X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

রোহিঙ্গা ক্যাম্প উত্তপ্ত: সপ্তাহজুড়ে চলা সংঘর্ষে নিহত ৭

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ১১:০২

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ইয়াবা ও ক্যাম্পভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ৭ রোহিঙ্গা।





রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়, মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা ইয়াবা ও নানা প্রকার মাদক ও অস্ত্র বাণিজ্য, সংগঠনভিত্তিক এলাকা দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত চলছে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশিরভাগ ক্যাম্পে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহে শুধু উখিয়ার কুতুপালং ও লম্বাশিয়া ক্যাম্পে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। দু’গ্রুপের এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭ রোহিঙ্গা। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা। 

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিনের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৪ অক্টোবর দুই জন, ৫ অক্টোবর একজন ও ৬ অক্টোবর চার জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে এখনও উত্তেজন চলছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকায় ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ টেকনাফের চাকমারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করেছে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোহিঙ্গা জানান, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আনাস গ্রুপ ও মুন্না গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এরই জের ধরে কুতুপালং ২ ওয়েস্ট ডি-ব্লকে ৪ অক্টোবর রাতে মুন্না গ্রুপের ৪/৫ শত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দা-লাঠি নিয়ে ক্যাম্পের শতাধিক ঝুপড়ি ঘর ও ৫০টি দোকান ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় আনাস গ্রুপ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মুন্না গ্রুপের ওপর চড়াও হয়। এভাবে গত সপ্তাহজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ চলে আসছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, গোলাগুলির ঘটনা চলমান রয়েছে। এ কারণে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকশ’ সাধারণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু কুতুপালং ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি জমিতে ৩৪টি ক্যাম্পে রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আশ্রয় নেওয়ার পর এক বছর রোহিঙ্গারা নীরব থাকলেও যত দিন যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপরাধ বাড়ছে। স্থানীয় মাদক ও ইয়াবা কারবারি এবং চোরাচালানিদের সঙ্গেও তাদের অবাধ যাতায়াত। আর ক্যাম্পগুলোকে মাদক, ইয়াবা, অস্ত্রের মজুত বানিয়ে ফেলেছে। অপরাধের মাত্রা বেড়ে এখন রোহিঙ্গাদের মধ্যেই প্রায় প্রতি রাতে ক্যাম্পে সংঘর্ষ চলে। অস্ত্র, মাদক, ধর্ষণ, অপহরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন, পুলিশ আক্রান্ত, ডাকাতি, হত্যা, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত রয়েছে রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ছবি: টেকনাফ প্রতিনিধি)
কক্সবাজার জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২০১৭ সালে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৬টি, আর আসামি হয় ১৫৯ জন। ২০১৮ সালে ২০৮ মামলায় আসামি হয়েছে ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৩টি আর আসামি হয় ৬৪৯ জন। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা অপরাধীদের বিরুদ্ধে হওয়া ১৮৪ মামলায় আসামি হয় ৪৪৯ জন।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা ইয়াবার চালানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। ক্যাম্পে কয়েকটি গ্রুপ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তারা মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবা চালান এনে ক্যাম্পে মজুত রাখে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যেও ক্যাম্পে ইয়াবা চালান, মজুত এবং লেনদেন করে তারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পগুলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা খুন, ধর্ষণ, মাদকপাচার, অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসায় মতো অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে গ্রুপে গ্রুপে সংঘর্ষ, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও ক্যাম্পে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ (এপিবিএন) সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
কক্সবাজারের ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কোনও না কোনও ক্যাম্প থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। তবে ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতা বাড়লেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান উত্তেজনা, সংঘর্ষের ঘটনার কথা উল্লেখ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার সামশুদ্দোহা নয়ন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

 

 

/এসটি/এমএমজে/

সম্পর্কিত

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৮

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট থেকে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে সেনবাগ থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হারুন অর রশীদ, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাজী মফিজ উল্যার ছেলে মো. আনোয়ারুল ইসলাম (২৯), চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. আবু তালেব (৪৭) ও চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে মো. ফরহাদ (২৭)।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে রবিবার বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিকালে তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।  

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী জানান, চৌমুহনীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর এবং দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে রবিবার রাতে উপজেলার সেবারহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চাঁদপুরে ২১ দিনে ২১৮ জেলের কারাদণ্ড

চাঁদপুরে ২১ দিনে ২১৮ জেলের কারাদণ্ড

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০০

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রেখে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় মো. ইকবালের বিরুদ্ধে করা মামলা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় করা এই মামলার বাদী পুলিশ।

ইকবাল হোসেন ছাড়াও মামলার আসামিরা হলেন নগরী দারোগাবাড়ি মাজারের দুই খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানানো ইকরাম। ইকবালসহ চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার (২৩ অক্টোবর) সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ।

তিনি বলেন, কোরআন অবমাননার ঘটনায় ইকবালের বিরুদ্ধে করা মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত চার জন গ্ৰেফতার হয়েছেন। 

শনিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে দুপুর ১২টার দিকে ইকবালসহ চার জনকে হাজির করা হয়। পরে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এম তানভীর আহমেদ বলেন, পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিকে যেহেতু মামলাটি তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে, সে জন্য সিআইডি আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

এর আগে মামলার অন্যতম আসামি ইকবালকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় আনা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। পূজামণ্ডপে হনুমানের কোলে কোরআন রেখে গদাটি একটি পুকুরে ফেলে দেওয়ার কথাও অস্বীকার করেন। 

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়াগিঘির পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন জায়গায় পূজামণ্ডপ ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 

/এএম/

সম্পর্কিত

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০১

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ১১ হাজার লিটারের সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হয়েছে। রবিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এর উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদ। পরে হাসপাতাল হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট বড় একটা জোগান। প্রতি লিটার তরল অক্সিজেন থেকে ৮৬০ লিটার গ্যাসীয় অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। এটি সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালের ২৫০ শয্যার প্রতি শয্যায় অক্সিজেন লাইন থাকবে, প্রয়োজনে রোগীর চাপ বিবেচনায় অতিরিক্ত রাখা যাবে। এ ছাড়া অপারেশন থিয়েটারসহ যেখানে প্রয়োজন সেখানে লাইন রাখা যাবে। ফল রোগীরা আগের চেয়ে বেশি সেবা পাবেন।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুসারে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুরোধে ইউনিসেফের অর্থায়নে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কে এম হুমায়ুন কবির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায়, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, মৌলভীবাজার বিএমএ সভাপতি ডা. শাব্বির হোসেন খান প্রমুখ।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

সিলেট সফরে বিএনপির মহাসচিব

সিলেট সফরে বিএনপির মহাসচিব

বাঁশ কাটায় প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪০

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ঘরের ওপর নুয়ে পড়া বাঁশ কাটায় আল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে খুলনার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আল ইসলাম কালীগঞ্জের বারোবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

কালীগঞ্জের সুবর্নসরা পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মতিয়ার রহমান জানান, আল ইসলামের বাড়ির ওপর প্রতিবেশী সোহেল হোসেনের ঝাড়ের বাঁশ নুয়ে পড়েছিল। বাঁশগুলো কেটে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও কাটছিলেন না সোহেল। গত ১৮ অক্টোবর আল ইসলাম নিজেই ঘরে চালে নুয়ে পড়া তিনটি বাঁশ কেটে দেন। 

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে আল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আল ইসলাম বাড়ির মধ্যে অনধিকার প্রবেশ ও গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে সোহেল, হবিবর শেখের ছেলে মস্ত ও তার স্ত্রী শান্তা খাতুন, হবিবর শেখের স্ত্রী আনু খাতুন ও মেয়ে শিলিফা খাতুন হামলা করে। স্বামীকে ঠেকাতে গিয়ে আল ইসলামের স্ত্রী নাজনীন নাহার শিলাকে হেনস্তা করা হয়। তারা আল ইসলামকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। 

শিলা জানান, প্রথমে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তির পর আল ইসলামের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে খুলনার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে রবিবারর বিকালে তিনি মারা যান। 

কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, এ ঘটনায় গত শুক্রবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো দুই স্কুলছাত্রের

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো দুই স্কুলছাত্রের

স্বামীকে হত্যার পর ঘরের সামনে দা হাতে বসেছিলেন স্ত্রী

স্বামীকে হত্যার পর ঘরের সামনে দা হাতে বসেছিলেন স্ত্রী

ভাইয়ের মৃত্যুর দোয়া অনুষ্ঠান শেষে ফেরা হলো না বোনের

ভাইয়ের মৃত্যুর দোয়া অনুষ্ঠান শেষে ফেরা হলো না বোনের

পুঁজি হারানোর আশঙ্কা পান চাষিদের

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৬

হিলিতে ক্রেতা সংকটের কারণে দাম না পেয়ে পান বিক্রি করতে না পেরে হতাশ চাষিরা। লাভের আশায় চাষাবাদ করলেও দাম না পেয়ে পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
 
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী ঘাসুড়িয়া নন্দিপুর ও মাধবপাড়া এলাকার ৩৭ হেক্টর জমিতে ৩৬৫টি পানের বরজ রয়েছে। উপজেলার মধ্যে এই অঞ্চল শুধুমাত্র পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায় পান।

গত বছর যে প্রতি পোয়া (৪০ বিরা) পানের দাম ছিল তিন হাজার ৬০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকা সেই পান এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। চিকন পান ১০০-২০০ টাকা। ক্রেতার অভাবে বিক্রি করতে না পেরে পান ফেলে দিচ্ছেন কেউ কেউ।

পানহাটিতে পান কিনতে আসা পাইকার আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পানের দাম অনেক কম। দাম কম হলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। আমরা বেশি করে কিনতে পারি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারি। এতে লাভ একটু বেশি হয়।

পান কিনতে আসা আরেক পাইকার আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রবিবার ও  বৃহস্পতিবার বাজার বসে এই হাটে। পানের বাজার একটু কম। তবে গত হাটে দাম বেশি ছিল। এ জন্য পান কিনতে পারিনি। আজ দাম কম। এ জন্য বেশি করে কিনেছি। এমন দাম থাকলে পাইকার এবং ক্রেতার জন্য সুবিধা। পানের দাম কমের মূল কারণ বরজে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। মান একটু খারাপ হওয়ায় চাহিদা কম। এ জন্য দাম কম। 

হিলিতে ক্রেতা সংকটের কারণে দাম না পেয়ে পান বিক্রি করতে না পেরে হতাশ চাষিরা

পান বিক্রি করতে আসা ধরঞ্জয় বর্মন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পানের বাজার দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গত হাটের চেয়ে এই হাটে দাম পোয়া (৪০ বিরা) প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা কম। আবহাওয়ার কারণে বরজে পচন ধরায় পান ঝরে পড়ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছি। পানের মান খারাপ হওয়ায় দাম পাচ্ছি না। ভালো পানেরও চাহিদা নেই। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। একবিঘা জমিতে বরজ করতে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। এখন পান বিক্রি করছি ৭০-৮০ হাজার টাকার। লাভ তো দূরের কথা ৭০-৮০ হাজার টাকা লোকসান।

পান বিক্রেতা চন্দন কুমার ও আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পান চাষ করে খারাপ অবস্থা আমাদের। হাটে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। সকাল থেকে পান নিয়ে হাটে ৩-৪ ঘণ্টা বসে থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে পান বেশি, ক্রেতা নেই। এতে লোকসানের মুখে পড়েছি। একপোয়া চিকন পান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১০০-২০০ টাকা। অথচ একপোয়া পান বরজ থেকে তুলতে খরচ হয় ২০০ টাকা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনাকালীন বাজার না বসায় বরজ থেকে পান না উঠিয়ে বরজেই রেখে দিয়েছিলেন চাষিরা। এখন একসঙ্গে বরজ থেকে পান তোলায় দাম কমেছে। তবে খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। এই অঞ্চলে পান সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তবে চাষিদের দরকার হলে তারা গাছেই পানগুলো বেশি দিন রেখে সংরক্ষণ করতে পারেন।

 

/এএম/

সম্পর্কিত

পেঁয়াজ মজুত করে মাথায় হাত পাইকারদের

পেঁয়াজ মজুত করে মাথায় হাত পাইকারদের

প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ

প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চাঁদপুরে ২১ দিনে ২১৮ জেলের কারাদণ্ড

চাঁদপুরে ২১ দিনে ২১৮ জেলের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিযবুত তাহরীরের এক সদস্য গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিযবুত তাহরীরের এক সদস্য গ্রেফতার

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১০

উখিয়ায় ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ১০

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন প্রত্যাহার যুবলীগ নেতার

বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির অভিযোগঅধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন প্রত্যাহার যুবলীগ নেতার

বেগমগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ৩ জনের স্বীকারোক্তি

বেগমগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় ৩ জনের স্বীকারোক্তি

সর্বশেষ

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

‘ইরাকে সরকার গঠনে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়’

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় আরও ৪ জন গ্রেফতার

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় করা মামলা সিআইডিতে

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

© 2021 Bangla Tribune