যুদ্ধ থামলেও কমছে না উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ জুন ২০২৬, ২২:৪৯ আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ২২:৪৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে বুধবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি সইয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি এক জটিল ও গোলমেলে রূপ নিয়েছে। চুক্তির পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বাস্তবে তারা জলপথটি বন্ধ করেনি। অন্যদিকে ইসরায়েলও লেবাননে মাঝে মাঝেই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, তিনি হরমুজ প্রণালি দখল করে সেখানে টোল বা শুল্ক আদায় করবেন, ইরানের শান্তি আলোচনাকারীদের হত্যা করবেন এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিরিয়াকে পাঠাবেন।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ পার হতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই এর ধৈর্যের শেষ সীমা পরীক্ষা করে দেখছে। তবে একই সময়ে দুই পক্ষ আবার সুইজারল্যান্ডে একটি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বড় ধরনের তীব্র মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশই কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) ভোরের দিকে এই আলোচনা শেষ হয়।

একজন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরও রাতভর প্রায় বিরতিহীনভাবে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা আলোচনার সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ ঘণ্টার নিবিড় দর-কষাকষিতে ‘উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে। এই বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সম্মত হয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনা সামনের দিকে এগিয়ে গেলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, এই চুক্তির জন্য যে ধরনের পারমাণবিক ছাড় দেওয়া প্রয়োজন, ইরান তা করতে মোটেও রাজি নয়।

এই শান্তিচুক্তিকে বাস্তবে টিকিয়ে রাখতে হলে বেশ কিছু বিষয় খুব দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রথমত, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে তাদের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। আর সর্বশেষ ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজে থেকেই এই উত্তেজনার পারদ কমিয়ে আনতে হবে এবং ইরানের ওপর নতুন করে বোমা হামলা ও তাদের নেতাদের হত্যার মতো প্রায় প্রতিদিনকার হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনা শেষ হলেও দুই দেশের কারিগরি টিমগুলো আলোচনা ও দরকষাকষি চালিয়ে যেতে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

/এএ/
সম্পর্কিত
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রার্থী ‘ট্রাম্প’, ‘ওবামা’, কেন জানেন?
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আরও কঠোর জবাবে প্রস্তুত ইরান, অনিশ্চিত কূটনীতি
সর্বশেষ খবর
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
বাংলামোটরে ওষুধ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আটক
বাংলামোটরে ওষুধ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আটক
বিয়ের পর স্বামীর পদবি নেওয়ার রীতি এলো যেভাবে
বিয়ের পর স্বামীর পদবি নেওয়ার রীতি এলো যেভাবে
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
সর্বাধিক পঠিত
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির