X
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

১৪ বছরেও থামেনি পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিল

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ১১:৫৮

ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে আবার এসেছে ১১ জুন। ২০০৭ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের সাতটি এলাকায় পাহাড় ধসে মারা যান ১২৭ জন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পার হয়েছে, তবে থামেনি পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিল। বিচ্ছিন্ন দুই-এক বছর বাদ দিয়ে প্রতিবছরই কোনও না কোনোভাবে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছে। গত ১৪ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রায় চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবু এই মৃত্যুমিছিল থামাতে প্রশাসনের চোখে পড়ার মতো কোনও উদ্যোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর বৃষ্টির আগে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। এরপর বাকি দশ মাস আড়ালে চলে যায় তাদের কার্যক্রম। নির্মম নিয়তিনির্ভর ঘটনা মনে করে প্রশাসনের নিরবতা নির্লিপ্ততায় রূপ নিয়েছে।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, অভিযান অভিযান খেলায় প্রশাসন

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘পাহাড় কাটা ও দখলে জড়িতরা চিহ্নিত হলেও কখনও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ঘুরে ঘুরে বছর এসেছে। আমলা আসে, আমলা যায়। কেউ কেউ একাধিকবারও এসেছে-গেছে। পাহাড় বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়াটি থেমে থাকেনি। দখলকারীরা তাদের অবস্থানেই বহাল আছে। উল্টো প্রতিবছর নতুন পাহাড় কেটে আরও বসতি স্থাপনের কাজ চলছে।’

পাহাড়ে হাজারো মানুষের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস জানা যায়, ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর একটি পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি পাহাড় ধসের ২৮টি কারণ উল্লেখ করে এটি প্রতিরোধে পাহাড়দুস্যদের চিহ্নিত করা, পাহাড়ে বসতি উচ্ছেদ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া, পাহাড় কাটা বন্ধ করাসহ ৩৬ দফার একটি খসড়া সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে।

পাহাড় ধস বন্ধে পরিবেশ অধিদফতরের ১২ দফা সুপারিশ

ওই ৩৬ দফা সুপারিশমালা খসড়াই থেকে গেছে জানিয়ে ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘২০০৭ সালে মর্মান্তিক পাহাড় ধসের পর একটি পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৪ বছরে এই কমিটি উল্লেখযোগ্য কোনও কাজই করেনি। ১৪ বছরে ২১টির মতো সভা করেছে। ওইসব সভায় নেওয়া কোনও সিদ্ধান্তই বাস্তবায়নে তাদের সামান্যতমও উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

১৪ বছর আগে ১১ জুন চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪২৫ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত হয়। ওই বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, শহরের কুসুমবাগ, মতিঝর্ণা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাতটি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ভোরবেলা সামান্য সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড় ধসে নারী, শিশুসহ ১২৭ জনের মৃত্যু হয়।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েও যেন লাভ নেই এরপর গত ১৪ বছরে এভাবে পাহাড় ধসে মারা গেছেন আরও অন্তত আড়াইশ’ জন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

২০১২ সালের ২৬-২৭ জুন পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে মতিঝর্ণায় দেয়াল ধসে দুই জন মারা যান। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান তিন জন, একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়।

২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ জুন রাঙামাটিসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণ হারান ১৫৮ জন। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান চার জন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ এলাকা পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বিচ্ছিন্ন দুই-এক বছর বাদ দিয়ে এভাবে প্রায় প্রতিবছরই বর্ষায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

নগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের লেজুড়বৃত্তি, তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না করাসহ সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় পাহড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধ করা যাচ্ছে না। তাদের নির্লিপ্ততার কারণে ছিন্নমূল, বানেভাসা, নদীভাঙা, জলবায়ু তাড়িত, ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষগুলো নগরীতে এসে কম টাকায় থাকতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষায় চট্টগ্রামের কোনও না কোনও এলাকায় পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এর পেছনে নগরবাসী সরকারের তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা পাহাড়গুলোর মালিক ভূমি মন্ত্রণালয়। ওইসব পাহাড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের। আর এসব এলাকায় ঘর, বাড়ি ও বস্তি নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি ও অনাপত্তি বিষয়টি দেখার দায়িত্ব গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু এই তিন মন্ত্রণালয় কখনও পাহাড়গুলোর খোঁজ খবর রাখেনি। তাদের উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মহল পাহাড় দখল করে সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে খেটে খাওয়া মানুষের কাছে ভাড়া দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক নুরুল্লাহ নুরীর মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বাড়ছে পদাধিকার বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। আসন্ন বর্ষাকে কেন্দ্র করে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে একাধিকবার কল করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

পরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড় ধস রোধে রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিন্তু এটি নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি বছর উচ্ছেদ করি। আমরা আমাদের যেটি করার সেটি সব সময় করছি। অন্যরাও যদি নিজেদের জায়গা থেকে সঠিক ভূমিকা পালন করে, তবেই কেবল এটি রোধ করা যাবে। অন্যথায় আমরা সারা বছর অভিযান চালিয়েও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রোধ করতে পারবো না।’

রাঙামাটিতে ২০১৭ সালে পাহড়ধসে সেনা সদস্যসহ অনেকের মৃত্যু হয় তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ে যদি পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকে তাহলে লোকজন অব্যশই পাহাড়ে থাকতে চাইবে। যাদের পক্ষে বাসা ভাড়া নেওয়া সম্ভব না, তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পাহাড়ে বসবাস করবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সার্ভিস লাইনগুলো সরবরাহ করে, তাদের এগুলো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এখন যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তাদের সরিয়ে নিতে একটি স্থায়ী পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর তখনই পাহাড়ে আর কেউ থাকবে না।’

এ লক্ষ্যে সিডিএ স্থায়ী পুর্নবাসনের জন্য একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সেটি বাস্তবায়ন করা হলে তখন আর কেউ পাহাড়ে বসবাস করতে পারবে না। সবাইকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

‘একাদশ নির্বাচনের মতো খেলা শুরু করলে কঠিন খেসারত দিতে হবে’

‘একাদশ নির্বাচনের মতো খেলা শুরু করলে কঠিন খেসারত দিতে হবে’

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

ববি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:১১

একটি চক্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতারণা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছেন পঞ্চগড়ের কয়েক গ্রামের মানুষ। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজার সড়কে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে সাবেক ইউপি সদস্য ফুলু মিঞা, পান ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল করিম, আলমসহ জাকির মাস্টার, তহসিলদার আব্দুল মান্নান, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অমরখানা ইউনিয়নের সোনারবান গ্রামের আফরোজা আকতার ববি, তার স্বামী মো. সফিকুল ইসলাম রিপন, মেয়ে আফসানা মিমি রিংকীসহ একটি চক্র নানা ধরনের প্রতারণার এই অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের পর মারধর, মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়, মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তারা সদর উপজেলার ভূষিভিটা এলাকার ভ্যান চালক মো. এনামুল হককে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং মারপিট করে। ৫০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। অসহায় ভ্যান চালক ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে তাকে বাড়িতে ফোন করে টাকা আনার সুযোগ দেয় প্রতারক চক্রটি। বিষয়টি এনামুলের পরিবারের লোকেরা পুলিশকে জানালে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে অমরখানা বোর্ড বাজার এলাকা থেকে মুক্তিপণের টাকাসহ পুলিশ ববিকে আটক করে এবং এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ওইদিনই ভিকটিম এনামুল বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় প্রতারক ববি, তার স্বামী সফিকুল ইসলাম রিপন ও মেয়ে মিমির বিরুদ্ধে অপহরণ, অবরুদ্ধ করে মারপিট এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ববির মেয়েকে গ্রেফতার করে। পরে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক দুজনকে জেলহাজতে পাঠান।

অমরখানা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ফুলু মিঞা বলেন, ‘আফরোজা আকতার ববি এলাকায় একজন মাদক ব্যবসায়ী। এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে আসছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে গণআবেদন করেছি। আশা করি প্রশাসন এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ‘ওই প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

বেশি লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

বেশি লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

ভ্রমণ বিলে অসঙ্গতি, কমিশনারকে সতর্ক পুলিশ সদর দফতরের

ভ্রমণ বিলে অসঙ্গতি, কমিশনারকে সতর্ক পুলিশ সদর দফতরের

৯ প্রার্থীর পাঁচজনই হারালেন জামানত

৯ প্রার্থীর পাঁচজনই হারালেন জামানত

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এহসানের রাগীবসহ ৪ ভাই

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

পিরোজপুরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় মাল্টিপারপাস কোম্পানি এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করলে বিচারক ইকবাল মাসুদ জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাগীব আহসানের অপর তিন ভাই হলেন- মাওলানা আবুল বাশার, মো. খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় রাগীব আহসান ও তার ভাইদের আদালতের নির্দেশে সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হয়েছে। রিমান্ডে আসামিদের থেকে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাদের বিরুদ্ধে করা পাঁচ প্রতারণার মামলার চারটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও  অন্যটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান মিলু জানান, তাদের বিরুদ্ধে ৯১ কোটি ১৫ লাখ ৯৩৩ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রথমে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকার মো. হেমায়েত উদ্দিন বাদী হয়ে সদর থানায় দুই কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। এরপর সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে দুই লাখ ৭৫ হাজার ২০০ এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী এলাকার মো. মনির বাদী হয়ে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২০০ এবং উপজেলার ছোটশৌলা গ্রামের আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানার তোপখানা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি রাগীব আহসান ও তার সহযোগী মো. আবুল বাশার খানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। ওই দিন বিকালে সদর উপজেলার খলিশাখালী এলাকা থেকে মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল বাশারকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মহিউদ্দীন আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

খালি হচ্ছে বরিশালের করোনা ওয়ার্ড

খালি হচ্ছে বরিশালের করোনা ওয়ার্ড

পিটুনিতে জেলের মৃত্যু, ৪ পুলিশকে আটকে রাখলো জনতা

পিটুনিতে জেলের মৃত্যু, ৪ পুলিশকে আটকে রাখলো জনতা

দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

খালি হচ্ছে বরিশালের করোনা ওয়ার্ড

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৫৬

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক্সটেনশন ভবনের ৩০০ শয্যার করোনায় ওয়ার্ড খালি হওয়ার পথে। যেখানে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ রোগী চিকিৎসা নিতেন সেখানে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৬ জন। রোগীর ভর্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে শনাক্ত ও মৃতুর হার।

১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যু ছিল শূন্যের কোটায়। সাত দিনের ব্যবধানে করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু হয়েছে আট জনের। ওই সময়ে পিসিআর ল্যাবে ৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ৩৬ রোগী। যার মধ্যে ২০ জন করোনা পজিটিভ। করোনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। সুস্থ হয়েছেন চার জন। মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে ১৯২ নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।

২০ সেপ্টেম্বর করোনা ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন একজন। ওই দিন ভর্তি ছিলেন ৩৬ জন। যার মধ্যে ২১ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ। ওই দিন ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

১৯ সেপ্টেম্বর কারও মৃত্যু হয়নি। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। ওই দিন পিসিআর ল্যাবে ৯০ নমুনা পরীক্ষায় একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

১৮ সেপ্টেম্বর করোনা ওয়ার্ডে কেউ মারা যায়নি। সুস্থ হয়েছেন দুই জন। একই দিন ১৭১ নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

১৭ সেপ্টেম্বর করোনা ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন একজন। ওই দিন ছাড়পত্র নিয়েছেন একজন। ১৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৭ জন। এর মধ্যে ২১ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ। ওই দিন সুস্থ হয়েছেন পাঁচ জন। একই দিন ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের করোনা ধরা পড়ে। শনাক্তের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

১৫ সেপ্টেম্বরও ৩৭ রোগী ভর্তি ছিলেন। ওই দিন মারা গেছেন দুই জন। এর মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। একই দিন সুস্থ হয়েছেন পাঁচ জন। ১৩৪ নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন কারণে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে। তা হলো যথাসময়ে লকডাউন বাস্তবায়ন, মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্ক ব্যবহার এবং টিকা গ্রহণ। তবে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

এ পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন সাত হাজার ১৭৩ জন। যার মধ্যে দুই হাজার ৩২৬ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ। এই সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছেন পাঁচ হাজার ৭৬০ জন। যাদের মধ্যে এক হাজার ৮৮৯ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। একই সময়ে মারা গেছেন এক হাজার ৩৭৭ জন। যার মধ্যে ৪২২ জন ছিলেন করোনা পজিটিভ।

করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেন বলেন, রোগী কম থাকায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বলার আগেই পাচ্ছি। অক্সিজেন থেকে শুরু করে ওষুধও দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যা না দেয় তা বাইর থেকে কিনতে হয়। আমার ইচ্ছা আছে, রোগী শতভাগ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ওয়ার্ড ছেড়ে যাবো না।

 

/এএম/

সম্পর্কিত

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এহসানের রাগীবসহ ৪ ভাই

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এহসানের রাগীবসহ ৪ ভাই

পিটুনিতে জেলের মৃত্যু, ৪ পুলিশকে আটকে রাখলো জনতা

পিটুনিতে জেলের মৃত্যু, ৪ পুলিশকে আটকে রাখলো জনতা

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

‘একাদশ নির্বাচনের মতো খেলা শুরু করলে কঠিন খেসারত দিতে হবে’

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৬

আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই এ ব্যবস্থা করতে হবে। যদি তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো নতুন খেলা শুরু করেন তাহলে কঠিন খেসারত দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে দলের ১৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী জেলার আহ্বায়ক কায়কোবাদ সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা ছোট হতে পারি। কিন্তু আমাদের নৈতিক শক্তি অনেক বেশি। বিএনপির নৈতিক শক্তি নেই বলেই তারা আন্দোলন-সংগ্রামে পিছিয়ে আছে। আর যারা ভাবেন, আওয়ামী লীগের পতন হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। এ যুক্তি দেখিয়ে তারাও আন্দোলন সংগ্রামে নামছেন না। এ সুযোগে ২০২৩ সালের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।’

সভায় ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, দলের আসন্ন চতুর্থ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনির উদ্দিন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় সংগঠক ইমরাদ জুলকারনাইন ইমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পরেও থাকছে অ্যান্টিবডি

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পরেও থাকছে অ্যান্টিবডি

বেশি লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৪

আগাম আলু চাষের জন্য খ্যাত উত্তরের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান কেটে মাঠের পর মাঠ সেভেন জাতের আলুসহ গ্র্যানুল্যা, সাকিতা, কারেজ ও জামপ্লাস আলু রোপণ করছেন এখানকার কৃষকরা। উঁচু সমতল জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জতিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা, মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ আলু রোপণ করছেন প্রান্তিক ও মাঝারি ধরনের চাষিরা। এ অঞ্চলে আগাম আলু রোপণকে ঘিরে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে মাঠজুড়ে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে মাঠে চলছে এখন আলু রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজ। কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আলুচাষি আকবর আলী ও রতন আলী বলেন, ‘গত বছর আগাম ধান কাটার পর দুই একর জমির আলু উত্তোলন করে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দ্বিগুণ টাকা লাভ হয়েছে। এ জন্য এবারও আরও বেশি জমিতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতের আলু রোপণ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ভালো ফলনের আশায় মনের আনন্দে আলু রোপণ করছি।’

একই এলাকার বাহাগিলী ইউনিয়নের আলুচাষি রফিকুল ইসলাম ১৫ বিঘা, সাবিনা বেগম ১০ বিঘা এবং মিলন মিয়া ১৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা বলেন, ‘যার আলু যত আগে উঠবে সেই কৃষক তত ভালো দাম পাবেন। তাই প্রতিযোগিতা করে সবাই টাকাপয়সা ব্যয় করে লাভের আশায় আগাম জাতের আলু চাষে মাঠে কাজ করছি।’

আলুচাষি রফিকুল ইসলাম জানান, এ এলাকার মাটি উঁচু এবং বালু মিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোনও ভয় থাকে না। ফলনও ভালো হয়। উৎপাদিত আলু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। অন্যান্য ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক অবদান রাখে আগাম আলু চাষ।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ উপজেলার মাটি আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযোগী। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠের পর মাঠ আগাম আলু চাষে কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করছেন কৃষক। প্রতিবছর এ এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে লাভবান হন।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কৃষি অফিস থেকে আগাম আলু চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকি। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এ বছর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এই আবহাওয়া আগাম জাতের আলু চাষের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। গত বছর জেলায় সাত হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এবার আগাম জাতের আলু চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

ববি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ববি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

এক উপ‌জেলায় ৫২৩ স্কুলছাত্রীর বি‌য়ে

করোনাকালে একজনও না খেয়ে মারা যায়নি: খাদ্যমন্ত্রী

করোনাকালে একজনও না খেয়ে মারা যায়নি: খাদ্যমন্ত্রী

ভ্রমণ বিলে অসঙ্গতি, কমিশনারকে সতর্ক পুলিশ সদর দফতরের

ভ্রমণ বিলে অসঙ্গতি, কমিশনারকে সতর্ক পুলিশ সদর দফতরের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

‘একাদশ নির্বাচনের মতো খেলা শুরু করলে কঠিন খেসারত দিতে হবে’

‘একাদশ নির্বাচনের মতো খেলা শুরু করলে কঠিন খেসারত দিতে হবে’

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে গ্রেফতার ৪

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

‘মেজর সিনহাকে মুইন্যা পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ছিল’

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

কক্সবাজারের রিসোর্টে নারী পর্যটকের মরদেহ

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পরেও থাকছে অ্যান্টিবডি

ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের ৬ মাস পরেও থাকছে অ্যান্টিবডি

একই লাইনে ২ ট্রেন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন হাজারও যাত্রী

একই লাইনে ২ ট্রেন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন হাজারও যাত্রী

এক মাস ধরে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের বর্জ্য নিচ্ছে না পৌরসভা

এক মাস ধরে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালের বর্জ্য নিচ্ছে না পৌরসভা

বাসে সন্তান জন্ম দিলেন নারী

বাসে সন্তান জন্ম দিলেন নারী

কক্সবাজারে আ.লীগ-স্বতন্ত্র সমানে সমান 

কক্সবাজারে আ.লীগ-স্বতন্ত্র সমানে সমান 

সর্বশেষ

‘কোরীয় যুদ্ধ’ বন্ধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আহ্বান দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের

‘কোরীয় যুদ্ধ’ বন্ধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আহ্বান দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের

তালেবানকে বয়কট করবেন না: জাতিসংঘে কাতারের আমির

তালেবানকে বয়কট করবেন না: জাতিসংঘে কাতারের আমির

লিঙ্গ সমতার জন্য নারী নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

লিঙ্গ সমতার জন্য নারী নেতৃবৃন্দের নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

‘তালেবানের বিরুদ্ধে দুই দশকের লড়াই বৃথা যায়নি’

‘তালেবানের বিরুদ্ধে দুই দশকের লড়াই বৃথা যায়নি’

৭১ লাখ ফাইজার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

৭১ লাখ ফাইজার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

© 2021 Bangla Tribune