behind the news
Rehab ad on bangla tribune
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

সাম্প্রতিক শিশু হত্যা প্রসঙ্গে

মাহমুদুল সুমন১৫:৫১, মার্চ ১৭, ২০১৬

মাহমুদুল সুমনএফএম রেডিও শুনছিলাম। হঠাৎ একজন পুরুষ কলার প্রশ্ন করলেন অনুষ্ঠানটির আরজকে (রেডিও জকি): ‘আপু, এখনতো আমদের দেশের মায়েরা নিজেদের সন্তানদেরই মেরে ফেলছেন’। কলারের এই প্রশ্নে এতক্ষণ অনর্গল কথা বলতে থাকা আারজে, যিনি কিনা একজন নারী, একদম চুপ হয়ে গেলেন। এরপর (সম্ভবত) একটু সামলে নিয়ে বললেন, ‘এটা নিয়ে কথা বলতে হলে অনেক কথা বলতে হবে। সুতরাং এটা নিয়ে এখন আর কথা বলা যাবে না’ (রেডিও থেকে শোনা অনুষ্ঠান, স্মৃতি থেকে লেখা) । কথা বলার এই অংশে আমাদের আরজে তার স্বভাবসুলভ আহ্‌লাদিপনা ও চপলতাকে একদম বিসর্জন দিলেন। বোঝা গেল, এই প্রশ্নের উত্তরে চট জলদি কোনও উত্তর তার জানা নেই। আরও বোঝা গেল, আরজের কাছেও বিষয়টি সিরিয়াস, সচরাচর ইথারে ভেসে আসা ভালোবাসার প্রস্তাবের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ‘ও মাই গড’ বলে বিষয়টি হাল্কা করা যাচ্ছে না।  
সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশু হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু খবর এসেছে। সিলেটের শিশু রাজন থেকে শুরু করে খুলনার শিশু রাকীবসহ আরও কিছু হত্যাকাণ্ড আমাদের হতভম্ব করেছে। আর ঘটনাগুলোর কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে অন্য সময়ের তুলনায় আরও বেশি।  এর ফলে মানুষের প্রতিক্রিয়াটিও আমরা যারা বাংলদেশের নেটিজেন (নেট ভিত্তিক সিটিজেন), তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেখেছি ও প্রতিক্রিয়া করেছি। সামাজিক যোগাযোগে প্রবল সমালোচনার মুখে এবং মিডিয়ার ভূমিকার কারণে অনেকে মনে করেন অন্তত রাজন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে।    
কিন্তু গত কয়েকদিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া পিঠেপিঠি শিশু হত্যাকাণ্ড (তার একটি ঢাকার বনশ্রী এলাকায় যেখানে ভাইবোনকে খুন করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে ও অন্যটি ঢাকার বাইরে একটি ঘটনা যেখানে পত্রিকা মারফত জানা গেছে যে, একটি নবজাতক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে) সম্ভবত জনমানসে আবার শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটিকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। ওপরের রেডিও আলাপ তারই ইঙ্গিতবহ। পত্রিকা মারফত যে খবর, তাতে দুই ক্ষেত্রেই অনুমান করা হচ্ছে যে, এই হত্যাকাণ্ডে মা জড়িত। ঢাকার ঘটনাটি সামান্য ঘোলাটে লাগলেও ঢাকার বাইরের একটি ঘটনার বিবরণ থেকে মনে হয় শিশু পালনে অতিষ্ট হয়েই মা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এই ঘটনায় আমিও অন্য আরও অনেকের মতো মর্মাহত হলেও একটি বিষয় আমার মাথায় আলতো করে হলেও খেলে গেছে। সেই ভাবনার একটি সমবায় এই লেখায় আমার উদ্দেশ্য। যেকোনও পিতৃতান্ত্রিক সমাজেই মায়ের ভালোবাসা, আদর ও ত্যাগকে যেভাবে আদর্শায়িত করা হয়, বা স্বাভাবিক করে তোলা হয়, বাংলাদেশের সমাজও তার ব্যতিক্রম নয়। নানা বয়ান থেকে (পত্রপত্রিকাসহ সব কিছুতেই, বিস্কুট থেকে শুরু করে হরলিকসের বিজ্ঞাপনে) আমাদের মনে না করার কোনও কারণ থাকে না যে, মাকে হতে হবে ত্যাগী, মাকেই সন্তানের দেখভাল করতে হবে। সে পরিস্থিতি যাই হোক (তিনি কর্মজীবী নারী হোন বা না হোন); তিনি বাড়িতে সবাইকে খাইয়ে তারপর নিজে খাবেন। ছোটবেলায় নানির কাছে বড় হওয়ায় নানিকে নিয়ে এরকম সেক্রিফিসিয়াল গল্প আমি অনেক শুনেছি এবং হয়তো খুশিও হয়েছি। তার সম্মান আমার কাছে বেড়েছে!
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো তাই এই স্বাভাবিকতবাদ থেকে অলাদা, একেবারে ভিন্ন এক গল্প। একটা ধাক্কা হয়তো অনেকের জন্য। আমি ঘটনার সত্য-মিথ্যা এখানে বিচার করতে যাচ্ছি না। একধরনের মিডিয়া ট্রায়াল এখানে হয়ে গেছে এবং সত্য যাই হোক, জনমানসে একটা ধারণা হয়ে গেছে যে, মায়েরাও তার সন্তানকে হত্যা করতে পারেন।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune

কলামিস্ট

টপ