X
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২
২২ আশ্বিন ১৪২৯
পদ্মা সেতু উদ্বোধন

স্বপ্ন জয়ের আনন্দে ভাসছে দেশ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৫ জুন ২০২২, ২০:০০আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ২০:০০

বর্ণিল আয়োজনে সারা দেশে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সবার মাঝে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা।

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বহু কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করে ‌‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠান সারা দেশে একযোগে প্রচার করা হয়। বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আনন্দ ও উৎসবে ভাসছে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলো।

মাদারীপুর: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক লাখ মানুষ। শনিবার ভোর থেকে বরিশালের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বাংলাবাজার ঘাটে ভিড়ে শতাধিক লঞ্চ। দুপুরে বাংলাবাজার ঘাটে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে অংশ নেন বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও ভোলার মানুষজন। তাদের জন্য মঞ্চের পাশে স্থাপন করা হয়েছে বড় বড় এলইডি মনিটর। আনন্দ ও উৎসবে মেতেছেন সবাই।

বেলা ১১টায় সেতু উদ্বোধন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ উপলক্ষে বাংলাবাজার ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নৌকাবাইচ শুরু হয়। এতে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আগত ছয়টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি নৌকায় ৪০ থেকে ৫০ জন করেছিলেন।

ফরিদপুর: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন স্মরণীয় করে রাখতে ফরিদপুরে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেখানে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ শহরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় শেখ জামাল স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
 
এর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে খণ্ড খন্ড র‌্যালি গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বরে সমাবেত হয়। পরে শেখ জামাল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। এ সময় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়। 

পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়েছে

শরীয়তপুর: বহুল আকাঙ্ক্ষার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণ শেষ হয় শনিবার সকালে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে উৎসবের জনপদে পরিণত হয় পুরো জেলা। জনসভায় অংশ নেন জেলার লক্ষাধিক মানুষ। শরীয়তপুর থেকে ২০টি লঞ্চ ও ৩০০ ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে জনসভায় আসেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। 

জেলা প্রশাসন জানায়, সেতুর উদ্বোধন ঘিরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আওয়ামী লীগসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করছে।

বরিশাল: বর্ণাঢ্য র‌্যালি, গান এবং আতশবাজিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় প্রশাসন। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। র‌্যালিতে প্রদর্শিত হয় পদ্মা সেতুর প্রতীকী ছবি। এছাড়া ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে চলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঢোলের আওয়াজ। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নগরীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এমনভাবে অনুষ্ঠানগুলো সাজানো হয়েছে; যা নগরবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সকাল ৯টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়

ঝালকাঠি: স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঝালকাঠিতে বড় পর্দায় দেখানো হয়েছে। সেতুর দুই পাড়ের আনুষ্ঠানিকতা এবং ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য নানা আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে বানানো হয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ। সেখানে দুটি বড় টিভি এবং একটি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে। সেতু উদ্বোধনের পর অতিথিদের নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

পিরোজপুর: জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. জাহেদুর রহমান বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। আনন্দ মিছিলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বড় পর্দায় সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন সবাই।

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়েছে। সকাল ৯টায় পৌর শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্ক থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে সড়কের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। 
শোভাযাত্রায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে শেখ রাসেল শিশু পার্কে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় উপভোগ করেন তারা। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পৌর সভার আয়োজনে স্বাধীনতা চত্বরে তিন দিনব্যাপী কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। কনসার্টে অংশ নেবেন কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তুয যাহরা ঐশী।

বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন, সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না। আজ জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন, আমাদের দাবায়ে রাখা যায় না। পদ্মা সেতু প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ কারও পায়ের ওপরে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে নেই। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ এবং জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম।

গাজীপুর: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় মনিটরে উপভোগ করেন জেলার মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা করা হয়েছে।

খুলনা: বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও উজ্জীবিত জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়। সকালে সেতু উদ্বোধনের জাতীয় অনুষ্ঠানমালা জেলা স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হয়েছে। জেলা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন, কেডিএ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

বগুড়া জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়

এছাড়া শহর ও স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা রঙিন পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। সরকারি-বেসরকারি ভবনে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন এবং ডাক অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে এলইডি টিভিতে পদ্মা সেতুকে উপজীব্য করে নির্মিত বিশেষ ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি দেখানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ হোসেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হোসনে আরা, ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে উপাচার্য সবাইকে মিষ্টিমুখ করান। তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদ্মা সেতু নির্মাণে তার দৃঢ় ও দূরদর্শী ভূমিকার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। উপাচার্য বলেন, পদ্মা সেতু সবক্ষেত্রে আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সে উদাহরণ পদ্মা সেতু থেকে নেওয়া যায়। পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক, মনোবলের প্রতীক।

যশোর: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে শহরে সমবেত হন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে বড় এলইডি মনিটর। সকাল ৯টা থেকে টাউন হল মাঠের অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হতে থাকেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। রাতে টাউন হল মাঠে আতশবাজি ফোটানো হবে।

খুলনায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও উজ্জীবিত জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করবে। বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় যশোর শহরের গাড়িখানা রোড থেকে পদ্মা সেতুর সাফল্য কামনা করে বের করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিকাল ৩টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সন্ধ্যা ৭টায় টাউন হল মাঠের শতাব্দী বটমূল প্রাঙ্গণে পদ্মা সেতুর থিম সং পরিবেশন করেন স্থানীয় ও ঢাকার অর্ধশতাধিক শিল্পী। রাত ৯টায় যশোরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ভবনে আলোকসজ্জার উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। শহরব্যাপী লাগানো হয়েছে নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড।

চট্টগ্রাম: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে উৎসবে ভাসছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর অন্তত ২০টির বেশি স্থানে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ডিজিটাল এলইডি টিভিতে দেখানো হয়েছে। প্রতিটি এলইডি টিভির সামনে বিপুল মানুষের ভিড় ছিল। সকাল সাড়ে ৮টায় মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এতে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সকাল থেকে নগরীর কাজীর দেউরিস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চলছে আনন্দ উৎসব। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকাল ৪টা থেকে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে কনসার্ট হচ্ছে। 

কুমিল্লা: সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নেতৃত্বে জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ১০টায় শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে র‌্যালিটি বের হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফারুকী পার্কে গিয়ে সুধী সমাবেশস্থলে শেষ হয়। র‌্যালিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সমাবেশস্থলে বড় পর্দায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হয়।

নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় প্রশাসন

ফেনী: সকালে পৌরসভা চত্বরে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর কেক কেটে বেলুন ওড়ানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন রফিক উস সালেহীন ও ফেনী সদরের মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। বিকাল ৫টায় একই স্থানে আয়োজন করা হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও আলোচনা সভা করা হয়েছে।

বগুড়া: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে মেতেছেন বগুড়াবাসী। জেলা আওয়ামী ও জেলা প্রশাসন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসব পালন করছে। সকালে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বাদ্যযন্ত্র,
ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও সেতুর প্রতীকী ছবি নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেন। শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পর্দায় দেখানো হয়।

জামালপুর: জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। দুপুরে শহরের ফৌজদারি মোড় থেকে র‍্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায়, পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহম্মেদ, সিভিল সার্জন প্রণয় কান্তি দাস ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

 

/এএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ডিসি-এসপিদের সঙ্গে ইসির বৈঠক শনিবার
ডিসি-এসপিদের সঙ্গে ইসির বৈঠক শনিবার
বাস্তবতার ওপর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
বাস্তবতার ওপর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
বিএনপি-জামায়াত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে: কৃষিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানবিএনপি-জামায়াত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে: কৃষিমন্ত্রী
জাতীয় চিড়িয়াখানায় বড় পরিবর্তন আসছে
সাক্ষাৎকারে পরিচালক রফিকুল ইসলামজাতীয় চিড়িয়াখানায় বড় পরিবর্তন আসছে
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম