X
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

রুদ্র রূপে তিস্তা, উদ্বাস্তু হচ্ছে বহু পরিবার

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২১, ২১:০০

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এরই মধ্যে তিস্তার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির চক্রে ভাঙনে রুদ্র রূপ নিয়েছে স্বল্প নাব্যের এই নদী। তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। ভিটে হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে একের পর এক পরিবার।

‘বারে বারে ভাঙে, বছরে বছরে ভাঙে, মাইনষের জায়গাত যায়া থাকা নাগে, মাইনষের জায়গাত নিন্দ্ (ঘুম) পাড়া নাগে, খুব কষ্ট। চাউল ডাউল চাই না, হামাক নদীটা বান্দি দেউক, হামরা জায়গাত (নিজ বাড়িতে) নিন্দ্ পাড়মো।’ এভাবেই নিজেদের কষ্ট আর অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের গ্রাম পশ্চিম বজরার বাসিন্দা রাশেদা বেওয়া (৬৩)। ভাঙনে দিশেহারা এই নারীর দাবি, সরকার যেন নদীশাসনের মাধ্যমে তাদের বসতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অসহায় মানুষরা ঋণের টাকায় ২২ শতক জমি কিনেছিলেন। কেনার পর একবার চাষাবাদও করতে পারেননি। কিন্তু তিস্তার গ্রাসে অর্ধেকেরও বেশি জমি বিলীন হয়েছে। বাকিটুকু যেকোনও সময় বিলীনের অপেক্ষায়। সর্বগ্রাসী তিস্তার তীরে দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে মুছতে এমনটাই জানালেন রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরিগ্রামের সালেহা খাতুন।

শুধু উলিপুরের রাশেদা বেওয়া কিংবা রাজারহাটের সালেহা খাতুন নন, তিস্তাপাড়ে এমন আহাজারি করা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সেখানকার বাতাস এখন দুর্গত মানুষের হাহাকারে ভারী হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যার হাতছানি তাদের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা আরও স্পষ্ট করে তুলছে। সন্তান ও পরিবার নিয়ে তারা উদ্বিগ্নভাবে দিনাতিপাত করছেন।

তবে তিস্তার ভাঙনে শুধু বসতিই হারাচ্ছেন না এর অববাহিকার বাসিন্দারা। আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হচ্ছে তিস্তার গর্ভে। ভাঙন চলছে ব্রহ্মপুত্র ঘেরা উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নেও। ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবে খুব একটা কাজে আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলছে পাউবো। নদী তীরে জিও ব্যাগ ফেললেও সেগুলোর ভেতরে পর্যাপ্ত বালু দেওয়া হচ্ছে না। ফলে নিমিষেই নদীরগর্ভে চলে যাচ্ছে সেসব জিও ব্যাগ। এতে সরকারের বরাদ্দ অর্থের অপচয় হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এদিকে ধরলা অববাহিকায় ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানি। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি ১৮৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় তা কিছুটা কমলেও স্বস্তিতে নেই এর অববাহিকার বাসিন্দারা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই এ নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়বে কয়েক হাজার মানুষ।

পাউবো’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার কমলেও বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাউবো, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এই দুই নদ-নদী অববাহিকায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।

নদীভাঙনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলায় ২৫টি পয়েন্টে নদী ভাঙন চলছে। এর মধ্যে দুই-একটি পয়েন্ট বাদে বাকি অংশে ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে।’

এদিকে, বন্যার আগাম পূর্বাভাসে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিভাগগুলো প্রস্তুত থাকে। বন্যা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বন্যা কবলিত মানুষদের উদ্ধার করে যেন আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় সে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের পর্যাপ্ত চাল এবং টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। আশা করি আগামী ১০-১৫ দিন কোনও সমস্যা হবে না।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

একটি সেতুর অপেক্ষায় ১২ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ 

একটি সেতুর অপেক্ষায় ১২ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ 

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামীর পরিবার উধাও

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামীর পরিবার উধাও

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নীলফামারীতে ২০২ জনকে সহায়তা

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নীলফামারীতে ২০২ জনকে সহায়তা

সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের মামলা

সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের মামলা

সাজিদুরের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেলো মেয়ে ও নাতনির

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৯

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীকুটা গ্রামের সাজিদুর রহমানের মৃত্যুর খবর শুনে তার মেয়ে ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। একইদিন একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চুনারুঘাট উপজেলার ৭নং উবাহাটা ইউনিয়নের ওই গ্রামে পরপর ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাজিদুর রহমানের (আরজু মিয়া)। পিতার মৃত্যুর সংবাদ শুনে একইদিন দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। পরে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিকাল ৪টার দিকে চুনারুঘাটের উত্তর বাজারের বাসায় মারা যান সুরাইয়া আক্তারের বড় মেয়ে সৈয়দা উলফাত।

মাগরিবের নামাজের পর তাদের তিন জনের জানাজা শ্রীকুটা হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

৬ মাস পর কারামুক্ত ঝুমন দাশ

৬ মাস পর কারামুক্ত ঝুমন দাশ

আইফোন কিনতে জমানো টাকা কিডনি রোগীকে দিলেন চিকিৎসক 

আইফোন কিনতে জমানো টাকা কিডনি রোগীকে দিলেন চিকিৎসক 

বিনা খরচে এক ক্লিনিকে ১০০৩ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব

বিনা খরচে এক ক্লিনিকে ১০০৩ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব

বদলে যাচ্ছে মোংলা বন্দর, গতি ফিরছে বাণিজ্যে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০১
শ্রমিক অসন্তোষ, দুই দিন পর পর ধর্মঘট, দিনের পর দিন জাহাজশূন্য পশুর চ্যানেল, কর্মহীন শ্রমিকের আত্মহত্যা—এসব ভয়ঙ্কর ঘটনা এখন অতীত। বর্তমানে সেই পশুর চ্যানেলে সারি সারি জাহাজ। সেখানে কাজ করছে অসংখ্য শ্রমিক। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলায় সর্বোচ্চ জাহাজ আগমনও রেকর্ড গড়েছে।

সংকট কাটিয়ে মৃতপ্রায় মোংলা বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতি ফিরেছে। বন্দরের সুবিধাদি বৃদ্ধির জন্য ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এদিকে, পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেলসেতু এবং রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক দেশের শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে গোটা বন্দর এলাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত মোংলা বন্দর ৪৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জন করেছে। এ সময় বন্দরে তিন হাজার ৭০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দর ৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এ বছর বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে ৪৮২টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জন হয়েছে। এ বছর বন্দরে ৬২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০৯ কোটি ৩৩ লাখ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জন হয়েছে। এ বছর বন্দরে ৭৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩৩ কোটি টাকা নীট মুনাফা অর্জন হয়েছে। এ বছর বন্দরে ৯১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে। এ ছাড়া সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১৭ কোটি টাকা নীট মুনাফা অর্জন হয়েছে। এই বছর বন্দরটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এসেছে ৯০৩টি।

মোংলা বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতি ফিরেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০০৯ সালের শুরুতেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে মৃতপ্রায় মোংলা বন্দরকে কার্যক্ষম ও কর্মচঞ্চল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের জুন থেকে এ বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি শুরু হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসমূহের নির্দেশনা, বন্দর উপদেষ্টা কমিটি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সুপারিশ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বন্দর ব্যবস্থাপনায় মোংলা বন্দর ধীরে ধীরে গতিশীলতা অর্জন করতে
থাকে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বন্দরের নাব্যতা সংকট কাটিয়ে উঠেছি। এখন বন্দরের হারবাড়িয়ায় ৯.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারছে। আগামী বছরের প্রথম থেকেই বন্দরের মূল জেটিতেও এসব জাহাজ ভিড়তে পারবে।

মোংলা বন্দরের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০২০ পর্যন্ত ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পসহ ৫০টির অধিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ও তিনটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে। মোংলা বন্দর ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও দক্ষ সেবা প্রদানে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে—৭০টি কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ৮০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল স্থাপন, তিনটি কার ইয়ার্ড নির্মাণ, ১০টি বিভিন্ন ধরনের সহায়ক জলযান ক্রয়, ৬২টি বিভিন্ন ধরনের লাইটেড বয়া, দুইটি রোটেটিং বিকন, ছয়টি জিআরপি লাইট টাওয়ার সংগ্রহ ও স্থাপন, একটি মোবাইল হারবার ক্রেন, একটি স্টাফিং-আনস্টাফিং শেড, একটি ওয়েব্রিজ মোবাইল স্ক্যানার সংগ্রহ। এ ছাড়া রুজভেল্ট জেটির বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা তিনি জানান, এদিকে বর্তমানে মোংলা বন্দরে ১০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসবের বাইরে বন্দরের অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি-সরঞ্জাম সংগ্রহ পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং, সহায়ক জলযান সংগ্রহ, বর্জ্য নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ থেকে পিপিপি’র আওতায় মোংলা বন্দরের দুইটি অসম্পূর্ণ জেটির নির্মাণও কাজ শেষ করা হবে ২০২১ সালের মধ্যে। চলমান এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে আট হাজার কোটি টাকা।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রফতানির জন্য বন্দর সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৫০ সালে খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনাতে বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর দাফতরিকভাবে ‘চালনা বন্দর’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১০ দিন পর জয়মনিরগোল নামক স্থানে প্রথম বিদেশি জাহাজ ‘দ্য সিটি অব লিয়ন্স’ নোঙর করে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে চালনা বন্দর। শুরুতে এ বন্দরের নাম ছিল ‘চালনা অ্যাংকোরেজ’। সর্বশেষ ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘মোংলা পোর্ট অথরিটি’ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
/এসএইচ/

সম্পর্কিত

নিজের বিয়ে ভাঙার দরখাস্ত নিয়ে থানায় স্কুলছাত্রী

নিজের বিয়ে ভাঙার দরখাস্ত নিয়ে থানায় স্কুলছাত্রী

বৈরী আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত

বৈরী আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত

মাস্ক ছাড়া টিকা কেন্দ্রে কাউন্সিলর, ছবি ভাইরাল

মাস্ক ছাড়া টিকা কেন্দ্রে কাউন্সিলর, ছবি ভাইরাল

ঘর পোড়ানোর মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪১

কুমিল্লার চান্দিনায় ঘর পোড়ানোর মামলায় মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফরানুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামাল উদ্দিন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. শাহজালাল মিঞা শিপন জানান, ২০১৭ সালে জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পানিপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়া নামের এক ব্যক্তির ঘরে অগ্নিসংযোগ করেন জামাল উদ্দিন সমর্থিত নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় সুলতান মিয়ার স্ত্রী রাফিয়া বেগম বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে জামাল উদ্দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়।

তিনি আরও জানান, এরপর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

৬ মাস পর কারামুক্ত ঝুমন দাশ

৬ মাস পর কারামুক্ত ঝুমন দাশ

মহাসড়কে ৫ লাখ টাকার কাঠসহ ট্রাক ফেলে গেলেন চালক

মহাসড়কে ৫ লাখ টাকার কাঠসহ ট্রাক ফেলে গেলেন চালক

৬ মাস পর কারামুক্ত ঝুমন দাশ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩৩

হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় পুলিশের করা মামলায় ছয় মাস কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশ।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে তাকে জামিনের আদেশ দেওয়া হয়।

আজ বিকালে সুনামগঞ্জ আদালতে জামিনের আদেশ এলে জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামিননামা দিলে তার মুক্তির আদেশের কাগজ কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। কারাগার থেকে বেরিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঝুমন দাশ।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৬ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হককে সমালোচনা করে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির সমর্থকরা ১৭ মার্চ নোয়াগাঁওয়ের ৮৮টি হিন্দু বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর করে। গ্রামের পাঁচটি মন্দিরেও ভাঙচুর করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি মামলায় ১৬ মার্চ ঝুমন দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনটি মামলায় গ্রেফতার ও আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হওয়াসহ ১১৩ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ অধিকাংশ আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

/এফআর/

সম্পর্কিত

সাজিদুরের খবরে মেয়ে ও নাতনির মৃত্যু

সাজিদুরের খবরে মেয়ে ও নাতনির মৃত্যু

ঘর পোড়ানোর মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

ঘর পোড়ানোর মামলায় আ.লীগ নেতা কারাগারে

৩৬০০ কেজি সরকারি চাল বিক্রির সময় গ্রেফতার ২

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:২১

বগুড়ার ধুনটে রাতের আঁধারে বিক্রির সময় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তিন হাজার ৬০০ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সোমবার রাতের এ ঘটনায় মঙ্গলবার ধুনট থানায় চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ডিলার ফরহাদ হোসেনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও তিন-চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতার দুজন হলেন– ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আরিফ হোসেন (৪৪) এবং একই গ্রামের কালাম মণ্ডলের ছেলে ভটভটি চালক মঞ্জু মণ্ডল (৪২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০টি ইউনিয়নে ২০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা দুস্থদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করছেন। একজন সুবিধাভোগী বছরের পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিলার ও জনপ্রতিনিধি এসব দুস্থদের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড কৌশলে আটকে রেখে তাদের বরাদ্দ চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।

সোমবার রাত ১০টার দিকে ধুনটের দীঘলকান্দি বাজারের সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন, আরিফ হোসেন, মঞ্জু মণ্ডল ও কপিল উদ্দিনসহ তাদের সহযোগীরা তিন হাজার ৬০০ কেজি চাল ভটভটিতে করে কালোবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা চৌকিবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লিখিত দুজনকে গ্রেফতার করলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন তার স্ত্রীর নামে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ নিয়েছেন। তিনি গোপনে দুস্থদের সরকারি বরাদ্দ করা চাল রাতের আঁধারে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। ভটভটিতে বসে থাকা কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও চালকের তথ্য অনুযায়ী চৌকিবাড়ি গ্রামের আরিফের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ঘণ্টাব্যাপী সেখানে অভিযান চালিয়ে আরও কয়েক বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার এবং চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য ভটভটি চালক মঞ্জু ও পাচারকারী আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সহ-সভাপতিকে ছুরিকাঘাত

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সহ-সভাপতিকে ছুরিকাঘাত

৫৭ ধারার মামলায় একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

৫৭ ধারার মামলায় একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পাঁচ বছরের সাজার পর ১৪ বছর পালিয়ে ছিলেন

পাঁচ বছরের সাজার পর ১৪ বছর পালিয়ে ছিলেন

ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো কলেজ শিক্ষকের 

ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো কলেজ শিক্ষকের 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

একটি সেতুর অপেক্ষায় ১২ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ 

একটি সেতুর অপেক্ষায় ১২ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ 

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামীর পরিবার উধাও

হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ ফেলে স্বামীর পরিবার উধাও

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নীলফামারীতে ২০২ জনকে সহায়তা

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নীলফামারীতে ২০২ জনকে সহায়তা

সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের মামলা

সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকা লন্ডারিংয়ের মামলা

ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে চুল, কেজি ৫৩০০ টাকা

ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে চুল, কেজি ৫৩০০ টাকা

কুড়িগ্রামে সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রামে সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

দিনাজপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ১২ কোটি টাকা

দিনাজপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ১২ কোটি টাকা

আ.লীগকে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার আহবান জোনায়েদ সাকির

আ.লীগকে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার আহবান জোনায়েদ সাকির

১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বেরোবি কর্তৃপক্ষ

বিকৃত জাতীয় পতাকা প্রদর্শন১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বেরোবি কর্তৃপক্ষ

সর্বশেষ

‘সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গিবাদসহ অপশক্তির পুনরুত্থান নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’

‘সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গিবাদসহ অপশক্তির পুনরুত্থান নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’

‘উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

‘উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’

কলকাতার একাদশে সাকিবের ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠলো

কলকাতার একাদশে সাকিবের ফেরা আরও কঠিন হয়ে উঠলো

সাজিদুরের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেলো মেয়ে ও নাতনির

সাজিদুরের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেলো মেয়ে ও নাতনির

আফগানিস্তানে মার্কিন নিপীড়ন তদন্ত করবে না আইসিসি

আফগানিস্তানে মার্কিন নিপীড়ন তদন্ত করবে না আইসিসি

© 2021 Bangla Tribune