X
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় 'প্রেসিডেন্টের বস'

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৬, ১২:৪৩

প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদার রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা পদে আসীন হওয়ার প্রক্রিয়ায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। তার এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ এখন কেবল প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। মঙ্গলবার মিয়ানমারের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষও সু চির জন্য রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদ সৃষ্টির করতে প্রস্তাবিত বিলটি পাস করেছে। পার্লামেন্টে এক-চতুর্থাংশ আসনের অধিকারী সেনা সদস্যদের অধিবেশন বয়কটের মধ্যেই নিম্নকক্ষে বিলটি পাস হয়। এ বিল অসাংবিধানিক, এমন অভিযোগ তুলে সেনাসদস্যরা পার্লামেন্ট বয়কট করেন। এর আগে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে বিলটি পাস হয়েছিল। সু চির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা পদে আসীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কেননা, প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াও একসময় সু চির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট না হতে পারলেও এ পদের আওতায় সু চি প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে থাকার ক্ষমতা পাবেন। দলীয় নেতাদের কেউ কেউ এ পদটিকে  ‘প্রেসিডেন্ট’স বস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করা প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াও এবং এনএলডি সরকারের কার্যক্রম ১ এপ্রিল থেকে শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে ৩১ মার্চ পার্লামেন্টে সু চি’কে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা করার প্রস্তাব করা হয়। বিলটি সংবিধানবিরোধী, পার্লামেন্টের সেনাসমর্থিত এমপিরা আপত্তি তুললেও সংখ্যাগরিষ্ঠ এনএলডি’র এমপিরা বিনা বাধায় সেটি উভয় কক্ষে পাস করিয়ে নেন। এখন প্রেসিডেন্ট কিয়াওয়ের স্বাক্ষর পেলেই সেটি আইনে পরিণত হবে। আর এতে সু চি’কে কোনও রকম বাধার মুখে পড়তে হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অং সান সু চি

দুই ছেলে ও প্রয়াত স্বামীর বিদেশি নাগরিকত্বের কারণে সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্ট হতে না পারা সু চি তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু এবং স্কুলজীবনের সহপাঠী কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট পদে বসান। সু চি’র প্রতি কিয়াওয়ের প্রশ্নাতীত আনুগত্য সত্ত্বেও সরকার কাঠামোয় সু চিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর স্বার্থে এনএলডি ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’র পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে। পার্লামেন্টে এনএলডি’র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কোনও রকম পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পার্লামেন্টে পাস হয়।

এর আগে মিয়ানমারের শিক্ষা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়া কথা ছিল সু চি’র। পরে সেটা পাল্টে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদার উপদেষ্টার দায়িত্বেই স্থির হচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। প্রেসিডেন্ট হতে সু চি’র ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ থাকায় তার সহযোগী থিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট মনোনীত করা হয়।

মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী কোনও বিদেশিকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চি’র স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক। আর তাই নির্বাচনের আগেই ‘প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে’ থেকে সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার করেন সু চি। আর থিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করাকে সু চি’র সে শপথের বাস্তবায়ন বলেই মনে করা হয়।

প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াওয়ের সঙ্গে সু চি

রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদটি সু চি’কে সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার ক্ষমতা দেবে। তিনি নিজের খুশিমতো যে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। অন্যান্য দেশে প্রধানমন্ত্রীরা যে ধরনের দায়িত্ব পালন করেন, অনেকটা সেভাবেই ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ পদটি তৈরি করা হয়েছে।

১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে জান্তা সরকারের রোষানলে ১৫ বছর সু চি’কে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে মিয়ানমারে সু চি’র দলকে সরকারের প্রতিপক্ষ মনে করা হতো। এ সময়ে দলটির বহু নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ২৫ বছর পর প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সু চি’র দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর প্রভাব থাকছে। কারণ তাদের জন্য ১৬৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছে সেনাবাহিনী। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

/এমপি/এফইউ/

সম্পর্কিত

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

পাকিস্তানে সিআইএ ঘাঁটির প্রশ্নই আসে না: ইমরান খান

পাকিস্তানে সিআইএ ঘাঁটির প্রশ্নই আসে না: ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: সিডিসি

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: সিডিসি

জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে নিজেই বানালেন সেল্ফ ব্যালেন্সিং বাইক

সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে নিজেই বানালেন সেল্ফ ব্যালেন্সিং বাইক

২৫৯ তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের

২৫৯ তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রায়িসিকে বিজয়ী ঘোষণা

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম রায়িসিকে বিজয়ী ঘোষণা

কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে করোনার তাণ্ডব: আক্রান্ত ১১৪

কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে করোনার তাণ্ডব: আক্রান্ত ১১৪

সর্বশেষ

৫ লাখ ছাড়ালো ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা

৫ লাখ ছাড়ালো ব্রাজিলে করোনায় মৃতের সংখ্যা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ির সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ১০

ফেসবুকে দুই মন্ত্রীর 'দ্বন্দ্ব' বিষয়ক স্ট্যাটাস

ফেসবুকে দুই মন্ত্রীর 'দ্বন্দ্ব' বিষয়ক স্ট্যাটাস

সিডনিতে ‘ধূমকেতু’ ব্যান্ডের সফল কনসার্ট

সিডনিতে ‘ধূমকেতু’ ব্যান্ডের সফল কনসার্ট

মায়ের কপালে চুমু খেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

মায়ের কপালে চুমু খেয়ে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

ওয়েলসকে হারিয়ে ইতালি গ্রুপ সেরা

ওয়েলসকে হারিয়ে ইতালি গ্রুপ সেরা

কনওয়ের হাফসেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে কিউইরা

কনওয়ের হাফসেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে কিউইরা

‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল অগ্রগামী নয়’

‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল অগ্রগামী নয়’

কুষ্টিয়ায় দুই দিনে ১৪ জনের প্রাণ নিলো করোনা

কুষ্টিয়ায় দুই দিনে ১৪ জনের প্রাণ নিলো করোনা

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত শহরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৮

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

আফগানিস্তানে ‘প্রকৃত ইসলামি ব্যবস্থা’ চায় তালেবান

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

কাবুল বিমানবন্দরে তুরস্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ: আফগান কর্মকর্তা

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

রাশিয়া সফরে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার রায়িসি-র

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

জাপানের পানিসীমায় চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজ

পাকিস্তানে সিআইএ ঘাঁটির প্রশ্নই আসে না: ইমরান খান

পাকিস্তানে সিআইএ ঘাঁটির প্রশ্নই আসে না: ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: সিডিসি

যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: সিডিসি

জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে নিজেই বানালেন সেল্ফ ব্যালেন্সিং বাইক

সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে নিজেই বানালেন সেল্ফ ব্যালেন্সিং বাইক

২৫৯ তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের

২৫৯ তালেবান সদস্যকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের

© 2021 Bangla Tribune