যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলাভিত্তিক গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়ার এক কুখ্যাত নেতাকে হত্যা করেছে মার্কিন বাহিনী। শুক্রবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তার নির্দেশে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত ও প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়ে গ্যাংটির নেতা হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস ওরফে নিনো গুয়েরেরোকে হত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, এই অভিযান ভেনেজুয়েলার সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার এক বিবৃতিতে অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বলিভার অঙ্গরাজ্যে অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিনো গুয়েরেরো নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় ত্রেন দে আরাগুয়ার একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই অভিযান মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের জন্য পশ্চিম গোলার্ধে কোনও নিরাপদ আশ্রয় না রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অভিন্ন অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।
ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কুখ্যাত কারাগারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ত্রেন দে আরাগুয়া। সেখান থেকেই গোষ্ঠীটি বিস্তৃত মাদক পাচার ও অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতো। দক্ষিণ আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, পেরু, কানাডা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোও সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এর আগে ট্রাম্প কোনও প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে, এই গোষ্ঠীটি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সুরক্ষায় কাজ করছে। উল্লেখ্য গত জানুয়ারিতে মার্কিন সেনারা কারাকাসে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে অপহরণ করে। মাদুরো বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল মাদক মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।
৪২ বছর বয়সী ফ্লোরেস ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলার টোকোরন কারাগারে পুলিশি অভিযানের ঠিক আগে অন্য গ্যাং নেতাদের সঙ্গে পালিয়ে যান। গত ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসীদের সহায়তা এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।









