X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যু বাড়ছে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ২৩:৩০

দেশে সোমবার (২৬ জুলাই) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪৭ জন। গত দেড় বছরের করোনা মহামারিকালে একদিনে এত মৃত্যু আর দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগের দিন ২৫ জুলাই ২২৮ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ঈদের ছুটির আগের দিন ২০ জুলাই ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। ঈদের দিন মারা যান ১৭৩ জন, ২২ জুলাই ১৮৭ জন, ২৩ জুলাই ১৬৬ জন এবং ২৪ জুলাই মারা যান ১৯৫ জন। এছাড়া জুলাই মাসের শুরু থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা দুইশ’র বেশি বা দুইশ’র কাছাকাছি ছিল। মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘোষিত ‘কঠিন’ জুলাই মাস।

মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গত ২৪ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়ায়। আর শেষ এক হাজার মৃত্যু ছাড়াতে অর্থ্যাৎ ১৮ থেকে ১৯ হাজার মৃত্যু ছাড়াতে সময় নেয় মাত্র পাঁচ দিন। তার আগে গত ১৯ জুলাই মৃত্যু ১৮ হাজার ছাড়ায়।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চে প্রথম তিন জন করোনা আক্রান্ত রোগীর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু কথাও জানায় অধিদফতর। মার্চে অনিয়মিত হলেও চার এপ্রিল থেকে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়।

বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় বর্তমানে দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

করোনার ভয়াবহতার মধ্যেই ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল সরকার। ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধও দেওয়া হয়েছে। তবে বিধিনিষেধ শিথিলে কোরবানির পশুর হাট, শপিং মল, মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মোটেও মানা হয়নি। অনেকেই ঢাকা থেকে বাস, ট্রাক, লঞ্চে গাদাগাদি করে ঈদ করতে গেছেন গ্রামে। ঈদ শেষে ২৩ জুলাই ঢাকায় ফিরেছেনও তারা। এমনকি কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন রবিবারও (২৫ জুলাই) ঢাকায় ফিরেছেন অনেকে। ফেরি, বাসে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। গণমাধ্যমের খবর বলছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এখনও পদ্মা পার হচ্ছে মানুষ। আর এতে করে দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে মৃত্যুও নতুন রেকর্ড গড়ছে।

এদিকে, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সাত বিভাগেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা থেকে জিনোম সিকোয়েন্সে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (জিআইএসএআইডি) অনুযায়ী, দেশের সাতটি বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৫০টি নমুনায় ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বি-১৬১৭ পাওয়া গেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণে জর্জরিত এখন পুরো দেশ। গত আট দিনে মারা গেছেন এক হাজার ২৮৯ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৬১ জন। ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি।

করোনায় শূন্য মৃত্যু লক্ষ্যমাত্রা রেখে কাজ করা দরকার মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় কেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হচ্ছে তার পর্যালোচনা দরকার, তাতে অন্তত কিছু মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো বা হবে। একইসঙ্গে মৃত্যু কমানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠন করা পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি করোনায় মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে বলেছিল, করোনায় শূন্য মৃত্যুর টার্গেট নিয়ে কাজ করতে হবে। আর এ জন্য গত ১৭ জুন তারা একটি লিখিত প্রতিবেদন দেন, যেখানে কাজটি কীভাবে করতে হবে তার কিছু দিকনির্দেশনা ছিল।

কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না, যদি হতো তাহলে মৃত্যু কমানো যেত বলে জানান পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল।

‘সংক্রমণ বেশি হলে মৃত্যুও বেশি হবে’ এটাই নিয়ম মন্তব্য করে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে ভ্যারিয়েন্ট দেশে ছড়াবে বেশি, সেটা যদি অধিক মাত্রায় ক্ষতিকারক হয় তাহলে মৃত্যু বেশি হবে।’

‘সেইসঙ্গে রাজধানীর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে প্রস্তুত নয়। আমরা গত দেড় বছরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারিনি, ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নেই। যখন জটিল রোগীদের আইসিইউ দরকার হয় তখন তাদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও যারা পাচ্ছেন, কিন্তু সেটা শেষ মুহূর্তে। আর শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা দিয়ে আসলে রোগীকে বাঁচানো যায় না’—বলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সেইসঙ্গে বর্তমানে যে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে সেটা নন-মেডিক্যাল লকডাউন। এই নন-মেডিক্যাল লকডাউন দিয়ে মেডিক্যাল ব্যবস্থায় কোনও উন্নতি করা সম্ভব না। তাতে করে রোগী শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু বাড়বে এবং সেটাই হচ্ছে।’

‘লকডাউন না মেনে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহরে ফিরেছে মানুষ। আর এতে করে শনাক্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু’ জানিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ও এই হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ বলেন, ‘রোগীরা শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছে। আর যে রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসবে তার মৃত্যু অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি, যে রোগী ‘আর্লি’ হাসপাতালে আসবে তার চেয়ে। বেশি সময় ধরে শরীরে অক্সিজেনের অভাব থাকলে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।’

অধিক সংক্রমণ এবং টেস্ট না করার প্রবণতার কারণে মৃত্যু বাড়ছে জানিয়ে ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী বলেন, ‘টেস্ট না করালে করোনা শনাক্ত হচ্ছে না। শনাক্ত না হওয়ার কারণে রোগী ধরা পড়ছে না এবং যখন ধরা পরছে তখন আর চিকিৎসার কিছু থাকে না।’

‘জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, এ কারণে রোগীরা সেখানে চিকিৎসা পাচ্ছেন না’—বলেন আরেকটি করোনা হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক। ‘এ কারণে ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে বেশি’—নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন তিনি।

 

/জেএ/আইএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৪

ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতির ব্যাপ্তি ও পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কথা বলেন।

কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০ এ সময় রাষ্ট্রিপতির কাছে পেশ করা হয়।

কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি সহিদুল করিম, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারকরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশনা দেন।’ 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর ব্যাপ্তি ও পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।’ এ সময় বিচারকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫১

দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এসব আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

আদালত তার আদেশে উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে ‘উপজেলা পরিষদ কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি একই আদেশে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮-এর ধারা ১৩ (ক), ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। মামলার বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও ড. মহিউদ্দিন মো. আলামিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এর আগে ১৫ জুন উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান এ রিট দায়ের করেন। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সে আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হলো।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের অধীনে ন্যস্ত সব দফতরের কার্যক্রম পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে করার জন্য ইউএনওদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইউএনওরা যাতে ওই সার্কুলার অনুসরণ করেন সেজন্য পৃথক আরেকটি সার্কুলার জারি করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

/বিআই/এফএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩০

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। চার বছর পরও তারা নিজের দেশে যাচ্ছে না। দিন দিন তাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। তারা এ দেশে মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে অবৈধভাবে এদেশের নাগিরক হয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়া উচিৎ। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কি বন্ধুহীন হয়ে যাচ্ছে? এর দায় কার? কার ব্যর্থতা? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জিএম কাদের বলেন, মন্ত্রীর কথায় মনে হচ্ছে, কোনও দেশেরই সহায়তা পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

এ সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাঙ্গনে স্থবিরতা ছিল। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে হয়ত দুই বছর ঝরে যাবে। এসব বিবেচনায় সবার জন্য চাকরির বয়সসীমা ৩২ করা যায় কিনা বিবেচনা করা উচিৎ।

 

/ইএইচএস/এফএ/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের ঘটনার আড়ালে রোহিঙ্গা ইস্যু চলে যাক চায় না বাংলাদেশ

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

সৌদি আরবের রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক  মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, একটি গ্রন্থের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বিশালতাকে তুলে ধরা কঠিন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'স্মৃতিতে সতত উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এতে বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে থাকা 'লাল মুক্তিবার্তা: স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা'  তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণমূলক লেখা অন্তর্ভুক্ত  হয়েছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দিকেই দক্ষ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীতে একমাত্র নেতা যিনি তাঁর  জীবদ্দশায় একাধারে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজও হয়তো আমরা পরাধীন থাকতাম।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু অল্প দিনেই বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব সভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক আর একদিকে শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ্ব সভায় তিনি বাংলাদেশের নেতা হিসেবে কথা বলেননি, বিশ্বনেতা হিসেবে কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে এই পয়সা দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য, শিক্ষার, স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে বলেছিলেন। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি উপদেশ দিতেন, বিশ্বের নীতি কী হওয়া উচিত।

বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৯

বিশ্বাসঘাতকদের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমাদের দলে বেইমান তো ছিলই। খন্দকার মোস্তাক-টোস্তাক তো ছিলই। এটা তো অস্বীকার করি না। আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে। জিয়াউর রহমান তো খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাসে একবার করে আমাদের বাড়ি গিয়ে বসে থাকতো।’ 

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদের থেকে এখন মানবাধিকারের কথা শুনতে হয়। জ্ঞানের কথা শুনতে হয়। আইনের শাসনের কথা শুনতে হয়। আমার বাবা-মার হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা করতে পারিনি। আমাদের সেই অধিকার ছিল না।’ 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় জিয়াউর রহমানকে আসামি করতে চেয়েছিলেন ‍উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সে পঁচাত্তরের হত্যার সঙ্গে জড়িত এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের তখনকার স্বরাষ্ট্রসচিব রেজাউল হায়াত বলেছিলেন—মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় নামটা (আসামি হিসেবে) থাকা উচিৎ ছিল। কারণ জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত তা ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছে। একাধিক বইতে আছে। আর জড়িত না হলে যেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল তাদের ছেড়ে দিলো কেন? জিয়াউর রহমান সেই বিচার বন্ধ করে সবাইকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলো। সাত খুনের আসামিকে ছেড়ে দিলো। খুনিদের ডেকে এনে দল করলো। স্বাধীনতা যুদ্ধই যদি করে থাকে তাহলে একাত্তরের অগ্নিসংযোগকারী, খুনি ধর্ষণকারীদের কেন মন্ত্রী উপদেষ্টা বানালো? সংসদে বসালো। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করলো। তার বউ খালেদা জিয়াকে আরও একধাপ ওপরে গিয়ে এমপি বানিয়ে সংসদে বসালো। খুনি, অপরাধী, ধর্ষণকারী, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি-এদের সঙ্গে তাদের বসবাস।’

বিএনপির হারুনুর রশীদের বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে বলা হয়েছে জিয়াউর রহমান যে সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে সব থেকে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। তা হলে প্রশ্ন আসে, সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে। পাকিস্তানিদের পক্ষে? যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, সেই ব্যবস্থা করেছিল কিনা—সেটাই আমার প্রশ্ন। সেক্টরের অধিনায়ক করে প্রাণহানি বাড়িয়ে দেওয়ার মানে কী? নিজের হাতে নিজেদের লোকদের এগিয়ে দিয়েছে মরতে। মেজর হাফিজের বইতে কী আছে? এখন বই চেঞ্জ করছে।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জিয়ার আমলে প্রত্যেকটি কারাগারে কত মানুষকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। তার রেকর্ড তো থেকে যায়। সেগুলো একটু খুঁজে বের করে দেখেন।’

 

/ইএইচএস/আইএ/

সম্পর্কিত

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ভার্চুয়াল বিচারের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ইউএনওর মতো নিরাপত্তা পাবেন উপজেলা চেয়ারম্যান

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

‘আমাদের বাড়ির ভাত কার পেটে না গেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে ওয়েবলিংক চালু

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

গণমাধ্যম দেখে দেশ চালাই না: শেখ হাসিনা

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

শনাক্তের হার ৬ শতাংশের নিচে

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

ই-কমার্সে প্রতারিতদের পাওনা বুঝিয়ে দিক সরকার, দাবি সংসদে

সর্বশেষ

মোদির ঘুম কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসএফজে-র

মোদির ঘুম কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসএফজে-র

তালেবানকে হঠাতে মার্কিন অস্ত্র চান মাসুদ

তালেবানকে হঠাতে মার্কিন অস্ত্র চান মাসুদ

কাবুলে রকেট হামলা

কাবুলে রকেট হামলা

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

© 2021 Bangla Tribune