অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিম উপকূলে শীতকালেও উধাও হয়ে গেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের সমান আয়তনের সমুদ্রের বরফ। এতে পেঙ্গুইনসহ সামুদ্রিক জীবজগৎ চরম হুমকির মুখে পড়েছে, পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অ্যান্টার্কটিকা উপদ্বীপের পশ্চিমের বেলিংসহাউসেন সাগর বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ বরফহীন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় হিসাবের তুলনায় এই অঞ্চলে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার বরফ উধাও। বরফ গলে যাওয়ার এই ঘটনা গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বার ঘটলো।
অ্যান্টার্কটিকা বরফ বিশেষজ্ঞ ড. উইল হবস বলেন, জুন মাসে এখানে কোনও বরফ নেই, এটি একটি হতাশাজনক ও অদ্ভুত ঘটনা। আমার মনে হয় বেলিংসহাউসেন সাগরে আমরা আর কখনও বরফ দেখতে পাবো না।
তিনি জানান, উত্তর দিক থেকে আসা উষ্ণ বাতাসকে শীতল করতে সাহায্য করে সমুদ্রের বরফ। বরফ না থাকার কারণেই এই অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। গত ৫ ও ৬ জুন আর্জেন্টিনার এস্পেরানজা ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ যথাক্রমে ১৫.৪ ও ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যেখানে এই সময়ের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা মাইনাস ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই বরফ গলে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এম্পেরর পেঙ্গুইন। বরফ দেরিতে জমা ও দ্রুত ভেঙে যাওয়ার কারণে তাদের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। ২০২২ সালের শেষে এই এলাকায় বরফ গলে হাজার হাজার পেঙ্গুইন ছানার মৃত্যু হয়েছিল, যার ফলে চলতি বছর জাতিসংঘ এদের বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া বরফ না থাকায় ক্রিল নামক ছোট সামুদ্রিক চিংড়ির অস্তিত্বও সংকটে, যা স্থানীয় প্রাণীদের প্রধান খাদ্য।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রের বরফ না থাকলে পাশের পাইন আইল্যান্ড ও থোয়াইটস হিমবাহের ভাসমান বরফের তাকগুলো দ্রুত ভেঙে যাবে। এতে হিমবাহ গলনের গতি বেড়ে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের পানির স্তর আরও ওপরে ঠেলে দেবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান









