অফিসের পোশাক পরা, প্রতিদিনের যাতায়াত আর দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা মোটেও পছন্দ ছিল না গ্রেগ কিওগের। করপোরেট জীবনের এই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা বৃত্ত থেকে বের হতে তিনি বেছে নেন ‘প্যাসিভ ইনকাম’ বা পরোক্ষ আয়ের পথ; যেখানে সরাসরি হাড়ভাঙা খাটুনি ছাড়াই আয় করা সম্ভব। টেক্সাসের অস্টিনের বাসিন্দা কিওগ পেশায় একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। এক কুকুরের মালিকের সঙ্গে আলাপের সূত্র ধরে তিনি একটি বড় আকারের লিন্ট রোলার ডিজাইন করে তা অ্যামাজনে বিক্রি শুরু করেন। সাত বছর পর এখন মাসে মাত্র দুই ঘণ্টা বা তারও কম সময় দিয়ে এই ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার।
‘আমেরিকান স্বপ্ন’র মূল কথাই হলো কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়া। তবে অনেকের কাছে এখন সেই ধারণার চেয়ে ‘কাজ না করে আয় করার’ স্বপ্নই বড় হয়ে উঠছে। এর বড় কারণ প্রথাগত কর্মক্ষেত্রের প্রতি মানুষের অসন্তুষ্টি।
নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর কর্মক্ষেত্রে বেতন ও পদোন্নতি নিয়ে মার্কিন কর্মীদের সন্তুষ্টির হার এখন সর্বনিম্ন। ডাব নামক একটি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের জরিপ বলছে, ৬০ শতাংশ জেন-জি মনে করেন পূর্ণকালীন চাকরি দিয়ে তাদের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। ব্যাংকরেট ও ক্যাশ অ্যাপের জরিপ অনুযায়ী, বহু তরুণ এখন মূল চাকরির বাইরে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। অনেকে এয়ারবিএনবি-তে বাড়ি বা টুরো-তে নিজের গাড়ি ভাড়া দিয়ে আয় করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুরুতে প্রচুর মেধা ও শ্রম না দিলে কোনও আয়ই দীর্ঘমেয়াদে ‘প্যাসিভ’ বা শ্রমহীন হয় না।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা চ্যাটবট এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে। যেমন ৩৯ বছর বয়সী মাইকেল ট্রেম্বলে চ্যাটবট ক্লদের সহায়তায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রেতাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে এটসি-তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মাত্র কয়েক মিনিটের পিডিএফ গাইড বা ওয়ার্কবুক বিক্রি করে মাসে শত শত ডলার আয় করছেন। আবার ৩১ বছর বয়সী ম্যাট এবসো ইলেভেনল্যাবস প্ল্যাটফর্মে নিজের কণ্ঠের এআই ‘ক্লোন’ তৈরি করে তা অডিওবুক ও ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস হিসেবে লাইসেন্স দিয়ে মাসে প্রায় ৩ হাজার ডলার আয় করছেন।
তবে এই সহজ আয়ের হাতছানির আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় বড় প্রতারণার ফাঁদ। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) সম্প্রতি এমন বেশ কিছু ভুয়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যারা স্বয়ংক্রিয় পরোক্ষা আয়ের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
ক্যানসার আক্রান্ত সাবেক শিক্ষিকা আনা লোহম্যান যেমন অনলাইন কোর্স ও চ্যাটবটের পরামর্শে কয়েক হাজার ডলার খরচ করেও সফল হতে পারেননি। চ্যাটবট তাকে বছরে ৭ হাজার ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবে আয় হয়েছে মাত্র ২৫০ ডলার।
এছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়মনীতির ফাঁক গলে অ্যামাজনের পণ্য চড়া দামে ইবে-তে বিক্রি করে ১৯ বছর বয়সী রনি লিমের মতো কেউ কেউ সাময়িক সফল হলেও, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি এআই দিয়ে লাখ লাখ গান বানিয়ে বট দিয়ে তা স্ট্রিম করিয়ে ৮০ লাখ ডলার রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার এক ব্যক্তি জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল









