হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে হামলার জেরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ‘বোকামিপূর্ণভাবে লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলার একদিন পর শুক্রবার (২৬ জুন) এসব হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই হামলার কারণে অঞ্চলটিতে আটকে থাকা হাজারো নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও স্থগিত হয়ে যায়।
তবে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করায় ওই জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইসঙ্গে ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চুক্তিভঙ্গকারী’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজ চলাচলের অজুহাতে ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এর জবাবে তারা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, একই ধরনের হামলা আবার হলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনা খরচে চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে বলেও উল্লেখ ছিল।
মার্কিন পাল্টা হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের কোনো আপত্তি থাকলে তারা আলোচনায় আসতে পারে। তবে সহিংসতার জবাব সহিংসতাতেই দেওয়া হবে।
অপরদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালেই আবারও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতির এই বেপরোয়া লঙ্ঘনের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকেই ভোগ করতে হবে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বৃহস্পতিবারের হামলার বিষয়টি তার পছন্দ হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে বা যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল আছে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে বৃহস্পতিবার হামলার শিকার হওয়া কার্গো জাহাজটির নাম এভার লাভলি। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি ওমানের দাহিত বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটির মালিকপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে সুপারিশ করা রুটেই চলছিল জাহাজটি। হামলায় জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন এবং মালামালেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।









