X
রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

সেকশনস

‘মিয়ানমারকে সাবমেরিন দিলো ভারত, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে’

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৪১

সম্প্রতি মিয়ানমার নৌবাহিনীকে রাশিয়ার তৈরি একটি পুরনো কিলো-ক্লাস সাবমেরিন দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এ উপলক্ষে ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের ‘সাগর’ ভিশনের সঙ্গে এই সাবমেরিন হস্তান্তর সামঞ্জস্যপূর্ণ।প্রতিবেশী দেশগুলোর সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য ভারতের যে প্রতিশ্রুতি, তা সহায়ক।’’ কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তরের মাধ্যমে মিয়ানমারকে তোয়াজ করছে ভারত। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে বৃহৎ শক্তিগুলোর ভারসাম্যে তেমন প্রভাব না পড়লেও বাংলাদেশের ওপরে এর প্রভাব পড়বে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারে সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেকে, বিশেষ করে ভারতের মিডিয়া বলছে, মিয়ানমারকে সাবমেরিন দেওয়া হয়েছে চীনকে ঠেকানোর জন্য। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। কারণ, সাবমেরিনটি ভারতের কাছ থেকে এলেও সেটি চালানোর জন্য  যেসব অবকাঠামো ও সুবিধা দরকার তার বেশিরভাগই চাইনিজ।’

তিনি বলেন, ‘ভারত হয়তো মনে করছে এ ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দিলে মিয়ানমার চীনের বলয় থেকে বের হয়ে আসবে। আসলে তারা এটি তোয়াজ করার জন্য দিয়েছে। এর আগেও ভারত সোনার (জাহাজে ব্যবহৃত হয় এক ধরনের যন্ত্র), রাডার ও টর্পেডো মিয়ানমারকে দিয়েছে, তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য।’

সাবেক মেজর জেনারেল শহীদুল হক মনে করেন, এই সাবমেরিন হস্তান্তরের ফলে চীন-মিয়ানমার এবং ভারত-মিয়ানমার কৌশলগত সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে।

বঙ্গোপসাগরে এর কোনও প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চীনের যে কৌশলগত স্বার্থ আছে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে, সেটির জন্য তারা এখানে কোনও কিছু হতে দেবে না। মিয়ানমারের চক্তো অঞ্চলে (রাখাইনে) চীনের স্বার্থ আছে এবং এই অঞ্চলকে তারা ব্যবহার করতে চায়, মালাক্কা স্ট্রেইটের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য।’

বঙ্গোপসাগরের ওপরে অবস্থিত চক্তো অঞ্চল থেকে চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডর শুরু হয়েছে জানিয়ে শহীদুল হক  বলেন, ‘এখান থেকে রাখাইনের মধ্য দিয়ে ইউনান প্রদেশ পর্যন্ত  গ্যাস লাইন ও তেল লাইন তৈরি হয়ে গেছে। এই পাইপলাইন দিয়ে ৪০ শতাংশ কম খরচে তেল যাচ্ছে চীনে। এছাড়া এরপরে শুরু হবে রেললাইন স্থাপনের কাজ।’

রাশিয়ায় তৈরি এই সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা কম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দামান সমুদ্রে অর্থাৎ মিয়ানমার-থাই সমুদ্র সীমানায় এটিকে ব্যবহার করা হবে।’

সাবমেরিনটি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের কারণ হচ্ছে—এর ফলে দক্ষ সাবমেরিনারদের একটি দল তৈরি হবে মিয়ানমারে। তারা এরপরে রাশিয়া থেকে সাবমেরিন কিনতে পারে। কারণ, মস্কো নীতিগতভাবে প্রস্তুত।’

ভারতের দেওয়া সাবমেরিনটির ঘাঁটি হবে ইয়াঙ্গুনে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এবং মিয়ানমারের স্ট্র্যাটেজি ভিন্ন। সাবমেরিন থাকার কারণে বাংলাদেশের যে সুবিধা আছে, সেটি তারা মোকাবিলা করতে চায়। দ্বিতীয়ত, ইয়াঙ্গুন বন্দর ও আন্দামান সমুদ্র অত্যন্ত ভঙ্গুর মিয়ানমারের জন্য। সেটিকেও তারা রক্ষা করতে চায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাবমেরিন থাকার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ যে সুবিধা পেতো এখন সেটি আর থাকবে না। এখন আমাদের সাবমেরিন তৎপরতা ঠেকানোর জন্য আরও বেশি জোর দিতে হবে।’

সাবমেরিন হঠাৎ করে কর্মক্ষম করা যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি চালানোর জন্য লোকবল তৈরি করতে ১০ থেকে ১৫ বছর লেগে যায়। বাংলাদেশ সাবমেরিন চালানোর জন্য অনেক দিন ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং এটি কেনার অনেক আগে থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।’

রাশিয়ার অনুমোদন সাপেক্ষে ভারত এই সাবমেরিন হস্তান্তর করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া চাইবে না তার তৈরি সাবমেরিন এমন কোনও দেশে ব্যবহার হোক, যে দেশ তার বন্ধু নয়।’

চীনের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেইজিং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। তারা মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করবে না।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি হাঁকালেই ধরবে স্পিড গান

অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি হাঁকালেই ধরবে স্পিড গান

দীর্ঘায়িত হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা, বাড়ছে শঙ্কা ও প্রশ্ন

দীর্ঘায়িত হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা, বাড়ছে শঙ্কা ও প্রশ্ন

দেশে শিশুশ্রমিক কত কেউ জানে না

জরিপ হয়নি পাঁচ বছরদেশে শিশুশ্রমিক কত কেউ জানে না

বেলুচিস্তানে আইন অমান্য আন্দোলন

বেলুচিস্তানে আইন অমান্য আন্দোলন

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

করোনায় শ্রমজীবী শিশু বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা

করোনায় শ্রমজীবী শিশু বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা

রাজধানীতে সিপিবির বাজেটবিরোধী বিক্ষোভ

রাজধানীতে সিপিবির বাজেটবিরোধী বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষা স্থগিত, আবেদনের সময় বাড়লো

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুচ্ছ পরীক্ষা স্থগিত, আবেদনের সময় বাড়লো

আইফোন ছেড়ে ব্যবহারকারীরা যে কারণে অ্যান্ড্রয়েডে

আইফোন ছেড়ে ব্যবহারকারীরা যে কারণে অ্যান্ড্রয়েডে

স্মার্ট ওয়াচ নিয়ে আসছে ফেসবুক

স্মার্ট ওয়াচ নিয়ে আসছে ফেসবুক

সর্বশেষ

খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা নিয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ বিএনপি

খালেদা জিয়ার শারীরিক জটিলতা নিয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ বিএনপি

টিকার ঘাটতি দূর না হলে সামনে বিপদ: জাতিসংঘ মহাসচিব

টিকার ঘাটতি দূর না হলে সামনে বিপদ: জাতিসংঘ মহাসচিব

বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি: সাবের হোসেন চৌধুরী

বাজেট প্রণয়নে এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি: সাবের হোসেন চৌধুরী

সিরিয়ায় হাসপাতালে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১৬

সিরিয়ায় হাসপাতালে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১৬

এরিকসেনের জন্য রোনালদো-লেভানদোভস্কিদের প্রার্থনা

এরিকসেনের জন্য রোনালদো-লেভানদোভস্কিদের প্রার্থনা

লুকাকুর জোড়ায় দারুণ শুরু বেলজিয়ামের

লুকাকুর জোড়ায় দারুণ শুরু বেলজিয়ামের

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ

কিউই ঝড়ে এলোমেলো ইংল্যান্ড

কিউই ঝড়ে এলোমেলো ইংল্যান্ড

মেক্সিকো সীমান্তে আবারও দেয়াল নির্মাণ করতে চায় টেক্সাস

মেক্সিকো সীমান্তে আবারও দেয়াল নির্মাণ করতে চায় টেক্সাস

আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া, মুখ খুলছেন না গণপূর্তের কর্মকর্তারা

আ.লীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া, মুখ খুলছেন না গণপূর্তের কর্মকর্তারা

ডেনিশদের দুঃখের এক রাত, ইউরোয় ফিনিশ-চমক

ডেনিশদের দুঃখের এক রাত, ইউরোয় ফিনিশ-চমক

‘সাইকেল বালক’ দিয়ে শুরু জ্যোতির ‘রে হাউজ’

‘সাইকেল বালক’ দিয়ে শুরু জ্যোতির ‘রে হাউজ’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

দীর্ঘায়িত হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা, বাড়ছে শঙ্কা ও প্রশ্ন

দীর্ঘায়িত হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষা, বাড়ছে শঙ্কা ও প্রশ্ন

বেলুচিস্তানে আইন অমান্য আন্দোলন

বেলুচিস্তানে আইন অমান্য আন্দোলন

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

চাঁদ দেখা যায়নি, জিলকদ মাস শুরু ১৩ জুন থেকে

চাঁদ দেখা যায়নি, জিলকদ মাস শুরু ১৩ জুন থেকে

মানুষকে আশাবাদী করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

মানুষকে আশাবাদী করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

টিকা মজুত আছে এক লাখ ৩৯ হাজার

টিকা মজুত আছে এক লাখ ৩৯ হাজার

পদক পাচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ

পদক পাচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ

সৌদিগামী সব কর্মী পাবেন কোয়ারেন্টিনের ভর্তুকি 

সৌদিগামী সব কর্মী পাবেন কোয়ারেন্টিনের ভর্তুকি 

কত বিদেশি কাজ করছেন, জানতে চায় সংসদীয় কমিটি

কত বিদেশি কাজ করছেন, জানতে চায় সংসদীয় কমিটি

© 2021 Bangla Tribune