মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ‘প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ঘাটতিতে’ টিআইবির উদ্বেগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১২ আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:১২

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও আইনি নানা ঘাটতিতে এ খাতে সুশাসনের ব্যাপক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে সংস্থাটি। এই ‘সীমাবদ্ধতা’ থেকে উত্তরণে ২০ দফা সুপারিশ প্রদান করেছে টিআইবি। 

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রাক্তন ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার হেনা এবং গবেষণাটি তত্ত্বাবধান করেন একই বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া এবং বর্তমান সিনিয়র ফেলো শাহজাদা এম আকরাম। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্‌জুর-ই-আলম। 

মাউশির বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যালয়, ১৮টি উপজেলার ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করে সুশাসনের নানা নির্দেশকের আলোকে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা আনতে জাতীয় শিক্ষানীতিতে (২০১০) বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করা হলেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর খসড়া শিক্ষা আইনটি নিয়ে কাজ করা হলেও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় তা এখনও কার্যকর হয়নি। নতুন শিক্ষা কাঠামোয় শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার পুনর্বিন্যাস করার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনও পরিকল্পনা বা রূপরেখা তৈরি হয়নি।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে জাতীয় বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য টাকার অঙ্কে মোট বরাদ্দ বাড়লেও শতকরা হিসাবে তা গড়ে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ বেড়েছে। ইউনেস্কোর পরামর্শ অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে দেশের মোট জিডিপির ছয় শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ থাকলেও গত ১০ বছরে বাংলাদেশে সে হার ১০ থেকে ১২ শতাংশ।

মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ স্বত্বেও এ খাতে যে পর্যায়ের সক্ষমতা ও অগ্রগতি অর্জন প্রত্যাশিত ছিল তাতে এখনও ঘাটতি বিদ্যমান মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রায় ১১ বছর পার হলেও এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়িত হয়নি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দৃশ্যত প্রাধান্য না পাওয়ায় শিক্ষা আইন পাসের পথে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাজেটের বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল; যার ফলে অবকাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রত্যাশিত প্রস্তুতি বা অর্জন কোনটিই সম্ভব হয়নি। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতির ব্যবস্থাও সীমিত। অন্যান্য খাতের তুলনায় বেতন-ভাতা ও প্রণোদনা এখানে তুলনামূলকভাবে কম। যার ফলে মাধ্যমিক শিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জনের সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই কম।’

গবেষণার ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আইন ও নীতি সংক্রান্ত, আর্থিক বরাদ্দ সংক্রান্ত, মানবসম্পদ, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করেছে টিআইবি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; মাঠ পর্যায়ে সরাসরি রাজস্বখাতের আওতাভুক্ত সমন্বিত জনবল কাঠামো তৈরি করা; অনলাইনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা; ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো; শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত ল্যাপটপ, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য উপকরণ রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করা; উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খসড়া নিয়োগবিধি দ্রুত চূড়ান্ত করা; বেসরকারি সকল নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা; শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধিতে পদক্রম বৃদ্ধি করা; ইত্যাদি। 

/ইউআই/ইউএস/
সম্পর্কিত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু, কোথায় কত দিন বন্ধ
স্থায়ী টিসিতে শিক্ষার্থীর কী ক্ষতি হতে পারে
নিয়োগ, কোচিং, ভর্তি: বারবার কেন আলোচনায় আইডিয়াল স্কুল
সর্বশেষ খবর
‘বিশেষ ডিভাইসে’ হাত রেখে রোগ নির্ণয়, ১৫ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা
‘বিশেষ ডিভাইসে’ হাত রেখে রোগ নির্ণয়, ১৫ বছর ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা
হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ
চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৬ হত্যা  হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ
মঙ্গলের চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে জাপানের এমএমএক্স
মঙ্গলের চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে জাপানের এমএমএক্স
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি: ইশরাক
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি: ইশরাক
সর্বাধিক পঠিত
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, কী ঘটেছিল জানালেন বাবা-মা
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, কী ঘটেছিল জানালেন বাবা-মা
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ বিক্রির জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ বিক্রির জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
পদত্যাগ নিয়ে রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে ইশরাকের ‘ইউটার্ন’
পদত্যাগ নিয়ে রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে ইশরাকের ‘ইউটার্ন’