behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

আঙুলের ছাপ ও সিমের কথা

আশফাক সফল১৩:৫৯, জানুয়ারি ০৪, ২০১৬

Ashfaq Shofolশীতের খাবারে বা বাজারে শিমের দরদাম নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ পেতে না পেতেই ভাবনা শুরু হলো মোবাইল ফোনের সিম নিয়ে। আমজনতার দরবারে, অন্তত বেশিরভাগ মানুষের কাছে যা ছিল- একটা কার্ড, যা মোবাইলফোন সেটে বসালেই কথা বলা যাবে। আজকে তা হয়েছে টিপসই দেওয়া একটা মূল্যবান কিছু। কথা বলছিলাম বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন নিয়ে।
প্রথমেই কিছু বিচ্ছিন্ন ভাবনা আর শব্দকে জোড়া দেওয়া যাক। সিমের নিবন্ধন কী? আর একজন সিম ব্যবহারকারী কতবার একই সিম রেজিস্ট্রেশন বা রি-রেজিস্ট্রেশন করবেন। যতদূর মনে করতে পারি, ২০১২ সালের আগে কোনও সিমে (বা বেশিরভাগ সিমের) রেজিস্ট্রেশন জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়নি। যদিও ২০১২ সালের আগে এক বা একাধিকবার রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনওবারই নির্দিষ্ট কোনও সরকারি ছকে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে আনা হয়নি, একমাত্র রেজিস্ট্রেশন ফর্মের কিছু তথ্যের বাধ্যবাধকতা ছাড়া। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় তথ্যটি ছিল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর। তবে রেজিস্ট্রেশন ফর্মে কেউ চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার না করে পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। এর মানে কী দাঁড়াল? আমি চাইলে আমার একটা সিম এনআইডি ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করলাম, আরেকটা রেজিস্ট্রেশন করলাম পাসপোর্ট ব্যবহার করে। আর পাসপোর্টটা যদি ২০১৩ সালের আগের হয়ে থাকে তাহলে পাসপোর্টে এনআইডি-এর কোনও তথ্য নেই। ফলাফল, আমার সিম দুটো হিসাবমতো একজন “আমি” ব্যবহার না করে করছে দুজন। এবার ধরে নেই, ২০১২ সালের আগে সিম রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে সেটা হয়তো অফিস, বা কোনও স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি'র আইডি কার্ড ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে তিন।
পরের প্রশ্নটা আসে, সিম আসলে কী? সাবসক্রাইবার আইডেন্টিফিকেশন মডিউল হচ্ছে একটা লজিক্যাল এনটিটি যেটা ব্যবহার করে মোবাইলফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনও ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারেন, এবং সেবাপ্রদান করেন ( যেমন ভয়েস কল, ভিডিও কল, ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি)। আর আমরা সাধারণভাবে “সিম” বলতে যা দেখি সেটা আসলে “সিমকার্ড”, যা আসলে একটা ইলেকট্রনিক চিপ। এর মাঝে যেসব তথ্য থাকে তার মাঝে সেগুলো ব্যবহার করে (মূলত আইসিসিআইডি এবং আইএমএসআই), মোবাইলফোন প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা প্রদান করে।
এবার দেখা যাক, এই সিম বা সংযোগ কেন সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে? আর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সম্পর্কটা কী? জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেসে যেসকল তথ্য আছে তার মাঝে কিছু তথ্য আছে যা কখনওই একাধিক নাগরিকের জন্য এক হবে না, এমন দুটি তথ্য হলো-
ক. জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা এনআইডি
খ. আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক ইনফরমেশন

সরকারের এবারের উদ্যোগ জাতীয় পরিচয়পত্রের এই দুই তথ্যের সাহায্য নিয়ে, সিমের বা সংযোগের রেজিস্ট্রেশন করার। এবারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন সব সংযোগের রেজিস্ট্রেশন ফর্মের সাথে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে এবং একই সাথে নিজের আঙুলের ছাপ রেজিস্ট্রেশনকারীর কাছে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডিং মেশিনে দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেসের কাছে তথ্যগুলো দিয়ে দেখে নেওয়া হবে পরিবেশিত তথ্যগুলো এর নির্ভুলতা। একমাত্র যেসব ক্ষেত্রে নির্ভুল তথ্য যখন পাওয়া যাবে, সেগুলোর রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

যদি, মোটা দাগে দেখা হয় তাহলে এই প্রক্রিয়ায় বা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সরকার এবং দেশের নাগরিকেরা যা যা সুবিধা পাবেন বা পেতে পারেন:-

১. অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিনকরণ : এতদিন পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ভুয়া পরিচয়পত্রের কপি দিয়ে অনেক সংযোগ অনেকেই নিয়েছে। এবারের রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের (২০১৬) মাঝামাঝি থেকে বাছাই করা শুরু হবে রি-রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ না হওয়া সংযোগসমূহ, যাতে করে অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরা সহজ হয়ে আসবে অনেকাংশে।

২. ডুপ্লিকেট সিমকার্ডের সাহায্যে জালিয়াতি বন্ধ: আজকাল হারিয়ে যাওয়া সিমকার্ড তুলতে গেলে, এফএনএফ নাম্বার, শেষ কত টাকার টপ-আপ করা হয়েছে এই তথ্যগুলো যথেষ্ট । অনেক দুষ্কৃতিকারী এই কয়েকটা তথ্য সংগ্রহ করে আপনার বা আমার সিমটা তুলতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। যেহেতু বিটিআরসি'র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিম প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, আশা করা যাছে অবৈধ পন্থায় ডুপ্লিকেট সিমকার্ড সংগ্রহ বন্ধ হবে।

৩. সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অবৈধ সিমের ব্যবহার বন্ধ: বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কাজে যারা লিপ্ত, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিবন্ধনহীন বা ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে থাকে। যেহেতু অবৈধ সংযোগসমূহ বিচ্ছিন্ন করা যাবে সহজেই, একইসঙ্গে ভুয়া তথ্য দিয়ে নতুন সংযোগ নেওয়া যাবে না, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অবৈধ সিমের ব্যবহার বন্ধ করার সম্ভাবনা অনেক।

৪. অবৈধ ভিওআইপি কল টার্মিনেশন কমানো: বাংলাদেশে অবৈধ ভিওআইপি বা গ্রে-কল টার্মিনেশনের ইতিহাসে সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে সিমবক্সে (এক ধরনের যন্ত্র যাতে একাধিক সিম কার্ড বসিয়ে একসাথে অনেকগুলো কল তৈরি করা যায়) ব্যবহার করা হয়ে থাকে প্রচুর অবৈধ সিম। একথা বলা যায়, এই সকল সংযোগ বিচ্ছিন হলে বেড়ে যাবে বৈধ ভিওআইপি (হুয়াট ট্রাফিক), যার ফলে সুবিধা পাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীরা এবং বেড়ে যাবে সরকারের রাজস্ব আয়।

সব কিছুর পরেও থেকে যাচ্ছে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয় নাই, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতগুলো সংযোগ নিতে পারবেন। এখনও তৈরি করা হয় নাই “ট্রাভেলার সিম পলিসি”  যার ফলে সুযোগ থেকে যাচ্ছে একজন বিদেশি যতবার ভ্রমণে আসবেন, ততবারই নিতে পারবেন নতুন সংযোগ, তার চাইতেও ভয়ঙ্কর কোনও বিদেশি বাংলাদেশ ত্যাগ করার পরও তার সংযোগ চালু থাকবে (এই অবস্থায় কেউ যদি চায়, কোনও একটা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে হাজার মোবাইল সংযোগ নিতে পারবেন)। অন্যদিকে, এমএনপি বা মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি’র ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে কী সম্পূর্ণ হতে পারবে এই বায়োমেট্রিক রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, সেটা বেশ বড় একটা প্রশ্ন।  যদি তা না হয়, তবে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে মুঠোফোনে ব্যবহারকারী অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ সংযোগ নিয়ে পাড়ি জমাতে পারবে, এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে।

লেখক : ব্লগার ও তথ্য-প্রযুক্তিবিদ

ashfaq.saphal@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ