X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

পীর সিন্ডিকেটের অর্ধশত মামলায় হয়রানি

‘বিনা অপরাধে জেল খেটেছি, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:০০

ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন (৬২)। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি হস্তান্তর ও মুরিদত্ব গ্রহণ না করায় দেশের বিভিন্ন  জেলায় তার বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা করেছে রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর সিন্ডিকেট। মূলত হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করতে এসব মামলা করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। ওই প্রতিবেদনের পর অনেকটা স্বস্তি ফিরে পেলেও জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভুক্তভোগী কাঞ্চন। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের দুরাবস্থার কথা-

বাংলা ট্রিবিউন: হয়রানির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা আপনাকে কী কী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে?

আহসান কাঞ্চন: সামাজিকভাবে তো অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। মানুষ জেনেছে আমি চুরির মামলা খেয়েছি, চুয়াডাঙ্গায় ডাকাতির মামলা খেয়েছি, কাফরুল থানায় চাঁদাবাজির ঘটনায় অস্ত্র মামলায় হয়েছে। এসব শুনে সবাই অবাক হয়েছেন। তখন অনেক আত্মীয়-স্বজন দূরে সরে গিয়েছেন। তবে যখন বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে শুরু করি তখন আমার সম্পর্কে অনেকের ধারণার পরিবর্তন হতে শুরু করে। এ ছাড়া আর্থিকভাবেও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতি হয়েছে?

আহসান কাঞ্চন: আমার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সেসব জেলায় যাওয়া, আইনজীবী নিয়োগসহ যাবতীয় খরচ হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কখনও একটি মামলায় কিছুদিন জেলে থেকে জামিন পেয়েছি অমনি অন্য জেলায় আরেকটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে জেলে যেতে হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: হাইকোর্টে রিট দায়েরের পূর্বে কতটি মামলায় আপনাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে?

আহসান কাঞ্চন: আমাকে ততদিনে প্রায় ৪৭টি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এমন দুর্দিনে সবচেয়ে কার সহযোগিতা আপনি বেশি পেয়েছেন?

বাংলা ট্রিবিউন: আমার সহধর্মীনি তামান্না আকরাম আমাকে সাহস জুগিয়েছে। তবে তাকেও শেষ রক্ষা করেনি। ২০১৯ সালে তাকেও একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমার স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলায় করা হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: হাইকোর্টে আসা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে- আপনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো ছিল ‘হয়রানিমূলক’। এ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আপনার অভিব্যক্তি কী?

আহসান কাঞ্চন: ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশনায় আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবো। তবে এখনও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা প্রতিনিয়ত আমি ও আমার সন্তানদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলেছে। পরিচিতজন বা চিঠির মাধ্যমে তারা হুমকি দিয়ে আসছে। চাঁদপুরের একটি মামলা থেকে যখন বের হই তখনই তাদের লোকজন আমাকে আমার শান্তিবাগের বাসা ও ফতুল্লার আনোয়ার ডাইং প্রিন্টিং তাদের দরবারের নামে লিখে দিতে চাপ দেয়। এছাড়াও শেওড়াপাড়ার বাড়িটিও লিখে দিতে চাপ দেয়। কিন্তু তাতেও আমি রাজি হইনি। ২০১৬ সালেও তারা আমাদের ফতুল্লার ২০ শতাংশ একটি জমি হাতিয়ে নিয়েছে। যা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি ছিল।

ফাইলপত্র নিয়ে আদালতে চক্কর কাটতে হয় একরামুল আহসান কাঞ্চনকে

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি এত সম্পদের মালিক হলেন কীভাবে?

ভু্ক্তভোগী: অধিকাংশ সম্পত্তি আমি পৈত্রিক সূত্রে মালিকানা পেয়েছি। আর শেওড়াপাড়ায় একটি জমি নিজে কিনেছিলাম। সেখানে কোনোরকমে একটি বাড়ি করেছি আর বাকি সম্পদ সব তারা দখল করেছে। আমি বেশ কিছুদিন জাপানে ছিলাম, ১৯৯৫ সালে দেশে ফিরে আসি। আমার একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেটি ভাড়া দিতে পারি না। এটিও তারা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফতুল্লায় আনোয়ার ডাইং প্রিন্টিং নামে একটি ওয়াশিং প্লান্ট ছিল। সেখানে দরবার শরীফের পাশে মোহাম্মাদীয় জামিয়াহ শরীফ মাদরাসা আছে। ওই মাদরাসার সভাপতি শাকেরুল কবির। ওই মাদরাসার নামে যত মামলা আছে সবগুলো দায়ের করেছেন শাকেরুল কবির।

বাংলা ট্রিবিউন: বারবার আপনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পেছনে কি পরিবার বা পরিচিত কারও যোগসূত্র রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

আহসান কাঞ্চন: আমার মা খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর আমার মা, বড় ভাই ও বোনকে দরবার শরীফের কিছু লোক আকৃষ্ট করে নিয়ে যান। এরপর দরবারের পীর দিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী ওয়াজিফাতুল্লাহ মিলে আমার মা, ভাই, বোনকে আখেরাত পাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে নিয়ে যান। একসময় ২০০৯ সালে পীর দিল্লুর তার বড় মেয়ের বিয়ের জন্য আমার মায়ের কাছ দেড় কেজি ওজনের স্বর্ণের মুকুট হাতিয়ে নেয়। পরে আমরা জানতে পেরে মাকে বুঝাতে চেষ্টা করলে পীর দিল্লুর ও তার স্ত্রী আমার মা, ভাই, বোনকে দরবারে নিয়ে যায় এবং প্রায় ৩০০ শতাংশ সম্পত্তি পৈত্রিক সম্পত্তি দরবার শরীফের নামে হেবা করে আর কিছু বিক্রি করে টাকা নিয়ে যায়। এরপর বাকি সম্পত্তি নিতে তারা আমি ও আমার ছোট ভাইকে চাপ দিতে থাকে। যার কারণে পীর সিন্ডিকেট আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১১টি জেলায় ২২টি মামলা এবং আমার বিরুদ্ধে ১৩ জেলায় ৪৯টি মামলা করে। এসব মামলায় আমাকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ দিন জেলে থাকতে হয়েছে।    

বাংলা ট্রিবিউন: হাইকোর্টের মামলাটি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। মামলাটি পুনরায় শুনানিতে উঠলে নতুন করে আদালতের কাছে আপনার কোনও আবেদন থাকবে কিনা?

আহসান কাঞ্চন: আমি এসব হয়রানিমূলক মামলা থেকে আদালতের কাছে মুক্তি চাইবো। আমার জীবনের নিরাপত্তা চাইবো। আর বিনা অপরাধে যে দীর্ঘদিন জেল খেটেছি এজন্য আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ প্রার্থনা করবো।

আরও পড়ুন:
রাজারবাগ দরবার শরিফে পীরের ‘মামলা সিন্ডিকেট’

/ইউএস/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২০

দেশে এখন পর্যন্ত টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ ডোজ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৩২ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪১ হাজার ২৪ ডোজ টিকা মজুত  আছে। এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৬০৫ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪২৭ জন। আজ মোট দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৪১ ডোজ টিকা। 

এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, আজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ২২৭ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২২০ জনকে। 

পাশাপাশি আজ ফাইজারের প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ কাউকে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া সিনোফার্মের টিকা আজ প্রথম ডোজ নিয়েছেন দুই লাখ ৮৬ হাজার ৫৪২ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬ জন।  

মডার্নার টিকা আজ প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ২৪৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ২৮৮ জনকে।

এছাড়া এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৪১ জন। 

 

/এসও/এমআর/

সম্পর্কিত

আজও করোনায় নারীমৃত্যু বেশি

আজও করোনায় নারীমৃত্যু বেশি

চলতি মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়ালো  

চলতি মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়ালো  

ফাইজার-মডার্নার টিকা না পাওয়ায় প্রবাসীদের বিক্ষোভ

ফাইজার-মডার্নার টিকা না পাওয়ায় প্রবাসীদের বিক্ষোভ

দেশে এলো সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ টিকা

দেশে এলো সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ টিকা

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৪৬

রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে সিআইডির ভুয়া ইন্সপেক্টর পরিচয় দেওয়া একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতের নাম মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার অভি। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।

এ সময় তার কাছ থেকে স্পেশাল ডিশন সিবি হরনেট-১৬০আর মোটরবাইক, একটি ওয়াকিটকি, একটি পাসপোর্ট একটি পোকো মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।

দারুস সালাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, শুক্রবার দারুস সালাম থানার গাবতলি তিন রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে পুলিশ সার্জেন্ট ও টহল পুলিশের সমন্বিত তল্লাশি চৌকিতে একজন মোটর আরোহীকে থামার সিগন্যাল দেওয়া হয়। চালক মোটরবাইক থামালে কর্তব্যরত অফিসার গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে নিজেকে সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন। তখন পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে বাইক নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

/আরটি/এনএইচ/

সম্পর্কিত

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:১১

কাঁধের একটি ব্যাগ আর একটি কার্টন নিয়ে বিমানবন্দরে এসেছিলের  স্বপন মাতব্বর। তিনি যাবেন সৌদি আরবের দাম্মামে। তবে তার সৌদি আরব যাওয়া হয়নি।  শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরে ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় তার কার্টনে ধরা পড়ে ইয়াবা। তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

জানা গেছে, সৌদিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪০৪৯ ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন স্বপন। বোর্ডিং শেষে চেক ইন ব্যাগেজ স্ক্যানিং এর সময় তার সঙ্গে থাকা একটি কার্টনে ইয়াবা শনাক্ত হয়। কার্টনের কার্বন পেপারে মুড়িয়ে আলাদা লেয়ার করে ২২ হাজার ৪৯০ পিস ইয়াবা লুকানো ছিল।

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপন মাতব্বর জানিয়েছেন, তার বাড়ি মাদারীপুরে। সৌদি আরবে থাকা পরিচিত একজন তাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন তার ভাইয়ের কাছ থেকে একটি সবজিসহ কার্টন নিয়ে আসার জন্য। 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ-উল আহসান বলেন, বিমানবন্দরে ডি সারিতে স্ক্রিনার নুরুজ্জামান ও ইউনুস আলী ওই যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যানিং করেন। এরপর তার ব্যাগ তল্লাশি করে ইয়াবা আটক করেন তারা। আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

/সিএ/এমআর/

সম্পর্কিত

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০৩

ট্রান্সফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ট্রান্সফ্যাটমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রক্রিয়াধীন ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক  কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা এ তাগিদ দেন। 

অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত কর্মশালায় প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ২৯ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

এ সময় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ব্রাক ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’র (বিএফএসএ) সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ, জিএইচএআই’র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড রূহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

প্রজ্ঞার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানিয়েছে, খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন। ডব্লিওএইচও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেও ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এলক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ প্রণয়নে কাজ করছে।

কর্মশালায় আবু আহমেদ শামীম বলেন, ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে। অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “আমাদের গবেষকদল ঢাকার ডালডা নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে।

রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রফতানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাবো এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

/এসআই/এফএএন/

সম্পর্কিত

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা বেড়েছে

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা বেড়েছে

রাসেলের মুক্তি দাবি

রাসেলের মুক্তি দাবি

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের দাবি

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের দাবি

‘হাসপাতাল দরকার আছে তবে প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে নয়’ 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:০০

আমাদের দেশে হাসপাতাল দরকার আছে। সেটা সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু প্রাকৃতিক হাসপাতালকে ধ্বংস করে নয়-বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ। 

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিআরবিতে গাছ কেটে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে ‘প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ করো, সিআরবি বাঁচাও’ ব্যানারে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি একথা বলেন। 

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সিআরবি নামক একটি জীবন্ত জায়গাকে নষ্ট করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণের  যে চক্রান্ত তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছে, হাসপাতাল হবে মানুষের চিকিৎসার জন্য।  কিন্তু অসুস্থতা কোত্থেকে আসে, মানুষ কেন অসুস্থ হয়, সেই জায়গাটি যেন আমরা খেয়াল করি। বুড়িগঙ্গা নদীতে যদি স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো, ঢাকা শহরে যদি গাছপালা থাকতো, তাহলে ঢাকা শহরের মানুষ যেসকল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যেমন,ফুসফুস, কিডনি,হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, পাকস্থলীসহ বিভিন্ন ধরনের নিউরোলজিকাল সমস্যা যেগুলো আছে তার অর্ধেকও থাকতো না। একটা অসুখ তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রকল্প আসলে হচ্ছে অসুখ তৈরির কারখানা।

দেশে  হাসপাতালের দরকার আছে তবে সেটা প্রকৃতি ধ্বংস করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতি নষ্ট করে কিছু লোকের ব্যবসা করার জন্য, মুনাফা অর্জন করার জন্য হাসপাতাল নামে দখল বৈধতা দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব নয়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

ওয়াকিটকি-মোটরবাইকসহ ভুয়া ইন্সপেক্টর গ্রেফতার

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

সবজির আড়ালে সৌদিতে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা 

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

‘পারিবারিক নির্যাতন কমাতে মোটিভেশন চলছে’

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ফেসবুকে বন্ধুত্ব, অতঃপর প্রতারণা

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

ইসলামি বক্তা মুফতি রিজওয়ান রফিকী গ্রেফতার

প্রতারক এহসানকে পদক দিয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক

প্রতারক এহসানকে পদক দিয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও থানায় ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও থানায় ইভ্যালির রাসেল

৮৫ হাজার কারাবন্দিকে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

৮৫ হাজার কারাবন্দিকে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় জঙ্গি হামলার চেষ্টা

চার জনের পেটে ৮৪০০ ইয়াবা

চার জনের পেটে ৮৪০০ ইয়াবা

সর্বশেষ

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

তালেবান খুঁজে পেলে হত্যা করবে, আতঙ্কে সমকামীরা

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

কক্সবাজারে বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্ভোগের শেষ নেই

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

মোটরসাইকেলে ৩ জন, ট্রাকের ধাক্কায় রাজস্ব কর্মকর্তা নিহত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

© 2021 Bangla Tribune