সেকশনস

জাকারিয়া শিরাজী : নির্মোহ আধুনিক মনন

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:১২

গত ২২ জানুয়ারি ছিল সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও অনুবাদক জাকারিয়া শিরাজীর মৃত্যুদিন। তাকে স্মরণ করে লেখাটি প্রকাশ করা হল।

 

সাংবাদিক ও সাহিত্যিক জাকারিয়া শিরাজীর জীবনাবসান ঘটার পর ২০১৪ সালে ফেসবুকে লিখেছিলাম, 'সাহিত্যিক-সাংবাদিক জাকারিয়া শিরাজী ভাই (১৯৪১-২০১৪) প্রায় নিঃশব্দে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।' ব্যথিতহৃদয়ে এ কথা বলেছিলাম, সাংবাদিকতা তাঁর সারা জীবনের পেশা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মৃত্যুর সংবাদটুকুও গণমাধ্যমে ঠিকমতো প্রচারিত হয়নি বলে। পরেও তাঁকে নিয়ে লেখা হতে দেখিনি। তাঁর নামে গুগুলে অনুসন্ধান চালালে তাঁর সম্পর্কে খুব সামান্যই তথ্য পাওয়া যায়। দু-একটি অনলাইন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রবন্ধ ছাড়া গণমাধ্যমের প্রায় কোনো অংশেই তাঁর কর্মময়তার চিহ্ন নেই বললেই চলে। অনুবাদক ও মননশীল সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর কর্ম নেহায়েত কম নয়। দীর্ঘকালীন সম্পর্কসূত্রে হঠাৎ হঠাৎ প্রসঙ্গক্রমে তাঁর কাজ সম্পর্কে জানা হতো। ভেবে দেখলাম সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি অনুবাদ, সাহিত্য-সমালোচনামূলক রচনাসহ যে পরিমাণ কল্পনাগৌণ রচনা লিখেছেন, ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতির দর্শনের আলোয় তিনি যেভাবে সাহিত্যিক পথ চলেছেন তার খোঁজ অন্তত সাহিত্যসমাজের রাখা উচিত ছিল। তাঁর জীবনের সামগ্রিকতা অনুধাবনপ্রয়াসী হলে বলতে হয়, তিনি ছিলেন বিজ্ঞানমনষ্ক, শিল্পরসিক ও তত্ত্বওয়াকিবহাল মানুষ। আমাদের সাহিত্য-আলোচনায় যখন ক্রিটিক্যাল থিয়োরির প্রয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়নি তখনই তিনি এ প্রসঙ্গে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছিলেন;  যদিও প্রধানত তারুণ্যের কাল থেকেই সাহিত্যিক হিসেবে তিনি ছিলেন ‘আধুনিকতাবাদ’পন্থি নন্দনরসিক। পাদপ্রদীপের আলোয় থাকার কনুইবাজিতে একবারেই ছিলেন না বলে তাঁর সমসাময়িক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা নেতৃস্থানীয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উল্লেখ কম হয়েছে। তাঁর মতো নির্মোহ মানুষের কর্মকৃতির এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার দায় আমাদের ওপরও বর্তায়! প্রথমেই সেজন্য নিজেকেও খানিক তিরষ্কার করে নিলাম। 

অনতিকিশোর বয়সে, আশির দশকের প্রথম ভাগে, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রেই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। বয়সে সায়ীদ স্যারের চেয়ে তিনি সামান্য ছোট; তবু সায়ীদ স্যার তাঁকে শিরাজী সাহেব বলে ডাকতেন। ব্যক্তিত্বের কৌতুকময়তা দিয়ে কখনো কখনো শিরাজী ভাইয়ের ওপর আক্রমণ চালালেও অনুভব করতাম তাঁর প্রতি স্যারের আস্থার অভাব নেই। শিরাজী ভাইয়ের সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপ ধান্দাবাজির উপায় নয়, ছিল অন্তরের বিষয়! ফলে কোনো কাজ করে তার গৌরবকে প্রদর্শনী হিসেবে দৃশ্যমান করার ধাত ছিল না তাঁর ব্যক্তিত্বে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কোনো চিঠিপত্রের ইংরেজি ড্রাফটের জন্য সায়ীদ স্যার যেমন মিজারুল কায়েস বা সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ওপর নির্ভর করতেন তেমনই নির্ভর করতেন শিরাজী ভাইয়ের ওপর! বাংলাদেশের খুব ভালো ইংরেজি জানা মানুষদের অন্যতম ছিলেন তিনি। সমসাময়িক বন্ধুদের কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি মাতৃভাষার মতো ইংরেজি জানতেন তিনি। কী যেন একটা কারণে শিরাজী ভাইয়ের সঙ্গী হয়ে লক্ষ করেছিলাম জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী তাঁর ইংরেজি জ্ঞানের প্রশংসা করছেন। মনে পড়ছে, শিরাজী ভাই বিনীত হেসেছিলেন। নানা কাজের সূত্রে তিনি যেমন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আসতেন তেমনি আসতেন লাইব্ররিতে বই বা পত্রপত্রিকা দেখতেও। আড্ডাও দিতেন আমাদের সঙ্গে, কিন্তু তাঁকে ঠিক আড্ডাবাজ মনে হয়নি; আবার স্বল্পভাষীও বলা যায় তাঁকে। এমন অনেক অনুবাদ তিনি করেছেন যেখানে তাঁর নামও উল্লিখিত নেই, মানে কৃতিত্ব দাবির জন্য সে অনুবাদ করা হয়ে ওঠেনি। অনুবাদ তিনি অর্থোপার্জনের জন্যেও যে কখনো কখনো করতেন না তা নয়, কিন্তু তা-ই একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না; অনুভব করেছেন বাংলা থেকে ইংরেজিতে এবং ইংরেজি থেকে বাংলায়। অনুবাদের উভমুখি তৎপরতা ছিল তাঁর জীবনের মর্ম-আস্বাদনেরও মাধ্যম।

আমার সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম দিকে তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘দি নিউ নেশন’-এ কাজ করতেন। সেঅফিসে অবশ্য তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়নি; পরে ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘হলিডে’-তে যোগ দিলে তাঁর সেঅফিসে অনেকবার গেছি! শিরাজী ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে বুঝেছি, তিনি ছিলেন অন্তর্মুখী মানুষ; সাহিত্যপ্রেম ছিল মজ্জাগত। দর্শন, সমাজবিজ্ঞান এবং ইতিহাস ছিল তাঁর মনোযোগী পঠন পাঠনের বিষয়! আনুষ্ঠানিক বিদ্যায়তনিক লেখাপড়া তো তাঁর ইতিহাস বিষয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তিনি। পড়াশোনার ক্ষেত্র ছিল অনেকটা বিস্তৃত। আমি ইংরেজি প্রায় জানি না বলে খুব সংকোচ প্রকাশ করতাম তাঁর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে। আমার সংকোচের কথা শুনে হাসতেন। বলতেন, আমার ইংরেজি না জানাকে তিনি বড় কোনো সংকটের কারণ মনে করেন না। এমন অভয়ও দিয়েছেন, ইংরেজি কম জানা আমার চর্চাকে যেখানে রুদ্ধ করেছে সেখানে বিকল্প উপায়ে নাকি আমি পার হতে চেষ্টা করেছি! অনেক ভালো ইংরেজি জানা ব্যক্তির চেষ্টার চেয়ে আমার এই প্রয়াস নাকি কার্যকর হয়েছে। প্রবীণতা ও অভিজ্ঞতায় অগ্রসর এই মানুষটির স্নেহপরায়ণতা এতটাই ছিল যে যখন তখন তাঁর স্মরণাপন্ন হলেও উদার মনে আমাকে সহযোগিতা করতেন! মাঝে মাঝে তিনি আমাকে তাঁর অপ্রকাশিত লেখা পড়তে দিতেন। আমি যে কত অকিঞ্চিৎকর লেখা পড়তে দিয়ে তাঁর সময় নষ্ট করেছি তার কোনো লেখাজোখা নেই! তাঁর মৃত্যুতে এতটা ভরসাহীন বোধ করেছি যে এখনো তা কাটেনি। এতটা জ্ঞানী একজন মানুষের সামনে নিজের অজ্ঞতাকে যেভাবে নিঃসংশয়ে তাঁর কাছে প্রকাশ করা যেত তেমন ভরসার মানুষ বেশি নেই আমাদের চারপাশে! 

শিরাজী ভাই ছিলেন প্রকৃত বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক বোধসম্পন্ন একজন মানুষ। ‘বিশ্বায়ন’ শব্দটি যে গাম্ভীর্যের আড়ালে মানবিক শোষণপ্রক্রিয়া সেব্যাপারে আমার নানা বালখিল্য প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, তর্ক করতে পাত্তা দিয়ে, কোনো কোনো রচনা পড়তে পরামর্শ দিয়ে তিনিই আমাকে প্রথমে সচেতন হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করে দেন। ব্যবস্থাপনাবিদ্যা যে প্রকৃতপক্ষে মানুষের মানবিক সামর্থ্যকে শোষণ করার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া সে অনুভবের দ্বারেও তিনিই পৌঁছে দেন আমাকে। জেমস জয়েসের বিখ্যাত উপন্যাস  ‘ইউলিসিস’ অনুবাদ শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর অনূদিত ‘ইউলিসিস’ উপন্যাসের কয়েকটি পৃষ্ঠার, অনুবাদ দৈনিক ‘আজকের কাগজ’ পত্রিকার ২০০৩ সালের ঈদসংখ্যা ‘সুবর্ণরেখা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। পরে যদ্দূর মনে পড়ে, এখন নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, শামীম রেজা বলতে পারবেন, কারণ তিনিই ছিলেন ঐ বিভাগের সম্পাদক, কয়েক সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে ‘ইউলিসিস’ উপন্যাসের ঘটনা দিবস ‘ব্লুমস-ডে’-এর শতবর্ষ উদযাপিত হয়েছিল শিরাজী ভাইয়েরই উদ্যোগে ও সংগঠকতায়। 

আমাকে তিনি যুক্ত করেছিলেন সেই ‘ব্লুমস-ডে’-এর শতবর্ষ উদযাপন আয়োজনে। আমি তখন আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কোনো দায়িত্বে ছিলাম না, পেশাগত যুক্ততা ছিল বেক্সিমকো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। সময়াভাবে আমার পক্ষে সাংগঠনিকতায় যুক্ত হওয়াও ছিল কঠিন। কিন্তু শিরাজী ভাইয়ের স্নেহবন্ধিত আহ্বান ও নিজের অজ্ঞতা কিছুটা বিদূরণের সুযোগ গ্রহণের লোভ আমাকে তাঁর উদ্যোগে যুক্ত করতে বাধ্য করল। 

তখনই আমি সচেতন হলাম যে ‘সাম্প্রতিক সাহিত্য চিন্তা’ নামে তাঁর একটি অসংগঠিত সংগঠন রয়েছে। সে সংগঠনের ধারণাকল্প তাঁরই মস্তিষ্কজাত। উদ্যোগ আয়েজনের নেতৃত্ব সকল কর্ম-অঙ্গীকারও তাঁরই। পেশাদারিত্বের চৌকষত্ব সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত। সাহিত্যপ্রেমিকতা ও বন্ধুত্বগ্রন্থিতাই তাঁর সর্বোচ্চ লক্ষ্যীভূত কেন্দ্র। সুতরাং তাঁর, আমার কিংবা তাঁর অপরাপর বন্ধুদের একে অপরের শিথিল আহ্বানেই পরস্পরের প্রতি সাড়া দেবেন। কারণ জেমস জয়েসের প্রতি কৌতূহলী তাঁরাই হবেন, তাঁর ‘ইউলিসিস’ উপন্যাস পাঠ করার কিংবা এই উপন্যাসের ঘটনার দিন ‘ব্লুমস ডে’ কে তাঁরাই উদযাপন করবেন যাঁরা সাহিত্যের প্রেমিক, সাহিত্য যাঁদের ধান্ধার বস্তু নয়। শিরাজী ভাইয়ের কেবল প্রেরণার বিষয়টি ছিল এই যে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও কেন উদযাপিত হবে না। আমাদের দেশে ‘ইউলিসিস’ পড়া কিংবা পড়তে চাওয়া মানুষ কি নেই! তিনি তখন নতুন নতুন উদ্ভাবিত সুযোগ গুগুলের দিকে আমার মনোযোগনির্দেশ করলেন। আমরা প্রেমিক দক্ষতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের তখনকার দোতলার ছোট্ট পরিসরে শিরাজী ভাইয়ের নেতৃত্বে আয়োজন করে ফেললাম ‘ব্লুমস ডে’ উদযাপনের অনুষ্ঠান। 

‘সাম্প্রতিক সাহিত্য চিন্তা’ নামীয় সংগঠনটির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, অন্তত নিমন্ত্রণপত্রে যাঁদের নাম যৌথভাবে আমন্ত্রণকারী হিসেবে ছাপা হয়েছিল তাঁদের অনেকেই স্বনামখ্যাত। আমি এই আয়োজন সম্পর্কে লিখতে গিয়ে কৌতুককর ভাবে লিখেছিলাম, ‘‘তাঁদের নিষ্ক্রিয়তায় সংগঠন হিসেবে ‘সাম্প্রতিক সাহিত্য চিন্তা’ খুবই নাজুক অবস্থায় কৌতুককর ভাবে অস্তিত্বশীল ছিল।’’ জাকারিয়া শিরাজীর মৃত্যুর পরে এর নাম আর শোনা যায় না। অবশ্য সাংগঠনিক কাঠামোর গুণে সদস্যদের সক্রিয় হয়ে ওঠার কোনও সুযোগও তেমন ছিল না। বিশিষ্ট সাংবাদিক-অনুবাদক-সাহিত্য সমালোচক জাকারিয়া শিরাজী যদিও সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ছিলেন না তা সত্ত্বেও তিনিই ছিলেন এর প্রাণ। সকল সাংগঠনিক পরিকল্পনা গ্রহণ, সংগঠন হিসেবে অস্তিত্বশীলতার পরিচয় টিকিয়ে রাখা বেশ কয়েক বছর ধরে সম্ভব হয়েছিল তাঁরই প্রকল্পনায়, উদ্যমে ও উৎসাহে। সে হিসেবে তিনিই ছিলেন এর উদ্যোক্তা। কয়েকজন বন্ধু তাঁর এই খেয়ালিপনাকে কিছুটা সক্রিয় সমর্থন জানাতেন বলে মাঝে মাঝে কোনও অভিনব বা অলক্ষ-প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভবপর হয়ে উঠত।’’

ব্লুমস ডে সম্পর্কে লিখতে গিয়ে লিখেছিলাম, ‘পরিকল্পক ও উদ্ভাবক জাকারিয়া শিরাজী অনুষ্ঠানের প্রস্তাবনা বক্তব্য পেশ করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, জাকারিয়া শিরাজী জেমস জয়েসের ‘A Portrait of the Artist as a Young Man’ উপন্যাসের অনুবাদক। এখানে একটি তথ্য প্রাসঙ্গিক না হলেও উল্লেখ করব। কারণ, জাকারিয়া শিরাজী যেসবে Essay [প্রবন্ধ বলা হলো না, কারণ প্রবন্ধ শব্দটি ইংরেজি Essay-এর প্রতিশব্দ নয়] লিখতেন তাতে আকস্মিক এমন কথা থাকত যা ঐ রচনার মূল প্রসঙ্গের বিষয় নয়। আমিও এই অপ্রাসঙ্গিক তথ্যটি এখানে জানিয়ে রাখি যে, জয়েসের ‘এক তরুণ শিল্পীর প্রতিকৃতি’ নামের উপন্যাসের অনুবাদটি তিনি আবু কায়েস মাহমুদের সঙ্গে যৌথভাবে আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন।] ইউলিসিস উপন্যাসের বাংলা অনুবাদের মতো অসাধ্য কাজে তিনি আমৃত্যু নিরত ছিলেন।’’ 

জেমস জয়েস ও আধুনিকতার নৈরাশ্যবাদী অনুষঙ্গে শিরাজী ভাই সমান উৎসাহী। সেদিনের আয়োজনের প্রস্তাবনা বক্তব্যে তিনি ইউলিসিস উপন্যাসের আখ্যানাংশ, বর্ণনার ধরন, হোমারের ওডেসির আখ্যানের সঙ্গে জয়েসের ‘ইউলিসিস’-এর সম্পর্কসহ উপন্যাসটির নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছিলেন। stream of consciousness শৈলীর প্রবক্তা জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ সম্পর্কে পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ডাবলিন শহরের বর্ণনা ‘ইউলিসিস’-এ নিখুঁত। ডাবলিনের একটা দিন, সেদিন আবহাওয়া কেমন ছিল, তাপমাত্রা কেমন ছিল, জোয়ার ভাঁটার সময় কী ছিল, সবকিছু সম্বন্ধে যথাযথ তথ্য নিয়ে ইউলিসিস লেখা হয়েছে। হোটেল, পানশালা, হাসপাতাল, বেশ্যালয়, পথঘাট, অলিগলি, বেলাভূমি ইত্যাদির সঠিক বর্ণনা, সেগুলোর সঠিক আয়তন ও পারস্পরিক দূরত্ব নিয়ে ১৬ জুন ১৯০৪-এর ডাবলিন উপস্থাপিত। নায়ক লিওপোল্ড ব্লুমের বাড়ি ৭ নম্বর এক্লিস স্ট্রিটে। এক্লিস স্ট্রিটও ডাবলিনে আছে, ৭ নম্বরের একটা বাড়িও নাকি আছে, অন্তত ১৯০৪ সালে ছিল। জাকারিয়া শিরাজী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, পোস্ট মডার্ন উপন্যাসের ওপর ইউলিসিস-এর প্রভাব সর্বব্যাপী। পরের যুগের পোস্টমডার্নেরা এই শৈলীকে আরও জটিল করেছিল। বাংলা ভাষায় দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় ভুবন-এ চেতনাপ্রবাহ রীতির কিছুটা আভাস আছে। আর যাযাবরের ‘জনান্তিক’ নামের উপন্যাসপ্রতিম একটি রচনায় নায়িকার নামও মলি। কলকাতা শহরের একদিনের ঘটনা এতে বর্ণিত। জাকারিয়া শিরাজী আরও বলেন, জেমস জয়েস কোনও মূল্যবোধকে তুলে ধরেননি। তিনি নৈরাশ্যবাদী। প্রেম, বিবাহ বন্ধন, দাম্পত্য, বিশ্বস্ততা—এই সব কোনও কিছুতেই তাঁর আস্থা আছে বলে মনে হয় না। তবে উপন্যাসটি শেষ হচ্ছে মলির যে একটানা ব্যাকরণবর্জিত যতিহীন আত্মকথনে তার শেষ শব্দটি হচ্ছে yes। (ব্লুমস ডে উদযাপনের বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা আমার লেখা ‘ব্লুমস ডে-এর শতবর্ষ : একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন শীর্ষক রচনাটি ওবায়েদ আকাশ সম্পাদিত ‘শালুক’ পত্রিকার বিদেশি সাহিত্যবিষয়ক সংখ্যায় পড়ে নিতে পারেন।)

শিরাজী ভাই ‘সাম্প্রতিক সাহিত্য চিন্তা’ থেকে আরো কিছু অনুষ্ঠান করেছিলেন। তার দু-একটিতে আমার হাজির থাকার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল বাস্তিল দিবস উদযাপনের ব্যাপারে তাঁর উত্তেজনা দেখে। সম্ভবত ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই (এই সংক্রান্ত কাগজপত্র হতের কাছে নেই বলে নিশ্চিত হতে পারছি না সালটি ২০০৯ কিনা) বাস্তিল দিবস উদযাপনে তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন। বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্যদিয়ে সামন্তবাদের অবসান ঘটেছিল এবং পৃথকভাবে সংজ্ঞায়িত ব্যক্তিগত মুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অগ্রগতির পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তিনি যে আধুনিকতার অনুশীলন করেন, প্রত্যাশা করেন ব্যক্তির মুক্তির মধ্যদিয়ে মানবমুক্তিকে তার উৎস ১৪ জুলাই ১৭৮৯-র বাস্তিল দুর্গের পতন। তাঁর এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিকটজনদের সম্পৃক্ত করার যে প্রয়াস দেখেছি তা তাঁর নিজস্ব জীবনদৃষ্টির অনুশীলনেরই পরিচায়ক। 

আমার সম্পাদিত বই-সমালোচনার পত্রিকা ‘বইয়ের জগৎ’-এও তিনি লিখেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। পুরোনো সংখ্যা ওল্টাতে গিয়ে আজ দেখলাম, প্রথম সংকলনেই হাজির ছিলেন তিনি। আলোচনার বইও ছিল তাঁরই নির্বাচন, আবিদ আনোয়ারের কবিতার বই ‘স্বৈরিণীর ঘরসংসার’। তিনি যে আলোচনা লিখেছিলেন তা আবিদ আনোয়ারের সঙ্গে সুসম্পর্ক সত্ত্বেও ছিল নির্মোহ। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে তাঁর রচনা ছিল যাকে বলে ‘রিভিউ আর্টিকেল’। এই কথাটিও আমার তাঁর কাছ থেকেই প্রথম শেখা। পরে আমি এ নিয়ে অনুসন্ধান করে বিস্মিত হয়েছি যে ‘কল্পনাগৌণ’ রচনাকেও যে সৃষ্টিশীল রচনা হিসেবে কেন গণ্য করা হয় সেব্যাপারে আমাদের সাহিত্যওয়াকিবহাল মহলও তেমন সচেতন নন। তাঁর সে আলোচনায় আবিদ আনোয়ার যুগপৎ খুশি ও কূপিত হয়েছিলেন। যে প্রসঙ্গে তিনি কূপিত হয়েছিলেন তার নিরসন ঘটেছিল তপন বাগচীর প্রতিক্রিয়ায়। আমিও শিরাজী ভাইয়ের মতো নির্মোহ থেকে তপন বাগচীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে দিয়েছিলাম যেখানে তপন বাগচীর ভাষ্যেও কিছুটা ক্ষোভের প্রকাশ ছিল। কিন্তু শিরাজী ভাইয়ের নির্মোহ হাসিতে আমার নির্মোহতা ভেসে গিয়েছিল। পরেও শিরাজী ভাই ‘বইয়ের জগৎ’-এ লিখেছেন শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত ‘কাঞ্চনগ্রাম’ উপন্যাস নিয়ে আরেকটি রিভিউ আর্টিকেল, যাকে আমি আবদুশ শাকুর অনুসরণে সৃষ্টিশীল ‘কল্পনাগৌণ’ সাহিত্য বলে থাকি।

মনে পড়ে আল মাহমুদের কবিতার একটি ইংরেজি অনুবাদ-সংকলন প্রকাশিত হলে সেটা তিনি পড়ে তার অনুবাদের মানের নিম্নতা দ্বারা এতই ক্ষুব্ধ হন যে তিনি নিজেই আল মাহমুদের কিছু প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা অনুবাদ করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। ২০০৮ সালে প্রকাশিত ১০২ পৃষ্ঠার ঐ বইটির নাম ছিল ‘Selected Poems of Al Mahmud’। বইয়ে ২০ পৃষ্ঠাব্যাপী দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লেখেন তিনি। ভূমিকাটি ছিল ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যের মডার্নিজম বা আধুনিকতাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে। ‘বইয়ের জগৎ’ পত্রিকায় ‘Selected Poems of Al Mahmud’ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তাঁর বন্ধু ষাটের দশকের আরেক লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বেদু লিখেছিলেন, ‘জাকারিয়া শিরাজীর ভূমিকা আল মাহমুদকে উপলক্ষ করে রচিত হলেও এটা বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে একটা জ্ঞানগর্ভ নিবন্ধ।’ ঐ পর্যালোচনায় তিনি যথার্থই বলেন, ‘বাংলাদেশে যেহেতু ইংরেজি ভাষায় এমন একটি বইয়ের একান্ত অভাব, তাই এই বইটির বিশেষ গুরুত্ব আছে। বাংলা কবিতা সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী বিদেশি সাহিত্যানুরাগীর প্রয়োজন মেটাতে পারে।’
আমিনুল ইসলাম বেদু তাঁর আলোচনায় আল মাহমুদকে নিয়ে রচিত ভূমিকা প্রসঙ্গে যেকথা বলেছেন শিরাজী ভাইয়ের লেখা প্রবন্ধের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও মোটের ওপর সেকথাই বলা যেতে পারে। তাঁর শেষের দিকের প্রবন্ধ-সংকলনের নামকরণে আমরা পাই ‘নিঃসঙ্গতা’, ‘নির্বেদ’, ‘মন’, ‘মানসতা’—এইসব শব্দের অস্তিত্ব। এগুলো আধুনিকতাবাদগন্ধী শব্দ। তাঁর সাহিত্য আলোচনায় আধুনিকতার অন্যতম লক্ষণ ‘নৈরাশ্য’ প্রসঙ্গ গুরুত্ব পেত। এখানে তাঁর প্রবন্ধ নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা করার সুযোগ নেই, তাঁর বইগুলোও নিউইয়র্কে আমার হাতের কাছে নেই বলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আরেকটু বিস্তার করা সম্ভব হলো না।
শিরাজী ভাইয়ের মধ্যে এক ধরনের খেয়ালিপনাও ছিল। যেমন তিনি তাঁর লেখায় সুযোগ পেলেই রবীন্দ্রনাথকে ঠুকতেন! একসময় তিনি যখন ‘দি নিউ নেশন’ পত্রিকায় রবীন্দ্রপ্রেমী ওয়াহিদুল হকের সহকর্মী তখন তাঁদের দুজনের মধ্যে চলত রবীন্দ্রবিতর্ক। যদিও শিরাজী ভাই কিছুকাল ওয়াহিদুল হকের কাছে রবীন্দ্রসংগীত শেখারও চেষ্টা করেছিলেন। আশ্চর্য যে, ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে চিন্তার এত বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের অনুরাগী ছিলেন তাঁরা। যেমন সায়ীদ স্যারের সঙ্গে শিরাজী ভাইয়ের এত বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও একদিন তিনি আমাকে স্পষ্টই জানিয়েছিলেন যে, সাহিত্যদৃষ্টিতে তিনি ভিন্নমুখী। সেকারণে সায়ীদ স্যারের সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ পত্রিকায় তিনি লেখা দেয়ার কথা ভাবেননি। কোনো একদিন দৃষ্টিভঙ্গির এই ভিন্নতা নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন এমন কথাও হয়েছিল।

প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা খুব বেশি নয়। প্রবন্ধ-সংকলন ‘সাহিত্য চিন্তা’ (১৯৯৩), ‘আধুনিক সাহিত্য : মন ও মানসতা’ (২০০০), ‘সাহিত্য : নিঃসঙ্গতা ও নির্বেদ’ (২০০৩)। এ ছাড়া জেমস জয়েসের উপন্যাসের অনুবাদ করেন ‘এক তরুণ শিল্পীর প্রতিকৃতি’ (২০০১) নামে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিচিত ইতিহাসবিদ এনায়েতুর রহিমের বিখ্যাত ইতিহাস গবেষণার গ্রন্থরূপ ‘Provincial Autonomy in Bengal, 1937-1943’-এর বাংলা অনুবাদ করেন ‘বাংলায় স্বশাসন’ (২০০১) নামে। তা ছাড়া হয়তো এমন অনেক বই আছে যার খবরই আমাদের জানা নেই। একদিন অন্যদের কাছে শুনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে জেনেছিলাম আবদুস সাত্তারের বিখ্যাত বই ‘আরণ্য/অরণ্য জনপদে’-এর ইংরেজি পাঠ তাঁরই রচিত। কেউ কেউ বলেন মূল বাংলা বইয়ের চেয়ে তাঁর রচিত ইংরেজি পাঠ জ্ঞানতাত্ত্বিক ও প্রাঞ্জলতা উভয় দিক থেকেই শ্রেয়োতর। বাংলাদেশের নৃবিজ্ঞান চর্চার খবর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছতে পারার পটভূমিতে তাঁর এই বইয়ের ভূমিকাও অকিঞ্চিৎকর নয়। এছাড়াও ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন বাংলা লোকসাহিত্য সংকলন Folk Tales of Bangladesh। বাংলাদেশের তরুণ কবিদের অনেকের কবিতাই তিনি অনুবাদ করে দিয়েছেন। দু-একজনের তো অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন কবিতা-সংকলনই। যেমন আবিদ আজাদের ‘Selected Poems of Abid Azad’, তাঁরই স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘কবির/কবিতার স্বপ্ন’ বইয়ের অনুবাদ ‘Escape From Childhood’ এবং রেজাউদ্দিন স্টালিনের ‘Selected Poems of Rezauddin Stalin’ প্রকাশিত হয়েছিল; ‘Only One Life To Live’ নামেও তাঁর একটি বইয়ের খবর পাচ্ছি, কিন্তু কী ধরনের বই তা জানা সম্ভব হয়নি।

শেষের দিকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে তিনি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকেই বের হতে পারতেন না। মাঝে মাঝে ফোন করতেন  আমাকে। কয়েকবার গিয়েছিও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু হায়, আমার অকিঞ্চিৎকর জীবনের বিশ্রী ব্যস্ততা আমাকে তাঁর কাছে বেশি যেতে দিতে পারেনি।

শিরাজী ভাইয়ের সঙ্গে আমার কত স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে! তিনি তেমন একটা ভ্রমণপিয়াসী ছিলেন না। তবে মনে পড়ছে একবার তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন বেড়াতে। লন্ডন থেকে ফিরে স্মারক হিসেবে আমাকে হাইয়ারোগ্লিফিক লেখা ‘রোসেটা স্টোন’ উপহার দিয়েছিলেন। আমার ঢাকার আবাসে সেটা সযত্নে রক্ষিত আছে। তাঁর এ উপহার আমার প্রতি স্নেহের গভীরতার পরিচায়ক। শিরাজী ভাইকে যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন তাঁদের চোখে তিনি ‘অন্তর্মুখী’, ‘বিনয়ী’, ‘প্রচারকুণ্ঠ’ একজন মানুষ। অনুভব করছি তাঁর কর্মসমগ্র নিয়ে গভীরতর পরিচিতিমূলক ও মূল্যায়নধর্মী রচনা লেখা হওয়া জরুরি।

/জেডএস/

সম্পর্কিত

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু : বিদ্বেষ-বন্দনা বনাম ঐতিহাসিক সত্য

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু : বিদ্বেষ-বন্দনা বনাম ঐতিহাসিক সত্য

চাকরি ও সংসার হারানো বায়ান্নর মমতাজ বেগম

চাকরি ও সংসার হারানো বায়ান্নর মমতাজ বেগম

আনিসুজ্জামানের ‘স্বরূপের সন্ধানে’ : পাঠ-অনুভব

আনিসুজ্জামানের ‘স্বরূপের সন্ধানে’ : পাঠ-অনুভব

বৃষ্টির মতো এখানে হীরার টুকরা ঝরছে

প্রসঙ্গ মাল্যবানবৃষ্টির মতো এখানে হীরার টুকরা ঝরছে

ইলিয়াসের প্রেমের গপ্পো

ইলিয়াসের প্রেমের গপ্পো

শঙ্খ ঘোষ ও বাংলাদেশ

শঙ্খ ঘোষ ও বাংলাদেশ

ইমতিয়ার শামীমের সঞ্চারপথ

ইমতিয়ার শামীমের সঞ্চারপথ

জীবনদৃষ্টির অনন্য শিল্পী কামাল চৌধুরী

জীবনদৃষ্টির অনন্য শিল্পী কামাল চৌধুরী

সর্বশেষ

বাংলাদেশের সাহিত্য : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর | শেষ পর্ব

বাংলাদেশের সাহিত্য : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর | শেষ পর্ব

বাংলাদেশের সাহিত্য : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর | প্রথম পর্ব

বাংলাদেশের সাহিত্য : স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর | প্রথম পর্ব

ক্রায়িং রুম

ক্রায়িং রুম

মাল্লাম ইলিয়ার (এ কেমন) বিচার

মাল্লাম ইলিয়ার (এ কেমন) বিচার

ঝুম শব্দে কাঁপে নদী

ঝুম শব্দে কাঁপে নদী

তরুণ লিখিয়ের খোঁজে জলধি

তরুণ লিখিয়ের খোঁজে জলধি

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু : বিদ্বেষ-বন্দনা বনাম ঐতিহাসিক সত্য

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু : বিদ্বেষ-বন্দনা বনাম ঐতিহাসিক সত্য

চাকরি ও সংসার হারানো বায়ান্নর মমতাজ বেগম

চাকরি ও সংসার হারানো বায়ান্নর মমতাজ বেগম

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.