সড়ক দুর্ঘটনার শেষ কোথায়!

Send
মোহাম্মদ আসাদ উজ জামান
প্রকাশিত : ১৫:২৮, মার্চ ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪০, মার্চ ২১, ২০১৯

মোহাম্মদ আসাদ উজ জামানলঞ্চ ডুবে গেলো। আমরা হইচই করলাম। কর্তাব্যক্তিরা আশা দিলেন তারা দেখবেন। লঞ্চের ফিটনেস নেই, বেশি যাত্রী বহন করাসহ আরও কিছু সমস্যা দেখা গেলো। সব ঠিক হয়ে যাবে এমন আশায় আমরা চুপ করতে না করতেই ওদিকে বিল্ডিং ধসে গেছে। আমরা হইচই শুরু করে দিলাম। দেখা গেলো বাড়ির সঙ্গে ডিজাইনের মিল নেই, বিল্ডিং তোলা হয়েছে ডোবার ওপর। আবার আশ্বাস প্রতিটি বিল্ডিং চেক করা হবে। এরইমধ্যে লঞ্চের ঝামেলা চাপা পড়ে গেছে। এই যান্ত্রিক শহরে যেখানে জ্যামের কারণেই আমাদের জীবন থেকে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে সময়ে চলে যাচ্ছে, সেখানে এতকিছু মাথায় রাখবো কী করে। 
সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একজন বা কয়েকজন মারা গেছে। আমরা হইচই শুরু করে দিলাম। রাস্তা অবরোধ করলাম। কর্তাব্যক্তিরা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে নানান আশা দিতে শুরু করলেন, মৃতদের জন্যে টাকা, তাদের নামে ফুট ওভারব্রিজ– সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশায় আমরা ফিরে এলাম। কিন্তু কিছু কি ঠিক হয়েছে? সড়ক দুর্ঘটনা তো অহরহই হচ্ছে। তাহলে কী ঠিক হলো! ঠিক বলতে কি আমরা দুর্ঘটনা আর হবে না এটাই বোঝাই? নাকি এর বাইরেও অন্যকিছু?
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের চিন্তা এবং মতবাদের শেষ নেই। কী হলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে এরকম সহজলভ্য মুখরোচক টোটকা ফেসবুক থেকে প্রভাবশালী দৈনিকগুলোতেও পাওয়া যায়। অথচ সড়ক ব্যবস্থা এবং নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে দুই একজন বাদে আমাদের কারোরই প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান থাকার কথা নয়। সড়ক নিয়ে আমারও কোনও জ্ঞান নেই। যেটুকু চোখে পড়ে তা হলো সড়কের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। এটা আমি কেন, যে কারোরই চোখে পড়ার কথা। সেজন্যে এখানে আমি সড়ক ব্যবস্থা বা নিরাপদ সড়ক নিয়ে কিছু বলতে যাবো না। এখানে আমি তুলে ধরবো সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের স্বভাবের প্রভাব কতটুকু।

একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা কাকে কাকে দায়ী করি। প্রথমেই দায়ী করি ড্রাইভারকে। এরপর গাড়িকে, মানে গাড়ির ফিটনেস ছিল কিনা, গাড়ির মালিককে,  যেতে যেতে সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিকেও দায়ী করি। এই দায়ী করার বেলায় কোথাও একবিন্দু দায় আমাদের নিজের ঘাড়ে নিতে চাই না (সব দোষ ওদের, কারা এই ওরা)। এর পর আছে দোষারোপের নানান ছলচাতুরি।

একটি দুর্ঘটনার জন্যে মূলত আমরা ড্রাইভারকেই দায়ী করি। ড্রাইভার হলো যিনি গাড়ি চালান। গাড়ি নিজেই চলতে পারে, গাড়িকে চালানোর কিছু নেই। মূল জিনিসটা হলো নিরাপদভাবে (মানে কারোর কোনও ক্ষতি বা কাউকে বিরক্ত না করে) গাড়ি চালানোর দক্ষতাকেই আমি ড্রাইভিং বুঝি। একজন ড্রাইভার যখন গাড়ি চালাবেন, তার কাছ থেকে ব্যক্তি, স্থাপনা, অন্য গাড়ি থেকে অবলা প্রাণীও যেন হুমকির সম্মুখীন কেন, যেন বিরক্তও হতে না পারে। এই দেশে একজন ড্রাইভারের জন্যে এরকম পরিবেশ আছে কিনা! যদি না থাকে তাহলে দায় কার। এখানে দায়টা সবার, আমরা কোনোভাবেই একজন ড্রাইভারকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে ড্রাইভার বানাতে পারিনি। গাড়ি নিয়ে ছুটতে পারলেই যেন ড্রাইভার, যা একেবারেই ঠিক না। এরপর ভালো ড্রাইভার বলতে বুঝি যে এঁকেবেঁকে সবার আগে যেতে পারে। এটি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গেছে। একজন ড্রাইভারের জন্যে অন্য কোনও ড্রাইভার বা পথচারী যেন হুমকি বা বিরক্তবোধ করতে না পারেন। কিন্তু এই বোধ আর ড্রাইভারদের মধ্যে দেখা যায় না। তারা অপেক্ষাতেই থাকে কীভাবে অন্যকে পাশ কাটিয়ে আগে ছুটতে পারে। গলির রাস্তা থেকে এসে বড় রাস্তায় উঠতে গেলে একটু দাঁড়াতে হয়, কয়জন ড্রাইভার এই কাজটি করেন? কতজন গাড়ির মালিক আছেন যারা ড্রাইভারকে এই ব্যাপারে উৎসাহ দেন। বলতে গেলে এটি একটি বিলুপ্ত ধারণা। যার ফলে গলি থেকে এসেই সাই করে বড় রাস্তায় উঠে যাওয়া ড্রাইভারদের দৌরাত্ম্য এখন বেশি। কারো অধিকার কেড়ে নিয়ে লজ্জিত হওয়া দূরে থাক বরং এতে আমরা আরও গর্ব করতে শিখে গেছি।

আর আমরা যারা যাত্রী, তারা কি কোনও ট্রাফিক আইন মানি? ঢাকার বেশ কিছু গন্তব্যের জন্য কিছু গাড়ি আছে, টিকিট কাটার ব্যবস্থা আছে, লাইন ধরে ওঠানামার ব্যবস্থা আছে। এগুলো নিয়ম, আমরা ক্ষেত্রবিশেষে মানি, ক্ষেত্রবিশেষে মানি না। সবকিছুই করি নিজের সুবিধার ওপর নির্ভর করে। এই নিজের সুবিধার কারণেই সেই লাইনের ড্রাইভার এবং কনডাকটর বেশ একটি সুযোগ পেয়ে যায়। যার ফলে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে না গিয়েও আমরা যখন-তখন গাড়িতে উঠে পড়তে চাই। দুই একজন যাত্রী এই নিয়ে একটু হইচই করে, বাকিরা চুপ। শুধু চুপ না, তারাও বিরক্ত হন। কারণ, এগুলো আমরা মেনে নিয়েছি। একটু অনিয়ম করবো এটাই যেন আমরা। ফলাফল, একটি বিরক্তিকর পরিবেশ, আপনি উঠতে পারলে ভাবলেন, যাক পেলাম, আর উঠতে না পারলেই যত হতাশা। এতে করেই পুরো পরিবেশটি দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এর পেছনের কারণ, শুধু নিজে পাওয়ার লোভে পড়েই আমরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি।

রাস্তা পার হওয়ার জন্য আমাদের ওভারব্রিজ কম। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আছে তো। আমরা সেগুলোও ঠিকভাবে ব্যবহার করি না। ইচ্ছে হলো রাস্তা পার হবো, সেখানেই আমাকে রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তার মাঝখানের উঁচু ডিভাইডারও আমাদের দমিয়ে রাখতে পারে না। এরপর দুর্ঘটনা হলেই শুরু হয়ে যায় দোষারোপের ক্যাচাল!

গাড়ির ফিটনেস আছে বা নেই, এই নিয়ে মাথা ঘামানোর দায়িত্ব কার? দায় এড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছায় বলতে পারি যারা দায়িত্বে আছেন। ভালো কথা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা সাধারণের গাড়িতে খুব একটা ওঠেন না। সুতরাং ফিটনেস নিয়ে অনেক ধরনের ভালো-মন্দ দুই ধরনের কথাই কানে আসে। কিছু কিছু গাড়ির সিগন্যাল বাতি জ্বলা দূরে থাক, ওগুলোর চিহ্ন পর্যন্ত নেই। একটি যন্ত্রদানব, যে কিনা অনেক বেগে ছুটতে পারে, তার সিগন্যাল বাতি নেই, মানে পেছনের গাড়ির ড্রাইভার জানতেই পারছেন না সামনের গাড়ি কী করবে। হঠাৎ যদি সামনের সিগন্যাল বাতি ছাড়া গাড়িকে ব্রেক বা ডানে বামে মোড় নিতে হয়, তখন পেছনের গাড়ির জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখা খুব কষ্টের। কখনও শুনেছেন সিগন্যাল বাতি নেই বলে গাড়ির সব যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে গেলেন। গাড়ির সিগন্যাল বাতি বোঝার জন্যে চোখের বাইরে অন্য কিছু থাকার প্রয়োজন নেই। তখন গাড়ির মালিকদের একটিই কথা, চলছে তো। হ্যাঁ, চালালে চলবেই! আর যদি “ম্যানেজ” করা যায় তাহলে তো কথাই নেই!

একটি দুর্ঘটনা ঘটলেই আমরা চিৎকার করছি আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ চাই। যারা চিৎকার করছি, তারা আইন এবং নিয়মের কোন বিষয়গুলো ঠিকমতো মেনে চলি বলতে পারেন? আইনটা কি শুধু ড্রাইভারকেই মানতে হবে অথবা গাড়ির মালিককে? ড্রাইভারকে যারা এমনভাবে তৈরি করেছেন তারা কি আইন মেনেছেন? একটি আধমরা লক্করঝক্কর গাড়ি সবার সামনেই ছুটে বেড়াচ্ছে, আপনি কি চোখ বন্ধ করে থাকেন না? এখন আমরা তাহলে কি করবো? প্রতিবাদ করবো। এর আগেও প্রতিবাদ করেছি। এতে কী হয়েছে? উত্তরটা আপনিই দেন, সবকিছুই আমি লিখবো কেন? কিছু হলেই আমরা প্রতিবাদের নামে অন্যের স্বভাব চরিত্র বদলে দিতে চাই। অন্যের চরিত্র বদল করা এতই সহজ, যখন আপনি নিজেই নিজের চরিত্র পাল্টাতে পারেন না!

এবার স্পষ্ট করে কথা বলি। সমস্যা আমাদের হলো নিজের চরিত্রে। কী রকম! সহজ কথা, আমি নিয়ম মানতে শিখিনি। এটা কোনও কথা হলো! নিয়ম তো অনেকেই মানে না। আর নিয়ম মানতে গেলে অনেক পিছিয়ে পড়তে হবে। যারা নিয়ম ভাঙে ওরাই আজ এগিয়ে যাচ্ছে। তাহলে নিয়ম মেনে পিছিয়ে পড়ার দরকার কি? দরকার আছে। আজ আমাদের নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। আমাদের সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে চলে গেছে। আপনি বা আমি নিয়ম মানলেই সব ঝুঁকি কি চলে যাবে? একবারেই না। কিন্তু মাঝে মাঝে অন্যের অন্যায়ের খেসারত নিজেকে দিতে হয়, বিনা বাক্যব্যয়ে, অন্যের সুবিধার জন্যে নিজের কিছু সুবিধা বিসর্জন দিতে হয়। আমাদের জীবন একটাই, অনেক কিছু পেলেও জীবন যাবে, তেমন কিছু না পেলেও জীবন যাবে। কিন্তু সবার দিকে তাকিয়ে দুই একটি নিয়ম মেনে, দুই একটি অধিকার বিসর্জন দিয়ে দাঁড়াই না কেন, যেন আমাদের সন্তান, অন্যের সন্তান একটি ভালো পরিবেশ পায়। কোনও প্রতিবাদেই কিছু হয় না, কারণ প্রতিবাদ করার আগে নিয়ম মানতে হয়।

আমাদের চরিত্রের সমস্যার একটি প্রমাণ দিচ্ছি! দোকানি আমে বা ফলে কেন ফরমালিন দেন, এই নিয়ে আমরা কত হইচই করি। কিন্তু কম্পিউটার দোকানে আমরা অপারেটিং সিস্টেম চাই ফ্রি, নতুন মুভির ডিভিডির দাম দিতে চাই পঞ্চাশ বা একশ টাকা। কিন্তু এই নিয়ে আমাদের কোন হইচই নেই। কারণ, মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের দাম প্রায় ষোল হাজার টাকা। ষোল হাজার টাকা কোথায় পাবেন? একজন মানুষের চরিত্রের দাম কত বলতে পারেন?

ফিরে যাই সড়ক দুর্ঘটনায়। একটি সড়ক দুর্ঘটনার পরেই আমরা নতুন করে আইন চাই, পুরাতন আইনের বদলে অন্য আইন চাই। আইন বদলে দিলেই কি আইন মানবো? আগের আইন কি মেনেছি, না আমাদের মাঝে আইন মানার কোনও প্রবণতা আছে! এই আন্দোলন,  সমস্ত কিছু দেখে মনে হয় আমরা যেন কোনও একটি ম্যাজিকের অপেক্ষায় আছি। বড় কালো একটি টুপি থেকে হড়বড় করে সাদা পায়রা বের হয়ে আসবে, তারই একটি একটি করে নিয়ে আমরা আমাদের ঘরে ফিরে আসবো, এতেই শান্তি, এতেই দূর হবে আমাদের সমস্ত দুর্দশা। এরকম কিছু হবে না। আমাদেরটা আমাদেরকেই দেখতে হবে। কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে হবে। কিন্তু কথা হলো আমরা ছাড়তে চাই কিনা। নিজের চরিত্রে অসাধুতা থাকলে সহজে পরিবর্তন আসে না। একটি কথা ভেবে দেখেন, আমরা প্রায়ই বলি জ্যামমুক্ত শহর চাই। কিন্তু যেভাবে আমরা গাড়ি চালাই তাতে বোঝা যায় আমরা জ্যামমুক্ত শহর চাই না, আমি চাই একে ওকে ডিঙিয়ে সবার আগে চলে যেতে।

সময় এসেছে গলার কথাটা মুখে না পাঠিয়ে হৃদয়ে পাঠানোর। নিয়মের কথা বলে বলে গলা ভেঙে ফেলছি, কিন্তু নিজের কথাটাই যখন নিজের হৃদয়ে ঢুকে না, তাহলে কীভাবে আশা করি আমার কথাটা অন্যের হৃদয়ে যাবে? আর কথা কারো হৃদয়ে না গেলে পরিবর্তন আসবে না। কান তো অনেক কিছুই শুনে, কোনটা আর খেয়াল রাখবে!

যতক্ষণ নিজেদের চরিত্র পাল্টাতে না পারবো, ততক্ষণ সমস্ত কিছুতেই আমাদের ভোগান্তি হবে। দুর্ঘটনা হলে ভোগান্তি, প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাস্তা আটকে নিজেদের আবার ভোগান্তি, একদল ছাত্র ক্লাস না করে রাস্তা আটকে রাখছে, ক্লাস মিস করে ওদের ভোগান্তি। অন্যদল ছাত্ররা ক্লাস করছে, যারা আন্দোলন করছে একটা কিছুর জন্যে, ওরাই যেন পিছিয়ে যাচ্ছে। সব ভোগান্তিই আমরা মেনে নিতে পারতাম, যদি বৃহত্তর স্বার্থে একটি পরিবর্তন আসতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই নিরাপদ সড়ক নিয়ে বেশ কিছু আন্দোলন হয়েছে। ফলাফল কি হলো। ফলাফল যদি কিছু না-ই পাই, তাহলে এগুলোর মানে কী। আমরা কি এই চক্রেই আটকা পড়ে থাকবো– সড়ক দুর্ঘটনা, মৃত্যু, ভাঙচুর, অবরোধ, আন্দোলন, জীবনের দাম, আশ্বাস। আবার সেই সড়ক দুর্ঘটনা, আবার মৃত্যু– এর কি কোনও শেষ হবে না? সময় এসে গেছে শক্ত করে নিয়ম আঁকড়ে ধরার, নিয়ম রক্তে ঢুকিয়ে দেওয়ার। কিন্তু কে দেবে, কে নেবে!    

আরও একটি কথা থেকেই যায়। আমরা জীবনেরও বিভিন্ন দাম ধরতে বুঝে গেছি। সাধারণ পথচারী (ছাত্র বা বড় মানুষের মতো মানুষ হয়তো না, কিন্তু ওরও একটি জীবন হয়তো ছিল) মরলে আমাদের তেমন কোনও অনুভূতি হয় না। ছাত্র-শিক্ষক মরলে আমরা অবরোধ ভাঙচুরসহ এটা সেটা করি। এদের জন্যে টাকার অংকটাও একটু বড় হয়ে থাকে। আর বড় মানুষদের বেলায় ভিন্ন হিসাব। জীবনের এই দরদাম শিখে মনটাই নানাভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একেকটি মৃত্যুর জন্যে আমাদের অনুভূতি একেকরকম (আদৌ কি তেমন কোন অনুভূতি হয়)! এটা কে পালটাবে? বলতে পারেন? আমি জানি না। দূরের কোনও মৃত্যুই আর আমার মনে দাগ কাটে না। অথচ জন্মের সময় আমিও আপনার মতো মানুষ ছিলাম। একটি পরিবেশের কারণ আজ আমি স্পষ্ট করে বললাম বলে আপনি হয়তো আমাকে অমানুষ ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তু আমাকে অমানুষ বানানোর পেছনে আপনারও একটি ভূমিকা ছিল, এটা এড়িয়ে গেলে আমার মতো আপনারও অমানুষ হতে বেশি দেরি লাগবে না।  

লেখক: অধ্যাপক, ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ফিজিক্স, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ