প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক পথচলা। ১৯৮৩ সালে তালচের কলেজে পড়ার সময় অখিল ভারতীয় শিক্ষার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মী হিসেবে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৮৫ সালে তিনি তালচের কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী এক দশকে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। যার মধ্যে রয়েছে ১৯৯৩ সালে এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক এবং ১৯৯৫ সালে জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব। ১৯৯৮ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান ওড়িশার রাজ্য রাজনীতির মাধ্যমে নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ওড়িশা বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে ২০০১ সালে তাকে ওড়িশা রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার (বিজেইওয়াইএম) সভাপতি এবং ২০০২ সালে বিজেপির জাতীয় সম্পাদক নিয়োগ করা হয়।
২০০৪ সালে তিনি চতুর্দশ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর তাকে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার জাতীয় সভাপতি করা হয়।
সংসদ সদস্য হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও সংসদীয় সংস্থায় কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে লোকসভায় প্রবেশের পর তিনি আবেদন সংক্রান্ত কমিটি এবং জ্বালানি সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালের আগস্ট থেকে তিনি জ্বালানি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারি আশ্বাস সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ২০১২ সালের মে থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টেলিকম লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার জন্য গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন তিনি। ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুনে অষ্টাদশ লোকসভায় পুনরায় নির্বাচিত হন।
কেন্দ্রীয় সরকারে বছরের পর বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় মোড় আসে ২০২১ সালের ৭ জুলাই, যখন তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের জুনে অষ্টাদশ লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর, ২০২৪ সালের ৯ জুন তিনি পুনরায় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান ওড়িশা বিধানসভার সেরা আইনপ্রণেতার পুরস্কার ‘উৎকলমণি গোপবন্ধু প্রতিভা সম্মান’-এ ভূষিত হয়েছেন।
১৯৬৯ সালের ২৬ জুন ওড়িশার তালচেরে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার বাবার নাম দেবেন্দ্র প্রধান এবং মায়ের নাম বাসন্তী মঞ্জরী প্রধান। তিনি ওড়িশার বাণী বিহারে অবস্থিত উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর ধর্মেন্দ্র প্রধান মৃদুলা ঠাকুর প্রধানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি









