ভূতটা সর্ষের মধ্যেই!

Send
প্রভাষ আমিন
প্রকাশিত : ১২:২৯, মার্চ ১৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১০, মার্চ ১৪, ২০১৬

যে ছিদ্র তারা করেছিল, পচা শামুকে পা না কাটলে রিজার্ভ তারা ফাঁকা করে দিতে পারতো। অনেকদিন ধরেই জালিয়াত চক্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে। তারপর বাংলাদেশের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শুক্র-শনি-রবি তিনদিনের নিরাপদ সময় বের করেছে। আর জালিয়াতিটা শুরু করেছে ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জিরো আওয়ারে। ৩৫টি অথেনটিক অর্ডার পাঠাতে পেরেছিল তারা। তার মধ্যে পাঁচটি আদেশ কার্যকর হয়। এরপর একটি ইংরেজি শব্দের বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হয়। তাতেই আটকে যায় পুরো প্রক্রিয়া। এ ঘটনায় কারা জড়িত এ নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক লম্বা তদন্ত হবে। দোষীরা নিশ্চয়ই ধরা পড়বে। কিন্তু ঘটনা বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ না কেউ এ প্রক্রিয়ায় অবশ্যই জড়িত আছেন। ভূতটা আছে সর্ষের মধ্যেই।

সন্দেহটা জোরালো হয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গোটা বিষয়টা চেপে যাওয়ার প্রবণতা দেখে। ঘটনা ঘটার একমাস পর ফিলিপাইনের একটি পত্রিকার রিপোর্টের সূত্র ধরে প্রথম বিষয়টি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আসে। আর অর্থমন্ত্রী বিষয়টা জেনেছেন পত্রিকা পড়ে। এত বড় ঘটনার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান নির্ধারিত সফরে ভারতে গেছেন। সেখানে গিয়ে এক পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কী ভয়ঙ্কর! ঘটনাটি গভর্নরের প্রথমেই অর্থমন্ত্রীকে জানানো উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীকে জানানো না জানানোর দায়িত্ব তার নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রীকে জানানোটা আবশ্যিক নয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রীকে জানানোটা আবশ্যিক। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্তের স্বার্থেই তারা অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাননি। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, গ্রহণযোগ্য নয়। হতে পারে তারা ভেবেছেন, অর্থমন্ত্রী যেখানে হাজার কোটি লোপাটকেই তেমন কিছু মনে করেন না, সেখানে শত কোটি টাকার নয়ছয় হয়তো তার কাছে কোনও ঘটনাই মনে হবে না। এখানে দুটি অপরাধ, একটি হলো রিজার্ভ চুরি। অপরটি হলো চেইন অব কমান্ড তছনছ করে অর্থমন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো। প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের অপরাধ আড়াল করতেই গোটা বিষয়টি চেপে যেতে চেয়েছে। বাংলাদেশের উপচে পড়া রিজার্ভের তুলনায়, ৮০০ কোটি টাকা হয়তো তেমন কিছু নয়। কিন্তু ভয়টা হলো, যম যে বাড়ি চিনলো।

শুরুতেই আশঙ্কার কথা বলেছি, হয়তো অনেক লম্বা সময় ধরে তদন্ত হবে। কিন্তু টাকা ফিরে আসবে কিনা কে জানে। তবে সরকারের উচিত হবে, নিজেদের রিজার্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই সর্ষের ভূতগুলো খুঁজে বের করা, কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। ভুতটা যত বড়ই হোক।

probhash2000@gmail.com

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ