X
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

ফাঁদ পেতে অবাধে বক শিকার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৮

নীলফামারীতে বক শিকার থেমে নেই। স্থানীয় শিকারীদের ফাঁদে প্রতিদিন শত শত বক মারা পড়ছে। এতে ছানা বকগুলো অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না শিকারীরা।

বুধবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে নীলফামারী জেলা শহরের নিউবাপু পাড়ার মিলন পল্লী মহল্লায় দেখা যায়, কয়েকজন মিলে ধানের ক্ষেতে ফাঁদ পেতে বক শিকার করছে। 

ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাসে আমন ধানে জমে থাকা পানিতে ছোট মাছসহ পোকাগমাকড় খেতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশি পাখি। এসব পাখি শিকারে মেতে উঠেছে স্থানীয় শিকারীরা। তারা ফাঁদ পেতে পাখি ধরছে। বিশেষ করে বকের প্রজননকাল হওয়ায় ধরা পড়ছে ছানা বকগুলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সঠিক নজরদারি ও জনসচেতনতার অভাবে পাখি শিকার বেড়েছে।

ধানের ক্ষেতে ফাঁদ পেতে বক শিকার বাড়ছে

বন বিভাগ সূত্র জানায়, বর্ষার পর নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি কমতে থাকে। এ সময় আমন ধানের জমিতে ছোট মাছ ও পোকা-মাকড় খেতে আসে বিভিন্ন প্রজাতির বক। এই সুযোগে শিকারীরা বক শিকার করে স্থানীয় হাটবাজারে ও পাড়া মহল্লায় বিক্রি করছে।

স্থানীয় শিকারী সুজন মিয়া জানান, ‘দেশীয় ফাঁদে বক ধরে বিক্রি করি। এবার করোনা মহামারি ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে হাতে কাজ না থাকায় বক ধরে বিক্রি করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ নামে এক শিকারী বলেন, ‘বাড়িতে বসে না থেকে ভাইয়ার সঙ্গে বক ধরতে এসেছি। দুই ভাই পাখি শিকার করে সংসার চালাই।’

সঠিক নজরদারি ও জনসচেতনতার অভাবে বেড়েছে পাখি শিকার

নীলফামারী বন বিভাগ কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের পাখি শিকার বাড়তো না। সব সময় আইন দিয়ে সবকিছু করা যায় না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন নাহার জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি শিকার ও নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতনতার অভাবে খাল-বিলে ছুটে আসা নানা প্রজাতির বক ধরা পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আমরা দ্রুত মাইকিংসহ হাট-বাজারে অভিযানে নামবো।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২১

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা রিয়াজুল হক জোদ্দারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাকে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শুক্রবার লালমনিহাট সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রিয়াজুল হক জোদ্দারকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ।

আটক রিয়াজুল হক জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াইবরিশাল এলাকার মৃত ফুলগনির ছেলে। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

পুলিশ আরও জানায়, গত ২৫ জুলাই নৌকায় তুলে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নারী বাদী মামলা রুজু করলে দীর্ঘদিন এজাহারভুক্ত আসামি পলাতক থাকার পর গতকাল গ্রেফতার করা হয়।

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের টয়লেটে আটকে পড়ার ১১ ঘণ্টা পর বাকপ্রতিবন্ধী এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিনকে উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়া ঘটনা পৃথকভাবে তদন্তের জন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে শোকজের জবাব এবং অন্যদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বাকপ্রতিবন্ধী ওই ছাত্রীকে এই স্কুলে ভর্তি করারই কথা না। ছাত্রী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কোনও কথা বলতে পারেনি। তবে তার বাবা বলছেন, মেয়েকে পেয়েই তারা খুশি। তাদের কোনও অভিযোগ নেই। তারপরও জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক সুমন খান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে তদন্ত করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তে কারও গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শাহরাস্তির টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস ছুটির পর সবাই বাড়ি গেলেও বাথরুমের আটকা পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী শারমিন। পরে রাত ১০টার দিকে ১১ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

/এফআর/

সম্পর্কিত

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

সৈকতে বেড়াতে আসা ৬ বন্ধুর মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার

সৈকতে বেড়াতে আসা ৬ বন্ধুর মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার

এহসান গ্রুপে ৪০ লাখ টাকা রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৮

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী এবং শ্রমজীবী কাউকে বাদ দেয়নি এহসান গ্রুপ। এমনকি বিধবা ও গৃহিণীর টাকাও আত্মসাৎ করেছে তারা। পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে সুদবিহীন উচ্চ মুনাফার কথা বলে শুধুমাত্র যশোরের ১৬ হাজার মানুষকে নিঃস্ব করেছে। আত্মসাৎ করেছে ৩২২ কোটি টাকা। 

এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান এসব টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ১০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি। এই ১০ গ্রাহকের কাছ থেকে এহসান গ্রুপ হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন অসহায়ত্বের কথা। ফেরত চেয়েছেন টাকা। শাস্তি চেয়েছেন রাগীব আহসান ও তার সহযোগীদের।

পরকালে মুক্তির দোহাই দিয়ে গ্রাহকদের বলা হয়েছিল, ব্যাংকে টাকা রাখা হারাম, এহসান গ্রুপে রাখা হালাল। বেশির ভাগ গ্রাহককে মাসিক মুনাফা এবং অল্প কয়েকজনকে মেয়াদ পূর্তিতে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সংস্থার মাঠকর্মী ও পরিচালকরা।

কিন্তু টাকা গ্রহণের পরপরই সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা গা ঢাকা দেয়। অফিস বন্ধ করে দেয়। টাকা না পেয়ে ১০ গ্রাহকের মধ্যে একজন মারা গেছেন; শয্যাশায়ী হয়েছেন দুই জন। অভাব-অনটনের মধ্যে দিন পার করছেন অনেকে।

গচ্ছিত টাকা ফেরতের জন্য কয়েকজন মামলা করেছেন। অন্যরা একই পথে হাঁটছেন। এই ১০ জনের মধ্যে বেশি টাকা গচ্ছিত রাখেন যশোর শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়া এলাকার কাজী মফিজুল হক (৭৮)। তিনি পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, অবসর গ্রহণের পর হজ করি। হজ শেষে দেশে ফেরার পর শহরের দড়াটানা জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাই। সেখানকার ইমাম-মুয়াজ্জিন আমাকে জানান, ব্যাংকে টাকা রাখা হারাম। পরকালে জবাবদিহি করা লাগবে। তারা আমাকে বোঝাতে সক্ষম হন, এহসান গ্রুপে টাকা রাখলে হালাল হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। তাই অবসরকালীন যে টাকা পাই, সেখান থেকে চার দফায় ৪০ লাখ দিই। প্রথমে ২০ লাখ, এরপর পাঁচ লাখ করে দুবার এবং শেষে ১০ লাখ টাকা দিই। মাসিক লাখে ১৫০০ টাকা মুনাফা ৪-৫ মাস পাই। এরপর লভ্যাংশ দূরে থাক মূল টাকাও পাইনি। টাকা উদ্ধারে আদালতে মামলা করেছি।

চোপদারপাড়া এলাকার বিধবা জুলেখা বেগম (৬৮)। তিনি গচ্ছিত রাখেন প্রায় ১৬ লাখ টাকা। টাকা জমা দেওয়ার কিছু রশিদ হারিয়ে গেছে। তবে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার রশিদ আছে তার কাছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় জামে মসজিদের হুজুর ইমদাদের মাধ্যমে এহসান গ্রুপের নাম শুনি। ইমদাদের মাধ্যমেই এহসান গ্রুপে টাকা রাখি। এর আগে সমিতির নিয়মে ৫০-১০০ টাকার কিস্তি চালাতাম। সেখান থেকে একবার ১৮ হাজার টাকা উত্তোলন করি। এভাবে বিশ্বাস হয়। আমি ছাড়াও এলাকার অনেক মানুষ এহসান গ্রুপে টাকা জমা রাখতো। আলেম-ওলামার প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কারণে আমরা অনেক কষ্টের টাকা সেখানে জমা রেখেছি। বছর খানেক লভ্যাংশ পেয়েছি। লভ্যাংশ এবং মূল টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করি।

শহরের রামকৃষ্ণ রোড এলাকার বাসিন্দা মুস্তফা দ্বীন মোহাম্মদ (৭৮)। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এহসান গ্রুপের অন্যতম পরিচালক মুফতি আতাউল্লাহ তাকে এই খাতে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। মুস্তফা ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা রাখেন। কিন্তু এক টাকাও ফেরত পাননি। আতাউল্লাহর বাবা ছিলেন মুস্তফার শিক্ষাগুরু। মুফতি আতাউল্লাহর চাচাতো ভাই মাওলানা জোনায়েদ ও আইয়ুবও তার পরিচিত এবং টাকা রাখতে তারা প্ররোচনা দেন। ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এতদিন মামলা করেননি। কিন্তু সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের গ্রেফতার দেখে তিনিও মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের বাড়ি বিক্রি করে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন রহিমা বেগম (৭০)। একেবারে নিঃস্ব রহিমা এখন শহরতলীর ঝুমঝুমপুর ময়লাখানা এলাকার ভাঙা ঘরে বসবাস করেন। ইতোমধ্যে দুই দফা স্ট্রোক করেছেন। সারাদিন শুয়েই থাকেন। এক ছেলে দিনমজুর; প্রায়ই কাজ থাকে না তার। রহিমা মাঝেমধ্যে ভিক্ষাও করেন। তিনি তার কষ্টের টাকাগুলো ফেরত চেয়েছেন।

যশোর শহরের শংকরপুরে ভিটাবাড়ির আট শতক জমি বিক্রির ১২ লাখ টাকা এবং নিজের জমানো এক লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এহসান গ্রুপে রাখেন আফসার উদ্দিন (৬৭)। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে টাকা জমা রাখার পর ছয় মাস মুনাফা পান। এরপর গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করে প্রতিষ্ঠান। তিনি টাকা আদায়ে মামলা করার জন্য একজনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন।

সবেদা বেগম (৫৫) নামে এক নারী জাকির হোসেন নামে এক হুজুরের প্ররোচনায় এহসান গ্রুপে জমা দেন ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বাড়ি শহরের রাজা বরদাকান্ত রোড এলাকায়। ২০১৪ সালে যখন জানতে পারেন টাকা-পয়সা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তখন জাকির তাকে টাকা ফেরত দেবেন মর্মে জমা রশিদ ও বই নিয়ে যান। কিন্তু টাকা ফেরত দেননি। তখন থেকে জাকির লাপাত্তা। টাকা আদায়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

শহরের ইসমাইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা লেবু বেগম (৬০) জমা দেন আট লাখ টাকা। তিনি বলেন, মাঠকর্মী জাকির ও তার স্ত্রীর প্ররোচনায় এহসানে আট লাখ টাকা জমা রাখি। যে মাসে টাকা রেখেছিলাম, পরের মাসেই তারা লাপাত্তা। এক টাকাও ফেরত পাইনি। নিজের ও ছেলের নামে টাকাগুলো জমা করেছি। আমি টাকা ফেরত চাই।

চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার আম্বিয়া বেগম (৬৮) জমা দেন ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমার কষ্টের টাকা এহসানে রেখেছি। আমি টাকাগুলো ফেরত চাই। 

শহরের পুরাতন কসবা বিমান বন্দর রোড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামসুর রহমান (৫২) তার জমি বিক্রির ১৫ লাখ টাকা এহসানে রাখেন। তিনি বলেন, বিমান বন্দর রোডের কুন্দিয়ানে জামে মসজিদের ইমাম, শহরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের প্ররোচনায় প্রথমে ১০ লাখ এবং পরে আরও পাঁচ লাখ গচ্ছিত রাখি। আমাকে বলা হয়, লাখে প্রতিমাসে ১২০০ টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। ৮-৯ মাস নিয়মিত লভ্যাংশ পেয়েছি। এরপর আর পাইনি। জমি বিক্রির টাকা প্রথমে সোনালী ব্যাংকে রেখেছিলাম। ওই ইমাম কীভাবে জানতে পারেন আমার কাছে টাকা আছে। ইসলামের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এহসানে গচ্ছিত রাখতে বাধ্য করেন। আমার সবশেষ। এ ঘটনায় আমি মামলা করবো।

সদরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মাসুদুর রহমান বাবু (৪৭) রাখেন আট লাখ টাকা। তিনি বলেন, দুই কিস্তিতে আট লাখ টাকা দিই। আমাকে বলা হয়েছিল, লাখে প্রতিমাসে ১৩০০ টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। মুফতি আতাউল্লাহ আমাকে এই হিসাবে টাকা জমা দিতে প্ররোচিত করেন। তার অপর সঙ্গী মুফতি মো. ইউনুসের সঙ্গে পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা পাত্তা দেয়নি। এখন টাকা আদায়ের জন্য আমি মামলা করবো।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে আফসার উদ্দিন ও রহিমা বেগম বর্তমানে শয্যাশায়ী। এ ছাড়া টাকার চিন্তায় স্ট্রোক করে মারা যান আম্বিয়া বেগমের স্বামী।

ধর্মের দোহাই দিয়ে মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের একটি অংশ এহসান গ্রুপে বিনিয়োগের জন্য গ্রাহক তৈরি করতেন। যশোরের প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহকের ৩২২ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় তারা। হাজার হাজার গ্রাহক এহসান গ্রুপের প্রতারণায় জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

/এএম/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

গাড়ি থেকে নামিয়ে যুবককে পিটিয়ে আহত, থানায় মামলা

গাড়ি থেকে নামিয়ে যুবককে পিটিয়ে আহত, থানায় মামলা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

বান্দরবানে যাত্রীবাহী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৬

বান্দরবানের চন্দ্রঘোনা সড়কের আমবাগান এলাকায় একটি চাঁদের গাড়িতে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে তিন জন আহত হয়েছেন। আহত একজনের প‌রিচয় পাওয়া গে‌ছে। তার নাম ওয়াইনু মারমা (২৪)।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। তবে কারা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইতোমধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দরবান থেকে একটি চাঁদের গাড়ি চন্দ্রঘোনা সড়ক দিয়ে আমবাগান এলাকা পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড় থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় গাড়ির চাকায় গুলি লাগলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহতকে উদ্ধার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে বাঙ্গালহালিয়া ও চন্দ্রঘোনার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, চাঁদের গাড়িতে হামলার বিষয়টি শুনেছেন। তবে এতে কতজন হতাহত হয়েছেন তা তিনি নিশ্চিত নন।

স্থানীয়রা জানান, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি ও মগ পার্টি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সন্ত্রাসী দলের মধ্যে আধিপত্য লড়াইয়ের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

/এফআর/

সম্পর্কিত

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে ছাত্রী উদ্ধার, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

গার্মেন্টসকর্মীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ৬

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

খুতবার আজান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত: যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

সৈকতে বেড়াতে আসা ৬ বন্ধুর মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার

সৈকতে বেড়াতে আসা ৬ বন্ধুর মধ্যে দুজনের লাশ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ এবং পরে সেখান থেকে বাংলাদেশে ঢোকার দায়ে দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার বিকালে উপজেলার শিংঝাড় সীমান্ত থেকে আটকের পর শনিবার তাদের নামে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন– উপজেলার ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৮) এবং দেওয়ানের খামার গ্রামের আতিকুর রহমানের ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ (২১)।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে শিংঝাড় ক্যাম্পের বিজিবির টহলরত একটি দল দক্ষিণ শিংঝাড় মাঠের পার এলাকায় দুই ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার কাছ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখেন। এ সময় তাদের আটক করে ভূরুঙ্গামারী থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

পরে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইন ১৯৭৩-এর ১১(১)(ক) ধারায় ভুরুঙ্গামারী থানার মামলা দিয়ে শনিবার তাদের কুড়িগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

/এমএএ/

সম্পর্কিত

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

কুড়িগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন, যুবককে খুঁজছে পুলিশ

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

এক সপ্তাহে মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে সপ্তাহের ৭ দিনই দেশে ফেরা যাবে

হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে সপ্তাহের ৭ দিনই দেশে ফেরা যাবে

মসজিদ থেকে গ্রেফতার ১১ জনের রিমান্ড আবেদন

মসজিদ থেকে গ্রেফতার ১১ জনের রিমান্ড আবেদন

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

এবার আলুর ন্যায্য দাম পাবেন না কৃষকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী 

দিনাজপুরে মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪৫

দিনাজপুরে মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪৫

আদালতের ক্যানটিনে সংঘর্ষ, কারাগারে বাদী-বিবাদী পক্ষের ৬ জন 

আদালতের ক্যানটিনে সংঘর্ষ, কারাগারে বাদী-বিবাদী পক্ষের ৬ জন 

সর্বশেষ

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

৫ লাখেরও বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে আজ 

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

ঘুরছে বাংলা কারের চাকা, ৮ লাখেই নতুন মডেল

অস্কার ব্রুজনের ‘আগুনের গোলায় ঝাঁপ’

অস্কার ব্রুজনের ‘আগুনের গোলায় ঝাঁপ’

© 2021 Bangla Tribune