X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

একটা ‘রোডম্যাপ’ খুব জরুরি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১১:২২

দেশে করোনাভাইরাসের মৃত্যু ও সংক্রমণে প্রতিদিনই ভাঙছে আগেরদিনের রেকর্ড। গেল ২৪ ঘণ্টার (২৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) পাওয়া তথ্যেও তার আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে। এসময় ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ২৫৮ জন। করোনা মহামারিকালে একদিনে এত মৃত্যু আর দেখেনি বাংলাদেশ। তার আগেরদিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় বর্তমানে বাংলাদেশ দ্বাদশ অবস্থানে। আর গতকাল মৃত্যুর এই রেকর্ডের সঙ্গে দেশে শনাক্ত হওয়া রোগী সংখ্যাতেও রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ১৯২ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণে জর্জরিত এখন পুরো দেশ। গত আট দিনে মারা গেছেন ১ হাজার ২৮৯ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৬১ জন। ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সাত বিভাগেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা থেকে জিনোম সিকোয়েন্সে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটা (জিআইএসএআইডি) অনুযায়ী, দেশের সাতটি বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৫০টি নমুনায় ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বি-১৬১৭ পাওয়া গেছে। 

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির জন্য ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে প্রধানতম কারণ বলছেন বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যবিদেরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার আলফা ধরন। এই ধরনকে অতি সংক্রামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু আলফার চেয়ে ডেলটা ৫৫ শতাংশ দ্রুত ছড়ায়।

দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি যে এত ভয়ংকর হয়ে উঠবে সে আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এখন থেকে দুই সপ্তাহ আগেই (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন জুলাই মাসকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ মন্তব্য করে বলেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদাসীন হলে দেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।’

আর ঈদের আগে লকডাউন শিথিল করে দেওয়ার ঘোষণায় ‘হতভম্ব’ হয়ে যায় খোদ কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি। আর গতকাল ( ২৬ জুলাই) একইদিনে শনাক্ত রোগী এবং মৃত্যুর সংবাদের পর কমিটির একাধিক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা হতাশ।

সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিকে ‘মাল্টি-ফেকটোরিয়াল’ বলে জানিয়েছেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। তিনি মনে করছেন, লকডাউন শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও সংক্রমণশীলতার ঊর্ধ্বমুখিতার কারণ। তিনি বলেন, এখন যত সংক্রমণ হচ্ছে তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, এই ভ্যারিয়েন্ট আগের যে কোনও ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে প্রায় দেড়গুণের বেশি ছড়াচ্ছে। সব মিলিয়েই এ অবস্থা।

ঈদ শেষে হেঁটেই ঢাকায় প্রবেশ করছে মানুষ। ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

পরিস্থিতি দেখে হতাশ হলেও এখনও আশাবাদী ডা. সহিদুল্লা। তিনি বলেন, ‘এত মৃত্যু-এত সংক্রমণ দেখে হতাশ লাগছে। কিন্তু এরচেয়েও বেশি মৃত্যু-বেশি সংক্রমণ অন্য দেশ দেখেছে, কিন্তু তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই আমি মনে করি, যেটা হয়েছে…হয়েছে। কিন্তু এখন দরকার সবাই মিলে সঠিক কাজটি করা। আর তার মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্যবিধি মানা, চলমান লকডাউনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে সঠিক বাস্তবায়ন করা দরকার। সঙ্গে রোগী শনাক্তকরণে টেস্ট বাড়ানো। সেইসঙ্গে শনাক্ত রোগীর আইসোলেশন, তার সংর্স্পশে আসাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা এবং তাদের টেস্ট করানো এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে আরও গতি এনে আরও মানুষকে টিকা দেওয়া।

‘এবং ফাইনালি সবকিছু নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা খুব দরকার’, বলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা।

এই রোডম্যাপ কিসের ভিত্তিতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কয়টা হবে, অক্সিজেনের কী হবে, টিকার কী হবে, সবাইকে মাস্ক পরানো যাচ্ছে না-তার কী হবে। ওভারঅল একটা রোডম্যাপ থাকা দরকার।’

সংক্রমণ থেকে উত্তরণের রোডম্যাপ কী হওয়া উচিৎ জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দরকার পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করা। আর যেসব ক্ষেত্রে সরকারি কাজে ঘাটতি রয়েছে সেসব পূরণ করতে পারে জনগণের অংশগ্রহণ।

তিনি বলেন, প্রতিটি শনাক্ত মানুষকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনা এবং পাবলিক হেলথ ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি শনাক্ত রোগীকে যদি স্বাস্থ্যবিভাগের নেতৃত্বে এবং প্রশাসনে সহায়তায় মেডিক্যাল এবং পাবলিক হেলথ ব্যাবস্থাপনায় আনতে পারলে গুরুতর রোগীর সংখ্যা যেমন কমে যাবে তেমনি রোগের সংক্রমণ কমে যাবে। কারন, তাদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা হবে।

আইসোলেশন নিশ্চিত করার জন্য যাদের বাসায় ব্যবস্থা নেই অথবা প্রান্তিক মানুষ যাদের জীবিকার জন্য বাইরে বের হতেই হবে তাদের জন্য কমিউনিটি আইসোলেশন সেন্টার দরকার জানিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, উপজেলা হেলথ কম্পেলক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্কুল ঘর বা কমিউনিটি সেন্টারে করা যায়। অর্থ্যাৎ শনাক্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনার উপরে এখন যে জোর দেওয়া খুবই কম, সেটা সর্বাত্মক জোর দিতে হবে। আর এখানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব না।

এখনও প্রান্তিক পর্যায়ে অনেকেই সামাজিকভাবে নিগৃহীত হওয়ার আশংকায় করোনার সংক্রমণ জানাতে ভয় পান। এর ফলে টেস্টও করাতে চান না। এটা দূর করা উচিৎ উল্লেখ করে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, শুরুর দিকে লাল পতাকা উড়িয়ে যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছিল সেখান থেকে সরে আসতে হবে, সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর এতে করে মানুষ টেস্ট করতে আসবেন, শনাক্ত হবেন- এই ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতেও জনগণের সহযোগিতা থাকতে হবে। কেন স্বাস্থ্যবিধি মানা দরকার, কেন দিনকে দিন এটা বাড়তে থাকবে- সেসব বুঝিয়ে ‘সবাই কষ্ট ভাগ করে নেবো’ এই মানসিকতা তৈরি করতে গেলে কমিউনিটিকে অ্যাজ অ্যা হোল মবিলাইজ করা দরকার।

সেইসঙ্গে টিকা দিতে হবে আর এখানেও জনগণ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন যারা করতে পারছে না, যাদের ডিভাইস নাই-টেকনিক্যালি পারদর্শী নয়-তাদের এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে হবে। 

‘সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলোকে অচল করা যাবে না। রোগী যদি একের পর এক যেতে থাকে তাহলে চিকিৎসকসহ অন্যরা না পারবে কিছু করতে, …তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হযে যাবে। আর  এতে কারে স্বাভাবিক কাজেও সমস্যা হবে, এদিকেও মনোযোগী হতে হবে‘ -বলেন তিনি।

করোনার ভয় উপেক্ষা করেই লকডাউনের আগে রাস্তায় মানুষের ঢল

আর সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোডম্যাপের জন্য প্রথমেই একটা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা দরকার বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, প্রতিষেধক টিকা পরে। মাত্র ১ কোটি টিকা হাতে রয়েছে, এতে করে কিছুই হবে না।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে মিটিং হলো, কিন্তু সেখানে কেবল টিকা নিয়ে বলা হলো, টিকা নিয়ে কথা হলো, অন্য কোনও কথাই হলো না, কেন হলো না- প্রশ্ন করে ক্ষোভ জানান অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টিন- কিছুই নেই এখন। অথচ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এগুলোই প্রধান নিয়ামক।

‘রেড অ্যালার্টের’ উপর পুনরায় জোর দিয়ে তিনি বলেন, ২৬ কোটি ডোজ দিতে দেড় বছর সময় লাগবে, সেজন্য যে পরিকল্পনা রয়েছে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু প্রতিরোধের ব্যবস্থা কী-সে নিয়ে রেড অ্যালার্ট হওয়া খুব জরুরি। মাস্ক বিতরণ করতে হবে, মাস্ক নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোডম্যাপের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। একটা আন্দোলন করা এখন দরকারি, আর কিছু না।

/ইউএস/

সম্পর্কিত

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৬

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভোক্তা প্রতারণা বন্ধ করার কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশনের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির উপ প্রেস সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন ব্রিফিংকালে জানান, সাম্প্রতিককালে ই-কমার্সে ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি পত্রপত্রিকা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হাওয়ায় রাষ্ট্রপতি দেশে দ্রুত প্রসারণশীল ই-কমার্স ব্যবস্থায় ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু সংখ্যক লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক হতে হবে।

এ খাতে প্রতারণাসহ ভোক্তার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কঠোর হস্তে দমনের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সকল পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ভোক্তারা যেন যৌক্তিক মূল্যে ও প্রত্যাশিত সময়ে মানসম্মত পণ্য পায় তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

সাক্ষাৎকালে কমিশন চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয়সহ কমিশনের চলমান কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে আরও অংশ নেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন, ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।

/এমপি/

সম্পর্কিত

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪১

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি ‘স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’-এ ভার্চুয়ালি যোগদান করে তিনি একইসঙ্গে একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।’

৭৬তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ)’র উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তঃসংযুক্ত।

পূর্ব-রেকর্ডকৃত বক্তৃতায় ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা অর্জনের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ইভেন্টগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

তিনি এ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় প্রণীত কাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি অন্তর্ভুক্ত হাতিয়ার হিসেবে সমন্বিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়া-জনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য  মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’ সূত্র: বাসস।

/এমপি/

সম্পর্কিত

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৯

ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় যোগ দিয়ে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ এজেন্ডা : সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের পদক্ষেপ শীর্ষক প্রচারিত প্রাক রেকর্ডকৃত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রথমত, সময়ের সবচেয়ে জরুরি আহ্বান হচ্ছে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ভ্যাকসিন বিভাজন দূর করা।’

প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলেন, আমাদের একটি নতুন দৃষ্টান্ত প্রয়োজন যা বৈষম্যকে সামগ্রিকভাবে মোকাবিলা করবে। দারিদ্র, ক্ষুধা, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো এসডিজিগুলোর সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর বিশেষ অর্থায়নের চাহিদাগুলো সমাধান করতে হবে, যার মধ্যে এলডিসি ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো রয়েছে।’

চতুর্থ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, অভিবাসী ও চলমান লোকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার পঞ্চম প্রস্তাবে বলেন, ‘এই বিবর্তিত ডিজিটাল যুগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোরভাবে ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে প্রকৃত ‘পরিবর্তনের নির্মাতা’ হিসেবে কাজ করার জন্য আমাদের অবশ্যই মহিলা এবং মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সাধারণ এজেন্ডা বিষয়ে মহাসচিবের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং বাধা দূর করার ক্ষেত্রে আমাদের কয়েক দশকের উন্নয়ন পিছিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য স্পেন, সিয়েরা লিওন, কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের বিষয়টি জাতিসংঘের অভিন্ন আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আমি এর প্রশংসা করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণে বলেন, ‘সকলেরই নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য জীবনযাত্রার পর্যাপ্ত মানের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, এই চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘আমরা এসডিজি বাস্তবায়ন এবং কোভিড থেকে পুনরুদ্ধারে ‘হোল সোসাইটি’ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছি যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে আমাদের প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রেখেছি। এরমধ্যে রয়েছে নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী।’

তিনি বলেন, কোনও দেশই একা এই সংকট মোকাবেলা করতে পারে না। বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন। আরও সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তুলতে জাতিসংঘের ৭৫তম ঘোষণাপত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণে আমাদের বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সূত্র: বাসস।

/এমপি/

সম্পর্কিত

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

সাত বিভাগীয় শহরে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পাবে নারীরা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১০

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপজেলা পর্যায়ে আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে সাতটি বিভাগীয় শহর ও পাবনা জেলায় নারীদের মোটর ড্রাইভিং এবং বেসিক মেইনট্যানেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী দেড় বছরে আটটি কেন্দ্রে ৩০ জন করে ছয়টি ব্যাচে মোট এক হাজার ৪৪০ জনকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোর্স শেষে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদ পাবে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক রাম চন্দ্র দাস এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আইজিএ প্রকল্প পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম, পরিচালক মনোয়ারা ইশরাত, বিআরটিসির পরিচালক কর্নেল মো. জাহিদ হোসেন ও জেনারেল ম্যানেজার মেজর মো. মোক্তারুজ্জামান।

/ইউআই/এমপি/

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে পাশে থাকবে জার্মানি: তাজুল ইসলাম

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫৩

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জার্মানি বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে মন্ত্রণালয়ে জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম টোস্টার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করে জার্মান সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দেশটি। এই সমস্যা সমাধানে তারা সবসময় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জনমত আদায়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বলেও জানান তিনি।

সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ফেইজ-৩ প্রকল্পে জার্মানি সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও যেকোন উন্নয়ন প্রকল্প যা মানুষের জন্য কল্যাণকর সেগুলোতে সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামোগত, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, জার্মান সরকার বাংলাদেশের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে জার্মানির সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আচিম টোস্টার।

এসময় মন্ত্রী এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত উভয় দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মরণ কুমার চক্রবর্তী ও মুহাম্মাদ ইব্রাহিম এবং যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দীকি উপস্থিত ছিলেন।

/এসএস/এমএস/

সম্পর্কিত

জার্মানি থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরাতে চায় সরকার

জার্মানি থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরাতে চায় সরকার

বরিশালের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বরিশালের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বরিশালের ঘটনা মিটমাট হতে পারে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বরিশালের ঘটনা মিটমাট হতে পারে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে করোনার মধ্যে অর্থনীতির চাকা সচল’

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

করোনায় মৃত্যুহীন দিন তিন বিভাগের

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

মে মাসের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু ও শনাক্ত

২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলে তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

২১০টি অনিয়মিত পত্রিকা বাতিলে তালিকা করা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অতি জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

অতি জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদারের দাবি প্রধানমন্ত্রীর

সর্বশেষ

আসিয়ানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র

আসিয়ানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র

সুম্বা দ্বীপের নাচুনে গাছ! (ফটোফিচার)

সুম্বা দ্বীপের নাচুনে গাছ! (ফটোফিচার)

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বৈশ্বিক সুদৃঢ় খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

© 2021 Bangla Tribune