X
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

যেভাবে আসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ১৪:১৯

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের অগ্নিঝরা ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর। ইউনেস্কোর একটি উপদেষ্টা কমিটি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, 'মেমোরি অব দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এর তালিকায় এ ভাষণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দু’বছর ধরে পর্যালোচনার পর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে বলে ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন- ‘ইতিহাসের প্রতিশোধ’।

যে জায়গায় দাঁড়িয়ে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, তার ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনে সেখানেই সমাবেশ হয় ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর। সেই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাস সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মোছার চেষ্টা হোক, ইতিহাস তার সত্য স্থানটা অবশ্যই করে নেবে। আজকে সেই স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে।’

বিশ্বজুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্ম যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা করে ইউনেস্কো। সংস্থাটি জানায়, তাদের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি ৭ মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে 'মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' যুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। ইউনেস্কোর তৎকালীন মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সে বছরের ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর চার দিনের এক সভায় বসেছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইএসি)। সেখানে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের জন্য ৭৮টি দলিলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

আইএসির কমিটিতে ছিলেন ১৫ জন বিশেষজ্ঞ। চেয়ারম্যান ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আলরাইজি। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রস্তাব করা ঐতিহাসিক দলিল পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করেন।

দুই বছরের প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬-১৭ সালের জন্য দলিলগুলোকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়নগুলো সম্পর্কে সুপারিশ করে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বলেন, এ কর্মসূচি পরিচালিত হওয়া উচিত দালিলিক ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য। যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংলাপ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির চেতনা তাদের মনে লালন করতে পারে।

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন শহীদুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুরু থেকেই এই স্বীকৃতি অর্জন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির আবেদন করতে একটি নমিনেশন ফাইল তৈরি করতে হয়। এই নমিনেশন ফাইল তৈরিতে শহীদুল ইসলামকে সাহায্য করেছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এরপর এই ফাইলের যাচাই-বাছাই ও উন্নত করার জন্য তিনি আলাপ করেন তৎকালীন ডিএফপির ডিজি লিয়াকত আলি খানের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাথমিকভাবে যে ফাইলটা তৈরি করেছিল, তাতে শুধু তাদের কাছে থাকা ফর্টি ফাইভ আরপিএম রেকর্ডে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটা দেওয়া হয়। প্যারিস মিশন খোঁজ করতে শুরু করে এই ভাষণের অন্যান্য দলিল।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ২০১৩ সালে ভাষণের একটি ডিজিটাল অডিও সংস্করণ তৈরি করে। আরও পরে ২০১৪ সালে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তৈরি করে একটি সংস্করণ। এর সবগুলোই ২০১৬ সালের ২৩ মে প্যারিস মিশন জমা দেয় ইউনেস্কোর কাছে। এরপর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনেস্কো ফেরত দিলো কিছু সংশোধনের জন্য। এরপর ১৭ এপ্রিল সংশোধনের পর আবার জমা দেওয়া হয়। এরপর ইউনেস্কোর কমিটি ৩০ অক্টোবর ভাষণটিকে স্বীকৃতি দেয়।

/এসও/এফএ/

সম্পর্কিত

পুরনো ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করে বিভ্রান্তি, নজরদারিতে অনেকে

পুরনো ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করে বিভ্রান্তি, নজরদারিতে অনেকে

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

রাস্তায় যানবাহনের চাপ, দুর্বল চেকপোস্ট

রাস্তায় যানবাহনের চাপ, দুর্বল চেকপোস্ট

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বেতার যোগাযোগ পুলিশের

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বেতার যোগাযোগ পুলিশের

করোনায় খালেদা জিয়ার সময় কাটছে যেভাবে

করোনায় খালেদা জিয়ার সময় কাটছে যেভাবে

‘তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ করা উচিত’

‘তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ করা উচিত’

হেফাজতের তাণ্ডবে গ্রেফতার জাপা নেতাদের মুক্তি দাবি

হেফাজতের তাণ্ডবে গ্রেফতার জাপা নেতাদের মুক্তি দাবি

কওমি মাদ্রাসায় সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি

কওমি মাদ্রাসায় সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি

১৪০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত

১৪০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত

কাল থেকে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও খোলা

কাল থেকে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও খোলা

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট শুরু, ব্যস্ততা বেড়েছে বিমানবন্দরে

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট শুরু, ব্যস্ততা বেড়েছে বিমানবন্দরে

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ ও সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ ও সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

সর্বশেষ

জাবিতে রসায়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জাবিতে রসায়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আফ্রিকায় পাকিস্তানের দাপট চলছেই

আফ্রিকায় পাকিস্তানের দাপট চলছেই

আগুনে পুড়লো তুরাগ বস্তির দেড় শতাধিক ঘর

আগুনে পুড়লো তুরাগ বস্তির দেড় শতাধিক ঘর

ফেনসিডিল বিক্রি: ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, এএসপি’কে বদলি

ফেনসিডিল বিক্রি: ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, এএসপি’কে বদলি

৫৩ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশীয় সাবমেরিন নিখোঁজ

৫৩ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশীয় সাবমেরিন নিখোঁজ

মহামারিতেও ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা

মহামারিতেও ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা

কোনও কিছু প্রমাণ করতে শান্তর এই সেঞ্চুরি নয়

কোনও কিছু প্রমাণ করতে শান্তর এই সেঞ্চুরি নয়

পুরনো ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করে বিভ্রান্তি, নজরদারিতে অনেকে

পুরনো ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করে বিভ্রান্তি, নজরদারিতে অনেকে

ভারতে কোভিশিল্ড-এর দাম ঘোষণা করলো সেরাম

ভারতে কোভিশিল্ড-এর দাম ঘোষণা করলো সেরাম

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে উত্ত্যক্ত ও মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে উত্ত্যক্ত ও মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নুরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা

নুরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

এনআইডি’র কাজ চালু রাখার নির্দেশ ইসির

১৪০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত

১৪০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ ও সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

জনপ্রতি ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ ও সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

বিআরটিএ’র দালালচক্র ভাঙতে হবে: কাদের

বিআরটিএ’র দালালচক্র ভাঙতে হবে: কাদের

লিপ সার্ভিস না দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ান: বিএনপিকে কাদের

লিপ সার্ভিস না দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ান: বিএনপিকে কাদের

ছাড় হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার টাকা

ছাড় হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার টাকা

জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের কথা বলবে বাংলাদেশ

জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের কথা বলবে বাংলাদেশ

জাতিসংঘের তিন নির্বাচনে বাংলাদেশের জয়

জাতিসংঘের তিন নির্বাচনে বাংলাদেশের জয়

মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ

মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ

৭৪ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

৭৪ লাখ টিকা দেওয়া শেষ

Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.
© 2021 Bangla Tribune