X
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

লকডাউন দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না ১২ জেলার করোনার ঊর্ধ্বগতি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২০:১৮

দেশের বিভিন্ন জেলায় লকডাউন দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যু। অন্যান্য জেলার তুলনায় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এবং আশপাশের জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ অপেক্ষাকৃত বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন মেনে চলার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া নমুনা পরীক্ষা, রোগী শনাক্ত এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বরোপ করা হয়েছে। তবে বাংলা ট্রিবিউনের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা যায়, এখন পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোতে শতভাগ লকডাউন বা বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। যে কারণে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ সামাজিক সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।  

রাজশাহী
করোনায় রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় চলছে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন। এই লকডাউনের মধ্যে টানা দুই দিন কমার পর ফের বেড়েছে সংক্রমণ। লকডাউনের পঞ্চম দিন মঙ্গলবার (১৫ জুন) নগরীতে যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবে মার্কেট-দোকানপাট ছিল বন্ধ।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের চার দিনের তুলনায় শহরে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চলাচল বেশি। মঙ্গলবার ও ষষ্ঠ দিন বুধবার (১৬ জুন) সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী শহরে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনেও বিঘ্ন ঘটেছে। এই সুযোগে নগরীতে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে, সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বেশি দেখা গেছে। অবশ্য লকডাউনের কয়েকদিনে সন্ধ্যার পর শহর সুনসান নীরব হয়ে যাচ্ছে।

লকডাউন রাজশাহী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, কয়েকদিন ধরে গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা প্রচুর রোগী পাচ্ছি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি গ্রামের। ফলে বর্তমানে গ্রামেও ব্যাপকহারে সংক্রমণ হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। যা আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও শুধু বয়স্কদের মধ্যে বেশি ছড়াচ্ছে তা নয়; এখন অনেক তরুণ রোগীও হাসপাতালে আসছে। অবস্থার উন্নতির জন্য স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার বিকল্প নেই।

তবে বিধিনিষেধ মেনে চলা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক। তিনি বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশ, র্যাব, আনসারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে আছে। বিনা কারণে বাড়ির বাইরে বের হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়াও বুধবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে লকডাউন শহরের বাইরে দেওয়া হবে কিনা।

খুলনা
করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ১৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় খুলনা জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। বিধিনিষেধ সফল করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গত ১০ দিনে ৩০০ মামলায় ৩১৪ জনকে পাঁচ লাখ চার হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (মিডিয়া) দেবাশীষ বসাক বলেন, খুলনায় হঠাৎ করোনা সংক্রমণ হার অনেক বেড়ে গেছে। অথচ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অনেক উৎসুক জনতা জনসমাগম ও চলাফেরা করছে। জনগণের একটি বড় অংশের মুখে মাস্ক নেই। একই রিকশায় তিন জন উঠছেন। অনেকে মাস্ক পকেটে রেখে অসচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন। এসব কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুন থেকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানের গত ১০ দিন ধারাবাহিকভাবে রূপসা. ডাকবাংলা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পরিস্থিতি তদারকি করা হয়। এ সময় ৩০০ জনের নামে ৩১৪টি মামলা হয়। মোট ৫ লাখ ৪ হাজার ৮৯৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা রোগী আসা কমছে না গত ৪ জুন প্রথম দফায় করোনা সংক্রমণের আধিক্য বিবেচনায় রূপসা উপজেলা, খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা এবং খালিশপুর থানায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল ১১ জুন পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১ জুন জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ফের বৈঠক করে ১৩ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান পাট খোলা রাখার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।    

সাতক্ষীরা
করোনা সংক্রমণরোধে জেলায় চলছে লকডাউন। বিধিনিষেধ মেনে চলার সরকারি নির্দেশনার ১২তম দিনে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে প্রশাসনকে। বুধবার (১৬ জুন) সকাল থেকে পুলিশ সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড বসিয়ে বিনা কারণে চলাচলরত মানুষ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে। অপ্রয়োজনে বের হলে তাদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে উপজেলাগুলোতে প্রশাসন মাঠে নামলেই পালানোর চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষ। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে, অবাধে ঘোরাফেরা করএছন স্থানীয়রা। যেন সংক্রমণের বিষয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। বিধিনিষেধ মানতে এ উদাসীনতা অনেক বেশি ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনে ঘরে বাইরে আসা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি, সড়কে পুলিশ ও মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে ও সাধারণ মানুষকে ঘরে ফেরাতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনসমাগম না করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করা ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার বিষয়ে সচেতন করছে পুলিশ।

সাতক্ষীরায় লকডাউনের চিত্র জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের শুরু থেকে ১১১টি অভিযান পরিচালনা করেন  ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ৫৬৭টি মামলায় পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়া
সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সোমবার ২৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্তের হার ৪১ শতাংশ।

জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৪৫ জন। এ পর্যন্ত করোনায় ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, পৌরসভা এলাকায় চলমান সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধের বুধবার ছিল পঞ্চম দিন। তবে বিধিনিষেধ চলছে ঢিমেতালে। দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ থাকলেও পৌর এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড় ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা মাস্কও পরে না অধিকাংশ মানুষ। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা করোনার সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নেবে।

নোয়াখালী
নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৩৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় এ ফলাফল পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এতে জেলায় রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯১১ জন। আক্রান্তের হার ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জেলায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১২৭ জন। মৃত্যুর হার ১দশমিক ২৮ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৪৭ জন সদর উপজেলার, ১১ জন বেগমগঞ্জের, সাতজন সোনাইমুড়ীর, পাঁচজন কোম্পানীগঞ্জের, দুজন চাটখিলের, দুজন কবিরহাটের ও একজন সুবর্ণচরের। এছাড়া মোট সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার ১৫৯ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ২৩ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও নোয়াখালী পৌরসভায় চলমান লকডাউনের সময়সীমা প্রথম ধাপে ৫ জুন থেকে ১১ জুন এবং সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় তা ১৮ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যায়নি। দোকানপাটে আড্ডা দিচ্ছে মানুষজন।

দিনাজপুরে বিধিনিষেধের মধ্যেও সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহনের উপস্থিতি

নওগাঁ
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ১০ জুন থেকে বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। চা স্টল বাদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এসব দোকানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একে-অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া রাস্তার ধারে এবং বিভিন্ন পাড়ার দোকানেও একই অবস্থা। তবে অপ্রেয়াজনে ঘরে বাইরে না থাকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, মানুষ সচেতন না হলে বিধিনিষেধ যতই আরোপ করা হোক না কেন, কাজে আসবে না। মানুষের উদাসীনতার কারণে আমাদের সবাইকে মূল্য দিতে হবে। বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সাময়িক একটু কষ্ট হলেও জীবন রক্ষা পাবে, এই বোধ থেকে আমাদের সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি আরও বলেন, নওগাঁয় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ১৩ মে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) পর্যন্ত তিন হাজার ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে করোনা সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জেলার পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ড ও বাজারে এক সপ্তাহের জন্য জনসমাগম ও অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের (রেসট্রিকটেড মোড) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) বিকালে জেলা করোনা সংক্রান্ত কমিটির ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আমরা ম্যাপিংয়ের কাজ করেছি। জেলার কোন অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা বেশি সেটা নির্ণয় করে আমরা আপাতত পৌর এলাকার ২, ৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে জনসমাগম ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই এলাকাতে সংক্রমণ বেশি। এই এলাকায় আমরা কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকাল ৫টা থেকে পরবর্তী সাত দিন এই বিধিনিষেধ চলবে। এরপরও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হলে আমরা কঠোর লকডাউনে চলে যাবো।’

মাগুরায় বিধিনিষেধের মধ্যেও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মাগুরা
করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার সকাল থেকে মাগুরা শহর ও মহম্মদপুর উপজেলা সদরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এছাড়া পৌর এলাকার ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তবে লকডাউনে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করলেও বেশিরভাগ সড়কেই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে।

সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, জেলায় শনাক্তের সংখ্যা তেরশ’ ছাড়িয়েছে, আর মারা গেছেন ২৪ জন। সব মিলিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের হার শতকরা ৪২ ভাগ। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাগুরা শহর ও মহম্মদপুর উপজেলা সদরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এছাড়া পৌর এলাকার ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম বলেন, লকডাউন কার্যকর, রেড জোনে জনসাধারণের যাতায়াত সীমিত করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশেষ করে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন।

দিনাজপুর
সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ঠেকাতে দিনাজপুর সদর উপজেলায় লকডাউন চললেও করোনা শনাক্ত বেড়েছে তিনগুণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুর সদরে ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। গতকালও এই সংখ্যা ছিল ১৯ জন। এ অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.২৬ শতাংশে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জন। জেলায় মোট শনাক্তের হার ৩৮.৯৭ শতাংশ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১৪টি। যার মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ৬৩ জন। সদর উপজেলায় শনাক্তের হার ৫৫.২৬ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত দিনাজপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৪৪৩ জন। যার মধ্যে সদরেই তিন হাজার ৬৮৪ জন। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৫৭.১৮ শতাংশই দিনাজপুর সদরের। মৃত্যুবরণকারী ১৪৪ জনের মধ্যে ৭১ জনই সদরের। বর্তমানে দিনাজপুরে মোট রোগী রয়েছেন ৬০৪ জন। সদরের রয়েছেন ৪১১ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮৪ জন।

দিনাজপুরের হাট-বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও বালাই নেই এদিকে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুর সদর উপজেলায় চলছে লকডাউন। তবে লকডাউনের বিধিনিষেধগুলো অনেকটাই উপেক্ষিত। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এই লকডাউন শুরু হয়েছে, চলবে ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত। তবে লকডাউনের প্রভাব তেমন পড়েনি। শহরের মধ্যে ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এমনকি ভারী যানবাহন চলাচলও লক্ষ্য করা গেছে। লকডাউনের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকার ঘোষণা থাকলেও অনেকেই দোকান খুলেছেন। দিনাজপুর চুড়িপট্টি, বড়বন্দর, বটতলী, কালিতলা, মালদহপট্টি, কালিতলা, হাসপাতাল মোড়, বুটিবাবুর মোড়, জেলরোড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। লকডাউনের মধ্যেই মাস্ক ছাড়াই অনেককেই অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার কোনও বালাই ছিল না। এদিকে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মাঠে নেমে সহযোগিতার কথা থাকলেও তেমনটা দেখা যায়নি।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বপালন করছেন। তবে শহর ও সদরের প্রবেশপথগুলো লকডাউন করা উচিত। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চান তিনি।

যশোর
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে যশোরে দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে, ৫ জুন করোনা কমিটির সভায় যশোর পৌরসভার দুটি ও নওয়াপড়া পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডে সরকারি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর গত ৮ জুন ওই দুটি পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জুন রাত
১২টা থেকে ২৩ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত যশোর সদর, পৌর এলাকা, চাঁচড়া, উপশহর, আরবপুর ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন, ঝিকরগাছা উপজেলার ঝিকরগাছা পৌর এলাকা, শার্শা উপজেলার শার্শা ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর এলাকার বেনাপোল বাজার এবং অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে, হাইওয়ে রোডে আন্তঃজেলা গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক চলাচল করতে পারবে। এদিকে গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

হিলির হাট-বাজারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত নাটোর
করোনা সংক্রমণরোধে দেওয়া লকডাউনে সাধারণ মানুষের মুখে উঠেছে মাস্ক। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সদর ও সিংড়া পৌর এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্রথম দফায় ৯ জুন থেকে সাত দিনের বিধিনিষেধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ। ১৫ জুন সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হওয়ার কথা। তবে ১৫ জুন বিধিনিষেধ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়। ২২ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নাটোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী লাহিড়ী বলেন, চলমান বিধিনিষেধ ঘোষণার আগে নাটোর ও সিংড়া পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষই কারণে-অকারণে বাইরে আসতেন। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকতো হাটবাজার ও মার্কেটে। এসব স্থানে আসা অনেকের মুখেই থাকতো না মাস্ক। বিধিনিষেধ ঘোষণার পর  শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট। কড়াকড়ি করা হয়েছে যান ও জন চলাচলে। মাস্ক পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নাটোর আর সিংড়া পৌর এলাকায় কমেছে অবাধ চলাচল, বৃদ্ধি পেয়েছে মাস্ক ব্যবহার।

সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও বেডের সংকট হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ২০টি বড় ও ১০টি ছোট অক্সিজেন ও সিলিন্ডার দিয়েছেন। এছাড়া সদর আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের সহযোগিতায় সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৯টি শয্যা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া র্যা পিড টেস্টের ব্যবস্থা হয়েছে। তবে সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনও বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

জামালপুর  
জামালপুরে করোনা শনাক্তের হার বাড়ায় রবিবার (১৩ জুন) রাতে জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা দেন। তবে নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলে জনসাধারণের উদাসীতা দেখা গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিং মল, ছোটবড় মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রাস্তাঘাট ও বাজারে নির্দেশনা মানার কোনও বালাই দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঢিলেঢালা সচেতনতা কার্যক্রমের কারণে সবাই গা ছাড়া ভাব নিয়ে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সুধী মহলের। এ অবস্থায় সংক্রমণ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

সিভিল সার্জন প্রণয়কান্তি দাস বলেন, এক সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় করোনা আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। জেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে পৌর এলাকায় বেশি সংক্রমণ হচ্ছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা এবং মাস্ক না পরার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

সংক্রমণ বাড়ায় জামালপুর পৌর এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন উল্লেখ করে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান।

লকডাউন বেনাপোল বিভিন্ন বন্দর এলাকার অবস্থা

মোংলা
মোংলা এলাকায় করোনার তৃতীয় দফার কঠোর থেকে অধিকতর কঠোর বিধিনিষেধ বুধবার (১৬ জুন) শেষ হচ্ছে। তবে বিগত কঠোর বিধি নিষেধে কোনও ফলাফল না পাওয়ায় আবারও কঠোর বিধি নিষেধ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, কঠোর বিধিনিষেধে তেমন একটা ফল পাওয়া যায়নি, মানুষও সচেতন হয়নি। তাই মাঠ পর্যায়ে কাজ করা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করে নতুন সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে শেষ দিনেও স্থানীয়দের ঢিলেঢালাভাবে বিধিনিষেধ মেনে চলতে দেখা গেছে। শহরজুড়ে যান ও মানুষের অবাধ চলচলে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একদিনের জন্যও তা বন্ধ থাকেনি। এমন পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে উদাসীনতার ফল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে বুধবার সকালে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদারকে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

লকডাউন দিয়েও উপজেলায় সংক্রমণ ও শনাক্তের হার কমেনি। গত ২৪ ঘন্টায় মোংলায় ৫৮ জনের মধ্যে ৩৩ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে শনাক্তের হার প্রায় ৫৭ ভাগ বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস। সচেতনতার অভাব ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা সংক্রমণ বাড়ার মূল কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লকডাউনেও স্বাভাবিক মোংলার জনজীবন হিলি
সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে সংক্রমণ বাড়ায় কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলার দ্বিতীয় দিন চলছে। তবে বিধিনিষেধ জারির পরেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। বাজারে অনেকেই মাস্ক ছাড়া ঘুরছেন, অবাধে চলাচল করছেন তারা। মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে উপজেলা প্রশাসন। ২২ জুন ভোর ৬টা পর্যন্ত এই কঠোর বিধিনিষেধ চলবে।
 
সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণরোধে দেওয়া বিধিনিষেধ পালনে সাধারন মানুষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মাস্ক ছাড়াই বাজারে ঘোরাফেরা করছেন তারা, দোকানগুলোতে পণ্য ক্রয় করছেন। দুই-একজন মাস্ক পরলেও তা ছিল থুঁতনির নিচে। কেউবা সাইকেলে বা ভ্যানের হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে রেখেছেন মাস্ক। এদিকে দোকানগুলোতে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও কোনও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাজারগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ প্রতিপালনে প্রশাসনের কোনও নজরদারিও দেখা যায়নি। এতে করোনার প্রকোপ কমার পরিবর্তে বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,
আমরা চেষ্টা করছি যথাসম্ভব জনসমাগম কমিয়ে আনতে। প্রথম অবস্থায় সাতদিনের জন্য এই বিধিনিষেধ আরোপ করেছি, এতে সংক্রমণ না কমলে ও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিধিনিষেধের সময় বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যশোরের বেনাপোলসহ গোটা শার্শা উপজেলায় সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) থেকে ২১ জুন পর্যন্ত তা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এই সময়ের পর শুধুমাত্র ওষুধের দোকান ও ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য কয়েকটি আবাসিক হোটেল এবং খাবার হোটেল খোলা থাকবে বলে জানান সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান ।

এছাড়া বিধিনিষেধের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা চালক ও তাদের সহকারীদের সব সময় মুখে মাস্ক এবং পিপিই ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্দরের ভেতরে এক জায়গায় বেশি লোক সমাগম করা যাবে না। এছাড়া বন্দরে চলাচলেও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি জানান, সীমান্ত জেলা যশোরের কয়েকটি উপজেলায় করোনার প্রকোপ বেড়েছে। সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে গোটা উপজেলা কঠোর-বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের শতকরা হার ৭৩ শতাংশের উপরে।

এদিকে ভারতফেরতদের বিষয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহসান হাবিব। তিনি বলেন, ভারতফেরত প্রতিটি যাত্রীর কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যাতে ছড়াতে না পারে, সেজন্য সাবধানে তাদের কোয়ারেন্টিন হোটেলে পাঠানো হয়। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ভারত থেকে পাঁচ হাজার ২৩৯ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন বলে জানান তিনি। এদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ সনদ নিয়ে ভারত থেকে ফিরেছেন ১৩ জন। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আর ছয় জনের শরীরে মিলেছে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৮-৩০ অক্টোবরের ঘটনা।)

 

১৯৭৩ সালের ২৮ অক্টোবর স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ঈদুল ফিতরের দিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাদের জনগণকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান। শত না পাওয়া ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাওয়া জাতির যে লড়াই, সেটাকে এগিয়ে নেওয়ার শপথও ছিল সেই আহ্বানে। আন্তর্জাতিক পরিসরে সেইসময় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিও তখন আলোচনায়।

১৯৭৩ সালের ঈদুল ফিতরের ছবি, দৈনিক বাংলা

জাতিসংঘের জরুরি শান্তিবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের পথে

আরব-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য জাতিসংঘ সামরিক বাহিনীর অগ্রগামী দল হিসেবে তিনটি দেশের সৈন্য জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে সাইপ্রাস থেকে পশ্চিম এশিয়ার পথে যাত্রা করে। দেশ তিনটি হল ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও সুইডেন। এর আগে নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে জাতিসংঘ জরুরি বাহিনী গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

অন্যান্যবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও অন্যান্য বৃহৎ শক্তির সৈন্য এতে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিক্সন প্রশাসন বলে, তারা পশ্চিম এশিয়ার নাজুক যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে মস্কোর নিজস্ব শান্তিরক্ষা বাহিনী প্রদানের আশঙ্কা করেছিলেন। নিরাপত্তা পরিষদে ১৪-০ ভোটে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য জরুরি বাহিনী গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

 

শেরেবাংলা বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক

দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মশতবার্ষিকী (২৯ অক্টোবর, ১৯৭৩) পালিত হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনাসভা আয়োজন হয় এদিন। তাতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কোরবান আলী। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মেহনতী মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাঙালির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

সভাপতির ভাষণে কোরবান আলী বলেন, শেরে বাংলা আনীত ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তানের কথা ছিল না। তাই তিনি পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন। কোরবান আলী শেরে বাংলার সংগ্রামমুখর জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির অনুপ্রেরণা। আগামী দিনের সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জন্য তার আদর্শই বঙ্গবন্ধু সরকার ও জনগণের পাথেয়।

আলোচনায় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, শেরে বাংলা বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বঙ্গবন্ধুর কৃষক-শ্রমিক রাজ কায়েমের মাধ্যমে বাংলার মানুষের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শেরে বাংলার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমিক রাজ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। দুঃখ-দারিদ্র্য দূর করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ছিল এই নেতার রাজনৈতিক দর্শনের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়ক শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা এ মন্তব্য করেন।

 

যুদ্ধে থামলেও আরবরা আমেরিকায় তেল দেবে না

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান বা যুদ্ধবিরতি হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান হবে না বলে তেল উৎপাদনকারী মহল জানায়। পাশ্চাত্য জগতের অন্যান্য দেশে রফতানির যৌথ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইতোমধ্যে নমনীয় মনোভাব দেখালেও আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ বন্ধের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে না বলে জানায় উৎপাদনকারী দেশগুলো।

/এফএ/

সম্পর্কিত

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

বৃহস্পতিবার থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:০৪

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ পাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সিনিয়র সচিব, সচিব এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিবদের (পিএস) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

দীর্ঘ ১৯ মাস পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) থেকে সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু হচ্ছে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের পাস ইস্যু কার্যক্রম।

করোনা মহামারি বাড়তে থাকলে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।

চিঠিতে বলা হয়, ‘অতিমারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সচিবালয়ের দৈনিক দর্শনার্থী প্রবেশ পাস স্থগিত করা হয়েছিল। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে জরুরি প্রয়োজনে সচিবালয়ে দৈনিক সীমিত আকারে দর্শনার্থী প্রবেশ পাস ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এতে জানানো হয়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীর পক্ষে তাদের একান্ত সচিবরা ১০টি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সিনিয়র সচিব এবং সচিবদের পক্ষে তাদের একান্ত সচিবরা পাঁচটি এবং অতিরিক্ত সচিবরা তিনটি করে পাস ইস্যু করতে পারবেন।

/এসআই/এমএস/

সম্পর্কিত

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের প্রস্তাব

তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের প্রস্তাব

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে হেলিকপ্টার

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে হেলিকপ্টার

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৫১

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন সৌদিগামী মো. রাসেল। দুহাতে ভারী ব্যাগ। হন্যে হয়ে খুঁজছেন একটা ট্রলি। কিন্তু পাচ্ছেন না। তার মতো অনেকেই পড়েছেন ট্রলি সংকটে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথটাও যেন মাছবাজার। স্বাস্থ্যবিধি তো দূরে থাক, সাধারণ শৃঙ্খলাও নেই। অতিমাত্রায় ভিড়ের কারণে ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনাও ঘটছে। মূলত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা টার্মিনালের ভেতরে করাতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বিমানবন্দর।

অতিরিক্ত ভিড় ও শব্দের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। অন্য রুটের যাত্রীরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। টার্মিনালের ভেতর করোনার নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা সরানো না গেলে জটিলতা আরও বাড়বে বলে শঙ্কা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শর্ত অনুযায়ী, দেশটিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে হলে ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। যে কারণে ফ্লাইটের অন্তত আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে আসতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রবেশের সময় প্রত্যেকে একটি করে ট্রলি নিয়ে প্রবেশ করছেন। কিন্তু বোর্ডিংয়ের আগ পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা সেই ট্রলি আটকে রাখতে হচ্ছে তাদের। এতে অন্য যাত্রীরা পড়ছেন ট্রলি সংকটে।

বেশি জটিলতা দেখা দেয় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতর। এ সময় অন্য গন্তব্যের যাত্রী ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী প্রায় ১২শ’ যাত্রী অবস্থান করেন। কারণ, বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস, ৬টা ১৫ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ৭টায় ফ্লাই দুবাই, ইউএস-বাংলা, সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের আরব আমিরাতগামী ৬টি ফ্লাইট রয়েছে।অন্যরা

বিরক্ত, আছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও

বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট দিয়ে উত্তর পাশে অবস্থান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীরা। ফ্লাইটের আগে ৭-৮ ঘণ্টা সেখানেই থাকতে হয় তাদের। উড়োজাহাজে ওঠার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার লাইনে দাঁড়াতে হয়। লাইন সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের হইচই তো আছেই, তাদের নির্দেশনা দিতে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করায় হচ্ছে শব্দদূষণও। এতে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন এয়ারলাইন্সের কর্মী ও অন্য যাত্রীরা। শব্দদূষণের কারণে তাদের এক কথা গলা চড়িয়ে দু-তিনবার করেও বলতে হচ্ছে।

এদিকে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করা হলেও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ফেলা আবর্জনায় নোংরাও হচ্ছে বিমানবন্দর।

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব এয়ারলাইনের ফ্লাইটে সপ্তাহে ১৮-২০ হাজার যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন। আরও ছয়-সাতটি এয়ারলাইন্স আমিরাতগামী যাত্রী পরিবহন করছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের ফি দেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় আরব আমিরাতগামী ৩১ যাত্রীর পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়।

  আমিরাতগামী যাত্রীদের ১০ বারও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে

সমাধান কী?

নমুনা সংগ্রহে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১০টি বুথ আছে। পরীক্ষা হয় নিচতলার ল্যাবে। ৬টি প্রতিষ্ঠানের ২টি করে মোট ১২টি আরটি পিসিআর মেশিন আছে। একটি মেশিনে একসঙ্গে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। এতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। যে কারণে করোনা পরীক্ষাসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় সাত ঘণ্টা লেগে যায় আমিরাতের যাত্রীদের।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রায় তিন মাস বাংলাদেশের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা ছিল আরব আমিরাতের। ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে দেশটি। শর্ত দেওয়া হয়—ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে র‌্যাপিড পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। তখন বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জায়গা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের পার্কিং ভবনের ছাদে ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব করলে সংশ্লিষ্ট ল্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আপত্তির মুখে তা হয়নি। পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভেতর জায়গা নির্ধারণ করে দেন। যদিও তখন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করা হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরটি ছোট। স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেশি থাকে। আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা বিমানবন্দরের ভেতরে হওয়ায় চাপ বেড়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য শুরু থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব ছিল বেবিচকের। সমস্যাগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পার্কিং ভবনের দ্বিতীয় তলায় যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহ ও বসার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেটা হলে এ সমস্যা দূর হবে।’

/এফএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের প্রস্তাব

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪২

সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণ চায় সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি প্রস্তাবে একমত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ করেছে বলে বুধবার (২৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে।

জানা গেছে, কমিটি তার আগের বৈঠকে এই সুপারিশ করে। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রগতি বুধবারের বৈঠককে অবহিত করা হয়। এতে বলা হয়, সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়, বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পেলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কমিটি তার আগের বৈঠকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালকে (সিএমএইচ) ২০২২ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানেরও সুপারিশ করে। ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালনসহ চিকিৎসা সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-কে ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদানের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

এর অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয় কমিটিতে জানিয়েছে, স্বাধীনতা পদকের জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নাম প্রস্তাবের বিষয়টি সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস পরিদফতরে (ডিজিএমএস) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিজিএমএস থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

এছাড়া কমিটি আগের বৈঠকে ড্রোন এবং কাউন্টার ড্রোন পরিচালনার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলে। এছাড়া ডিজিএফআইসহ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সমন্বয় করার সুপারিশ করে।

বুধবারের বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে পটুয়াখালীতে বাস্তবায়নাধীন শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। এর নবনির্মিত ভবনগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, সৌরকোষ, বর্জ্য নিষ্কাশনের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ব্যবহার করে চারপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সেনানিবাসকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য কমিটি থেকে সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া সংসদীয় কমিটিকে পটুয়াখালীতে বাস্তবায়নাধীন শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মো. মোতাহার হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন ও বেগম নাহিদ ইজাহার খান অংশগ্রহণ করেন।

/ইএইচএস/এমএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

বৃহস্পতিবার থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সিদ্ধান্ত

বৃহস্পতিবার থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সিদ্ধান্ত

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে হেলিকপ্টার

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে হেলিকপ্টার

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে হেলিকপ্টার

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৫১

পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে দুটি হেলিকপ্টার। এর জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে ৪২৮ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৬ টাকা।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন।

তিনি জানান, সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জননিরাপত্তা বিভাগের আওতাধীন পুলিশ অধিদফতরের রাশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি ‘রাশিয়ান হেলিকপ্টার’-এর কাছ থেকে এমআই-১৭১এ২ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলো হলো—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ জয়েন্টভেঞ্চার বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড ও ইলেকট্রো গ্লোবাল এবং জয়েন্টভেঞ্চার মাহেন্দ্র বেসিন পাওয়ার লিমিটেড (এমবিপিএল) এবং অ্যাডভান্স টেকনোলজি কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের (এটিসিএল) কাছ থেকে দুটি প্যাকেজের পূর্ত কাজ ১০০ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৩ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

/এসআই/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

পুলিশের সহযোগী হিসেবে আনসারও ভিআইপি নিরাপত্তা দেবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের সহযোগী হিসেবে আনসারও ভিআইপি নিরাপত্তা দেবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টিকা উৎপাদন করলে বিদেশেও রফতানি করতে পারবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা উৎপাদন করলে বিদেশেও রফতানি করতে পারবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পুলিশের শূন্য পদে নিয়োগ শিগগিরই, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের শূন্য পদে নিয়োগ শিগগিরই, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পদক পাচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ

পদক পাচ্ছেন সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

১৯৭৩: সেদিন ছিল ঈদ-আনন্দ ও বেদনার উদযাপন

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

খাদ্যশস্যের দাম বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে আদালতের ওপর: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

যে কারণে ভারতে স্থগিত হলো শিল্পী রোকেয়া সুলতানার প্রদর্শনী

সংসদের ১৫তম অধিবেশন ১৪ নভেম্বর

সংসদের ১৫তম অধিবেশন ১৪ নভেম্বর

স্কুল শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের মধ্যেই করোনার টিকা

স্কুল শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের মধ্যেই করোনার টিকা

‘জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকবে’

‘জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকবে’

আরব আমিরাতে কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের অনুরোধ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর 

আরব আমিরাতে কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের অনুরোধ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর 

সর্বশেষ

কর্মসূচির নামে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের

কর্মসূচির নামে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের

টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার

টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রেফতার

চুক্তিতে রাইড শেয়ার করলে চালক ও যাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

চুক্তিতে রাইড শেয়ার করলে চালক ও যাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা: আহত কিশোরের মৃত্যু

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা: আহত কিশোরের মৃত্যু

বনাঞ্চলকেই কার্বন নিঃসরণকারী বানিয়ে ফেলেছে মানুষ: জরিপ

বনাঞ্চলকেই কার্বন নিঃসরণকারী বানিয়ে ফেলেছে মানুষ: জরিপ

© 2021 Bangla Tribune