‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’, ক্ষুব্ধ রিপাবলিকান কট্টরপন্থিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬, ২২:২৭আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ২২:২৭

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রাক্কালে খোদ নিজের দলের কট্টরপন্থি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের কাছে বড্ড বেশি নতিস্বীকার করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

 

চুক্তির পাঠ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমি বেশ কয়েক দিন ধরেই জিজ্ঞাসা করছি, আমরা সাধারণ মানুষ কেন এই অভিশপ্ত সমঝোতা স্মারকটি দেখতে পাচ্ছি না? সততার সঙ্গেই বলছি, আমি জীবনে কখনও এমন কিছু দেখিনি। এটি যদি শান্তির জন্য সত্যিই এত দুর্দান্ত একটি অর্জন হয়ে থাকে, তবে এটি প্রকাশ করে দিন।

কনজারভেটিভ ম্যাগাজিন ন্যাশনাল রিভিউ-এর সম্পাদকীয় বোর্ড লিখেছে, সব মিলিয়ে, ট্রাম্প সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ওবামার সেই ব্যর্থ ইরান চুক্তিতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যা তিনি নিজে প্রথম মেয়াদে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। প্রেসিডেন্টের এতসব হুংকারের পর এটি যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে একটি চরম অপমান।

কনজারভেটিভ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এরিক এরিকসন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। যারা আমেরিকানদের হত্যা করে, তারা এই চুক্তিটি খুব পছন্দ করেছে।

বুশ প্রশাসনের সাবেক সহকারী মার্ক থিসেন ফক্স নিউজকে বলেন, চুক্তির বিস্তারিত কী এবং কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা দেখার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে আছি, তবে আমি শঙ্কিত।

গত ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তিনি তার যুদ্ধবিরোধী ভোটারদের ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এখন এই অত্যন্ত অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে গিয়ে তিনি উল্টো তার নিজের শিবিরের কট্টরপন্থিদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। যদিও সমঝোতা স্মারকের খুব বেশি সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও জানা যায়নি, তবে কট্টরপন্থিরা স্পষ্টতই শঙ্কিত যে ট্রাম্প ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের পারমাণবিক চুক্তির মতোই একটি দুর্বল নথিতে সই করতে যাচ্ছেন।

সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রথম চুক্তির প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের দেওয়া বিবরণের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিবরণের মিল নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি অবশ্যই কংগ্রেসে ভোটের মুখোমুখি হতে হবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানি নেতারা আমেরিকার প্রতি ৪৭ বছরের শত্রুতার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এরিক এরিকসন কেবল সংক্ষেপে লিখেছেন, এফএফএস।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক্সে কিছুটা নরম সুর মিলিয়ে সতর্কতার সঙ্গে বলেন, আমি প্রার্থনা করি যে যেকোনো ধরনের সমাধান যেন সেই আত্মত্যাগকে রক্ষা করে এবং আমেরিকান জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সোমবার সকালে নিশ্চিত করেন যে ইরান একটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল পেতে পারে, যদিও সেখানে মার্কিন কোনও অর্থ থাকবে না। এর তীব্র সমালোচনা করে মার্ক থিসেন এই বিশাল অঙ্কের অর্থকে একটি ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি নাৎসিরা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জার্মানি পুনর্গঠনের জন্য ‘মার্শাল প্ল্যান’ দেওয়ার মতো।

হোয়াইট হাউস থেকে এই চুক্তির পাঠ্য প্রকাশের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে, অথচ ট্রাম্প বলেছেন শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর এটি প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ট্রাম্প শান্তি আলোচনার মধ্যে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করায় মার্ক লেভিনসহ তার অনেক যুদ্ধপন্থি সমর্থক নাখোশ হয়েছেন। রিপাবলিকান শিবিরের অনেকেই প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন যাতে তারা ইরানের কথাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে।

গত এপ্রিলের শুরুতে একটি তড়িঘড়ি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং মে মাসের শেষের দিকে চুক্তির রূপরেখা প্রকাশের পর থেকেই কট্টরপন্থিদের এই ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এটি এখন স্পষ্ট যে ট্রাম্প নতুন কোনও যুদ্ধে জড়াতে চান না এবং দ্রুত এই অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে চান। মার্কিন কর্মকর্তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরান আরও ভালো শর্তের জন্য আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এই চুক্তিকে নিজের দলে গ্রহণযোগ্য করার জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ডানপন্থিদের মধ্যে যদি এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, ট্রাম্প ওবামার পারমাণবিক চুক্তিই ফিরিয়ে এনেছেন, তবে এই যুদ্ধ তার জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

/এএ/
সম্পর্কিত
ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ফরাসি ও ব্রিটিশ ১০২ সাবেক কূটনীতিকের খোলা চিঠি
ট্রায়ালে বোল্টের রেকর্ড ভাঙলো চীনের ‘লাইটনিং’
সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার নেপথ্যে কী, জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
দুদিন ধরে বোনকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ
দুদিন ধরে বোনকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ
এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার, বাসা ঘিরে রেখেছে সিআইডি
এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার, বাসা ঘিরে রেখেছে সিআইডি
ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী ‘আর-রেটেড’ সিনেমা এখন ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’
ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী ‘আর-রেটেড’ সিনেমা এখন ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’
ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ফরাসি ও ব্রিটিশ ১০২ সাবেক কূটনীতিকের খোলা চিঠি
ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ফরাসি ও ব্রিটিশ ১০২ সাবেক কূটনীতিকের খোলা চিঠি
সর্বাধিক পঠিত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’
কোন কারণে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’