X
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সিলেটের পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের বসবাস

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ০০:০১

সিলেটে দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঘর বানিয়ে বসবাস করছে প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার। এদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সম্প্রতি সিলেটে একাধিকবার ভূমিকম্প হলেও বসবাসকারীরা বসতি ছেড়ে যাননি। জেলা প্রশাসন থেকে কোনও ধরনের সতর্কতা কিংবা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। তবে দুর্ঘটনা ঘটলেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

এবার ভূমিকম্প আর বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলেও প্রশাসনের কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন কিংবা নিরাপদে সরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

টিলায় বসবাসকারীরা জানিয়েছেন, কম টাকায় জায়গা কিনে তারা ঘরবাড়ি করেছেন। টিলার নিচে বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সেখানে আছেন তারা। কারণ তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। তবে সরকার যদি স্থায়ীভাবে অন্যত্র বসবাসের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে তারা সেখানে চলে যাবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলার আখালিয়া, ব্রক্ষাণশাসন, দুসকি, টিলারগাঁও, খাদিমনগর, খাদিমপাড়া, বালুচর, টুকেরবাজার, পাঠানটুলা গুয়াবাড়ি জাহাঙ্গীরনগর, আখালিয়া বড়গুল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টিলাসহ পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে ঘর বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এর মধ্যে কেউ ঘর ভাড়া নিয়েছে, আবার কেউ নামমাত্র টাকা দিয়ে দখলদারদের কাছ থেকে জায়গা কিনেছে। বসবাসকারীদের মধ্যে নিম্নআয়ের লোকজনই বেশি।

যাওয়ার জায়গা নেই, তাই ঝুঁকি নিয়েই বসবাস আখালিয়া বড়গুল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টিলায় বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. পাশা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই টিলায় আমরা অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা বসবাস করে আসছি। অনেক কষ্ট করে ঘরবাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকছি। আমাদের যাওয়ার কোনও জায়গা নেই।

সিলেট শহরতলীর মংলিরপাড় এলাকায় টিলার পাদদেশে বসবাসকারী শাহীন আহমদ বলেন, ভাড়া কম হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সত্ত্বেও এখানে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে টিলা ধসের আতঙ্ক দেখা দেয়। ভূমিকম্পের কারণে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।  আগামী মাসে বাসা বদলে অন্যত্র চলে যাবো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আখতার বলেন, টিলা আর পাহাড় খেকোরা ধ্বংস করে ফেলেছে পরিবেশ। যার জন্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবেশ ও প্রকৃতি। টিলা ও পাহাড়ের যথাযথ হিসাব কারও কাছে নেই। এগুলোর সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। এসবের খবর রাখা যাদের দায়িত্ব, তারাই দায় এড়িয়ে যান। মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য বেলা এর আগে আদালতে একটি রিট করেছিলো। সিলেটের ছয় উপজেলাসহ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০১১ সালের একটি রিটে এক হাজার ২৫টি টিলা ছিলো বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আদালতে রিটের পর দেখা যায়; সিলেটের অধিকাংশ জায়গায় টিলা নেই। বর্তমানে সিলেটে কতটি টিলা আছে, তা ডাটা করে রাখার দাবি জানাই। অন্যথায় কয়েকদিন পর সিলেটে কয়টি টিলা ছিলো আর কয়টি নেই- সে হিসাব মিলবে না। টিলাকে সাধারণত বলা হয় মাটির পেরেক। ভূমিকম্পের ক্ষতির প্রভাব ফেলার আগেই মাটির অবস্থান বোঝার জন্য ধ্বংস হওয়া টিলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা খুবই জরুরি।

সিলেট পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, টিলা কিংবা পাহাড় কাটার অপরাধে পরিবেশ অধিদফতর সবসময় অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জরিমানা ও মামলা করে যাচ্ছে। এমনকি তথ্য অফিসের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ টিলা কিংবা পাহাড়ের নিচে যাতে কেউ বসবাস না করে, সে কাজও চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। পরিবেশ অধিদফতরের যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে; সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে টিলার পাদদেশে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন বলে জানালেন দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা। তাদের ভাষ্য, আমরা গরিব মানুষ। কোথায় যাবো? জানি বেশি বৃষ্টি কিংবা ভূমিকম্পে টিলা ধসার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার জায়গা নেই। এজন্য মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছি।

. সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই আল হাদী জানান, তারা জরিপ করে দেখেছেন সিলেট বিভাগে টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার লোক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে। সেই সঙ্গে যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, তাদেরও সচেতন হতে হবে। না হলে প্রাণহানির শঙ্কা থাকবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের টিলার পাশের একটি দেয়াল ধসে এক পরিবারের তিনজন, জৈন্তাপুরে পাহাড় ধসে দুই শিশু, ২০০২ সালে শাহী ঈদগাহ এলাকায় চারজন, গোলাপগঞ্জে ২০০৫ সালে টিলা ধসে এক পরিবারের তিনজন, ২০০৯ সালে জেরিন চা বাগানে পাহাড় ধসে তিনজন, একই বছরের ১০ অক্টোবর গোলাপগঞ্জের কানিশাইলে মাটি চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের ১০ জুন নগরীর হাওলাদার পাড়ায় টিলা ধসে তিনজন আহত হন। এরপরও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। 

গত ৩০ মে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার, ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, ১১টা ৩০ মিনিটে ২ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ১টা ৫৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে ৪ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই দিন একটি ভবন হেলেও পড়েছিলা। কয়েক দফায় ঝাঁকুনিতে সিলেট শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে উঁচু ভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। সেদিন কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।



/এএম/

সম্পর্কিত

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টা মামলার ১৬ আসামি রিমান্ডে 

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১৬

চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টার ঘটনায় আরও ১৬ জনকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৬ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আমরা সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন, মাসুদ পারভেজ, মো. হুমায়ুন, জাবেদুল ইসলাম, ইফতেখার উদ্দিন, তৌহিদুল আলম, খালিদ বিন ওয়ালিদ, সৈয়দ মঈন উদ্দিন, মো. রাসেল, ওমর ফারুক, নুরুল ইসলাম, মো. সোহাগ, আইয়ুব আলী, আমির হোসেন ও খোরশেদ আলম।

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে জুমার নামাজের পর একটি মিছিল থেকে ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গেটে হামলা হয়। হলের গেটের ব্যানার ও কাপড় ছেঁড়ার পাশাপাশি ওই দিন মিছিল সহকারে আসা যুবকরা মণ্ডপে ঢিল ছোড়ে। পরে এ ঘটনায় ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। এসআই আকাশ মাহমুদ ফরিদ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও অন্তত ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ইতোমধ্যে ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে প্রথম দফায় শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সাত জনকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এই সাত আসামি বাংলাদেশ যুব পরিষদের মহানগর শাখার বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শনিবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিমান্ডে নেওয়া সাত আসামি হলেন- যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. নাছির, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, বায়েজিদ থানার আহ্বায়ক মো. রাসেল, কর্মী ইয়াসিন আরাফাত, হাবিবুল্লাহ মিজান, ইমন ও ইমরান হোসেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

নোয়াখালীতে হামলা: বিএনপি-জামায়াত নেতাসহ গ্রেফতার ১১

নোয়াখালীতে হামলা: বিএনপি-জামায়াত নেতাসহ গ্রেফতার ১১

অপহরণের ৫ মাসেও খোঁজ মেলেনি নুর উদ্দিনের

অপহরণের ৫ মাসেও খোঁজ মেলেনি নুর উদ্দিনের

৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন

৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন

হাজীগঞ্জে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫৪

হাজীগঞ্জে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫৪

অবৈধভাবে ভারত থেকে প্রবেশকালে বাংলাদেশি আটক

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১১

দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধপথে ভারত থেকে দেশে অনুপ্রবেশকালে শ্রী নেপাল চন্দ্র সরকার (৩৩) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে হিলি সীমান্তের ২৮৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭ নম্বর সাবপিলার সংলগ্ন বালুরচড় নামক এলাকা থেকে তাকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি পার্বতীপুর উপজেলার তেরআনিয়া গ্রামের শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকারের ছেলে।

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হিলি সীমান্তের বালুরচড় নামক এলাকা দিয়ে প্রাচীর টপকে অনুপ্রবেশ করেন নেপাল চন্দ্র। এ সময় কর্তব্যরত বিজিবি সদস্য তাকে আটক করেন। 

তিনি চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। এরপর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে মামলা করে  হাকিমপুর থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পীরগঞ্জে হামলা: আরও ২ জন গ্রেফতার, রিমান্ডে ১৩

পীরগঞ্জে হামলা: আরও ২ জন গ্রেফতার, রিমান্ডে ১৩

অপহরণের নামে ৮ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে কারাগারে বৃদ্ধ

অপহরণের নামে ৮ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে কারাগারে বৃদ্ধ

নিম-মেহগনি বীজের তেলে মরছে ফসলের ক্ষতিকর পোকা

নিম-মেহগনি বীজের তেলে মরছে ফসলের ক্ষতিকর পোকা

১০ বছর যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলেছেন রাজাকার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫৫

দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ির রায়ের বাজার এলাকার তারা মিয়াকে স্থানীয়রা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই জানতেন। পেতেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা। সারাক্ষণই বসে থাকতেন হুইল চেয়ারে। তবে হঠাৎ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি গ্রেফতার হওয়ায় অবাক এলাকাবাসী। যেন বহুদিন পর তাদের ঘোর ভেঙেছে। জেনেছেন নতুন সত্য।

জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার তারা মিয়া গত ১০ বছর ধরে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এর মধ্যে গত পাঁচ বছর ধরে ৩০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা উত্তোলন করছেন। এর আগে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছিলেন। এ ১০ বছরে তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা হিসেবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। ১০ বছর আগে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহ নেওয়াজের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়ার (মুক্তিযুদ্ধ নাম্বার ৯৭৯৩) নাম ব্যবহার করে গ্রেফতার শমসের আলীর পুত্র তারা মিয়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতারণা করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে এই ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে গ্রেফতার তারা মিয়ার প্রতারণা ফাঁস হয়ে যায়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রঞ্জন ঘোষ রানা। 

রায়ের বাজার এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘তাকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই জানতাম। সারাক্ষণ হুইলচেয়ারে বসে থাকতেন। সব সরকারি অনুষ্ঠানেই তাকে ডেকে সম্মান দেওয়া হয়েছে। এখন গ্রেফতার হওয়ার পর মানুষ অবাক। কীভাবে একজন যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখালেন, আর কীভাবেই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন, এটা স্থানীয়দের প্রশ্ন।’

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক কলিম উদ্দিনের অভিযোগ, তারা মিয়া শুধু মানুষকে না, প্রশাসন এবং সরকারকে ধোঁকা দিয়েছে। এরকম তারা মিয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আরও আছে কি-না তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এ ধরনের প্রতারককে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘তারা মিয়া পাশের উপজেলা গৌরীপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। তার ভারতীয় প্রামাণ্য দলিল নম্বর ৯৭৯৩। লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০১১৫১১০২৪৩। তিনি যুদ্ধ না করেও প্রতারণার মাধ্যমে গৌরীপুরে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম উঠিয়েছেন। গৌরীপুরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা সহায়তা করেছেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বারবার কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা  সংসদে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরষের মধ্যে ভূত থাকলে, সেই ভূত তাড়ানো কখনও সম্ভব না।’

গৌরীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার ও পৌর মেয়র আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘গ্রেফতার তারা মিয়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নিজে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন এবং ভাতা নিয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ঈশ্বরগঞ্জের পৈতৃক বাড়িতে না থেকে নানার বাড়ি গৌরীপুরে থাকতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধোঁকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সেজেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না। তারা মিয়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর দোসর ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থেকে অনেক পাপ করেছেন। দীর্ঘদিন পর হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় তারা মিয়া গ্রেফতার হয়েছেন। এটাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে এ ধরনের তারা মিয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অনেক আছে। এদেরকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।’

তবে তারা মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের দাবি, তার স্বামী গৌরীপুরে নানার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ করার সময় গুলিতে আহত হয়েছেন বলেই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পাচ্ছেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি শুনে আসছেন, তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার স্বামী কখনও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত এ ধরনের তথ্য তার কাছে নেই।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল কাদের জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সেটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত তারা মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

এক জেলায় ১০ মাসে সড়কে ঝরলো ১৩৬ প্রাণ

এক জেলায় ১০ মাসে সড়কে ঝরলো ১৩৬ প্রাণ

নৌকার জনসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

নৌকার জনসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনা উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে করোনা উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

পীরগঞ্জে হামলা: আরও ২ জন গ্রেফতার, রিমান্ডে ১৩

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫৪

রংপুরের পীরগজ্ঞের মাঝিপাড়ায় হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থেকে ছাত্রশিবির নেতা মামুন মণ্ডলসহ আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ১৩ আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, আসামি মামুনকে তদন্তে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজন হচ্ছেন ওমর ফারুখ সনেট। তাদের দুজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর এলাকায়। সোমবার বিকালে তাদের রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা ১৩ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালতে। রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে এলাহী খান রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট সিএসআই শহিদুল ইসলাম।

পীরগঞ্জ থানার ওসি জানান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রশিবিরের নেতা মামুন মণ্ডল ও ওমর ফারুখ সনেট পীরগঞ্জে মাঝিপাড়ার ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

অবৈধভাবে ভারত থেকে প্রবেশকালে বাংলাদেশি আটক

অবৈধভাবে ভারত থেকে প্রবেশকালে বাংলাদেশি আটক

অপহরণের নামে ৮ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে কারাগারে বৃদ্ধ

অপহরণের নামে ৮ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে কারাগারে বৃদ্ধ

নিম-মেহগনি বীজের তেলে মরছে ফসলের ক্ষতিকর পোকা

নিম-মেহগনি বীজের তেলে মরছে ফসলের ক্ষতিকর পোকা

আমদানি কমায় বাড়লো পেঁয়াজের দাম  

আমদানি কমায় বাড়লো পেঁয়াজের দাম  

ফতুল্লায় স্টিল মিলে বিস্ফোরণ, ৫ শ্রমিক দগ্ধ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫৩

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর এলাকায় একটি স্টিল মিলে বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিএইচআরএম নামে কারখানাটিতে এই ঘটনা ঘটে। 

দগ্ধরা হলেন—সোহেল রানা (৩৬), লিটন (৩৫), আরিফ (২৭), বিল্লাল হোসেন (৩৫) ও মোহাম্মদ আলী (২৬)। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
 
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইয়ুব হোসাইন জানান, ফতুল্লার একটি স্টিল মিল থেকে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়ে এসেছেন। তাদের শরীরের ১১ থেকে ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দগ্ধদের হাসপাতালে নেওয়া কারখানার কেমিস্ট মো. আশিক বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পানির পাইপলাইন বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হন। দ্রুত উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কারখানা থেকে ঘটনা সম্পর্কে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে বিস্ফোরণের খবর শুনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ওই কারখানায় ফায়ার সার্ভিসের ফতুল্লা ইউনিট পাঠানো হয়েছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা সন্তোষজনক: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা সন্তোষজনক: ব্রিটিশ হাইকমিশনার

প্রাইভেটকার চালক হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রাইভেটকার চালক হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ১

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ১

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

সাম্প্রদায়িক হামলায় আ.লীগ-ছাত্রলীগ জড়িত: মির্জা ফখরুল

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

সিলেট সফরে বিএনপির মহাসচিব

সিলেট সফরে বিএনপির মহাসচিব

ইউপি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক খুন

ইউপি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক খুন

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

সর্বশেষ

৫ জেলায় ৫ জনের মৃত্যু

৫ জেলায় ৫ জনের মৃত্যু

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পদযাত্রা

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে পদযাত্রা

শিশুশ্রম নিরসনে ১১২ এনজিও’র সঙ্গে চুক্তি কাল

শিশুশ্রম নিরসনে ১১২ এনজিও’র সঙ্গে চুক্তি কাল

বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ

বিদ্যুৎ সম্পর্কিত সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

© 2021 Bangla Tribune