ভারতে বাল্যবিয়ে রোধে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে মহারাষ্ট্র সরকার। রাজ্যে বাল্যবিয়ে ঠেকাতে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে বর ও কনে উভয়ের জন্মতারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অদিতি তাতকারে বিধানসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিয়ের সময় বর-কনের বয়স যাচাই করা অনেক বেশি সহজ হবে।
বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে অদিতি তাতকারে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাল্যবিয়ের হটস্পট হিসেবে পরিচিত রাজস্থানে অনুরূপ একটি পদক্ষেপ কম বয়সে বিয়ে হওয়া ঠেকাতে বেশ সাহায্য করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই নিয়ম কার্যকর করতে মুদ্রণখানা, কমিউনিটি সেন্ট্রার এবং অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের এই নিয়ম মেনে চলার জন্য দায়ী করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নির্দেশিকা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যের কিছু অংশে বাল্যবিয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর মহারাষ্ট্র রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন এই প্রস্তাবের সুপারিশ করেছিল।
বিধানসভায় উপস্থাপিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি জেলায় ১৮ বছর বয়সের আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার উচ্চ হার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে পারভানি জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৮ শতাংশ বাল্যবিয়ের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে বিড (৪৩.৭ শতাংশ), ধুলে (৪০.৫ শতাংশ) এবং সোলাপুর (৪০.৩ শতাংশ)।
অবশ্য সামগ্রিকভাবে বাল্যবিয়ের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০১৯-২১ সালে যেখানে বাল্যবিয়ের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ১৯.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই খাতে ভারতের জাতীয় গড় প্রায় ২০.১ শতাংশ। তাতকারে জোর দিয়ে বলেন, কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৪৩৪টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
বাল্যবিয়ে রোধে আরও কঠোর নজরদারি চালাতে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকার এখন রাজস্থান মডেল খতিয়ে দেখছে। ২০১৩ সাল থেকে রাজস্থানের বেশ কয়েকটি জেলায় বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রে বর-কনের জন্মতারিখ উল্লেখ করা এবং ‘বাল্যবিয়ে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ’ এমন সংবিধিবদ্ধ সতর্কবার্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে









