X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

আজিজ বিড়ির ব্যবসা থেকে সজীব গ্রুপ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২২:২২

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জুস তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি মোহাম্মদ আবুল হাসেম। গত বৃহস্পতিবারের এই অগ্নিকাণ্ডকে ব্যবসায়িক জীবনের বড় ধাক্কা হিসেবে দাবি করে হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন এই শিল্পপতি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। চার ছেলেসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কে এই হাসেম?

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আজিজ বিড়ির ব্যবসা দিয়ে যাত্রা শুরু সজীব গ্রুপের। গ্রুপটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের পিতা নোয়াখালী বেগমগঞ্জের বালুচরা গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়া। লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের ব্রিজের পাশে ‘হাসেম কোম্পানির গদিঘর’ নামে একটি জায়গা আছে। তার পাশে তাদের পুরাতন বাড়ি। ১৯৯০ সালের দিকে বিড়ি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা গ্রাম থেকে চলে যান। যে কারণে নতুন প্রজন্মের কাছে তারা অনেকটা অপরিচিত।

আজিজ বিড়ির ব্যবসা থেকে সজীব গ্রুপ

উদ্যোক্তা হিসেবে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের হাতেখড়ি মূলত পৈতৃক সূত্রে। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ‘আজিজ বিড়ি’ দিয়ে শুরু হয় তার পিতা ইব্রাহিম মিয়ার ব্যবসা। এরপর পাট, বস্ত্র, সুতা, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ইব্রাহিম মিয়া। ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক খাতেও বিনিয়োগ ছিল তার। ১৯৬২ সালে নোয়াখালীর চৌমুহনী এলাকার ডেল্টা জুট মিলের সাড়ে তিন লাখ টাকার শেয়ার কেনেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে এসে অবাঙালি দাদা ভাইয়ের অ্যালুমিনিয়াম কারখানার সম্পত্তি নিলামে কিনে নেন। এই সম্পত্তির মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম টেরিবাজার এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম শোরুম, নাসিরাবাদ এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও মাঝির ঘাট এলাকায় অ্যালুমিনিয়াম গোডাউন। এরপর চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা করেন ইব্রাহিম মিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ইব্রাহিম মিয়া চট্টগ্রামে যেমন অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানির সম্পত্তি কিনে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসা শুরু করেন, একইভাবে ঢাকেশ্বরী কটন মিল কেনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ও ব্যবসা করতে থাকেন।

ঢাকেশ্বরী কটন মিল কিনে ওখানে গড়ে তোলেন ইব্রাহিম কটন মিল ও ইব্রাহিম রাবার মিল। ইব্রাহিম মিয়া এক সময় সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার স্ত্রী ছিল দুজন। পিতার হাত ধরেই নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় আবুল হাসেমের। একই সময়ে ইব্রাহিম মিয়ার পাশাপাশি তার চার ছেলেও ব্যবসা আসেন। ব্যবসার পাশাপাশি পেট্রো কেমিক্যাল থেকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় বিশাল জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন ইব্রাহিম মিয়া। ওই বাড়িতে থেকেই তার ছেলেরা নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এর মধ্যে বড় ছেলে আবুল হাসেম পাকিস্তান থেকে সেজান জুস, নসিলা, কুলসন সেমাই, কুলসন মেকারনিসহ বিভিন্ন প্রোডাক্ট আমদানি করতেন। দ্বিতীয় ছেলে মাহবুব বাবা ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে থেকে ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তৃতীয় ছেলে ওমর ফারুক নোয়াখালীতে তার বাবার বিড়ির কারখানা দেখাশোনার পাশাপাশি লাইফবয় সাবানের এজেন্ট ও গাড়ির ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে চতুর্থ ছেলে আজাদ দীর্ঘদিন বড় ভাই আবুল হাসেমের সঙ্গে ব্যবসা করলেও বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। ইব্রাহিম মিয়ার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি দুই সংসারের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের কটন মিল ও রাবার মিল পান আবুল হাসেম। নব্বইয়ের দশকে তিনি চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে তার ব্যবসা স্থানান্তর করে ছেলের নামে সজীব গ্রুপ গড়ে তোলেন। ওই এলাকায় তিনি তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন কারখানা স্থাপন করেন। এছাড়া একসময় পাকিস্তান থেকে যেসব পণ্য আমদানি করতো, পরবর্তী সময়ে সেসব পণ্য উৎপাদন শুরু করে সজীব গ্রুপ। বর্তমানে আবুল হাসেমের পাশাপাশি সজীব গ্রুপের ব্যবসার হাল ধরেছেন তার চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলেসহ আবুল হাসেম বর্তমানে ঢাকার বারিধারায় বসবাস করেন। তার চার ছেলে হলেন হাসিব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহিম, তাওসিব ইব্রাহিম ও তানজিম ইব্রাহিম। চট্টগ্রামের টেরিবাজারে গ্রুপটির একটি লিয়াজো অফিস রয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে এমপি প্রার্থী

২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই শিল্পপতি। সেই নির্বাচনে তিনি হেরে যান বিএনপি প্রার্থীর কাছে। এর পরে রাজনীতির মাঠে তাকে দেখা যায়নি। দলে কোনও পদ-পদবিও নেই।  ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। সারাদেশে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল জয় পেলেও হেরে যান নৌকার এই প্রার্থী। পরে আর নির্বাচন বা রাজনৈতিক কোনও কর্মকাণ্ডে আবুল হাসেমকে জড়াতে দেখা যায়নি।

এক-এগারোর পর ফুলে-ফেঁপে উঠে সজিব গ্রুপ

গুঞ্জন আছে, আলোচিত সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পৈতৃক সূত্রে ব্যবসায় হাতেখড়ি হলেও আবুল হাসেমের ব্যবসা বড় হওয়া শুরু হয় মূলত আলোচিত এক-এগারোর পর থেকে। তিনি এক-এগারোর পর ব্যবসায়িকভাবে অনেকটা ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকেন। এই সময় নিজের ছেলের নামে গড়েন ‘সজীব গ্রুপ’। প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘সেজান জুস’ ব্যবসায়িকভাবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয়তা পায় পাকিস্তানের সেজান জুস

পাকিস্তানের সেজান জুস আমদানির মাধ্যমে ব্যবসায় হাতেখড়ি আবুল হাসেমের। পরবর্তী সময়ে এ তালিকায় যোগ হয় নসিলা, কুলসনসহ বিভিন্ন পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য। নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায় শুরুর পর আবুল হাসেমের বাণিজ্যিক পরিধি ছিল মূলত ট্রেডিংনির্ভর। কিন্তু ২০০৬ সাল পরবর্তী সময়ে নিত্যনতুন পণ্যের নাম যুক্ত হতে থাকে তার ব্যবসায়। আমদানির পাশাপাশি সেজান জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদক হয়ে ওঠেন তিনি। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণেই হঠাৎ করে ফুলে-ফেঁপে ওঠে আবুল হাসেমের ব্যবসা। ‘সজীব গ্রুপ’ নামে একটি ব্যবসায়িক ট্রেডমার্কও গড়ে তোলেন আবুল হাসেম।

সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো

পোশাক খাতের ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে সজীব গ্রুপের রাইস মিল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, অ্যাগ্রো, ময়দার মিল, আবাসন, ইনস্যুরেন্স খাতে ব্যবসা রয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সজীব করপোরেশন, হাসেম ফুডস লিমিটেড, হাসেম অটো রাইস মিল, সজীব ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, হাসেম অ্যাগ্রো প্রসেসিং লিমিটেড, তাকাফুল ইসলামি ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, হাসেম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড, সজীব হোমস লিমিটেড, মার্স ইন্টারন্যাশনাল, সজীব লজিস্টিকস ও সেভি ফুডস।

 আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড

সেজান জুস, ট্যাং, কুলসুন সেমাই, নসিলা, বর্নভিটা, ওরিও বিস্কুট প্রতিটিই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের বাজারে এসব খাদ্যপণ্য বাজারজাত ও প্রক্রিয়াজাত করতো সজীব করপোরেশন।

যেসব পণ্য বাজারজাত করে কোম্পানিটি

সেজান জুসের বাইরে সজীব গ্রুপের আটা, ময়দা, সুজি, নুডুলস, সস, গুঁড়া মসলা, ইসবগুল, চিপস, পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের রেডিমিক্স পণ্য বাজারে রয়েছে। ট্যাং, কুলসন, নসিলা, বর্নভিটা ও ওরিওর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে গ্রুপটি। উইংস ক্লিয়ার লেমন ড্রিংক, হাল্ক এনার্জি ড্রিংক, আহা কোলা, ড্রিংকিং ওয়াটার, চকোলেটের মতো আরও বেশকিছু ব্র্যান্ড রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিপণনের তালিকায়। এছাড়া সজীব গ্রুপের বিভিন্ন পণ্য মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় বলে গ্রুপটি থেকে জানানো হয়।

সুপার শপের ব্যবসা

‘ওয়ান স্টপ’ নামে সুপার-শপ ব্যবসাও রয়েছে সজীব গ্রুপের। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ওয়ান স্টপের আউটলেট।

ব্যাংক ঋণ

এক দশক আগে সজীব গ্রুপের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটি টাকারও কম। কিন্তু গত এক দশকে গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।  ডজনখানেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেয়েছে শিল্প গ্রুপটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাসে সজীব গ্রুপের ১১টি কোম্পানির নামে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ হাসেম ফুডস লিমিটেডের। যেখানে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। সজীব গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সজীব করপোরেশনের নামে ঋণ রয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা। হাসেম রাইস মিলস লিমিটেডের নামে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা। হাসেম ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের নামে রয়েছে ২০১ কোটি, সজীব লজিস্টিকস লিমিটেডের নামে ৩৮ কোটি, সজীব হোমস লিমিটেডের নামে ২৯ কোটি, হাসেম এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের নামে ২০ কোটি, হাসেম অটো রাইস মিলের নামে ৮ কোটি, স্যাভি ফুডস লিমিটেডের নামে ৩ কোটি ও মারস ইন্টারন্যাশনালের নামে ২১ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে।

জানা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া হাসেম ফুডস লিমিটেডে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ আছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের। পুড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফিন্যান্সের। এছাড়াও গ্রুপটির অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ আছে প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ অন্তত এক ডজন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।

সেজান জুস কারখানা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন

অভিযোগ আছে, হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া ছিল। কারখানায় কাজের পরিবেশও ছিল ঘিঞ্জি। কারখানা ভবনটিতে ছিল না কোনও ধরনের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছিল না কোনও বিকল্প সিঁড়ি বা জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কারখানা ভবনের লেআউট প্ল্যান সঠিকভাবে যাচাই না করেই এটির উৎপাদন পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার আগেই সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হওয়ার আগে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমকে বাংলা ট্রিবিউন থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কারখানার ত্রুটির কারণে এতো মৃত্যু নাকি অন্য ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতার কারণে এতো মৃত্যু। জবাবে তিনি বলেছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। জেনেশুনে বা ইচ্ছে করে আমরা কোনও ত্রুটি করিনি।  তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নিকাণ্ডে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের দায়িত্ব আমরা নেবো। আর যারা আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তাদেরও পাশে আছি। তাদের ভালোর জন্য সর্বোচ্চটুকু করার ঘোষণা দেন আবুল হাসেম ।

প্রসঙ্গত, রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন ৪০০’র বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কীকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে। এ ঘটনায়  ৫২ জন নিহত হয়।

/এমআর/

সম্পর্কিত

ইভ্যালির বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে দুদকের চিঠি

ইভ্যালির বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে দুদকের চিঠি

পপুলার ডায়াগনস্টিক-মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৬ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়

পপুলার ডায়াগনস্টিক-মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৬ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়

৫২৫ কোটি টাকা পাচারের আসামি গ্রেফতার

৫২৫ কোটি টাকা পাচারের আসামি গ্রেফতার

একই এলাকায় দীর্ঘদিন চাকরি নয়

একই এলাকায় দীর্ঘদিন চাকরি নয়

বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৫২

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে আটা ও ময়দার দাম। একইভাবে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। এছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে আদা ও রসুন। নতুন করে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকার মতো। দেড় মাস আগের ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন কিনতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকার বেশি দিয়ে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা।

শুধু ব্রয়লার মুরগি নয়, পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানি কক বিক্রি করছেন কেজি ২৯০-৩১০ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল ২২০-২৩০ টাকা।

বাজারের তথ্য বলছে, গত এক মাস ধরে বাড়ছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকারও বেশি। এ সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে প্রতি ডজন ১০ টাকার মতো। ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকার মধ্যে। আর মুদি দোকানে গত সপ্তাহে এক পিস ডিম বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা, এখন তা বেড়ে ১১ টাকা হয়েছে।

এছাড়া গত এক সপ্তাহে দেশি আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে যে আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি, সেই আদা শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকায়। এছাড়া কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আমদানি করা রসুনের দাম। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা।

গত এক মাসে বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত এক মাসে প্যাকেট ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ টাকা। একইভাবে প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ টাকার মতো।

এদিকে মোটা চাল প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে চিকন চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা পর্যন্ত।

এর সঙ্গে বাজারগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সবজির দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা। সবকিছুর চড়া দামে হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন বেশিরভাগ সবজির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো আজও শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। গাজর ও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এ দুটি সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

এছাড়া কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২৫ টাকা, মুলা শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সবজির সরবরাহ সাধারণত কম থাকে। এ কারণে সবজির দাম একটু বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার বন্যায় অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, যার প্রভাবে দাম বেড়ে গেছে।

শুক্রবার রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেল মাছের কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পাবদা মাছের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পাঙাশের কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় (এক কেজির ওপরে) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। আর ছোটগুলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

চলতি অর্থবছরে জিডিপি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ: এডিবি

অর্থ হারানোর ঘটনাই ঘটেনি: ইউনিয়ন ব্যাংক

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৫৪

ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার ভল্টে রক্ষিত টাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। সেখানে তারা লিখেছে, ব্যাংক থেকে টাকা উধাও বা হারানোর কোনও ঘটনাই ঘটেনি। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রা‌তে ইউনিয়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ইকবালের বরাত দি‌য়ে একটি ই‌-মেইল বার্তা পাঠা‌নো হয়।

এতে বলা হয়, ‘ইউনিয়ন ব্যাংকের একটি শাখার ভল্টে রক্ষিত টাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। এ জন্য প্রকৃত ঘটনা ও প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ইউনিয়ন ব্যাংকের অবস্থান ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন বোধ করছি। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই আমরা বলতে চাই, গণমাধ্যমে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।’

এ‌তে আরও বলা হয়, ‘প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে, গত ১৯/০৯/২১ তারিখ ব্যাংকিং লেনদেন শেষে সন্ধ্যার পর শাখায় একজন গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক নগদ টাকা নেওয়ার জন্য উপস্থিত হন। গ্রাহকের গুরুত্ব এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় তার কাছ থেকে চেক জমা রেখে নগদ টাকা প্রদান করা হয়। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট টিমের উপস্থিতিতে গ্রাহকের চেক ডেবিট করে উক্ত টাকা সমন্বয় করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অর্থ হারানোর মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তারপরও বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টির সঠিক তদন্তের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/জিএম/এফএ/

সম্পর্কিত

ইউনিয়ন ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

ইউনিয়ন ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

পদত্যাগ করলেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান

পদত্যাগ করলেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

তিন জেলায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:২৯

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর ফলে মধ্যবিত্তের আয় কমে যাবে। অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনা নারীরাও সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। একইভাবে নতুন সিদ্ধান্তে কমবে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীদের আয়ও। প্রবাসীরাও ওয়েজ আর্নার্স বন্ডের বিপরীতে মুনাফা কম পাবেন।

বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ প্রাপ্ত টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে সে মুনাফা থেকে সংসার খরচ চালান। তাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি। ফলে তারা গড়ে ২ শতাংশ মুনাফা কম পাবেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা নারীরাও মুনাফা ২ শতাংশ হারে কম পাবেন। তবে সাধারণ সঞ্চয়কারীরা, যারা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন, তাদের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সঞ্চয়পত্র ছাড়া মানুষের সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা নেই। এর সুদের হার কমানোর ফলে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ কোনও খাতে চলে গেলে তা বিপজ্জনক হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে না। সঞ্চয়পত্রের অধিকাংশ বিনিয়োগ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। ফলে সরকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত। তিনি বলেন, পেনশনভোগী মধ্যবিত্ত ও বয়স্ক নারীদের সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়েই চলতে হয়। তাদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।  তাদের সঞ্চয়ের বিকল্প নির্ভরযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, একেবারে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম সীমারেখা ১৫ লাখ যথেষ্ট নয়। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। পারলে দ্বিগুণ করা গেলে আরও ভালো হয়।

যারা সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ করেন তাদের অধিকাংশই সরকারের সাবেক আমলা ও বিভিন্ন পেশার অবসর নেওয়া বয়স্ক ব্যক্তি। তারা বলছেন, মুনাফা কমানোর সঙ্গে নিরাপদ বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল, কিন্তু বিকল্প কোনও জায়গা নেই। কারণ, ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন শতকরা ছয় ভাগের বেশি সুদ পাওয়া যায় না। শেয়ার বাজারে আস্থার সংকট। এদের অধিকাংশই সরাসরি ব্যবসা করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর আগে লাভজনক নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি। সেটি না করে মুনাফায় হাত দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশেষ করে সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা বিপাকে পড়বেন।

এদিকে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন  বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীরাও। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ তারা এতে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা পান তা কর্মীদের মধ্যেই বণ্টন করে দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তাদের মুনাফা গড়ে ২ শতাংশ কমবে।

প্রসঙ্গত, সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ২ থেকে ৫ শতাংশ সুদে পাচ্ছে। বিদেশি ঋণও পাচ্ছে ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে। অথচ সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়ে সরকার সুদ দিচ্ছে গড়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে প্রতিবছর সরকার গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে।

এছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি থাকায় মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আবার ঝুঁকির কারণে শেয়ার বাজারেও টাকা কম যেত। এসব কারণে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর জন্য ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে একটি চাপ ছিল। অর্থনীতিবিদদের অনেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন কয়েক বছর ধরে। এনবিআর চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সম্প্রতি একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে। এতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিতে গিয়ে সরকারের সুদ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে ভারসাম্যহীনতা। তিনি আরও লিখেছেন, সঞ্চয় কর্মসূচিতে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি রোধ করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার তুলনামূলক বেশি থাকায় এর হার কমানো হয়েছে। এর মুনাফার হার বেশি হওয়ায় অর্থনীতির অন্য চালিকাশক্তিগুলো সমস্যায় পড়ছিল। মুনাফার হার কমানোর ফলে সার্বিক অর্থনীতির সুদের হারে একটি ভারসাম্য আসবে।

এদিকে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব ও দুটি ডলার বন্ড ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছে। তবে এবারই প্রথম স্তর পদ্ধতি আরোপ করে ছোট সঞ্চয়কারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার কমানো হয়নি।

১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানো হয়েছে ১ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার কমানো হয়েছে ২ শতাংশ।

প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স বন্ডে তিন ধাপে মুনাফার হার কমেছে ৩ শতাংশ। অর্থাৎ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান ১২ শতাংশ, ১৫ লাখের বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ এবং ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ৯ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। আগে এতে যেকোনও অঙ্কের বিনিয়োগের ওপর ১২ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হতো।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, একাধিক মামলা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৭

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর। এজন্য ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাটযোগ্য সেবা প্রদান করার পরও প্রতিষ্ঠানটি এখনো ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছে রাজস্ব বিভাগের ভ্যাট গোয়েন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল প্রতিষ্ঠানটির ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তকালে গ্রামীণ ব্যাংকের এসব অনিয়ম বের হয়।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সেবার কোড এস ০৫৬-এর আওতায় ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনও নিবন্ধন গ্রহণ করেনি।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে দেওয়া বিভিন্ন সেবা থেকে পাওয়া আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০ টাকা উদঘাটন করা হয়। ভ্যাটযোগ্য সেবা হতে পাওয়া আয়ের বিপরীতে এ অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ শতাংশ হারে ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ আট কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎসে কর্তন বাবদ প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ৭৪ টাকা। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৬ টাকা উদঘাটন করা হয়। এ অপরিশোধিত ভ্যাটের ওপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক ২ শতাংশ হারে সাত কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে।

এ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কাটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং সুদ বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকাসহ সর্বমোট ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬২৯ টাকা ভ্যাট পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। এ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য।

/জিএম/এমএস/

সম্পর্কিত

গুলশানের ফু ওয়াং বার এর ভ্যাট ফাঁকি ৪১ কোটি টাকা

গুলশানের ফু ওয়াং বার এর ভ্যাট ফাঁকি ৪১ কোটি টাকা

ফেসবুক-গুগলের ভ্যাটের তথ্য জানতে চায় এনবিআর

ফেসবুক-গুগলের ভ্যাটের তথ্য জানতে চায় এনবিআর

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২২

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই শতকরা হিসেবে ১১ দশমিক ৫২ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

১৫ লাখ টাকার বেশি হলেই মুনাফার হার কমে যাবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশেষ করে অবসরভোগী মধ্যবিত্তের আয় কমে যাওয়া নিয়ে সরকারের সাবেক আমলারাও এ নিয়ে সমালোচনা করছেন।

এমন বাস্তবতায় বিনিয়োগের এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা হতে পারে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো’তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে। এটি রিভিউ হলে অযৌক্তিক হবে না। এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ হলে যৌক্তিক হবে।’

অর্থাৎ, যদি মুনাফার হার ও স্তর রিভিউ হয়, তাহলে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান মনে করেন, প্রথম স্তর অন্তত ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো উচিৎ। তিনি বলেন, ‘পেনশন-ভোগী মধ্যবিত্ত ও বয়স্কা নারীদের সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়েই চলতে হয়। এদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বিশেষ করে এই করোনাকালে এমনকি ধনী উদ্যোক্তাদের নানা রকমের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর কথা বিশেষভাবে ভাবতে হবে। তাদের সঞ্চয়ের বিকল্প নির্ভরযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই বলেই এ কথা বলছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, একেবারে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম সীমারেখা ১৫ লাখ টাকা যথেষ্ট নয়। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। পারলে দ্বিগুণ করা গেলে আরও  ভালো হয়।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে সঞ্চয় কর্মসূচির স্তর করা হয়েছে তিনটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম স্তর ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার, আর দ্বিতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা হার এবং তৃতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক মোছা. মাকছুদা খাতুন বলেন, কেউ ৪০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে তিনি নতুন নিয়মে প্রথম ১৫ লাখে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, পরবর্তী ১৫ লাখে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন এবং এর পরবর্তী ১০ লাখে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

তিনি বলেন, কেউ যদি ১৫ লাখ টাকার কম কেনেন তাহলে তার হিসাব ১৫ লাখের মধ্যে (১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে) পড়বে। এর উপরে যে পরিমাণ অর্থই রাখুন না কেন এই ১৫ লাখের মুনাফা একবার এই হারেই পাবেন। কেউ ৩০ লাখের মধ্যে টাকা রাখলে বাকী ১৫ লাখের জন্য ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অর্থাৎ কেউ ১৭ লাখ টাকা রাখলে ২ লাখের জন্য পরবর্তী ধাপের মুনাফা পাবেন। আর ৩০ লাখের উপরে যে পরিমাণ অর্থই রাখুন না কেন পরবর্তী অর্থের জন্য ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর ফলে বড় সঞ্চয়কারীদের অর্থাৎ মধ্যবিত্তের আয় কমে যাবে। প্রান্তিক বা ছোট সঞ্চয়কারীদের আয় অপরিবর্তিত থাকবে। কমবে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীদের আয়ও। এতে সার্বিকভাবে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মুদ্রা বাজারে যে অস্থিরতা ছিল সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

২০০ কোটি টাকা ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা

সম্পর্কিত

ঘুমধুম সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

ঘুমধুম সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

আইস আসছে মিয়ানমার হয়ে, কারবারে বিদেশফেরত উচ্চ শিক্ষিতরা

আইস আসছে মিয়ানমার হয়ে, কারবারে বিদেশফেরত উচ্চ শিক্ষিতরা

আদাবরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক আহত

আদাবরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক আহত

বাড্ডায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

বাড্ডায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীতে মাদক ব্যবসায়ী সাড়ে ৩ হাজার 

রাজধানীতে মাদক ব্যবসায়ী সাড়ে ৩ হাজার 

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ফকিরাপুলে ভিওআইপি সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৪

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা সবুজের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সর্বশেষ

মেয়ের জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি!

মেয়ের জামাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটালেন শ্বশুর-শাশুড়ি!

শনিবারও খেলা হচ্ছে না মেসির

শনিবারও খেলা হচ্ছে না মেসির

ঘুমধুম সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

ঘুমধুম সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

আমরা চাকরি করি না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি: শিক্ষামন্ত্রী

আমরা চাকরি করি না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি: শিক্ষামন্ত্রী

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে বললেন রেলমন্ত্রী

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে বললেন রেলমন্ত্রী

গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়ার শর্তে যৌন নিপীড়কের জামিন

গ্রামের সব নারীদের কাপড় ধোয়ার শর্তে যৌন নিপীড়কের জামিন

সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি: এখন নয়, জবাব দেবো পর্দায়

সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি: এখন নয়, জবাব দেবো পর্দায়

রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী নিহত

রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী নিহত

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ইভ্যালির বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে দুদকের চিঠি

ইভ্যালির বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থাকে দুদকের চিঠি

পপুলার ডায়াগনস্টিক-মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৬ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়

পপুলার ডায়াগনস্টিক-মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৬ কোটি টাকা ভ্যাট আদায়

৫২৫ কোটি টাকা পাচারের আসামি গ্রেফতার

৫২৫ কোটি টাকা পাচারের আসামি গ্রেফতার

একই এলাকায় দীর্ঘদিন চাকরি নয়

একই এলাকায় দীর্ঘদিন চাকরি নয়

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

© 2021 Bangla Tribune