X
রবিবার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

অযত্ন অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বধ্যভূমিগুলো

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৬, ১৫:০৯

১

অযত্ন আর অবহেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭১’র বধ্যভূমিগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পরেও জেলার বধ্যভূমিগুলো এখনও সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ । এমনকি এসব বধ্যভূমির অনেকগুলোরই সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত নেই। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানান জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। আর যে দু’য়েকটি স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে সেগুলো দেখভালের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জেলার বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণে বার বার আবেদন করা হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এখন পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বছরের পর বছর শুধুই মিলেছে আশ্বাস, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। অথচ এগুলো সংরক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তালেও  তারা দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহকারী ও গবেষক অধ্যক্ষ এনামুল হক জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সাধারণ মানুষ ও সৈনিকদের সমাধিস্থল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং বর্তমান পর্যন্ত তা চালু রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের মুক্তিকামী ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হওয়ার পরেও তাদের বধ্যভূমি, গণকবর  এবং সমাধিস্থল ও যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সঠিকভাবে আজও সংরক্ষণ করা হয়নি। গড়ে ওঠেনি ওইসব স্থানগুলোতে শহীদদের স্মরণে কোনও স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনার। শুধু তাই নয়, যারা এর সুফলভোগী রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেউই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়নি। অথচ জাতীয় স্বার্থেই এসব স্থান সংরক্ষণ করা জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭১ এ পাকিস্তানি বাহিনী  তাদের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলো। আর এ নির্মমতার সাক্ষী হয়ে আছে বেশকিছু বধ্যভূমি ও গণকবর। মুক্তিযুদ্ধে এ জেলার প্রায় ৫০ হাজার মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদর বাহিনী। এ রকম কিছু বধ্যভূমি হলো কল্যাণপুর বিডিআর ক্যাম্প (বর্তমানে এটি ৯ বিজিবি’র মেইন ক্যাম্প), শশ্মানঘাট বধ্যভূমি, পুরাতন জেলখানা, নয়াগোলা, ইসলামপুর, হুজরাপুর, সোনামসজিদ-বালিয়াদীঘি গণকবর, শিবগঞ্জের বিনোদপুর, কলাবাড়ি, মনাকষায় হুমায়ন রেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের আমবাগানে অবস্থিত বধ্যভূমি, আদিনা ফজলুল হক কলেজ সংলগ্ন বাগান, খাসেরহাট, দোরশিয়া,  রানিহাটি,  আলীনগর বাঙ্গাবাড়ি গণকবর, বোয়ালিয়া ও রহনপুর সমাধিস্থল ।

সোনামসজিদ-বালিয়াদীঘি গণকবর

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদীঘি এলাকায় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ রাইফেলস, রাজশাহী সেক্টর নির্মিত ‘জীবনযুদ্ধে বিজয়ের শহীদ স্মারক স্তম্ভটি’ সঠিকভাবে দেখভালের অভাবে জরার্জীর্ণ হয়ে পড়ছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই গণকবরটির আশেপাশের  জায়গাগুলো বেদখল হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে স্থানীয়রা এখানে সাধারণ মানুষের লাশ কবর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

৪

বিনোদপুর শহীদ মিনার

১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চানশিকারী, লছমনপুর ও এবাদত বিশ্বাসের টোলা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৩৯জন মানুষকে ধরে নিয়ে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে নিয়ে আসে পাকিস্তানি সেনারা। বিদ্যালয়ের মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করে মাঠের দক্ষিণ পাশে মাটিতে লাশগুলো পুঁতে রাখে তারা। পরবর্তীতে ৭২ সালে এ স্থানে ৩৯জন শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। বর্তমানে জরার্জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে শহীদ মিনারটি। এটি সংস্কারের দাবি করেছেন শহীদ পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা। 

রহনপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর 

গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেল স্টেশনের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশন নির্মিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধটির সীমানা প্রাচীরের ভেতরের অংশ ঝোঁপঝাড় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে আছে। জমেছে নানা আবর্জনার স্তুপ। বেদিতে স্থানীয়রা নিয়মিত জ্বালানি খড়ি-কাঠ শুকায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষকে এই বধ্যভূমিতে বিভিন্ন সময় ধরে এনে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও রহনপুর সরকারি এবি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাকিস্তানি ক্যাম্পে শত শত মানুষকে ধরে এনে হত্যা করা হয়।

রেহাইচর শশ্মান ঘাট বধ্যভূমি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহানন্দা নদী তীরবর্তী শশ্মানঘাট বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে আজও নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ। এমনকি আজ পর্যন্ত চিহ্নিতও করা হয়নি এর জায়গা। শশ্মানঘাট শশ্মান হয়েই আছে। অথচ ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষকে এখানে ধরে এনে হত্যা করা হয় বলে জানায় মুক্তিযোদ্ধারা।

দোরশিয়া বধ্যভূমি

৭১ সালের ১০ অক্টোবর দোরশিয়া এলাকার ৩৯ জনসহ আশেপাশের গ্রামের আরও ২০ জন সাধারণ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করেছিলো পাকিস্তানি হানাদাররা। সেদিনের ওই ঘটনায় শহীদ ৫৯ জনের লাশ সমাহিত করা হয়। অথচ এত বছর পরও এই বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ।

ইসলামপুর বধ্যভূমি

সদর উপজেলার ইসলামপুরে ৭১ সালের ১০ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা ২ শতাধিক মানুষকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করে। যাদের মধ্যে পরবর্তীতে ১৩৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। সেদিন ইসলামপুরের পিয়ার বিশ্বাসের ঘাট, বালিয়াঘাটা ও সাহেবের ঘাট এলাকার বাড়িঘরসহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় সবকিছু।

পরবর্তীতে এই স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে সরকারের কাছে বেশ কয়েকবার আবেদন করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। আজ পর্যন্ত এমনকি ১০ অক্টোবরে শহীদদের স্মরণে এখানে কোনও স্মরণসভাও অনুষ্ঠিত হয় না।

৫

বোয়ালিয়া গণকবর

গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়ায় যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকার ২শতাধিক সাধারণ মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ১৫২ জনের নাম পরিচয় জানা গেলেও বাকিদের পাওয়া যায়নি। সেদিন ধর্ষিত হয়েছিল ওই এলাকার বহু নারী। সম্প্রতি ৪১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খেতাব দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে ১১ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার। যাদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি গোমস্তাপুর উপজেলার এই বোয়ালিয়া ইউনিয়নে। পরবর্তীতে এখানে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দেখভালের অভাবে সেটিও দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

এছাড়াও জেলায় অন্য যেসব বধ্যভূমি রয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম ৭১’র সেইসব স্মৃতি মনে করতে গিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সেইসব দিনের পৈশাচিকতা এখনও স্মৃতিতে ভয়াল রূপ নিয়ে ফিরে আসে প্রতিবছর। তিনি বলেন, উপজেলায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংরক্ষণসহ বধ্যভূমি সংরক্ষণ ব্যবস্থা আজও করা হয়নি। থানার মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্নভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারের কাছে এ মুক্তিযোদ্ধার চাওয়া যারা মুক্তিযুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় যাদের নাম আছে এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের চাকরি কোটা, সম্মানীভাতা ও তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হউক। এতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের কবরটি সম্প্রতি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে একটি নামফলক টানানো হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেটি আজও অরক্ষিত আছে। কবরটি সংরক্ষণে মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার সরকারের কাছে আবেদন করেও এখনো বাঁধানো হয়নি। এই কবরটি সংরক্ষণে  সরকারের কাছে জোর দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ শামসুল হকের মাতা মালেকা বেগম।

৩

শহীদদের তালিকা 

মুক্তিযুদ্ধে জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের সামনে একটি তালিকা স্তম্ভ করা হলেও এখনও এ তালিকায় অনেকের নাম বাকি আছে। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, অনেকের তালিকায় এখনও নাম উঠেনি। অনেকের কবরগুলো সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি আজও কোনও উদ্যোগ।

যেভাবে শহীদদের স্মরণ করা হয়

শহীদদের স্মরণে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং স্মরণসভা ছাড়া আর তেমন কোনও অনুষ্ঠান পালিত হয় না। এমনকি শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর ও দেখভালও করা হয় না।

মুক্তিযোদ্ধাদের চাওয়া 

জেলার মুক্তিযোদ্ধার জানান, ‘কোনও কিছু প্রাপ্তির জন্য নয়, দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেছি। যা ছিল পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার অবসানের সর্ববৃহৎ পদক্ষেপ। তারা বলেন, ৪৫ বছর পরও রাজাকারদের তালিকা হয় নাই। অথচ বার বার দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির নামে হয়রানি ও অসম্মান করা হচ্ছে।

আবেগ তাড়িত কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বঙ্গবন্ধু সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে তোমরা শত্রুর মোকাবেলা করো। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, বারবার সরকার বদলাবে আর নতুন নতুন তালিকা করা হবে, আর চলবে যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রহসন। এই প্রহসন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিও জানান তারা।

২

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহকারী ও গবেষক অধ্যক্ষ এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা রাজনৈতিক, শারীরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মার খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জামায়াতদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব বেশি। এখানে প্রকৃত যারা মাঠকর্মী তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী লোকজনের দ্বারা। আর এটা করছে নব্য আওয়ামী লীগাররাই। এ বিষয়ে তাই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই বর্ষীয়ান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

/এআর/টিএন/

কেন বারবার একই ভুল

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০৭:০০

২০২০ সালের মার্চে যখন প্রথমবার লকডাউনের ঘোষণা হলো তখন শুরুতেই মানুষ ছুটলো গ্রামে। ঢাকায় থাকার অনিশ্চয়তা, করোনা সংক্রমণ বিষয়ে তথ্য না জানা-সব মিলিয়ে ঢাকা ত্যাগকেই একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচনায় নেয় তারা। এরপর অন্তত পাঁচবার তারা যাওয়া আসার মধ্যেই থাকলো। প্রত্যেকবারই গণপরিবহন না থাকায় ব্যাপক হারে গাদাগাদি করে ট্রাকে-ফেরিতে ছুটলো মানুষ। এর মধ্যে বড় অংশই ভোগান্তির শিকার হয়েছে গার্মেন্ট বন্ধ আর খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দোলাচলের কারণে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকে এই যাওয়া-আসা ঠেকাতে না পারার কারণে পুরো দেশ সংক্রমিত হয়েছে। তারা বলছেন, একবার দুইবার হলে বোঝা যায় অভিজ্ঞতা না থাকায় সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু একই ভুল বারবার হলে ধরে নিতে হবে যারা সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন তারা জানেনই না তারা কী চান।

সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩০ জুলাই) গার্মেন্টস ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় গ্রাম থেকে ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ও পায়ে হেঁটে আসছেন তারা। আবার অনেকে পিকআপ ভ্যানে ও ট্রাকে চড়েও আসছেন। শনিবার (৩১ জুলাই) হাজার হাজার শ্রমিকের ভোগান্তির পরে সন্ধ্যায় ঘোষণা আসে রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গণপরিবহন থুলে দেওয়ার।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গার্মেন্ট মালিকরা কারখানার আশেপাশের শ্রমিকদের দিয়ে ‘আপাতত’ কাজ চালানোর শর্তে কারখানা খোলার কথা বলছে। কেবল এইবার না, ২০২০-এর এপ্রিলে একইভাবে টেনে আনা হয়েছিল শ্রমিকদের। সেবার বিজিএমইএ-বিকেএমইএ ঘোষণা দেয়, কাজ হবে নির্ধারিত কিছু বিভাগে। অবশিষ্ট কারখানাগুলো খোলা হবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপে। তবে, কারখানার মালিকরা চাপ না দিলেও চাকরি হারানোর আশঙ্কা কাটাতে কাজে যোগদানের উদ্দেশ্যে গ্রামে অবস্থানকারী প্রায় সব শ্রমিকই ঢাকামুখী হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এর আগে তীব্র সমালোচনার মুখে সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব পোশাক কারখানা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছিল পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

গত তিন ঈদেও ছিল একই আলোচনা

এ বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ঢাকার বাইরে যেতে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হলেও ঈদের ছুটি শেষ হলেও গাদাগাদি করেই ঢাকায় ফিরেছে মানুষ। নৌ ও সড়ক পথে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই হাজারো মানুষকে রাজধানী ছেড়ে গেছে এবং ফিরে এসেছে। দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকলেও নানা যানবাহনে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ফিরছে তারা। ফলে চাইলেও সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারছে না অনেকে।

শ্রমিকদের কারখানায় আসার জন্য বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কোনও মালিক বাধ্য করছেন না বলে শনিবার জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ‘কারখানা চালু করতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। আপাতত, ঈদের ছুটিতে যারা বাড়িতে যায়নি এবং যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের দিয়ে কারখানা চালু করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকরা হয়তো নিজ থেকে আসা শুরু করেছে।’ 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘বারবার একই রকম ভুল করা থেকে বোঝা যায়, যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা কী চান জানেন না। যে কারণে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার বদলাচ্ছেন। এখন যে বিধিনিষেধ চলছে সেটা শুরুর আগে বলা হয়, এবার আক্ষরিক অর্থে কড়াকড়ি লকডাউন হবে। কিন্তু সেটা শেষ না হতে গার্মেন্ট মালিকদের আবদার পূরণে কারখানা খুলে দেওয়া হলো। খোলা হলো বটে, কিন্তু কোনও যানবাহন না থাকায় আবারও বিপাকে পড়লো শ্রমিকরা। তারা যে যেভাবে পারলো আসতে শুরু করলো আগের মতোই। মানে হলো, যারা কাজটা করছেন তারা নিজেদের কাজটা জানেন না। সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং চূড়ান্তভাবে মুনাফার কাছে মানুষকে বলি দেওয়া হচ্ছে।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকার বাইরে থাকা শ্রমিকরা ৫ তারিখ বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার আগে কারখানায় না ফেরার শর্তে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত হলেও কেন দলে দলে শ্রমিকদের ফিরতে হলো সে এক বিস্ময়। আমাদের অনেক সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এত মানুষের জীবিকার বিষয়টি হেলা করা যাচ্ছে না, আবার কোভিড সংক্রমণের পরিস্থিতিও ভালো না। ফলে সবার জন্য যেটা ভালো সেই পথটিই খুঁজতে হবে।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালু রবিবার

৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালু রবিবার

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০২:৩৯

রফতানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে রবিববার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল শিথিল করেছে সরকার। যেসব শ্রমিক রবিবার বাড়ি থেকে আসতে চান, তাদের জন্য গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান।

একইসঙ্গে শ্রমিকদের কারখানায় আসার জন্য বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কোনও মালিক বাধ্য করছে না বলেও জানান ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ‘কারখানা চালু করতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। আপাতত, ঈদের ছুটিতে যারা  বাড়িতে যায়নি ও যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের দিয়ে কারখানা চালু করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকরা হয়ত নিজ থেকে আসা শুরু করেছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, ‘যারা ঈদে বাড়ি যাননি তাদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। কাজেই যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারা লকডাউন শিথিল হলে কাজে যোগ দেবেন। তাদের কারো চাকরি যাবে না।’

এদিকে শিল্প-কারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে রবিবার (১ আগস্ট) সারাদিন সব গণপরিবহন চলাচল শিথিল করা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহনমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে এখন থেকে রবিবার সারাদিন গণপরিবহন চলাচলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।’

এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরতে না পেরে বিক্ষোভ করে। নানা স্থান থেকে সড়ক অবরোধের খবরও পাওয়া যায়। পরে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ট্রাক ও বাস চালুর অনুমতি দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

 

/জিএম/ইউআই/আইএ/

সম্পর্কিত

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালু রবিবার

৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালু রবিবার

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

আরেক মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ০০:১৫

আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মহিলা-বিষয়ক সম্পাদক হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শনিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইয়ামিন কবির এ আবেদন করেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, যেহেতু আসামি হেলেনা জাহাঙ্গীর বর্তমানে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে ওই দিন ডাক ও টেলিযোগাযোগ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শুক্রবার (৩০ জুলাই) হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৯ জুলাই রাতে গুলশানের নিজ বাসা থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। আটকের সময় তার বাসায় বিপুল পরিমাণ মদ,  ইয়াবা, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, হরিণের চামড়াও পাওয়া গেছে বলে র‌্যাব জানায়। শুক্রবার (৩০ জুলাই) র‌্যাব বাদি হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন…

হেলেনা জাহাঙ্গীর ৩ দিনের রিমান্ডে

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুই মামলা

হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অপপ্রচারকারী সেফুদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল: র‌্যাব

যেসব মামলা হতে পারে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভির কার্যালয়ে র‌্যাবের অভিযান

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক

 

 

/এমএইচজে/আইএ/

সম্পর্কিত

চিত্রনায়িকা একা আটক, বাসা থেকে ইয়াবা-মদ উদ্ধার

চিত্রনায়িকা একা আটক, বাসা থেকে ইয়াবা-মদ উদ্ধার

দ্রুতগতির পাজেরো উঠে গেলো আইল্যান্ডে

দ্রুতগতির পাজেরো উঠে গেলো আইল্যান্ডে

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে রিট

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে রিট

আগস্টজুড়ে সুপ্রিমকোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরবেন কালো ব্যাজ

আগস্টজুড়ে সুপ্রিমকোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরবেন কালো ব্যাজ

৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালু রবিবার

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২৩:৫১

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পুনরায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। রবিবার (১ আগস্ট) থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১টায় ভারতীয় রেলওয়ের দুটি লোকোমোটিভ ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছেড়ে আসে। পরে হলদিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের চিলাহাটি রেলস্টেশনে পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করে আবার ফিরে যায়।

পাকশি বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ এবং চিলাহাটি সীমান্ত রেল সংযোগ প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিমের বরাত দিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. শরিফুল আলম এসব তথ্য জানান।

ভারতীয় প্রতিনিধিরা জানান, ১ আগস্ট থেকে এই পথে দুটি পণ্যবাহী ট্রেন চালু হচ্ছে। শুরুতে পণ্যবাহী ট্রেনে ভারত থেকে পাথর ও গম আসবে। এমনকি এ পথে অক্সিজেনবাহী ট্রেনও চলাচল করতে পারে। প্রথম ট্রিপে ৩০টি ওয়াগনের একটি পণ্যবাহী ট্রেন ভারত থেকে এই রুটে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

এর আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করা হয়। সেটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে এ বছর বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনেতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সময় ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেন। যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্বোধন করা হলেও করোনা পরিস্থিতি যাত্রীবাহী ট্রেনের চাকা আপাতত থামিয়ে রেখেছে।

অপরদিকে, উভয় দেশের তরফে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সব ব্যবস্থাই ঠিকঠাক রয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে তা থেমে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ দার্জিলিং ভ্রমণ করেন। তাদের যেতে হয় অনেক পথ ঘুরে এবং ব্যয়ও হয় বেশি। 

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পথে রেল সচল হলে ট্রেন বাংলাদেশে আসতে ১৫০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হবে। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসা সম্ভব হবে।

 

/এসএস/আইএ/

সম্পর্কিত

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

ঢাকামুখী কেন এই জনস্রোত?

রাখাইন সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদ নাগরিক সমাজের

রাখাইন সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদ নাগরিক সমাজের

এইচএসসির ফরম পূরণ শুরু ১২ আগস্ট, ফি কমেছে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ২২:২৪

চলতি বছরের (২০২১) এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ১২ আগস্ট থেকে শুরু হবে। চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। আগের বছরের চেয়ে এবার ফি কমানো হয়েছে। 

শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১১ আগস্ট সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১২ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণ কার্যক্রম চলবে। আর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা বোর্ড এসএমএস পাওয়া শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

করোনার কারণে এবার কোনও নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে। কোনও অবস্থায় শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের স্ব শরীরে প্রতিষ্ঠানের যেতে হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবার কোনও নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। তাই এ সংক্রান্ত কোনও ফি নেওয়া যাবে না। কোনও প্রতিষ্ঠান এসব আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবেন। অননুমোদিত রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করানো হলে কোনও ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই তা বাতিল করা হবে।

কোন বিভাগে কত ফি

বিজ্ঞান বিভাগে ১১৬০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ১০৭০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।

নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরম পূরণ প্যানেল বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কন্ট্রোল রুম

এইচএসসি ফরম ফরম সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ফোন-০২-৯৬৬৯৮১৫, ০২-৫৬৬১১০১৮১, ০২-৫৮৬১০২৪৮, ০১৬১০৭১১৩০৭, ০১৬২৫৬৩৮৫০৮, ০১৭২২৭৯৭৯৬৩ তে যোগাযোগে করতে বলা হয়েছে।

/এসএমএ/এমআর/

সম্পর্কিত

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

দুই দশকে ভিকারুননিসায় যত লুটপাট-অনিয়ম

গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশে শিক্ষক-গবেষকদের অনুদান দেবে ঢাবি

গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশে শিক্ষক-গবেষকদের অনুদান দেবে ঢাবি

ফের বাড়লো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

ফের বাড়লো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

১৯ আগস্টের মধ্যে এসএসসির অ্যাসাইনমেন্টের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

১৯ আগস্টের মধ্যে এসএসসির অ্যাসাইনমেন্টের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

সর্বশেষ

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে অটোয়ায় বঙ্গবন্ধু

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

প্রিন্সেস ডায়ানা-চার্লসের বিয়ের কেক নিলামে

ঘরে বসেই দেদার আড্ডা

আজ বন্ধু দিবসঘরে বসেই দেদার আড্ডা

কেন বারবার একই ভুল

কেন বারবার একই ভুল

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

তুরস্কে দাবানলের তাণ্ডবে পুড়ে মরছে পশু-পাখি

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

এখনও শেষ হয়নি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে মিয়ানমার জান্তা

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

উচ্ছেদ হবেন লাখ লাখ মার্কিনি!

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

আগস্টের প্রথম প্রহরে শত আলো জ্বললো

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

‘দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না’

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

কর্মস্থলে ফেরা হলো না ২ পোশাকশ্রমিকের

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune