচনের মতো হবে? বিএনপি কি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে? বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও পরিষ্কার না হলেও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিকবার এটা বলেছেন, দেশে আর ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন হবে না। দলীয় একাধিক সভায় তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ‘কঠিন’ নির্বাচনযুদ্ধের ইঙ্গিতই দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় জনসভা করে মানুষের কাছে নৌকায় ভোট চাইছেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আরেক মেয়াদের জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার যে আহ্বান শেখ হাসিনা জানাচ্ছেন, তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মধ্যে পড়ছে বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগ পরেরবারও সরকার গঠন করবে বলে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস দানা বাঁধছে। নির্বাচনে এর একটি সুফল আওয়ামী লীগ পাবে। টানা দুই মেয়াদে সরকারে থাকার যেমন সুবিধা আছে, তেমন কিছু অসুবিধাও আছে। ক্ষমতাসীনদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে বিরুদ্ধ মনোভাব থাকেই। শাসক দলের কেউ কেউ নানা ধরনের অনিয়ম-অনাচার, দুর্নীতির সঙ্গেও জড়িয়ে যায়। ক্ষমতা অনেককে দুর্বিনীতও করে তোলে। স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি জনবিচ্ছিন্নতা বাড়ায়। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধেও এমনতর অভিযোগ আছে। তবে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে আওয়ামী লীগ অধিক সতর্ক থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে নানা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে, যারা এলাকায় সমালোচিত তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও শোনা যাচ্ছে। শতাধিক নতুন মুখ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর বের হয়েছে।

খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপুল বিজয় আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনযুদ্ধ জয়ে একটি বড় অন্তরায় সেটাও অনেকেই বুঝতে পারছেন। খুলনা, গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকার সুফল পেয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায়। বরিশাল, সিলেট এবং রাজশাহী সিটি নির্বাচনে জিতে সেই জয়ের আনন্দ নিয়েই আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। অর্থাৎ এটা এখন স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির কী অবস্থা। বিএনপি একটি বড় দল হলেও এই দলটি এখন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ‘দুঃসহ’ সময়কাল অতিক্রম করছে। ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং কৌশল বিএনপিকে এখন খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন নয়–এই গোয়ার্তুমি এবং নির্বাচন ভণ্ডুল করার হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিএনপিকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে সরকার পতনের হঠকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সরকার যে আজ বিএনপিকে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক স্পেস দিচ্ছে না, এই অবস্থা বিএনপিই তৈরি করে দিয়েছে। ভুল রাজনীতির খেসারত বিএনপিকে আরও দিতে হবে। আগে বিএনপির দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচন নয়। নিজ দলের এবং মিত্রদের  সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় করেও বিএনপি এই দাবি আদায় করতে পারেনি। তারা শক্তির এতটাই অপচয় করেছে যে কয়েক বছরের চেষ্টায়ও আর স্বাভাবিক হতে পারছে না। বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে, চাপ সৃষ্টি করেও সরকারের মনোভাবে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ বিএনপির ঘাড়ে এবার আরও  নতুন বিপদ এসে চেপেছে। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে পাঁচ মাস ধরে জেলে আছেন। তার আশু কারামুক্তির সম্ভাবনা এখন তার আইনজীবীরাও দেখছেন না। বিএনপি বলছে, চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে তারা নির্বাচনে যাবে না। এটা যদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল না হয়ে বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে বলতেই হবে ভুল বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেই সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে বলে মনে করার কোনও কারণ নেই।  সরকার প্রধান নিজেই বলেছেন, খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দিশেই কেবল তিনি মুক্তি পেতে পারেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলাজট তা থেকে বেরিয়ে আসতে আদালতের বারান্দায় কতদিন ঘুরতে হবে, সেটা কে বলতে পারেন!

তবে মুখে যাই বলা হোক না কেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে যেকোনও পরিস্থিতিতেই অংশ নেবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। দলকে আরো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে বিএনপির সামনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে ভালো বিকল্প নেই। খুলনা সিটি নির্বাচনের পর বিএনপি বলেছিল, গাজীপুর দেখে পরের তিন সিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গাজীপুরের পর এখন তিন সিটিতেও তারা নির্বাচন করছে। তিন সিটির পর জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে বলে ধারণা করা যায়। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার তৎপরতা বিএনপি শুরু করেছে। একদিকে তারা ২০দলীয় জোটের পরিধি বা শরিক সংখ্যা যেমন বাড়াতে চায়, অন্যদিকে তেমনি সমমনা নয় অথচ সরকারবিরোধী, এমন দলগুলোর সঙ্গেও নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টাও বিএনপি করছে বলে শোনা যাচ্ছে। ড. কামাল হোসেন, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের নিয়ে একটি নির্বাচনি জোট গড়ার চিন্তাও বিএনপির আছে। এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপির থাকা না-থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যেই জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কিছু টানাপড়েনের কথা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি এবং ২০ দলের  অনুরোধ উপেক্ষা করে জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থী দিয়ে এক ধরনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ বিএনপির প্রতি ছুড়ে দিয়েছে। সিলেটে যদি শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হয় তাহলে জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।

বিএনপি যেমন ছক কষছে, পরিকল্পনা করছে, তেমনি সরকার তথা আওয়ামী লীগও বসে নেই। আওয়ামী লীগও বিএনপির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করার চেষ্টা করবে। বিএনপিতে ভাঙন ধরানো, ২০ দলীয় জোটে সংকট তৈরি করা, বিএনপির মিত্রদের মহাজোটের ছাতার নিচে আনার তৎপরতা আছে। দেনা-পাওনার হিসাবে বনিবনা হলে নির্বাচনের আগে অনেক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা দেশে আছে। এখন রাজনীতি যেহেতু আদর্শভিত্তিক নেই, সেহেতু নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সুবিধাবাদিতার চরম ও চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটবে– এটাই স্বাভাবিক। এরমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক জোটের জন্মবার্তা ঘোষিত হয়েছে। ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ নামে বামপন্থীদের নতুন একটি মোর্চা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে গত ১৮ জুলাই। এক বছর ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনরত দুটি জোট সিপিবি-বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ে নতুন এ ঐক্যজোট গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ নামে বামপন্থীদের নতুন একটি মোর্চা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে বুধবার। এক বছর ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনরত দুটি জোট সিপিবি-বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ে নতুন এ ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে। নতুন এ জোটের অন্তর্ভুক্ত আটটি বামপন্থী দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি এবং সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন। এর আগে সিপিবি-বাসদ জোটের ব্যানারে সিপিবি ও বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ব্যানারে বাকি ছয়টি দল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গত বছরের জুলাই মাস থেকে এই দুই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে আসছিল। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আট শরিকের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তার কারণে সম্প্রতি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণে বাসদ (মাহবুব) জোট থেকে বাদ পড়েছিল।

জানা গেছে, বিভিন্ন ইস্যুতে যুগপৎ ও সমন্বিত কর্মসূচি পালনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৫ জুলাই দুই জোটের যৌথসভায় ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক বছর ধরে তারা পাঁচ দফা দাবিনামা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ‘সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা’ নামে কার্যক্রম চালিয়েছেন। আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বিদলীয় ধারার বাইরে বিকল্প গড়ে তুলতেই নতুন এই জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে একসঙ্গে আগামী নির্বাচন মোকাবিলার কথাও বিবেচনায় রেখেছেন তারা। জোট থেকে ৩০০ আসনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বাম নেতারা মনে করেন, নতুন এই জোটের আত্মপ্রকাশ হবে সাম্প্রতিককালে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাম দলগুলোকে নিয়ে ‘বৃহত্তর বাম ঐক্য’ গড়ে তোলার ইস্যুতে কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও তাতে সফলতা আসেনি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮-৩১ অক্টোবর সিপিবির একাদশ জাতীয় কংগ্রেসে বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সিপিবির উদ্যোগে বাম দলগুলোর প্রধান দুই জোট সিপিবি-বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যুগপৎ আন্দোলন প্রশ্নে একমত হওয়ায় এ দুটি জোট পরবর্তী সাত-আট মাস গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার ও সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলসহ জনজীবনের সংকট নিরসনের নানা দাবিতে যুগপৎ হরতাল, অবস্থান, ঘেরাও, রোডমার্চ ও সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এসেছে।
বামপন্থীদের এই রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে বলার কথা এটাই যে দেশের রাজনীতিতে যে সংকট তা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা কি এই জোট দেখাতে পারবে? দ্বিদলীয় রাজনৈতিক বৃত্ত ভেঙে স্বতন্ত্র একটি রাজনৈতিক ধারা তৈরি করা সহজ কাজ নয়। বামপন্থীদের তত্ত্বচর্চা এবং ঐক্যপ্রচেষ্টা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। যেকোনও কিছুকে তত্ত্ববদ্ধ করার ক্ষমতা বামপন্থীদের আছে। তত্ত্বে সবই মেলানো যায়। আর তাদের ঐক্যপ্রচেষ্টাও নতুন ভাঙনের বার্তাবহ হয়ে থাকে। বাম গণতান্ত্রিক জোটকে কাজের মধ্য দিয়েই  মানুষের আস্থা ও  বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কাকে কতটুকু উদ্দীপ্ত করবে জানি না  তবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান যদি বড় দুই দলের এক দলের জন্য ‘সুবিধা’ এবং আরেক দলের জন্য ‘অসুবিধা’ তৈরির তাত্ত্বিক ভিত্তি রচনা করে তাহলে তা মানুষকে আশাবাদী না করে হতাশই করবে।

 

 

 

/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ