X
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

সংঘাত নয়, সহযোগিতা ও শান্তি চাই: বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৩ অক্টোবরের ঘটনা।)

 

অতীতের বিরোধ ও সংঘাতময় পথের পরিবর্তে শান্তি ও সহযোগিতার নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। আমাদের সকলের উচিত এ প্রচেষ্টাকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আত্মনিয়োগ করা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের এই দিনে এ আহ্বান জানান।

তিনি ঘোষণা করেন, তার দেশ—এশিয়া তথা বিশ্বের স্থায়ী শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ফলপ্রসূ পদক্ষেপকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে যাবে। জাপানে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরের এদিনে জাপান প্রেসক্লাবে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় ভাষণ প্রদানকালে বঙ্গবন্ধু এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘বস্তুত এই জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন উৎসাহব্যাঞ্জক লক্ষণ। ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে ভারত মহাসাগরকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত এলাকা ঘোষণায় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শান্তি, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ অঞ্চলে পরিণত করার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে নিরপেক্ষ করার প্রস্তাবের মধ্যে আমরা এর কিছু আভাস পাই। তবে এই জাতীয় পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে এটা বাস্তব রূপে দেখা দেয়। এই জাতীয় প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের অবশ্যই পূর্ণ সমর্থন দিতে হবে।’

দৈনিক বাংলা, ২৪ অক্টোবর ১৯৭৩

দিল্লিচুক্তি নিয়ে যা বললেন বঙ্গবন্ধু

উপমহাদেশে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া ও উপমহাদেশে স্থায়ী শান্তি স্থাপন এবং সকল অমীমাংসিত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। দিল্লিচুক্তি এই প্রচেষ্টারই ফল। আনন্দের সঙ্গে আমি জানাতে চাই যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। এই চুক্তি কার্যকর করার ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে চেষ্টার ত্রুটি হবে না। এ ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে যে সাহায্য আমরা পেয়েছি তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দিল্লিচুক্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার অমীমাংসিত আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির একটা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এই চুক্তির পরিপন্থী যুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন যে কোনও কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা এবং শান্তির অন্বেষণ ব্যাহত হতে বাধ্য।’

বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সকল দেশ, বিশেষ করে এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশের ঐকান্তিক আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। পশ্চিম এশিয়ার বিস্ফোরণমুখী পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, আরবদের এলাকা দখলমুক্ত করে পশ্চিম এশিয়ার ন্যায়সঙ্গত সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত এশিয়া তথা বিশ্বের শান্তি ফিরে আসবে না।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম চলাকালের দুঃসময়ের দিনে জাপান সরকার এবং দেশটির জনগণ বাংলাদেশের জনগণের জন্য যা কিছু করেছেন তার জন্য জনসাধারণ, সরকার ও ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডেইলি অবজারভার, ২৪ অক্টোবর ১৯৭৩

তোপের মুখে যুদ্ধবিরতি চুরমার

মধ্যপ্রাচ্যে বিরতি ঘোষণার পরও যুদ্ধ থামেনি। তোপের মুখে যুদ্ধবিরতি খান খান হয়ে গেছে। কামানের গর্জন আর যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে যুদ্ধবিরতি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দুটো রণাঙ্গনে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। মিসর-ইসরায়েল পরস্পরের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আত্মরক্ষার্থে আবার যুদ্ধ শুরুর কথা বলেছে।

ওদিকে ইসরায়েলের মুরুব্বি খ্যাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ইসরায়েলিদের বীরত্বে পুলক ও আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দখল করা এলাকা ধরে রাখার পরামর্শ দেন। মধ্যপ্রাচ্য বার্তা সরবরাহ প্রতিষ্ঠান বলেছে, মিসরে ইসরায়েলিদের মধ্যে ঘোরতর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। উভয়পক্ষ চলতি লড়াইয়ের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। শত শত ট্যাংক সাজোয়াঁ গাড়ি এবং অগণিত জঙ্গি বোমারু বিমান নিয়ে মিসরীয় বাহিনী সুয়েজ খাল এলাকায় শত্রুর ওপর আঘাত হানছে। সিরীয় ফ্রন্টে এদিন প্রচণ্ড আকাশযুদ্ধ হয়।

 

খুলনায় প্রথম ব্যাংক ডাকাতি

স্বাধীনতার পর খুলনায় এদিন প্রথম ব্যাংক ডাকাতি হয়। এদিন দুপুরে অগ্রণী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখায় এ ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা লুটে নিয়ে নিরাপদে সরে পড়ে। ৫ জন সশস্ত্র তরুণ সাবেক কমার্স ব্যাংক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখা অফিসে ঢুকে প্রথমেই টেলিফোনের তার কেটে দেয়। তারপর প্রায় এক লাখ টাকা নিয়ে তারা সরে পড়ে। উল্লেখ্য, ব্যাংকটি খুলনা দৌলতপুর সড়কে অবস্থিত। একই ধরনের দুস্কৃতকারীরা চলতি মাসে দৌলতপুরে আরো তিনটি অপরাধ ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ এসব অপরাধীদের ধরতে পারেনি।

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী: রাষ্ট্রপতি

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী: রাষ্ট্রপতি

আবরার হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আবরার হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

ক্রয় কমিটিতে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

ক্রয় কমিটিতে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী: রাষ্ট্রপতি

বেগম রোকেয়া ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী: রাষ্ট্রপতি

আবরার হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আবরার হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে: আইনমন্ত্রী

ক্রয় কমিটিতে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

ক্রয় কমিটিতে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

আমার মতামত কাজে লাগবে না: প্যানডোরা পেপারস প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী

আমার মতামত কাজে লাগবে না: প্যানডোরা পেপারস প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী

উসকানির বিষয়ে শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উসকানির বিষয়ে শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

করোনার চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

করোনার চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

দ্বীপের নাম ‘চর মুজিব’

দ্বীপের নাম ‘চর মুজিব’

সর্বশেষ

ভারতের ওয়ানডে অধিনায়কও রোহিত

ভারতের ওয়ানডে অধিনায়কও রোহিত

‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ পেলো আকিজ ফুড

‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ পেলো আকিজ ফুড

‘ট্রুথ সোশ্যাল’ দিয়ে ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ

‘ট্রুথ সোশ্যাল’ দিয়ে ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ

নারীদের নগদ টাকার ফাঁদে ফেলতো পাচারকারীরা

নারীদের নগদ টাকার ফাঁদে ফেলতো পাচারকারীরা

ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের রিমোট হাব ঢাকায়

ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের রিমোট হাব ঢাকায়

© 2021 Bangla Tribune