X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

গৃহশ্রমিকরা তবে যাবেন কোথায়?

আপডেট : ০২ মে ২০২১, ০১:১৮

রাবেয়ার মা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আট বছর ধরে গৃহশ্রমিকের কাজ করেন। সকালে দুই বাসায়, বিকেলে আরও দুটো। ২০২০ সালের মার্চে হঠাৎ শোনেন, কাজ নেই। আবার কবে যোগ দিতে পারবেন সেটাও জানেন না। গ্রামে ফিরে যান সপরিবারে। পাঁচ মাস পর আবার ঢাকায় ফেরেন। ততোদিনে আগের কাজ নেই। কম বেতনে নতুন আরেক বাসায় কাজ শুরু করতে বাধ্য হন তিনি।

কাজপ্রতি ৯ শ’ টাকা করে পাচ্ছেন রাহেমা। বাজার চড়া। কয়েকদিন ধরে মালিককে বলছেন, হাজার টাকা করে দিতে। কিন্তু রাজি নন গৃহকর্তা।

ঢাকার বাসাবাড়িতে ‘ছুটা’ কাজ করেন যারা, তারা এলাকাভেদে কাজপ্রতি সাত শ’ থেকে ১২ শ’ টাকা পর্যন্ত পেতেন। কিন্তু এসব কাজের নেই নিশ্চয়তা, নেই অভিযোগ করার জায়গা। এমনকি অনেকে পান না সাপ্তাহিক ছুটিও। এককথায় গৃহশ্রমিকদের শ্রমিক অধিকার বলতে যেন কিছুই নেই।

গৃহস্থালী কাজে যারা যুক্ত তাদের সংগঠন জাতীয় গার্হস্থ্য শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এক হাজার গৃহশ্রমিকের একটি তালিকা তারা সিটি করপোরেশনে দিয়েছিল। কিন্তু তা কোনও কাজে আসেনি। গৃহকর্মী কারা, আর কারা প্রণোদনা পেলো সেই প্রশ্ন করছেন তারা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা ২০১৫ প্রস্তত করেছে। যা ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারিতে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সেটি এখনও ফাইলবন্দিই আছে।

আয় কমেছে ৭১ শতাংশের

২০২০ সালে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) একটি জরিপ পরিচালনা করে। তারা বলছে, করোনার প্রভাবে শহরাঞ্চলে কর্মহীন হয়েছে ৮০ শতাংশ মানুষ। গ্রামেও সংখ্যাটা একই। নতুন সৃষ্ট দরিদ্রশ্রেণির ৭১ শতাংশের আয় কমেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪ শতাংশ নারী গৃহশ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

সুরক্ষা নীতিমালা

বাংলাদেশ সরকার গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা ৭.৩ ধারা অনুযায়ী ১২ বছর বয়সী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে ‘হালকা ধরনের কাজ’–এর জন্য বৈধ অভিভাবকের সঙ্গে আলাপ করে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ আছে। তবে ‘এই হালকা’ কাজটা কী, তা পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়নি। ১২ বছরের আগে কোনও শিশুকে গৃহকাজে (অস্থায়ী বা স্থায়ী) নিয়োগের কোনও সুযোগ নেই নীতিমালা অনুযায়ী।

২০১৫ সালের ওই নীতিমালায় গৃহকর্মীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, বেতন-ভাতা ঠিকমতো পরিশোধ, শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভরণপোষণ, ছুটি ও প্রণোদনাসহ আরও সুবিধাদির কথা স্পষ্ট বলা আছে। আরও বলা হয়েছে, অসুস্থ হলে গৃহকর্মীকে কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে এবং তার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়োগদাতাকে নিতে হবে।

তাদের কথা কে বলবে?

জাতীয় গার্হস্থ্য শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার বলেন, গৃহকর্মীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মানুষ খুবই কম। করোনাকালে স্থায়ী গৃহশ্রমিক ছাড়া বলতে গেলে বাকি সবারই কাজ চলে যায়। গৃহশ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসরণ করা জরুরি। প্রণোদনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দ্বারে দ্বারে এক হাজার কর্মীর তালিকা নিয়ে ঘুরেছি। কোনও লাভ হয়নি।

শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার মনে করেন, অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজ হারাচ্ছে। অনেকে পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছে। অসংখ্য উদাহরণ আছে, যারা আর কাজে ফিরতেই পারেননি। গৃহশ্রমিকেরা খুব মানবেতর জীবনযাপন করেন। তাঁদের না আছে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, থাকার জায়গা, সাপ্তাহিক বা মাতৃত্বকালীন ছুটি। নির্ধারিত বেতনও নেই। রাষ্ট্রকেই তাই এই দায়িত্ব নিতে হবে।

 

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:১২

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলায় প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করবে বলে জানান গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে আজই আদালতে পাঠানো হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। 

/এমএইচজে/ইউএস/
টাইমলাইন: ইভ্যালি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:১১
ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

সম্পর্কিত

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

ময়মনসিংহ থেকে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য’ গ্রেফতার

ময়মনসিংহ থেকে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য’ গ্রেফতার

দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল ইভ্যালির

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪:০৭

ইভ্যালি তার দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণা করার পরিকল্পনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেলের। জিজ্ঞাসাবাদে নিজেই এমন তথ্য জানিয়েছেন, বলছে র‌্যাব। 

শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

রাসেল পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবসা করে আসছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইভ্যালি ছিল একটি পরিবার নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা। প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রে স্বচ্ছতা ছিল না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কোনও জবাবদিহিতাও ছিল না। ফলে ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি দায়ভার বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর সেই কারণেই বর্তমানে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ইভ্যালির নেতিবাচক ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি উম্মোচিত হলে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে সরে এসেছে। ব্যবসায়িক উত্তোরণ নিয়ে রাসেল তিনি নিজেও সন্দিহান ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি।

গ্রেফতারকৃত রাসেল ও নাসরিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

গ্রাহকের টাকা কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়গুলো তদন্ত করছে। গ্রাহকের বিভিন্ন পরিমাণ টাকা এখানে লগ্নি করা আছে। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চয়ই একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা হবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের টাকা কীভাবে দেবেন- জিজ্ঞাসাবাদে এমন প্রশ্নে রাসেল আমাদের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে যেসব সংস্থা কাজ করছে, সকলে মিলে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করলে হয়তো অর্থ পাওয়া সম্ভব হবে।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:৪৭

‘২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ইভ্যালির দায় ছিল ৪০৩ কোটি টাকা, যেখানে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা’- বিভিন্ন সংস্থায় প্রকাশিত এই বিপুল পরিমাণ দেনার বিষয়ে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও মোহাম্মদ রাসেল কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ দেনার পরিমাণ আরও বেশি; ‘প্রায় হাজার কোটি টাকা’ বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

তিনি জানান, রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ইভ্যালির প্রায় ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে ৩০-৩৫ কোটি টাকা আটকে আছে, যেগুলো গ্রাহকের টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির দেনার বিষয়ে রাসেল কোনও সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি উল্লেখ করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, কোম্পানিটির আরও বহু দেনার কথা জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আমাদের প্রায় হাজার কোটি টাকা দেনার কথা জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা

ইভ্যালি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটি লোকসানি কোম্পানি উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবসায়িক লাভ রাসেল করতে পারেননি। গ্রাহকের অর্থ দিয়েই তিনি তার যাবতীয় ব্যয়, বেতন, নিজস্ব খরচ নির্বাহ করতেন। ক্রমে ক্রমে তার দেনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন পদাধিকারবলে ইভ্যালি থেকে মাসে ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিতেন বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। এছাড়া তারা কোম্পানির টাকায় অডি ও রেঞ্জ রোভার দুটি দামি গাড়ি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল ইভ্যালির

দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল ইভ্যালির

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:১৯

অস্বাভাবিক সব অফার দিয়ে দেশে ‘ভেলকি’ সৃষ্টি করেছিল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। আর এর ফলে দায় বেড়ে খাদের কিনারায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্ডার করে ঠিক সময় পণ্য না পেয়ে মামলাও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক। গ্রেফতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিও) মোহাম্মদ রাসেল বলছেন, প্রথমত তিনি একটি ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তি সময়ে কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা দেশের বড় কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তার।

আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল তার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে এমন তথ্য র‌্যাবকে জানিয়েছেন বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মোহাম্মদ রাসেল ‘জেনে-শুনেই’ এই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন।

এছাড়াও ইভ্যালিকে শেয়ার মার্কেটেও অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা ছিল মোহাম্মদ রাসেলের। খন্দকার আল মঈন জানান, প্রতিষ্ঠানটির বয়স তিন বছর অতিবাহিত হলে তিনি শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতেন- এমনটাই প্রচেষ্টা ছিল তার। সম্প্রতি ইভ্যালি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে প্রায়শই ফেসবুক লাইভে এসে গ্রাহকের কাছে সময় চাইতেন মোহাম্মদ রাসেল। এটা তার সময়ক্ষেপণের একটা ‘অপকৌশল’ ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

‘ব্যবসায়িক অপকৌশল’ হিসেবে নতুন গ্রাহকদের উপর দায় চাপিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের আংশিক অর্থ ফেরত অথবা পণ্য ফেরত দিতেন উল্লেখ করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তার এই দায় ট্রান্সফারের দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি নেটওয়ার্কে যতো গ্রাহক তৈরি হয় লাইবেলিটিজ বাড়তে থাকে।’

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, রাসেল ২০০৭ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। ২০১১ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি শুরু করেন। প্রায় ৬ বছর চাকরির পর ২০১৭ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রায় এক বছর শিশুদের ব্যবহার্য একটি আইটেম নিয়ে ব্যবসা করেন এবং পরে তিনি ওই ব্যবসা বিক্রি করে দেন। ২০১৮ সালে আগের ব্যবসালব্ধ অর্থ দিয়ে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়। কোম্পানিতে তিনি সিইও এবং তার স্ত্রী চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আরও বলেন, ইভ্যালির অবকাঠামো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভাড়াকৃত স্পেসে ধানমন্ডিতে প্রধান কার্যালয় এবং কাস্টমার কেয়ার স্থাপিত হয়। একইভাবে ভাড়াকৃত স্থান আমিন বাজার ও সাভারে তাদের ওয়্যার হাউজ চালু করা হয়। কোম্পানিতে শুরুর দিকে প্রায় দুই হাজার স্টাফ ছিল। সেই সঙ্গে প্রায় ১৭০০ অস্থায়ী কর্মচারীও ছিল। যা বর্তমানে ১৩০০ জন স্টাফ এবং প্রায় ৫০০ জন অস্থায়ী কর্মচারীতে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রথমদিকে কর্মচারীদের মাসিক বেতন বাবদ ইভ্যালির খরচ হতো প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি, যা বর্তমানে দেড় কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। গত জুন থেকে অনেকের বেতন দিতে সক্ষম হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন:
জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল 
ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
ইভ্যালির রাসেলের বাসায় র‍্যাবের অভিযান

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন ইভ্যালির রাসেল

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৩

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিও) মোহাম্মদ রাসেল জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আজ শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ব্যবসা বাড়াতে তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আইটেম নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি তার এই ইভ্যালির মাধ্যমে মোবাইল সেট, টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোটরবাইক এমনকি গাড়িও বিক্রি করেছেন। মূল্যছাড়ের অফারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল আকারের লাইবেলিটিজ তৈরি হয়।

‘ব্যবসায়িক অপকৌশল’ হিসেবে নতুন গ্রাহকদের উপর দায় চাপিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের আংশিক অর্থ ফেরত অথবা পণ্য ফেরত দিতেন উল্লেখ করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তার এই দায় ট্রান্সফারের দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি নেটওয়ার্কে যতো গ্রাহক তৈরি হয় লাইবেলিটিজ বাড়তে থাকে।’ 

গ্রেফতারকৃত রাসেল ‘জেনে-শুনেই নেতিবাচক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছেন’ বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বিদেশি একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে লোভনীয় অফারের আলোকে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু করে।

/আরটি/ইউএস/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

ইভ্যালি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল রাসেলের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু, দিনে ৩০০ রোগী

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অপরাধ দমনে ডিএমপি’র শ্রেষ্ঠ যারা

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

অস্থায়ী গেট কিপারদের চাকরি রাজস্বকরণের দাবি

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে একজন নিহত

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

স্কুল গেটে অভিভাবকদের জটলা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা!

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বিতর্কিতরাও

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বিতর্কিতরাও

৭ প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব বসাতে অনুমোদন

৭ প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব বসাতে অনুমোদন

সেজান জুস কারাখানায় অগ্নিকাণ্ড, এখনও মর্গে অজ্ঞাত ৭ মরদেহ

সেজান জুস কারাখানায় অগ্নিকাণ্ড, এখনও মর্গে অজ্ঞাত ৭ মরদেহ

বোমা বানাতে গিয়ে আহত শফিকুলের মৃত্যু

বোমা বানাতে গিয়ে আহত শফিকুলের মৃত্যু

পীর সিন্ডিকেটের মামলা থেকে মুক্তি চেয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

পীর সিন্ডিকেটের মামলা থেকে মুক্তি চেয়ে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

সর্বশেষ

ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

আমার B ও ৯
দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল ইভ্যালির

দায় মেটাতে না পারলে দেউলিয়া ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল ইভ্যালির

ব্রিটেনের রেড লিস্ট মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

ব্রিটেনের রেড লিস্ট মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

স্কুল মাঠ দখল করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ধান চাষ  

স্কুল মাঠ দখল করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ধান চাষ  

© 2021 Bangla Tribune