বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি কেন এত ‘খুনেবিদ্বেষ’?

Send
মো. জাকির হোসেন
প্রকাশিত : ১৭:৩৬, নভেম্বর ০৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৭, নভেম্বর ০৭, ২০১৮

মো. জাকির হোসেনএ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই—আমাদের রাজনীতি এখনও অপরিশীলিত, অশ্লীল, অশোভন। অশোভন রাজনীতির বক্তব্য পরিশীলিত, শোভন হবে, তা কেউ আশা করে না। তাই বলে বেসামাল, বেপরোয়া বক্তব্যের কোনও সীমা-পরিসীমা থাকবে না? এতটাই লাগামহীন হবে বক্তৃতা? তাও আবার ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’ নামে। লাগামহীন বক্তৃতা নির্দোষ হলে কথা ছিল না। বক্তৃতা-আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল ও বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি কেন এত ‘খুনেবিদ্বেষ’? গত ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৯ আসনের বেশি পাবে না’। তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের আগে মনে হয়েছিল আওয়ামী লীগ ২০ সিট পাবে। কিন্তু গত ৪ দিন ধরে আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ১৯ সিট পাবে। এর বেশি পেলে আমাকে সাজা দিয়েন। এক সিট, দুই সিট এদিক-ওদিক হলে সাজা দিতে পারবেন না। এর বেশি হলে যা সাজা দেবেন, আমি মাথা পেতে নেবো’। কাদের সিদ্দিকী আরও চ্যালেঞ্জ করেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন কিছুদিন আগেও হয়তো কোথাও নির্বাচন করলে বিজয়ী হতে পারতেন না। কিন্তু, আজ তিনি সারাদেশের নেতা। টুঙ্গিপাড়ায় দাঁড়ালেও তিনি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে এক আসনে নির্বাচন করলে তিনি পরাজিত হবেনই’। নির্বাচনে জয়-পরাজয় অতি স্বাভাবিক ঘটনা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে নিয়ে সাজার কসম কেন? আওয়ামী লীগ সবসময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল না। বরং ক্ষমতায় যতটা সময় ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি সময় বিরোধী দলে ছিল। যদি পাকিস্তান আমল থেকে হিসাব করি তাহলে ৭০ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ মাত্র ১৯ বছর ক্ষমতায় ছিল আর বাকি ৫১ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে বিরোধী দলে ছিল। ১৯৫৪ সনের ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে দেয়। অর্থাৎ প্রথম দফায় বঙ্গবন্ধু ১৪ দিন মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়লাভের পর ৪৭ বছর বয়সী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার মোট সময়কাল ১৮ বছর ৭ মাস। বাকি ২৮ বছর ৫ মাস আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চান। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর আত্মজা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে লড়াই করছেন। দু’জনই বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। একজন গামছা প্রতীক নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সারথী। আরেকজন বঙ্গবন্ধুর নৌকাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে চলতে। দু’জনের মধ্যে মতপার্থক্য এমনকি মতবিরোধও হতে পারে, কিন্তু তা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধে পরিণত হবে কেন? জনগণ ভোট না দিলে ড. কামাল হোসেন কেন, যে কোনও ঐক্যফ্রন্ট নেতার কাছেও পরাজিত হতে পারেন শেখ হাসিনা। এ জন্য কাদের সিদ্দিকীকে চ্যালেঞ্জ কেন করতে হবে? শেখ হাসিনাকে পরাজিত করার এ চ্যালেঞ্জ, সাজার কসম খাওয়া ভয়ঙ্কর বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ নয় কি?

কাদের সিদ্দিকীকে বলবো, মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান অবিস্মরণীয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে ক’জন সাহসী যোদ্ধা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন, অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, আপনি তাদের অন্যতম। কিন্তু এটাও সত্য, এখন আপনি যে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন, তার প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি পর্যন্ত দিতে রাজি হননি। ফ্রন্টের প্রধান মিত্র বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা দূরে থাক, বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক পর্যন্ত অস্বীকার করে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভয়ানক বিদ্বেষ। গত ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আদালত লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাঙচুর এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতি ভাঙচুর ও অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহিনকে ১০২০ পাউন্ড জরিমানা করেছেন। অন্যদিকে, একই অপরাধের জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালিকের বিরুদ্ধে হেন্ডন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আগামী ৮ নভেম্বর আরেকটি বিচারের রায়ের দিন ধার্য আছে। উপকারীর উপকার যে অস্বীকার করে, তাকে বলে অকৃতজ্ঞ। আর যে উপকারীর অপকার করে তাকে কৃতঘ্ন বলে। বঙ্গবন্ধু বাংলা ও বাঙালির যে উপকার করেছেন, তার বদলে যারা তাকে অস্বীকার করে, তার অপকার করে কৃতঘ্নের খাতায় নাম লিখিয়েছে, আপনি তাদের সঙ্গে মিতালি করেছেন। আপনি এখন কীভাবে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর বিশুদ্ধ সৈনিক দাবি করবেন? আপনি এখন কেবলই মুখে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, অন্তরে নন, এ অভিযোগ যদি কেউ করে, এটা কি অন্যায় হবে? বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে বিশুদ্ধতা হারানোর কারণেই কি বঙ্গবন্ধুর আরেক সৈনিক বঙ্গবন্ধুকন্যার বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার কথা অবলীলায় বলতে পারেন? আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বোন ডাকেন। বোনের সঙ্গে ভাই অভিমান করে। রাগ করে দূরে চলে যায়। ভাই কখনও বোনের বিরুদ্ধে বদলা নেয় না। অপরাধ করলেও বদলা নেয় না। তাহলে আপনাদের সম্পর্ক কি আদর্শিক নয়, স্বার্থের ঘেরাটোপে বন্দি? স্বার্থের টানাপড়েনের হিসাব-নিকাশ না মেলায় আপনার কণ্ঠে বিদ্বেষ-বদলার হুমকি। নানা বিষোদগার বঙ্গবন্ধু তনয়ার বিরুদ্ধে।

বঙ্গবন্ধুর আরেক সৈনিক ড. কামাল হোসেন চট্টগ্রামের জনসভায় অন্তত চার বার প্রধানমন্ত্রীকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে বলেছেন। প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যে শাস্তি আপনারা পাবেন, তা কল্পনাও করতে পারবেন না’। নির্বাচনে বড় জয় ও বড় পরাজয় অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশেই তা হয়। জনগণ ব্যাপকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিলে আওয়ামী লীগেরও বড় পরাজয় হতে পারে। তাহলে কল্পনাতীত শাস্তি কী? এটি তো ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ভাষার মতো শোনায়। আপনাদের তথাকথিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভাষা এত প্রতিহিংসামূলক, বিদ্বেষমূলক কেন? গণতন্ত্র মানে তো সহনশীলতা, শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। আমরা যখন কাউকে চরমভাবে অপদস্থ, অসম্মান করতে চাই তখন তার মা-বাবাকে ঝগড়ার মধ্যে টেনে এনে তাদের কেউ অসম্মান করতে বলি ‘এটা তোর বাবার না’ কিংবা এটা ‘তোদের পৈতৃক সম্মত্তি না’? ড. কামাল হোসেন চট্টগ্রামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে আপনি যে ‍উচ্চারণ করলেন, ‘বাংলাদেশ তাদের পৈত্রিক সম্পদ না’–এর মাধ্যমে আপনি হয়তো হাততালি পেলেন কিন্তু এতে যে, প্রধানমন্ত্রীর পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসম্মান হলো, তা কি অনুধাবন করেন? কেন এত বিদ্বেষ বঙ্গবন্ধুর কন্যার প্রতি? শেখ হাসিনার কী অপরাধের জন্য জীবনঘাতী দণ্ডের হুঁশিয়ারি? শেখ হাসিনাকে শাস্তি দেওয়ার আগে এটা বিবেচনায় নেবেন না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তিতে ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। লন্ডনভিত্তিক এইচএসবিসি’র বৈশ্বিক গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০৩০: আওয়ার লং টার্ম প্রজেকশন ফর ৭৫ কান্ট্রিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৮ ধাপ এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার দিক থেকে বাংলাদেশের পেছনে থাকবে ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া। শাস্তি দেওয়ার আগে এটি বিবেচনায় নেবেন না, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সরল স্বীকারোক্তি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের মতে, বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের উচিত কীভাবে দারিদ্র্য দূর করতে হয়, তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা। তার মতে, টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ দেশ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে। ধান, সবজি, মাছ, ফল উৎপাদনে বাংলাদেশে রীতিমতো বিপ্লব হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, স্যাটেলাইট, পরমাণু ও সাবমেরিন ক্লাবে যোগদান, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নদীর তলদেশে টানেল ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপ্লব, এলএনজি টার্মিনাল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্য এখন বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর কাছে রীতিমতো রহস্য। যে বাংলাদেশের কথা শুনে এক সময় বিশ্ববাসী নাক সিঁটকাতো, ভ্রূ কুঁচকাতো; যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স-এর সদ্য প্রকাশিত ‘নেশন ব্র্যান্ডস ২০১৮’ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজের আর্থিক মূল্য এখন ২৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার যা গত বছর ছিল ২০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০০টি দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কেবল ভারত ও বাংলাদেশ বিশ্বের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড ইমেজ সম্পন্ন দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৩৯তম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ নির্ভর করে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। বিশ্ববাজারে এটি একটি বড় সম্পদ। ইমেজ ভালো থাকলে বিনিয়োগ বাড়ে, রফতানিতে গতি সঞ্চার হয় এবং পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এ অর্জন তাকে এত কঠোর শাস্তি দিতে আপনার হৃদয় সায় দেবে? বৈশ্বিক রাজনীতির আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস’ ১৭৩ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অনুসন্ধান করে যে ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের তৃতীয় সৎ ও পরিচ্ছন্ন সরকার প্রধান এবং বিশ্বের চতুর্থ কর্মঠ সরকার প্রধান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ওই অনুসন্ধানে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকার প্রধান বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। দ্বিতীয় হয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন। পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্সের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে পরিশ্রমী রাষ্ট্রপ্রধান হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দ্বিতীয় পরিশ্রমী হিসেবে বিবেচনা তারা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে। বিশ্বে তৃতীয় পরিশ্রমী রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব  এরদোয়ান। বিশ্বের চতুর্থ কর্মঠ সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস বিশ্বের ৫ জন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনও সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্ট্যাটিসটিক্স ইন্টারন্যাশনাল’ সম্প্রতি তাদের এক জরিপে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেছে নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দক্ষ নেতৃত্ব, রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি, মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নসহ ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা অন্তত ৩০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’, নারী ও শিশু শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ‘শান্তিবৃক্ষ পদক’, দারিদ্র্য, অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-র ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড পদক’, ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ এফএও কর্তৃক ‘সেরেস পদক’, ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্সের স্পিকার এর ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’, জাতিসংঘ ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অ্যাওয়ার্ড’ ও নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে অতি সম্মানজনক ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, জাতিসংঘ মহাচিব বান কি-মুন ও ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাও এই পুরস্কার পেয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এত সম্মাননা, পুরস্কার আর পদকে ভূষিত করলো যাকে সেই শেখ হাসিনার প্রতি কেন এত ক্রোধ?

কাদের সিদ্দিকী ও ড. কামাল হোসেনকে অনুধাবন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মধ্যে মত-পথের ভিন্নতা থাকতে পারে। ‘খুনেবিদ্বেষ’, প্রতিশোধ আর ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসা থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ইতোমধ্যে ২২ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি কাদের সিদ্দিকী ও ড. কামাল হোসেনের ‘খুনেবিদ্বেষ’ ও ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের হুমকি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের খুনিদের ও বঙ্গবন্ধু কন্যার হত্যা চেষ্টাকারীদের শক্তি ও সাহস জোগাবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। নির্বাচনে আপনারা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পরাজয় কামনা করতে পারেন। পরাজিতও করতে পারেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাতিঘর বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে কীভাবে বাংলাদেশের কল্যাণ করবেন, তা আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে বুঝে আসে না।

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: zhossain@justice.com 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ