X
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরদের শনাক্তে মাঠে নেমেছে ডিএমপি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:৪৬

রাজধানীর মহাখালীতে ড্যান্ডি আসক্ত কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আরিফে হোসেন (১৬) নামে এক কিশোর খুন হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীতে ড্যান্ডি আসক্ত শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর মাদকাসক্ত পথশিশুসহ সব শিশু-কিশোরদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিংসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে চার বিভাগে অন্তত ৪৭ শিশু-কিশোরকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। যারা শিশু-কিশোরদের কাছে ড্যান্ডি (ঘাম) নামক মাদক বিক্রি করে তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি ড্যান্ডি খাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মহাখালীতে আরিফ হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রধান হামলাকারী জনিকে (১৭) গণপিটুনি নিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। এছাড়াও আরও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ জানতে পেরেছে মহাখালী সাততলা বস্তিতে ড্যান্ডি খাওয়াকে কেন্দ্র করেই ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূলত ড্যান্ডি ও মাদক নিয়ে বিরোধের জেরেই আরিফকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই তরুণ ও দুই কিশোরসহ এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছি। তবে কিশোর অপরাধী হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করছি না।’

এই হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম ঢাকার আট ক্রাইম বিভাগকে মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভাসমান মাদকাসক্ত পথশিশুদের আটক করে সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপরদিকে যাদের পরিবার রয়েছে তাদের কাউন্সেলিং করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের জন্য পুলিশ পরিবারগুলোকে এই সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি যারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনার পর ডিএমপির আটটি ক্রাইম বিভাগ কাজ শুরু করছে। এই আট বিভাগের মধ্যে মতিঝিল, গুলশান, মিরপুর ও রমনা এলাকায় মাদকাসক্ত শিশু-কিশোর বেশি। তবে সকল এলাকাতেই একযোগে এই উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে।

গত ১ মাসে ডিএমপির লালবাগ বিভাগে মাদকাসক্ত সাত শিশু-কিশোরকে শনাক্ত করা হয়েছে, মিরপুর বিভাগে ৩৮ শিশু কিশোরকে কাউন্সেলিং করে পরিবারের  জিম্মায় দেওয়া হয়েছে, মতিঝিল বিভাগে একজন কিশোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, গুলশানে একটি হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও রমনা, তেজগাঁও, উত্তরা বিভাগে পুলিশ মাদকাসক্ত শিশু কিশোরদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, ‘কমিশনারের একটি নির্দেশনা রয়েছে, মাদকাসক্ত পথশিশুদের চিহ্নিত করে সুস্থ বা সুপথে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় আমরা খোঁজ নিচ্ছি, মাদকাসক্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে আমাদের এলাকাতেও কয়েকজন শনাক্ত করা হয়েছে।’

ডিএমপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি, স্টেশনে শিশু-কিশোররা দলবদ্ধ হয়ে নেশা করে। এরপর তারা নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মূলত এসব শিশু-কিশোররা গাঁজা, ড্যান্ডি ও প্যাথিড্রিন নামক মাদকে আসক্ত। এসব মাদকদ্রব্য গ্রহণের কারণে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। এসব পথশিশুদের নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া না গেলেও কয়েকবছর আগে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও মোস্ট অ্যাট রিস্ক অ্যাডোলসেন্ট (এমএআরএ) নামের দুটি প্রতিষ্ঠান একটি জরিপ করেছিল। জরিপ অনুযায়ী, সারাদেশে চার লাখ ৪৫ হাজার পথশিশু আছে। এদের মধ্যে রাজধানীতেই তিন লাখেরও বেশি পথশিশু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

যদিও মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব পুলিশের না, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সমাজসেবা অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনের এই কাজ করার কথা। তবে অপরাধ দমনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ এই কাজ করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘শিশু-কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এদের আইনের আওতায় আনার চেয়ে জরুরি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশোধন করা। ডিএমপি সেই উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবো।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো. আহসানুল জব্বার বলেন,  ‘মাদকাসক্ত শিশু কিশোরদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমরা যখনই এমন শিশু পাই, তখনই তাদের বিনা খরচে আমাদের নিরাময় কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান। সরকারি ও বেসরকারিভাবে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের এই কাজ চলবে। যারাই করুক না কেনও এটা ভালো উদ্যোগ। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

/এমআর/

সম্পর্কিত

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবদল নেতা আটক

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবদল নেতা আটক

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩ নারী আটক

পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩ নারী আটক

বিদেশ থেকে গুজব ছড়াচ্ছেন বিএনপির মাওলানা শামীম!

বিদেশ থেকে গুজব ছড়াচ্ছেন বিএনপির মাওলানা শামীম!

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭৬ বস্তা চাল উদ্ধার

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭৬ বস্তা চাল উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: হেফাজতের আরও ৮ কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: হেফাজতের আরও ৮ কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার

হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের ১০ দিনের রিমান্ডে

হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের ১০ দিনের রিমান্ডে

ফের রিমান্ডে রফিকুল ইসলাম মাদানী

ফের রিমান্ডে রফিকুল ইসলাম মাদানী

মাইক্রোবাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন!

মাইক্রোবাসে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন!

ট্রাকচাপায় নসিমন চালক নিহত

ট্রাকচাপায় নসিমন চালক নিহত

হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেফতার

হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেফতার

সর্বশেষ

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

এসিআই হাইব্রিড ধানে হেক্টর প্রতি লক্ষ্য ১৫ টন

এসিআই হাইব্রিড ধানে হেক্টর প্রতি লক্ষ্য ১৫ টন

যেভাবে কমবে তামাকের ব্যবহার

যেভাবে কমবে তামাকের ব্যবহার

বরগুনায় এক যুগে সর্বোচ্চ ডায়রিয়ার রোগী, মৃত্যু ৮

বরগুনায় এক যুগে সর্বোচ্চ ডায়রিয়ার রোগী, মৃত্যু ৮

খালে ভাসছিল লাশ

খালে ভাসছিল লাশ

হাসপাতালে ঠাঁই নেই, তাঁবু খাটিয়ে চলে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা

হাসপাতালে ঠাঁই নেই, তাঁবু খাটিয়ে চলে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা

মোস্তাফিজদের নখদন্তহীন বোলিং, জয়ে শীর্ষে কোহলিরা

মোস্তাফিজদের নখদন্তহীন বোলিং, জয়ে শীর্ষে কোহলিরা

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবদল নেতা আটক

ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবদল নেতা আটক

অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  ডাকাতের গুলিতে নিহত ১, আহত ২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডাকাতের গুলিতে নিহত ১, আহত ২

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

দরজায় ও কাঁথায় রক্তের দাগ, লাশ পুকুরের কাদায়

দরজায় ও কাঁথায় রক্তের দাগ, লাশ পুকুরের কাদায়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা দাবি, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের ১০ দিনের রিমান্ডে

হেফাজত নেতা মাওলানা জুবায়ের ১০ দিনের রিমান্ডে

হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেফতার

হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেফতার

বাঁশখালীতে নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি

বাঁশখালীতে নিহত শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি

মুভমেন্ট পাস নিয়ে প্রাইভেটকারে করে হেরোইন পাচার!

মুভমেন্ট পাস নিয়ে প্রাইভেটকারে করে হেরোইন পাচার!

রফিকুল ইসলাম মাদানী ফের ৭ দিনের রিমান্ডে

রফিকুল ইসলাম মাদানী ফের ৭ দিনের রিমান্ডে

বয়স নির্ধারণ নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করা হচ্ছে: আপিল বিভাগ

বয়স নির্ধারণ নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করা হচ্ছে: আপিল বিভাগ

হেফাজত নেতা আতাউল্লাহ আমীনসহ তিন জন রিমান্ডে

হেফাজত নেতা আতাউল্লাহ আমীনসহ তিন জন রিমান্ডে

ঘোষণা ছাড়া গুলি বহন, বিমানবন্দরে চিকিৎসক দম্পতি আটক

ঘোষণা ছাড়া গুলি বহন, বিমানবন্দরে চিকিৎসক দম্পতি আটক

বাঁশখালীতে শ্রমিকদের প্রাণহানি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

বাঁশখালীতে শ্রমিকদের প্রাণহানি: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.
© 2021 Bangla Tribune