X
মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

তারল্যে ভাসছে ব্যাংক, তবু ঋণ শোধের চাপে ব্যবসা খাত

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৩০

বর্তমানে ব্যাংক খাতে তারল্যের পরিমাণ বেড়ে গেছে রেকর্ড পরিমাণ। ব্যাংকগুলো একদিকে নতুন বিনিয়োগ থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে, অপরদিকে চাহিদা মতো সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারছে না। এমনকি কলমানি ও অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত হিসেবেও রাখতে পারছে না। আবার এমন পরিস্থিতিতেই ঋণ শোধের জন্য ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ই চাপের মধ্যে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসের শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বরের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। চলতি ফেব্রুয়ারি মাস শেষে এই পরিমাণ প্রায় সোয়া দুই লাখ কোটিতে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, ব্যাংকের অলস এ তারল্যের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন ঋণ নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে তারা এখনও আসেননি। ফলে বিনিয়োগ না হওয়ায় পুঞ্জীভূত এই অর্থ ব্যাংকগুলোকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এভাবে তারল্য বেড়ে যাওয়া আর্থিক খাতের জন্য বড় বিপদের পূর্বাভাস। তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত তারল্য ধরে রেখে ব্যাংকের পোর্টফোলিও বড় হলেও দুর্বল হচ্ছে ব্যাংকের ভিত। এমন পরিস্থিতিতে তারল্য কমানোর পদ্ধতি ও কৌশল নিরূপণ করা জরুরি। এই পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীদের চাপ দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন অনেকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, টাকার সংকট যেমন এক ধরনের বিপদ, অতিরিক্ত তারল্যও সমান বিপদ বয়ে আনে।

অনেকেই বলছেন, ব্যবসায়ীদের চাপ দিয়ে ঋণ পরিশোধে বাধ্য করা হলে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসা করার মতো পরিস্থিতিতে আমরা নেই। যে কারণে ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলোর উচিত হবে সুদের হার আরও কমিয়ে আনা ও সব ধরনের চার্জ কমিয়ে আনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। ঋণ শোধের জন্য অতিরিক্ত চাপাচাপি না করে, কীভাবে ব্যাংক ও গ্রাহক ভালো থাকবে, কীভাবে ব্যবসা সচল হবে, সেদিকে নজর দিতে হবে।’ তবে রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার যে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিল, তা পরিশোধে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে অন্যান্য ঋণ পরিশোধের সময়ও বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগ না করে শুধু ব্যাংকে টাকা জমা করে লাভ নেই। আগে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দেওয়ার মতো সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক বাঁচাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মেরে ব্যাংক উল্টো আরও ক্ষতির মুখে পড়বে। আবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বাঁচাতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপরে চার্জ আরোপ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, ‘ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত চার্জ আরোপও বন্ধ হওয়া দরকার।’

এদিকে শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ থেকে যারা ঋণ নিয়েছিলেন, তাদের ঋণ পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ড ছিল গত ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন তারা ঋণ পরিশোধে আগামী জুন পর্যন্ত সময় পাবেন। বাকি অন্য প্যাকেজগুলো থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতির মুখে থাকা সত্ত্বেও ঋণ শোধ দেওয়ার জন্য যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তাতে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে। ব্যবসায়ীরাও বিপদে পড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলোতে তারল্যের জোয়ার বইলেও ঋণের চাহিদা নেই। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, নতুন বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকগুলো নিজেদেরকে  গুটিয়ে রেখেছে। প্রণোদনার অর্থ বিতরণের পরও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার প্রায় অর্ধেকে। ব্যাংক খাত থেকে ঘোষণা অনুযায়ী ঋণ নিচ্ছে না সরকারও। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত অলস তারল্যের জোয়ারে ভাসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী,  ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষে দেশের ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৯৮ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। এই সময়ে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্য ছিল ৮৩ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। আর ২২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে।

ব্যাংকের এমডিরা বলছেন, অতিরিক্ত তারল্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে অন্তত ৩০টি বেসরকারি ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বৃত্ত তারল্য খাটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বিভাগকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তারল্যের চাপে এখন চ্যাপ্টা হওয়ার অবস্থায় পড়েছে। এতদিন অতিরিক্ত তারল্যের অর্থ বিনিয়োগ করতো সরকারি বিল-বন্ড বা কলমানি বাজারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে ট্রেজারি বিলের সুদহার নেমে এসেছে ১ শতাংশের নিচে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ডরেট ছিল মাত্র ৪৫ পয়সা। যদিও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯১ দিন মেয়াদি বিলের ইল্ডরেট ৬ শতাংশের বেশি ছিল। ট্রেজারি বিলের মতোই সুদহার কমেছে বন্ডেও। ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আর চাহিদা না থাকায় কলমানি বাজারের সুদহার নেমেছে ১ শতাংশে। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ ব্যাংকেরই ট্রেজারি ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে জানান এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনাকালে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য বাড়ছে। কিন্তু অতিরিক্ত তারল্য বিনিয়োগ করার মতো কোনও রূপরেখা এ মুহূর্তে নেই। এই পরিস্থিতিতে আমানতের সুদহার কমানোর মাধ্যমে ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ আমানতকারীরা এ মুহূর্তে নামমাত্র সুদ পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

দি সিটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘অতিরিক্ত তারল্য ব্যাংক খাতকে এখন কষ্ট দিচ্ছে। যেভাবে আমানত আসছে, ঠিক সেই তুলনায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না।’ তার মতে, নতুন বিনিয়োগের জন্য আমাদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও দেশে এ মুহূর্তে বড় কোনও শিল্প উদ্যোগ নেই বললেই চলে। ভালো ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বলেও জানান তিনি। এমন পরিস্থিতির কারণেই দেশের ব্যাংক খাতে অলস তারল্যের পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও এক বছর আগেও তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছিল বেশিরভাগ ব্যাংক। নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) ও সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণেই হিমশিম খাচ্ছিল বেসরকারি ব্যাংকগুলো। তারল্যের সংস্থান করতে বেশি সুদে অন্য ব্যাংকের আমানত বাগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, বিদায়ী অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্যের জোগান দিয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। রেপো, স্পেশাল রেপো ও অ্যাসুরেড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রণোদনা হিসেবেও প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অর্থ জোগান দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোগান দেওয়া এই অর্থও অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত তারল্য ব্যাংক খাতের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত তারল্য ব্যাংক খাতের জন্য মধুর বিড়ম্বনা।’ বেসরকারি খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ না হওয়ার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে কম সুদে ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারল্য কমিয়ে আনা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:০০

কারখানা খোলার জন্য সরকারকে দেওয়া কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা। সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেই কারখানা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকারের সব উদ্যোগকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে পানিতে। ২৩ জুলাই শুরু হওয়া ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন এখন সাধারণ মানুষের কাছে হাসি তামাশায় পরিণত হয়েছে। আর এর জন্য প্রতিনিয়তই সরকারকে নানামুখী সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সরকারের দূরদর্শিতা ও দক্ষতা নিয়েও।

চলতি বছরের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পর যখনই সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তখনই বাগড়া দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে গার্মেন্টস মালিকরা। বারবারই তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ার কথা বলছেন। তাদের দাবি, অর্ডার অনুযায়ী পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারলে অর্থনীতি হারিয়ে যাবে।

সেই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার রবিবার (৩০ জুলাই) ১৪ দিনের লকডাউনের ৯ম দিনে এসে ১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টসসহ শিল্প কারখানা খুলে দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারখানা খুলে দেওয়ার আবেদন নিয়ে বারবার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর আবেদন নিয়ে গেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে। দু-দফা আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট আরও চারটি সংগঠন ছিল। তারা বারবারই সরকারকে বোঝাতে চেয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালানো হবে।

শ্রমিকরা বলছে, কারখানার আশেপাশের শ্রমিকদের দিয়েই কারখানা চালানোর কথা বলে অনুমোদন নিয়ে নিলেও ১ আগস্ট সকালে কাজে যোগ দিতে ফোন করা হয় তাদের। রবিবার সকালে কাজে যোগ দিতে না পারলে তাদের আর কারখানায় আসতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। দায়িত্বশীলরাই এ ফোনগুলো করেছেন বলে একাধিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গার্মেন্টস কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক বেলায়েত হোসেন জানান, শ্রমিকরা চাকরি বাঁচাতে মাইলের পর মাইল হেঁটে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছেন অথচ কেউ এদের পরিশ্রান্ত মুখটা দেখছেন না। ঈদের একদিন আগ পর্যন্ত লেগেছিল ২৩ জুলাই শুরু হওয়া লকডাউনে কারখানা খোলা থাকবে কী থাকবে না— এই  সিদ্ধান্ত নিতে। সরকার সিদ্ধান্ত নিলো ৫ তারিখ পর্যন্ত কল-কারখানা বন্ধ থাকবে। আমরা শ্রমিকরা বাড়ি গেলাম। হঠাৎ করে আমাদের ফোন করে জানানো হলো ১ তারিখ থেকে কারখানা খুলবে। এর আগেই কারখানার গেটে পৌঁছাতে হবে, না পারলে আর কারখানায় আসা লাগবে না। আমরা বাধ্য হয়ে পেটের তাগিদে কর্মক্ষেত্রে এলাম। কিন্তু পরিবহন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা কিভাবে ফিরবে সেটা কেউই ভাবেননি।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, কারখানা মালিকরা কোনও শ্রমিককে কাজে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে বলেনি।  শ্রমিকদের আসার জন্য কোনও মালিক বাধ্য করছে না।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কারখানার আশপাশের শ্রমিকদের নিয়েই প্রথমে কারখানা চালু করবেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া শ্রমিকরা ৫ আগস্টের পর কাজে যোগ দেবেন। এতে কেউ চাকরিচ্যুত হবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। মন্ত্রী বলেন, একদিনের মধ্যে শ্রমিকদের ফিরে আসার নির্দেশনায় ফেরিঘাটগুলোতে রীতিমতো ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

 

/ইউআই/এমআর/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:৩৬

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে এলপিজির দাম। এখন সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। সর্বশেষ জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম টন প্রতি ১০০ ডলার বেড়ে ৬২০ ডলারে ঠেকেছে৷ আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি আগে কখনও দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। এলপিজি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম উপজাত প্রোপেন ও বিউটেনের সংমিশ্রণ। এটি ১০-১৫ বার চাপ দিয়ে তরল গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। সাধারণ তাপমাত্রায় এটি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের হিসাবে এভাবে দরের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় নি। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সৌদি সিপির প্রাইস লিস্টে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম সর্বোচ্চ ৬৫৫ ডলারে ঠেকে। তবে এই দাম পরের মাসগুলোতে সাড়ে ৪০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এছাড়া এইভাবে এর আগে কখনো দাম ৬০০ ডলার অতিক্রম করেনি। এবারই পর পর মাস টন প্রতি ১০০ ডলার করে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০১৮ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে ভিন্নতা রয়েছে বর্তমানের। তখন বিশ্ব স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও এখন করোনার কারণে অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে। সঙ্গত কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকার কথা। তেলের দামের ওপর নির্ভর করে সব পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। তাই এলপিজির দাম কম থাকার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার মধ্যে বিশ্বের বহু দেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। এতে করে অন্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে দামও বেড়েছে।

গত জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ছিল যথাক্রমে টন প্রতি ৫২৫ ডলার এবং ৫৩০ ডলার। কিন্তু জুলাই মাসে তা বেড়ে দুটোরই হয়েছে ৬২০ ডলার করে। অর্থাৎ ১০০ ডলার করে বেড়েছে টন প্রতি। এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই দাম ছিল ৫৫০ ও ৫৩০ ডলার।

সৌদি সিপির প্রাইস লিস্টে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে টন প্রতি ছিল ৫৬৫ ডলার ও ৫৯০ ডলার। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫০৫ ডলার ও ৫৪৫ ডলার, মার্চে ৪৩০ ও ৪৮০, এপ্রিলে এসে আরও কমে ২৩০ ও ২৪০ ডলার হয়৷  মে মাসে আবার দুটোই বেড়ে ৩৪০ করে হয়, এরপর জুন মাসে ৩৫০ ও ৩৩০, জুলাইয়ে ৩৬০ ও ৩৪০ ডলার, আগস্টে ৩৬৫ এবং ৩৪৫ ডলারে উঠে। সেপ্টেম্বরে ৩৬৫ ও ৩৫৫, অক্টোবরে ৩৭৫ ও ৩৮০, নভেম্বরে দাম উঠে ৪৩০ ও ৪৪০ এ, ডিসেম্বরে  প্রোপেন ও বিউটেনের দাম গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৫০ ডলার ও ৪৬০ ডলারে।

দাম বাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশেও জুলাই ও আগস্ট মাসে এলপিজির দাম বেড়েছে। তবে তার আগের মাসে অর্থাৎ মে মাসে দাম কিছুটা কমেছিল। আগে বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামত দামে এলপিজি বিক্রি করলেও গত এপ্রিল থেকে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে বাংলা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ( বিইআরসি)।  তারা সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই চলতি মাসের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তাতে দেখা যায়, বেসরকারি পর্যায়ে এলপিজির দাম প্রতিকেজি ৭৭ টাকা ৪০ পয়সা ধরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা জুলাই মাসে ছিল ৮৯১ টাকা এবং জুন মাসে ছিল ৮৪২ টাকা।

এলপিজি বিশেষজ্ঞ ও বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ছে, একই কারণে বাড়ছে এলপিজির দামও। এছাড়া পানামা ক্যানেলে কিছু রেস্ট্রিকশনের কারণে এলপিজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এটিও একটি কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার।

 

/এমআর/আপ-এনএইচ/

সম্পর্কিত

বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার কৌশল খুঁজছে সরকার

বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার কৌশল খুঁজছে সরকার

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। এই  অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে  তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ মালিককেই দায়ী করা হয়েছে। এজন্যই মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে মাহমুদ মালিকের  স্ত্রী ও বিআইএফসির সাবেক পরিচালক হাফসা আলমকেও ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি। সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তৎকালীন দায়িত্বে ছিলেন হাফসা আলম।

জানা গেছে, হাফসা আলম ইতোমধ্যে গোপনে বিদেশে চলে গিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মাহমুদ মালিকও যে কোনও সময়ে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।

জানা গেছে, মাহমুদ মালিক বিআইএফসিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই তিনি ইডকল নামের রাষ্ট্রায়ত্ত আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। গত ৩১ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তার মেয়াদ আর বৃদ্ধি করেনি।

জানা গেছে, তদন্তের জন্য ইতোপূর্বেও মাহমুদ মালিক ও তার স্ত্রী হাফসা আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ডাকা হয়েছে। কিন্তু স্ত্রী হাফসা আলম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাফসা আলম। বিআইএফসির শেয়ার হোল্ডার হচ্ছে সুকুজা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।

হাফসা আলমের স্বামী মাহমুদ মালিক বিআইএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতা করেন। এজন্য ইতোপূর্বেও এক দফায় হাফসা আলমকে ডেকেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠা বিআইএফসি-তে সংঘটিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশনা দেন আদালত। এরপরই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় জড়িতদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’। আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সবার দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করার দায়িত্ব পায় কমিটি।

কমিটির প্রধান করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-৩ এ কে এম সাজেদুর রহমান খানকে। অন্য সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুর রহমান, দুই মহাব্যবস্থাপক কবির আহমেদ ও নুরুল আমিন। সদস্য-সচিব করা হয়েছে উপ-মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার হোসেনকে।

বর্তমানে দেশে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির আর্থিক অবস্থাই বেশ নাজুক। এরমধ্যে বিআইএফসি অন্যতম।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

চট্টগ্রামে শনি ও বুধবারও ব্যাংক খোলা

চট্টগ্রামে শনি ও বুধবারও ব্যাংক খোলা

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অবৈধ

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অবৈধ

রবিবার ও বুধবার  আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে

রবিবার ও বুধবার  আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে

ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ১৪:২৯

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ ধনুয়া, জয়দেবপুর, সাভার, আশুলিয়া, কোনাবাড়ি, টাংগাইল, এলেংগা, নরসিংদীতে বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও একেবারে গ্যাস নেই, আবার কোথাও অল্প চাপে গ্যাস পাচ্ছেন গ্রাহকরা। হঠাৎ করেই এই সংকট সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিকাল নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পুরো পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সাথে আলাপ করেই শেভরন তাদের দুইটি গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ও জালালাবাদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করেছে। এখন আমরা বিবিয়ানা থেকে কিছু গ্যাস পাচ্ছি। বিকেলের দিকে আরও কিচ্ছুটা বাড়তে পারে বলে শেভরন আমাদের জানিয়েছে। জালালাবাদ থেকে আপাতত বন্ধ আছে। বিকালে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ যদি শেষ হয় তাহলে গ্যাস পাওয়া যাবে।

তিতাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস অধিভুক্ত ধনুয়া, জয়দেবপুর, সাভার, আশুলিয়া, কোনাবাড়ি, টাংগাইল, এলেংগা, নরসিংদী ও ঢাকা শহরের উত্তরাংশে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্রাহকের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

অন্য একটি সূত্র জানায়, সাধারণত বিবিয়ানা থেকে গড়ে ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায় আর জালালাবাদ থেকে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিবিয়ানা থেকে এখন পাওয়া যাচ্ছে  গড়ে ১১০০ মিলিয়ন এবং জালালাবাদ থেকে এখন একেবারেই বন্ধ আছে। জালালাবাদ ঈদের সময় থেকেই রক্ষণাবেক্ষণে কাজ চলছে।

এদিকে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন) তাজুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এখন বিবিয়ানা থেকে ১১০০ মিলিয়নের মতো আসছে। জালালাবাদ বন্ধ থাকলেও বিকাল নাগাদ চালু হওয়ার কথা। সে হিসেবে বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।

এদিকে তিতাসের মোট গড় চাহিদা ১৭০০ মিলিয়নের মতো। এরমধ্যে ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাচ্ছে তিতাস। ঘাটতি প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

/এসএনএস/এমএস/

সম্পর্কিত

এলপিজি থেকেই মগবাজারের বিস্ফোরণ: তিতাস

এলপিজি থেকেই মগবাজারের বিস্ফোরণ: তিতাস

গ্যাস দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের সহায়তা দিতে তহবিল গঠনের পরামর্শ

গ্যাস দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের সহায়তা দিতে তহবিল গঠনের পরামর্শ

ক্রস চেকের মাধ্যমে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেবে তিতাস

ক্রস চেকের মাধ্যমে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেবে তিতাস

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২৩:০১

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ছোট ও বড় ব্যবসায়ীরা স্বল্প সুদে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণের মোট সুদের অর্ধেক ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রণোদনার অধিকাংশই গেছে প্রভাবশালীদের কাছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ছোট উদ্যোক্তারা এই প্রণোদনা থেকে ঋণ পায়নি। এ কারণে প্রণোদনার ঋণ কারা নিয়েছে তা জানতে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

অবশ্য ঋণ দেওয়ার প্রায় এক বছর পর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ঋণের ব্যবহার খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য কারা ঋণ নিয়েছে ও ঋণের ব্যবহার কোথায় হয়েছে, তার তথ্য চেয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণোদনার টাকার ব্যবহার কোথায় হয়েছে তা জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রণোদনার ঋণের টাকা কারা পেয়েছে ও কী উদ্দেশ্যে এই টাকা ব্যবহার হয়েছে তা, খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের ব্যবসায়ী এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে গত বছর সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয় ৪ শতাংশ সুদে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। বাকি সুদ ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে সরকার।

 

/জিএম/এনএইচ/

সম্পর্কিত

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

সর্বশেষ

ইউনেসকো'র বাংলাদেশ অফিসে চাকরি

ইউনেসকো'র বাংলাদেশ অফিসে চাকরি

উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা পণ্য ভালো শর্তে ক্রয়ে আগ্রহী বাংলাদেশ

উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তা পণ্য ভালো শর্তে ক্রয়ে আগ্রহী বাংলাদেশ

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৪ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৪ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে একদিনে আরও ১৭ মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে একদিনে আরও ১৭ মৃত্যু

মাদ্রাসায় রাতের খাবারের পর ছাত্রের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭

মাদ্রাসায় রাতের খাবারের পর ছাত্রের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭

বাংলাদেশের 'বিশ্বকাপ' শুরু তো আজ থেকেই!

বাংলাদেশের 'বিশ্বকাপ' শুরু তো আজ থেকেই!

ভালো মানের উপহারের ঘরে খুশি মুক্তাগাছার সুবিধাভোগীরা

ভালো মানের উপহারের ঘরে খুশি মুক্তাগাছার সুবিধাভোগীরা

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১০ মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত

চট্টগ্রামে করোনায় আরও ১০ মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

কথা রাখেননি গার্মেন্টস মালিকরা

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েই চলেছে এলপিজির

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বিআইএফসির সাবেক এমডি ও তার স্ত্রীকে ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

ঢাকা শহরের উত্তরাংশসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রণোদনার টাকা কারা নিয়েছে জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

© 2021 Bangla Tribune