X
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

পিজ্জাবার্গ ও ডনমেক-এ একদিন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৭

ভোজনরসিকের কাছে গলির টং-এর দোকানের চায়েরও র‍য়েছে আলাদা কদর। তেমনি অনেকে আছেন যারা লোকাল ফাস্টফুড আইটেম পেলেই বর্তে যান। নগরীতে এমন কিছু ফাস্টফুড শপ আছে, ভোজনরসিকরা যেগুলোকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছেন। দিনে দিনে রেস্তোরাঁগুলো বেড়ে উঠেছে যার যার সিগনেচার স্টাইলে। এমন সব ফুড শপ নিয়ে নিয়মিত আয়োজনে আজ থাকছে পিজ্জাবার্গ ও ডনমেক-এর কথা।

ফাস্ট ফুড মানেই তো পিজ্জা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, ফ্রাইস, প্ল্যাটারস, টাকোস, স্টেক, নাগেটস। তবে এদের মধ্যে পিজ্জার জনপ্রিয়তা বেশি। এর পরই আছে হরেক পদের বার্গার।

 

পিজ্জাবার্গ

কথা হলো সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির সৈকতের সঙ্গে। তার মতে, পৃথিবীতে পিজ্জার চেয়ে সুস্বাদু আর কিছু নেই। আর ঢাকায় পিজ্জা খেতে হলে সে ছুট লাগায় পিজ্জাবার্গ-এ। চলে গেলাম সৈকতের কথা শুনে।

পিজ্জাবার্গের মিরপুর শাখায় গিয়েই দেখলাম নগরীর সব পিজ্জাখেকোদের মেলা বসেছে যেন। নজর কাড়লো একটা বিষয় ছোট-বড় সববয়সী পিজ্জা পছন্দ করা মানুষ দেখে। ইন্টেরিয়রটাও বেশ স্পোর্টি। চোখের জন্য আরামদায়ক করেই সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা। সৈকতের মতো আরও অনেক কলেজপড়ুয়ার দেখা মিললো এখানে এসে।

কথা হলো পিজ্জাবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মির মেহেদীর সঙ্গে। মেহেদী জানালেন, ‘ছোটবেলায় প্রচুর পিজ্জা খেতাম। অনেক সময় দাম পড়ে যেত বেশি। পকেটে টান থাকলে তিনজন ভাগ করে খেতাম। তবুও নানান ফ্লেভারের পিজ্জা খেতে চাইতাম। তখন থেকেই ঠিক করি বড় হয়ে পিজ্জার সঙ্গে বাঙালিয়ানা যোগ করে স্বাদে নতুনত্ব আনবো।’

পিজ্জাবার্গের পিজ্জা

অনেক রকম পিজ্জা তৈরি করে পিজ্জাবার্গ। এর মধ্যে আছে সসেজ কারনিভাল, চিজ ফাউন্টেন, মিটি অনিওন, টেন্ডার বিফ, লেয়ার কেক পিজ্জা, ফায়ার বল, ডিপ সি ফ্যান্টাসি, মিট মাসালা, চার স্বাদের মিক্স পিজ্জা, বারবিকিউ মিটি মেশিন পিজ্জাসহ আরও কয়েক পদের পিজ্জা। পিজ্জালাভাররা রীতিমতো ধন্দে পড়ে যাবেন, কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবেন।

ঢাকাজুড়ে ৮টি শাখা রয়েছে পিজ্জাবার্গের-ধানমন্ডি, মিরপুর-২, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, উত্তরা, খিলগাঁও, শ্যামলি, বনশ্রী ও ওয়ারিতে। দাম ২৫০ থেকে শুরু করে ৯৩৫ টাকা।

 

ডনমেক

ফাস্টফুড নিয়ে নেটে খানিকটা ঘাঁটাঘাঁটিতে জানা গেলো শহরে এসেছে তুরস্কের ফ্লেভারে নতুন ফুডপ্লেস-ডনমেক। ডনমেক-এ রয়েছে টার্কিশ, জার্মান, অস্ট্রেলিয়ানসহ আরও অনেক । তাদের তুর্কি ডোনার কাবাব ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। রিভিউ দেখে যাওয়া হলো ডনমেক-এ। কথা হলো প্রতিষ্ঠাতা শাফাকাত মোবাশ্বিরের সঙ্গে।

জানালেন, বনানী ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘দুরুম-টার্কিশ ডোনারের’ সাফল্যই অনুপ্রেরণা দিয়েছে তাকে। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ডোনার শপ ‘ডনমেক’ প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেই অনুপ্রেরণাতেই।

টার্কিশ ভোজনপ্রেমীরাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ছিমছাম এই রেস্তোরাঁ থেকে। বনানীর ২৭ নম্বর রোডের হাউস নং ৮ (কে ব্লক)-এ গেলেই নাকে আসবে কাবাবের ঘ্রাণ। দাম একেবারে বলা যায় হাতের নাগালেই। ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যেই পাবেন জার্মান ডোনার কাবাব, টার্কিশ ডোনার কাবাব র‍্যাপ, হালাল স্ন্যাক প্যাক, গ্রিলড চিজ ডোনার, ডোনার নাচোস, ডোনার রাইস প্লাটার, ডোনার সালাদসহ আরও অনেক কিছু। তবে খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দিতে ভেতরকার পরিবেশ ও কর্মীদের আতিথেয়তাও কিন্তু কম ভূমিকা রাখবে না!

/এফএ/

সম্পর্কিত

বিশ্বজুড়ে পিৎজার যত আজব টপিংস!

বিশ্বজুড়ে পিৎজার যত আজব টপিংস!

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

কোরিয়ার জনপ্রিয় খাবার 'বুলগগি'। বুলগগি কোরিয়ান শব্দ। বুল শব্দের অর্থ গ্রিল করা বা ভাজা। আর গগি মানে মাংস। বাসায় অতিথি এলে কোরিয়ানদের পাতে বুলগগি থাকবেই৷ কারণ এটার রেসিপি বেশ সহজ হলেও খেতে সুস্বাদু।

 

কোরিয়ান বুলগগি বানাতে যা যা লাগবে

  • দেড় থেকে দুই পাউন্ড হাড়ছাড়া গরুর মাংস
  • ২-৩ টেবিল চামচ সয়াসস
  • বড় করে কাটা দুই-তিনটি পেঁয়াজ
  • ৩-৪টা রসুনের কোয়া
  • ১ চা চামচ ভিনেগার
  • আধা চা চামচ আদাবাটা
  • আধা চা চামচ বা পরিমাণমতো গোলমরিচ গুঁড়া
  • ১ চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার
  • ১-২ চা চামচ মরিচ গুঁড়া
  • ১-২ চা চামচ চিনি
  • তিল ভাজা
  • স্বাদমতো মধু

 

প্রস্তুত প্রণালী

  • প্রথমে মাংসের টুকরোগুলো পাতলা করে কেটে নিন। এরপর পেঁয়াজ আর রসুন বড় বড় করে কেটে একটি বাটিতে ঢালুন।
  • মধু আর তিল বাদে সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে ম্যারিনেট করে একটি বাটিতে রেখে ঢাকনা দিয়ে ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। ভালো হয় যদি পুরো রাত ফ্রিজে রাখা হয়।
  • এবার একটি নন-স্টিকি ফ্রাইপ্যানে অল্প তেল গরম করুন। তেল গরম হলে ম্যারিনেটেড মাংসটা প্যানে দিন। আস্তে আস্তে মাংসটা কষাতে হবে, যতক্ষণ না পানি বের হয়ে শুকিয়ে আসে। মাংস শুকিয়ে মচমচে বাদামি হয়ে যাওয়ার পর এর ওপর তিল ও মধু ছড়িয়ে দিন। ব্যস, হয়ে গেল কোরিয়ান বুলগগি।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : মজার স্ন্যাকস আলু চিলা

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

রেসিপি : এলাচ নারিকেলের বরফি

রেসিপি : আলু জিরার রোল

রেসিপি : আলু জিরার রোল

রেসিপি : পুষ্টিতে ভরা সাউথ-ওয়েস্ট পাস্তা

রেসিপি : পুষ্টিতে ভরা সাউথ-ওয়েস্ট পাস্তা

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১৪:২৮

‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ বলে একটা কথা আছে। ফুল মানে নরম-সরম কিছু নয়, ফুলে আছে শক্তি। আর সেটাই মনে করিয়ে দিলেন বলিউড গ্ল্যামার কন্যা ক্যাটরিনা কাইফ।

ক্যাটরিনার এ পোশাকে যেন লেগেছে সূর্যের ছটা

সব্যসাচীর নকশায় এ লেহেঙ্গায় স্পষ্টতই সূর্যের রক্তিম ছটার ইঙ্গিত। ফুল স্লিভ লাল ব্লাউজের সঙ্গে মাল্টিকালার ফ্লোরাল লেহেঙ্গায় একেবারে নতুন অবতারে ক্যাটরিনা।

ফুলের বিশুদ্ধতায় ক্যাটরিনা কাইফ

এ লেহেঙ্গার ভাঁজে ভাঁজে পাওয়া যাবে তরতাজা নিশ্বাস। বড় দুই ঝুমকো এনে দিয়েছে আরও বেশি ইনোসেন্ট লুক।

কালো লেহেঙ্গার সঙ্গে মানানসই চোকার

এটাও সব্যসাচীর নকশায়। সম্প্রতি নিজের সিনেমার প্রচারে কালো লেহেঙ্গাটাই পরতে দেখা গিয়েছিল ৩৮ বছর বয়সী এ নায়িকাকে। লুকটাকে আরও দশাসই করতে পরেছেন বড় আকারের চোকার।

নীলের ছটায় একাকার

নীলের এ রঙের ছটায় যেন আকাশের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার। পোশাকটির নকশাকার হলেন আনিতা ডোংরে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৭

সবুজের সংস্পর্শ শরীর ও মনকে করে প্রফুল্ল। বিশেষ করে শহরের ফ্ল্যাটবন্দি জীবন যাদের, তাদের জন্য দম ফেলতে এক চিলতে বারান্দাই ভরসা। কিন্তু গাছ কিনে টবে লাগালেই বাগান হয় না। কতটা আলো-বাতাস আসছে, কোন গাছে কেমন মাটি বা সার লাগবে, টবটা কেমন হবে, জানতে হয় এসবও।

 

বারান্দায় কোন গাছ লাগাবেন

ছোট পরিসরে মাঝারি টবের জন্য উপযোগী গাছই বারান্দায় যুৎসই। ফলের গাছ বারান্দায় লাগালে সেগুলো ঠিকঠাক বেড়ে উঠতে পারে না। বারান্দায় আলো কম থাকলে উপযোগী হলো পাতা খাওয়া যায় এমন সবজি, এবং যেগুলোতে ফুল বা ফল কোনোটাই হয় না। সরাসরি সূর্যের আলো থাকলে ফুল গাছ লাগানো যায়।

অল্প কিছুক্ষণ সূর্যের আলো পড়লে যেগুলো লাগানো যায়-লেবু, মরিচ, জুঁই, অর্কিড, ক্যাকটাস, অ্যাডেনিয়াম, মানিপ্লান্ট, বাগান বিলাস, স্নেক প্লান্ট, লাকি ব্যাম্বু্ ইত্যাদি। এ ছাড়া মৌসুমি ফুলগাছ, রেইন লিলি, কয়েন প্লান্ট, ইঞ্চ প্লান্ট, বেবি টিয়ার্স, নয়নতারা, সন্ধ্যামালতী, পর্তুলিকা, পিটুনিয়া, বেলি, গোলাপ, টগর, পাতাবাহারও লাগাতে পারেন।

 

বারান্দার গাছের যত্ন

কোন গাছ কীভাবে পটিং করবেন, মাটি কীভাবে প্রস্তুত করবেন, কোন গাছের কতটুকু আলো ও পানি দরকার এসব জেনে রাখা চাই।

প্রথমেই আসা যাক পটিং প্রসঙ্গে। পটিং হচ্ছে কী ধরনের টবে গাছ লাগাবেন এবং কোন গাছের জন্য কোন সাইজের টব লাগবে সেটা ঠিক করা। গাছের আকার অনুযায়ী পট বাছাই করতে হবে। বড় আকারের টবে গাছ বেশি পুষ্টি পাবে। শিকড় বাড়ার পর্যাপ্ত জায়গাও পাবে। আবার যেসব গাছ ধীরে বাড়ে সেগুলোর ক্ষেত্রে ছোট টব নেওয়া যায়। লেবু, ক্যাপসিকাম বা ফুল গাছের জন্য বড় টব বাছাই করা ভালো।

এ বিষয়ে বৃক্ষপ্রেমী জারিন তাসমিন বললেন, ‘টবে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই আগে টবের নিচে ছোট করে কয়েকটি ছিদ্র করে নিতে হবে। খোলা মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশন হলেও টবের পানি নিষ্কাশনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকা চাই। না থাকলে টবে পানি আটকে শিকড় পচে যেতে পারে।’

 

মাটি তৈরি

শুরুতে এটাকে অনেকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না। বাইরের খোলা পরিবেশে মাটিতে গাছ লাগালে সেখানে শেকড় অনেক দূর ও গভীরে ছড়াতে পারে। তাই গাছ সহজে পুষ্টি নিতে পারে। বারান্দার টবে সেই সুযোগ নেই। তাই মাটিতেই থাকতে হবে দরকারি সব পুষ্টি। এক্ষেত্রে কোকোপিট, কেঁচো সার এগুলোর মিশ্রণটা বেশ কাজের। সাধারণত তিন ভাগ কোকোপিটের সঙ্গে এক ভাগ কেঁচো সার তথা ভারমি কম্পোস্ট মেশাতে হয়। সেই অল্প পরিমাণে খৈল ও গাছের ক্যালসিয়ামের চাহিদানুযায়ী হাড়ের গুঁড়াও মেশানো যায়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ নূর হৃদয় জানালেন, ‘বারান্দায় হাসনাহেনা, মানিপ্লান্ট, পাতাবাহার, গোলাপ ও আরও কিছু গাছ লাগিয়েছি। পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি জৈব সারই ব্যবহার করেছি। ছোট পরিসারে সাধারণত জৈব সার ব্যবহার করাই ভালো। মাটি যদি শক্ত বা এঁটেল মাটি বেশি থাকে, তবে তাতে রাসায়নিক সার মানানসই হয় না।’

 

গাছের খাবার-পানি

সাধারণত সব গাছে সমান রোদ লাগে না। এমনকি সবগাছে একই পরিমাণ খাবার বা পানিও লাগে না। ফুল ও ফলগাছে রোদের প্রয়োজন হয় বেশি। আবার মানিপ্লান্ট, কয়েন প্লান্ট, লাকি ব্যাম্বু, স্নেক প্লান্ট জাতীয় গাছে বেশি রোদ লাগে না। পানি গাছের জন্য জরুরি। তবে কিছু গাছে বেশি পানি দিলে গাছ মারাও যেতে পারে। এক্ষেত্রে কিছুটা মাটি হাতে নিয়ে দেখতে হবে সেটা স্যাঁতস্যাঁতে কিনা। যদি মাটির আর্দ্রতা ঠিক থাকে তবে পানির প্রয়োজন নেই। শুকনো ও গুঁড়ো মনে হলে পানি দিতে হবে। গাছের পাতায়ও পানি স্প্রে করে দিতে হবে দুই তিন দিন পর পর। আর যে কোনও ধরনের গাছের জন্যই একটি উপকারী বস্তু হলো এপসম সল্ট। এক গ্যালন পানিতে ২ চা চামচ ভালো করে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করলেই গাছের ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দূর হবে। এতে ফুলের সংখ্যা বাড়ে, পাতাও সতেজ হয়।

তবে গাছের অতিরিক্ত যত্ন নিতে গিয়ে আমরা অনেক সময় কিছু ভুল করি। যেমন অনেক বেশি পুষ্টি উপাদান কিংবা সার ব্যবহার করে ফেলি। এটি কখনোই উচিত নয়। বেশি সার দিলে গাছ বেশি দ্রুত তো বাড়বেই না, উল্টো সেটা মারা যেতে পারে। আবার অনেক সময় গাছ লাগিয়ে দায় সারা ভাব দেখাই। গাছের মরা বা আক্রান্ত পাতা নিয়মিত ছেঁটে দিতে হবে।

 

গাছের কেমন দাম?

এখন স্থানীয় নার্সারিগুলোতেই অনেক নামিদামি গাছ পাবেন। রাজধানীর দোয়েল চত্বরেও অনেক গাছের সমারোহ। আবার ফেসবুকে সার্চ করলেও পেয়ে যাবেন অনেক অনলাইন নার্সারি। সাধারণত দেশীয় ফুল গাছগুলোর দাম পড়বে ৩০-১০০ টাকা। ফলগাছ পাওয়া যাবে ২০০-৪০০ টাকায়। তবে বড় আকারের গাছ যদি ছোট টবে বিক্রি করতে দেখেন, সেটা না কেনাই ভালো। আবার দামি অর্কিডের দামই শুরু হয় সাধারণত হাজার-দুই হাজার টাকা থেকে।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৬

অনেককেই বলতে শোনা যায়, বুকের বাঁ পাশে মাঝে মাঝে চিনচিনে ব্যথা করে। কিছুক্ষণ হাঁটলে হাঁপিয়ে যান। কিংবা বুক জ্যাম হয়ে আছে বলে মনে হয়। এটা কি হার্টের সমস্যার কারণে, নাকি অন্য কোনও কারণ আছে?

 

বুকের বাঁ পাশে ব্যথার কারণ

বুকের বাঁ পাশে ব্যথার সাধারণ চারটি কারণ হলো—

১। আইএইচডি বা হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমা।

২। হার্ট অ্যাটাক হওয়া।

৩। প্যানিক অ্যাটাক।

৪। গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা।

 

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ যেভাবে বুঝবেন

সাধারণত আমরা হৃদরোগ বলতে যা বুঝি, সেটাই ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ। এই রোগে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীগুলোতে চর্বি জমে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ব্যথা হয়। সাধারণত এই রোগ ৪০ বছরের আগে হয় না এবং যাদের হয় তাদের অধিকাংশেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। তাই কারও যদি বয়স ৪০-এর বেশি হয় এবং বুকে চিনচিনে ব্যথা করে এবং তার উচ্চরক্তচাপও থাকে তবে হৃদরোগের কথা মাথায় রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ ভারী কাজ, কিংবা হাঁটাহাঁটি করলে বা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে বুকে ব্যথা শুরু হয়। ব্যক্তি হাঁপিয়ে ওঠেন। শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। বুক ধড়ফড় করে। ব্যথা বাঁ বাহু ও ঘাড়ের দিকে যেতে পারে। সঙ্গে ঘেমেও উঠতে পারে শরীর। কিছুক্ষণ পর এই ব্যথা চলে যাবে। এমনটা দুই-একদিন পরপর হতে পারে।

আবার অনেক সময় বেশি খেলেও তীক্ষ্ম একটা ব্যথা হয়। এর কারণ হলো খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করা কিংবা হাঁটাহাঁটি করা। তখন হার্টের অধিক পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনের দরকার হয়। তবে যাদের ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ রয়েছে তাদের রক্ত সঞ্চালন কম হয়। এ কারণেও ব্যথা হয়।

 

করণীয়

হার্ট বিশেষজ্ঞ তথা কার্ডিওলজিস্ট দেখাতে হবে। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তে চর্বির পরিমাণ দেখতে হবে। যদি প্রেশার বেশি থাকে তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেডিসিন নিতে হবে এবং হার্টের ওপর চাপ কমানোর ওষুধও খেতে হবে। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ এবং রক্ত চলাচল সচল রাখার ওষুধও খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। সেইসঙ্গে চর্বিজাতীয় খাবার, লবণ, ধূমপান, অ্যালকোহল ইত্যাদি বাদ দিতে হবে।

 

হার্ট অ্যাটাকজনিত বুক ব্যথা

সাধারণত ৪০ বছরের নিচে হার্ট অ্যাটাক হতে দেখা যায় না। তবে এর ব্যতিক্রম এখন ঢের দেখা যাচ্ছে। যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়, তাদের সাধারণত আগে থেকেই হাই ব্লাডপ্রেশার কিংবা রক্তনালীজনিত ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ থেকে থাকতে পারে। অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক রোগীর ইতিহাস নিয়ে জানা যায়, যেদিন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে সেদিন কিংবা আগের দিন তারা প্রেশারের ওষুধ খাননি। এ কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

এমন অনেকে আছেন, তাদের যে উচ্চ রক্তচাপ বা আগে থেকে হৃদরোগ আছে, তারা তা ডাক্তারের কাছে না যাওয়ার আগে জানতেই পারেন না। তাই অনেকে বলে, সকালে সুস্থ দেখলাম হঠাৎ ঘুরে পড়ে মরে গেলো মানুষটা!

 

হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা যেভাবে বুঝবেন

হঠাৎ খাবারের পর কিংবা কোনও জার্নি করার পর কিংবা হাঁটাহাঁটি বা ভারী কাজের পর কিংবা উত্তেজনাবশত কারও সঙ্গে চেঁচামেচি করার পর বা বেশি দুঃশ্চিতার সময় বুকের বাঁ পাশে চাপ দিয়ে ব্যথা শুরু হয়। মন হবে বুক জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। ব্যথা পর্যায়ক্রমে বাড়তেই থাকবে। ব্যথা পেটের দিকে, পিঠের দিকে, বাঁ বাহুর দিকে ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়বে। ব্যথার তীব্রতায় রোগী দাঁড়ানো থেকে বুক ধরে বসে যাবে কিংবা শুয়ে পড়বে। কপালে মুখে ঘাম দেখা দেবে।

বমি বমি ভাব বা বমি হবে। ব্যথা কমবে না। বরং বাড়তেই থাকবে। সাধারণত ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ-এর ব্যথায় রোগী পেছনে কিছুতে হেলান দিয়ে বসলে ব্যথা কমে। তবে হার্ট অ্যাটাক-এর ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা বাড়বে। তীব্র হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে সঠিক সময় চিকিৎসা করাতে না পারলে রোগী মারাও যেতে পারে।

 

করণীয়

যদি হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে বুঝতে পারেন তা হলে সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা হিসেবে ৪টি অ্যাসপিরিন (৭৫ এমজি) ট্যাবলেট, ৪টি ক্লোপিডোগ্রেল (৭৫এমজি) একটা নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট ও অ্যাটরভ্যাস্টাটিন ট্যাবলেট পানিতে মিশিয়ে কিংবা রোগীকে দিয়ে চিবিয়ে খাইয়ে দিতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

প্যানিক অ্যাটাকজনিত বুকে ব্যথা

সাধারণত ৪০ বছর বয়সের কম যারা, তাদের প্যানিক অ্যাটাক বেশি হয়। এক্ষেত্রে রোগীর আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের রেকর্ড না-ও থাকতে পারে। তারা অতিমাত্রায় দুঃশ্চিতা কিংবা কোনও কিছু নিয়ে ভয়ে থাকেন। সেটা হতে পারে পরীক্ষা ভীতি, জীবন নিয়ে ভীতি। এরাই প্যানিক অ্যাটাকে পড়েন।

এতে হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে যেন বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। রোগী বলবে কিংবা তার কাছে মনে হবে একটু পর সে মরে যাচ্ছে। অর্থাৎ তার ভেতর মৃত্যুভয় বেশি কাজ করবে। হাতে-পায়ে কাঁপুনিও আসতে পারে। ‍বুক ধড়ফড় করবে। এক্ষেত্রে ইসিজি করলে নরমাল রিপোর্টই আসবে।

 

করণীয়

রোগীর সঙ্গে মন খুলে কথা বলে তাকে অভয় দিতে হবে এবং সে সুস্থ হয়ে যাবে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যেহেতু এটি মূলত মানসিক, তাই পরে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন।

 

গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটিজনিত বুকে ব্যথা

এক্ষেত্রে ব্যথা বুকের বাঁ পাশে না হয়ে উপরিভাগে হবে। ব্যথায় জ্বালাপোড়ার ভাব থাকবে। খাবারের পর ব্যথা বেড়ে যাবে। খাবারের সময়ও একটা প্রতিবন্ধকতা মনে হবে। বমি ভাব হতে পারে।

সাধারণত খাবারে অনিয়ম হলে, বেশি ঝাল বা তেলজাতীয় খাবার খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রাইটিস বেড়ে বুকে ব্যথা হতে পারে।

হার্টের ব্যথায় যেমন বুক চিনচিন করে কিংবা ব্যথা বাহু ও ঘাড়ে ছড়ায়, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা তেমন হয় না। কারও ক্ষেত্রে মনে হবে তার পেট-পিঠ দুটোতেই তীব্র ব্যথা। বমির ভাব ও ঢেঁকুর আসবে। গ্যাস্ট্রাইটিসের ব্যথা যে কোনও বয়সেই হতে পারে।

 

করণীয়

গ্যাস্ট্রাইটিসজনিত বুকের ব্যথা সাধারণত অ্যান্টাসিড জাতীয় সিরাপ খেলে কমে যায়। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্নও হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় আলসারও এর কারণ হয়ে থাকে৷ সেটার চিকিৎসাপদ্ধতি আবার অন্যরকম।

 

লেখক: পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট।

/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

ইউরিন ইনফেকশন : উপসর্গ, কারণ ও প্রতিকার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ১৩:২৭

অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও দূষণের কারণে ইউরিন ইনফেকশন এখন সাধারণ একটি সমস্যা। এর কারণ ও প্রতিকার জানতে আগে জেনে নেওয়া যাক কিডনির কাজ ও মূত্রতন্ত্র সম্পর্কে।

মানবদেহে প্রতিনিয়ত যে বর্জ্য তৈরি হয় তা মল-মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ইউরিন তথা প্রস্রাব মূলত কিডনি দিয়ে রক্তকে ছেঁকে তৈরি হয়। মানুষের দুটো কিডনি প্রতি মিনিটে ১ লিটারেরও বেশি রক্ত ছেঁকে নিচ্ছে। এই ছাঁকনের মাধ্যমে রক্তের ক্ষতিকর বর্জ্য যথা ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কোনও কারণে কিডনিতে ইনফেকশন হলে বা কিডনি রোগ হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড এসব কিডনি ছাঁকতে পারে না।  

 

মূত্রতন্ত্র: মূলত কিডনি দিয়ে মূত্র তৈরি হলেও মূত্রতন্ত্র বলতে ৪টি অংশকে বোঝায়—

কিডনি: প্রতি মিনিটে ১২০০ মিলিলিটার রক্ত ছাঁকন হয়ে ১-২ মিলিলিটার ইউরিন তৈরি হয়।

ইউরেটার: এটি কিডনি থেকে মূত্রথলি পর্যন্ত একটা সরু নালিকা, যার মাধ্যমে কিডনিতে তৈরি হওয়া ইউরিন মূত্রথলিতে গিয়ে জমা হয়।

মূত্রথলি বা ব্লাডার: যেখানে মূত্র জমা হয়।

ইউরেথ্রা বা মূত্রনালী: মূত্রথলি থেকে যে পথ দিয়ে মূত্র বেরিয়ে যায়।

 

ইউরিন ইনফেকশন কী?

মূত্রতন্ত্রের ৪টি অংশের যেকোনও অংশ যদি জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়, তবে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন বলে। এটি নারী-পুরুষ সবার হতে পারে। তবে নারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি। কারণ তাদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি থাকে। তাই জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশনের আশঙ্কা বাড়ায়।

 

ইউরিন ইনফেকশনের উপসর্গ

১। প্রস্রাবের সময় মূথনালীতে জ্বালাপোড়া করবে কিংবা ব্যথা করবে।

২। গায়ে গায়ে জ্বর থাকবে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। কিডনিতে ইনফেকশন হলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। মূত্রতন্ত্রের অন্যান্য অংশে ইনফেকশন হলে জ্বর এলেও সাধারণত কাঁপুনি হয় না। অনেক নারী বলে থাকেন, তাদের দীর্ঘদিন গায়ে জ্বর লেগে থাকে। প্রস্রাবেও জ্বালাপোড়া করে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, তাদের ইউরিন ইনফেকশন রয়েছে।

৩। তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের সময় ব্যথা হবে।

৪। প্রস্রাবের রঙ বদলে যাবে।

৫। কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাবের বেগ হবে এবং প্রস্রাব করার পরও মনে হবে আবার হবে।

৬। বমি বমি ভাব হবে। বমিও হতে পারে। খাওয়ার রুচি কমে যাবে। শরীর দুর্বল লাগবে।

৭। প্রস্রাবে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে।

 

ইউরিন ইনফেকশনের কারণ

ইউরিন ইনফেকশন অনেক কারণে হয়। মূল কারণ হচ্ছে মূত্রপথে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। আরও যেসব কারণে হয়—

১। মলত্যাগের সময় পায়ুপথ থেকে ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে।

২। মলত্যাগের পর পায়ু পথে পেছন থেকে সামনের দিকে টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করলে টিস্যুর সংস্পর্শে ব্যাকটেরিয়ার অনুপ্রবেশ করতে পারে।

৩। শারীরিক সম্পর্কের সময়ও সুরক্ষাবিধি মেনে না চললেও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।

৪। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে (বিশেষ করে শিশুদের) ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।

৫। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বা যাদের ডায়াবেটিস বা ক্যান্সার রয়েছে, অথবা যারা ক্যানসারের ওষুধ নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও এ ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি।

৬। যারা হাই কমোড ব্যবহার করেন তাদেরও ঝুঁকি বেশি। কারণ কমোডের বসার জায়গায় লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে চলে আসতে পারে।

৭। যারা অনেকক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে।

৮। পানি কম পান করলে ইউরিন আউটপুট কম হয়। এক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশন হতে পারে।

৯। ক্যাথিটার লাগালেও ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। তা ছাড়া যাদের মূত্রপথে পাথর তৈরি হয় কিংবা প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়, তাদেরও ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি।

১০। টাইট পোশাকের কারণে ঘাম থেকে আসা ব্যাকটেরিয়াও ইনফেকশন ঘটায়। এ ছাড়া নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলেও এ রোগ হতে পারে।

১১। গর্ভবতী অবস্থায় ইনফেকশন দেখা দিতে পারে অনেকের।

১২। মাসিকের রাস্তায় সঠিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে না পারলে কিংবা মাসিকের বর্জ্য মূত্রপথের সংস্পর্শে এসেও ইনফেকশন ঘটাতে পারে।

 

প্রতিরোধ

১। টয়লেট টিস্যু ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

২। দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করতে হবে। বেশি পানি পান করলে প্রস্রাব বাড়বে। তাতে জীবাণু শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

৩। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক কমে।

৪। যাদের বারবার ইনফেকশন হয়, তারা পুকুরের পানি বা অপরিষ্কার পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন।

৫। বেশিক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।

৬। শারীরিক সম্পর্কের আগে-পরে প্রস্রাব করে নেওয়া উত্তম। এক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৭। ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে হবে। টাইট জামা পরলে ইউরেথ্রা ও সেটার আশপাশ বেশি ঘামতে পারে।

৮। নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় সঠিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে।

৯। যাদের বার বার ইনফেকশন হয়, তারা ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারেন।

১০। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

১১। প্রচুর ভিটামিন এ, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। টক ফল, আমড়া, পেয়ারা, শসা এবং প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে।

 

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা

যেহেতু ইউরিনারি ইনফেকশন একটা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত রোগ, তাই এটি দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। চিকিৎসায় দেরি করলে কিডনিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ইনফেকশন।

ইউরিন মাইক্রোসকোপিক ও ইউরিন কালচার সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা আবশ্যক। বারবার ইনফেকশন হলে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

 

লেখক: সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ-এর সিইও।

/এফএ/

সম্পর্কিত

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

রেসিপি : কোরিয়ান বুলগগি

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

ফুলেল লেহেঙ্গায় অনন্য ক্যাটরিনা

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

বারান্দায় বাগান করার আগে জেনে রাখুন

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিশ্বজুড়ে পিৎজার যত আজব টপিংস!

বিশ্বজুড়ে পিৎজার যত আজব টপিংস!

সর্বশেষ

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট ডাচরা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট ডাচরা

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

৫ দিন পর জ্বলেছে চুলা, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের

৫ দিন পর জ্বলেছে চুলা, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্তদের

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

রাজনৈতিক ঐক্যে জামায়াত অন্তরায় হলে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান এলডিপির

© 2021 Bangla Tribune