স্মার্টফোনে বুঁদ শিশু, কতটুকু স্ক্রিন টাইম আসলে নিরাপদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ জুন ২০২৬, ১০:৫১ আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৫১

আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। শিক্ষণীয় অ্যাপ থেকে শুরু করে গেম ও বিনোদন; সবকিছুতেই শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তি যেমন তাদের শেখা, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাহায্য করছে, তেমনি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

আজকাল কর্মজীবী মা-বাবার সংখ্যা বাড়ায় অনেকেই ব্যস্ততার মাঝে শিশুকে শান্ত রাখতে ফোন বা টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করেন। এটি মা-বাবাকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও শিশুর বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতের অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হসপিটাল-এর শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রধান ডা. সুজাতা ত্যাগরাজন বলেন, বাড়ন্ত বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়, ভাষা শেখা ও ঘুমের ক্ষতি করে। একই সঙ্গে এটি তাদের সামাজিক উন্নয়ন এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকেও বাধাগ্রস্ত করে।

তিনি মনে করেন, শিশুরা ভিডিও দেখার চেয়ে বাস্তব জগতের মুখোমুখি হওয়া, শারীরিক খেলাধুলা এবং সরাসরি কথাবলার মাধ্যমে সবচেয়ে ভালো শেখে।

অনুরূপভাবে রেইনবো চিলড্রেনস হসপিটাল-এর ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. রক্ষয় শেট্টি জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের শারীরিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কমিয়ে দেয়। যা তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য জরুরি।

বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম কতটা হওয়া উচিত?

বেঙ্গালুরুর মাদারহুড হসপিটালস-এর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিতিন এম জানান, ১৮ মাস বা ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম কেবল ভিডিও চ্যাটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ভালো মানের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা স্ক্রিন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে তা তাদের ঘুম, ব্যায়াম, বাড়ির কাজ কিংবা পারিবারিক আড্ডায় ব্যাঘাত না ঘটায়।

শিক্ষণীয় অ্যাপ কি আসলেই উপকারী?

বাজারে শিক্ষণীয় দাবি করা অ্যাপগুলোর বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, বয়সোপযোগী এবং পরিমিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলো পড়াশোনা, গণিত বা সৃজনশীলতা বাড়াতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে ডা. রক্ষয় শেট্টি সতর্ক করে বলেন, সব অ্যাপের মান সমান নয়। অনেক অ্যাপে বিনোদন ও পুরস্কারের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, যা শিশুকে ব্যস্ত রাখলেও তার গভীর চিন্তাভাবনা বা যৌক্তিক বুদ্ধিমত্তা বাড়ায় না।

ডা. সুজাতা ত্যাগরাজনের মতে, প্রযুক্তিকে শিক্ষার একটি পরিপূরক অংশ হিসেবে দেখা উচিত, কখনোই তা বাস্তব মানুষের সান্নিধ্যের বিকল্প হতে পারে না।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

/এএ/
সম্পর্কিত
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রার্থী ‘ট্রাম্প’, ‘ওবামা’, কেন জানেন?
গাড়ির আধুনিক প্রযুক্তিতে আড়িপাতার ঝুঁকি
সর্বশেষ খবর
৯ গোলে হেরে যা বললেন বাংলাদেশ কোচ
৯ গোলে হেরে যা বললেন বাংলাদেশ কোচ
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
সার্বিয়াকে হারিয়ে স্বস্তির জয় জার্মানির
সার্বিয়াকে হারিয়ে স্বস্তির জয় জার্মানির
রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারালো পর্তুগাল
রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারালো পর্তুগাল
সর্বাধিক পঠিত
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির